Author : Srijan Shukla

Published on Feb 02, 2026 Updated 4 Days ago

বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)-‌এর উচিত শিল্প পরামর্শদাতা নিয়োগ করা এবং এমইএ- প্রতিটি  আঞ্চলিক বিভাগে তেমন একজনকে স্থাপন করা। অন্যদিকে, শিল্প পরামর্শদাতাদের এই গোষ্ঠীর উচিত ভারতের বিভিন্ন শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা।

ভারতের কেন একটি বাণিজ্যিক বৈদেশিক নীতি প্রয়োজন

১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে, পণ্ডিতরা যুক্তি দিয়ে আসছেন যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যত মৃত, কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা যখন এই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেন তখনই এই পরিবর্তন বৈধতা পায়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক দাভোস ভাষণ প্রতীকীভাবে এই পরিণতি চিহ্নিত করে, যেমন সুয়েজ সংকট ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে, আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কার্নির মধ্যম শক্তির ভবিষ্যৎ ভূমিকার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।

ভারত একটি মধ্যম শক্তি কিনা তা বিবেচ্য বিষয় নয়; নয়াদিল্লি অনেক সীমাবদ্ধতার অংশীদার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনীতি এবং ডলার-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, এবং চিনারা তাদের শিল্পের অতিরিক্ত ক্ষমতা রপ্তানি করছে, যা কার্যকরভাবে অন্যদের জন্য সমপর্যায়ে প্রতিযোগিতার  ক্ষেত্রের যে কোনও চিহ্নকে ধ্বংস করছে।

ভারতের জন্য, আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, তিনটি অনন্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ভারত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সম্পর্কের উপর প্রচুর রাজনৈতিক পুঁজি ব্যয় করেছে, এবং এটি এখন কিছুটা তিক্ত হয়ে উঠছে — তবে নয়াদিল্লির এখনও মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, চিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে শৈত্য ভাঙতে থাকলেও বেজিং মূলত একটি শিল্পোন্নত ভারতের সম্ভাবনার বিরোধী। অবশেষে, সংস্কারের ঝড় সত্ত্বেও, ভারত ব্যাপক-ভিত্তিক শিল্পায়নকে সহজতর করতে হিমসিম খাচ্ছে — যা একটি অনিশ্চিত বিশ্বে আয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ই বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয়।


বাণিজ্যিক বৈদেশিক নীতিকে এইভাবে বোঝা সম্ভব যে, এ হল একটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে দেশীয় আর্থিক এবং নিয়ন্ত্রক সরঞ্জামের ইচ্ছাকৃত সমন্বয়, যাতে একটি দেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা যায়।



এই অপ্রতিরোধ্য সীমাবদ্ধতাগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য, ভারতকে একটি বিস্তৃত বাণিজ্যিক বৈদেশিক নীতি তৈরি করতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে, একটি দেশের বৈদেশিক নীতির উদ্দেশ্য হল তার বাহ্যিক নিরাপত্তা পরিবেশ সুরক্ষিত করা, যা বাণিজ্যকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে। এই মুহূর্তে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর যথেষ্ট নয়, এবং রাষ্ট্রগুলিকে সক্রিয়ভাবে তাদের অর্থনৈতিক পরিবেশও তৈরি করতে হবে। সাধারণ সময়েও, রাষ্ট্রগুলি বাহ্যিক অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতির সরঞ্জাম ব্যবহার করে;‌ এই মুহূর্তে আরও ব্যাপক কিছু প্রয়োজন।

ফলস্বরূপ, বাণিজ্যিক বৈদেশিক নীতিকে এইভাবে বোঝা সম্ভব যে, এ হল একটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে দেশীয় আর্থিক এবং নিয়ন্ত্রক সরঞ্জামের ইচ্ছাকৃত সমন্বয়, যাতে একটি দেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা যায়। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে, এর অর্থ শিল্পায়নের অভ্যন্তরীণ এবং বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য বাণিজ্যিক কূটনীতির সঙ্গে দেশের আর্থিক এবং নিয়ন্ত্রক সরঞ্জামগুলিকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা।

বছরের পর বছর ধরে সুরক্ষাবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পর, ভারত সরকার তার বাণিজ্য নীতি পুনর্গঠন করেছে। ফলস্বরূপ, গত কয়েক বছর ধরে, নয়াদিল্লি সফলভাবে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে চুক্তি এবং এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি।

বাণিজ্য অর্থনীতিবিদ সি বীরমণি এবং অন্যদের যুক্তি অনুসারে, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য শুধু বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা যথেষ্ট নয়,  প্রয়োজন আরও কাঠামোগত সংস্কার করা। তাদের পক্ষ থেকে ভারত সরকার উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেছে, বিশেষ করে শ্রম আইনের ক্ষেত্রে, এবং কিছু শুল্ক পরিবর্তন, কর্পোরেট কর এবং অভ্যন্তরীণ উপভোগ (পণ্য ও পরিষেবা) কর সংশোধন করা। তবুও, শিল্পায়ন বা প্রয়োজনীয় দেশীয় ও বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অধরা রয়ে গেছে, যেমন রুচির শর্মা তুলে ধরেছেন।

এই সংস্কারগুলির, ভারতের শিল্প নীতির (উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা) সঙ্গে মিলিত হয়ে, আদর্শভাবে কিছু বড় ম্যানুফ্যাকচারিং অগ্রগতি অর্জন করা উচিত ছিল। এর সঙ্গে যোগ করুন যে মার্কিন সুদের হার ক্রমাগতভাবে কমছে, যা ভারতে ম্যানুফ্যাকচারিং এফডিআই-‌কে আরও উৎসাহিত করবে। ইলেকট্রনিক্সে, বিশেষ করে স্মার্টফোন ছাড়া, আর কোনও বড় অগ্রগতি হয়নি।

ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং টেকঅফ-‌এর ব্যর্থতার পেছনে বাধা হিসেবে কাজ করছে একটি জটিল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এবং একটি অকার্যকর বিচার ব্যবস্থার কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে অক্ষমতা।

একটি বাণিজ্যিক বিদেশ নীতি কীভাবে এই সমস্যাগুলির কিছুটা সমাধান করতে পারে?

