Author : Arpan Tulsyan

Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 13, 2026 Updated 0 Hours ago

‘রোট’ পরীক্ষা ভারতের শিক্ষার্থীদের স্বল্প-দক্ষতার ভবিষ্যতের ফাঁদে ফেলার ঝুঁকির সামনে উন্মুক্ত করে দেয়। দক্ষতা-ভিত্তিক মূল্যায়নই হল গভীর শিক্ষা, ন্যায্যতা এবং কর্মসংস্থানের মূল চাবিকাঠি।

কেন ভারতকে এখনই বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন সংক্রান্ত সংস্কার করতে হবে

মানসম্মত থেকে দক্ষতা-ভিত্তিক মূল্যায়ন (সিবিএ)

কয়েক দশক ধরে বছরের শেষে হওয়া ভারতের বিদ্যালয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা উচ্চ-স্তরের থেকেছে এবং মানসম্মত পরীক্ষায় দৃঢ় ভাবে টিকে আছেযার লক্ষ্য স্কোরিং বা নম্বর দেওয়া এবং তুল্যমূল্য বিচার করা। তবে নানাবিধ প্রমাণ ‘রোট’ পরীক্ষার (অর্থাৎ যে ধরনের পরীক্ষায় শিশুকে শুধুমাত্র মুখস্থ করে উত্তর দিতে হয় এবং যেখানে গভীর জ্ঞানগত শিক্ষার কোনও স্থান নেইসীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেযার ফলে শিশুদের মধ্যে শিক্ষার মান খারাপ হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপভারতে গবেষণায় দেখা গিয়েছে যেশিক্ষাদানের ৭০ শতাংশ সময় চিরাচরিত ধরনের বক্তৃতা এবং রোট শেখার পদ্ধতিতে ব্যয় করা হয়। এই অগভীর শিক্ষা পরীক্ষার সময়ে প্রশ্নের উত্তর মনে রাখায় সাহায্য করতে পারেকিন্তু তা কখনওই বিচার-বিবেচনামূলক  চিন্তাভাবনাকে সমর্থন করে না। উদাহরণস্বরূপতরুণদের একটি বড় অংশ যদি কোনও সংজ্ঞা মুখস্থ করে আউড়েও দিতে পারে বা অনুশীলন পদ্ধতি সম্পাদন করতে পারে, তার মানে এই যে, তাঁরা সামান্য ভিন্ন সমস্যায় সেই জ্ঞানই প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআইনিয়োগকর্তাদের চাহিদা পুনর্নির্মাণ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত দক্ষতার অভাবযুক্ত স্নাতক শিক্ষার্থীরা প্রায়শই কম দক্ষতাসম্পন্ন কম বেতনের চাকরিতে আটকা পড়ে এবং সীমিত সুযোগ  জীবনভর প্রায় একই অঙ্কের উপার্জনের একটি চক্র তৈরি করে। অপূর্ণ শূন্যপদগুলির পাশাপাশি ভারতের যুব বেকারত্ব আসলে শিক্ষা  শিল্পের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতার কারণে কর্মসংস্থানের অভাবকেই দর্শায়যেখানে অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামগুলি বাস্তব-জগৎভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং সামাজিক-মানসিক দক্ষতার চেয়ে তত্ত্ব  পরীক্ষার ফলাফলের উপর বেশি মনোযোগ দেয়।

অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়োগকর্তাদের চাহিদা পুনর্নির্মাণ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত দক্ষতার অভাবযুক্ত স্নাতক শিক্ষার্থীরা প্রায়শই কম দক্ষতাসম্পন্ন কম বেতনের চাকরিতে আটকা পড়ে এবং সীমিত সুযোগ ও জীবনভর প্রায় একই অঙ্কের উপার্জনের একটি চক্র তৈরি করে।

তুলনামূলক ভাবে উন্নত  উন্নয়নশীল উভয় দেশ থেকে প্রাপ্ত ক্রমবর্ধমান প্রমাণ থেকে জানা যায় যেদক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তর - যেখানে মূল্যায়ন আসলে প্রদর্শিত দক্ষতার সঙ্গেই সম্পর্কিত - আরও গভীর শিক্ষণ ফলাফলকে চালিত করতে পারে। একই ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশগুলির অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপরুয়ান্ডায় দক্ষতা-ভিত্তিক পাঠ্যক্রম (কম্পিটেন্স বেসড কারিকুলাম বা সিবিসিপদ্ধতির ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আরও বেশি নিয়োজিত হয়েছেসমস্যা সমাধানের দক্ষতা আরও ভাল ভাবে বিকশিত হয়েছে এবং গণিতের ধারণাগুলির উপর শিক্ষার্থীদের বোধগম্যতাও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে। একই ভাবেমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