ভারতের বাণিজ্যিক বিদেশ নীতির তিনটি স্পষ্ট উপাদান থাকতে হবে।

প্রথমত, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রক ছিটমহল তৈরি করা, যেখানে লাইসেন্সিং ও অনুবর্তিতার বোঝা কম হবে, এবং তার পাশাপাশি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সহজ প্রক্রিয়া থাকবে। একটি আদর্শ কৌশল হবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্প রাজ্যগুলিতে (দক্ষিণ ও পশ্চিম জুড়ে) অগ্রণী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) পুনর্গঠন করা, এবং বিনিয়োগ অনুসন্ধান ও শিল্প ক্লাস্টার গঠনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান তৈরি করা। সংস্থাগুলির সুষ্ঠু কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় আরও এসইজেড-কেন্দ্রিক পরিকাঠামো তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করা উচিত।

দ্বিতীয় উপাদানটি কৌশলটির মূল কথা বলে। গত দশকে ভারতীয় অর্থনীতি মূলত সরকারি মূলধন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বারা চালিত হয়েছে, যা দেশের পরিকাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্গঠিত করেছে। তবে, মিহির শর্মা যেমন যুক্তি দেন, ‘‌ভুলে যাওয়া শহরগুলিতে মহাসড়ক সংযোগ’‌ নীতিগতভাবে দুর্দান্ত, তবে এর বেসরকারি এবং বিদেশি বিনিয়োগকে সহজতর করার সম্ভাবনা কম।


সংস্থাগুলির সুষ্ঠু কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় আরও এসইজেড-কেন্দ্রিক পরিকাঠামো তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করা উচিত।



এখন সময় এসেছে এই পরিকাঠামো-ভারী অর্থনৈতিক কৌশলটি পরিবর্তন করা এবং ভারতীয় ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানগুলি যে সব বাধার সম্মুখীন হচ্ছে তার  সমাধানে কেন্দ্রীয় আর্থিক ক্ষমতার একটি অংশ পুনর্নির্দেশ করা। বাস্তবে এর অর্থ কী হবে?

এটি বিবেচনা করুন: বর্তমানে, ভারতীয় ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থাগুলির সামনে একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হল মূলধন এবং মধ্যবর্তী পণ্যের উপর চিনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা। এই মুহূর্তে, চিন শুধু এই যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য মধ্যবর্তী উপকরণের সবচেয়ে বড় অংশই সরবরাহ করে না, বরং তা করে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যেও। ভারতে এগুলি সরবরাহ করার অর্থ হল বেজিং নিজেই তার প্রধান এশীয় প্রতিপক্ষের উত্থানে সহায়তা করছে। এখানে, দিল্লি সরকারের কাছে দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমে চিনা সরবরাহকারীদের ভারতে এই পণ্যগুলি রপ্তানি করার জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা উচিত। যদি এটি কাজ না করে, তাহলে সরকারের উচিত মূলত জার্মানির মতো অন্যান্য পণ্য প্রস্তুতকারী দেশ থেকে মূলধনী পণ্য আমদানির জন্য ভর্তুকি (পার্থক্য পরিশোধ করে) দেওয়া।

তৃতীয়ত, এই ধরনের বাণিজ্যিক বিদেশ নীতি বাস্তবায়নের জন্য মানব সম্পদের প্রয়োজন হবে। এখন, আমলাতন্ত্র নিজেকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করবে এমন আশা করা অসম্ভব। তবে তুলনামূলকভাবে কিছু ছোটখাটো সংস্কার রয়েছে যা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)-‌এর উচিত শিল্প পরামর্শদাতা নিয়োগ করা এবং এমইএ-র প্রতিটি  আঞ্চলিক বিভাগে তেমন একজনকে স্থাপন করা। অন্যদিকে, শিল্প পরামর্শদাতাদের এই গোষ্ঠীর উচিত ভারতের বিভিন্ন শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা। পরিশেষে, ভারতের বিদেশী দূতাবাস এবং হাই কমিশনগুলিকে শিল্প সমিতিগুলির এই ইনপুট সম্পর্কে ক্রমাগত অবহিত করা উচিত।

এই পরামর্শদাতারা বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি যে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয় তার মধ্যে তথ্যের ব্যবধান কার্যকরভাবে পূরণ করতে পারে। এই সহজ সংস্কারটি ভারতের বিদ্যমান কূটনীতিতে একটি প্রধান বাণিজ্যিক শাখা যোগ করতে পারে। সময়ের সাথে সাথে, অ্যাজেন্ডাটি ভারতের দূতাবাস এবং হাই কমিশনের বাণিজ্যিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য প্রসারিত হওয়া উচিত।


নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের মধ্যে দেয়াল ভেঙে পড়ার সময় দেশীয় অর্থনৈতিক এবং বৈদেশিক নীতির মধ্যে ব্যবধান কমে আসা উচিত।

এই ভাষ্যটি প্রথম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস -‌এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.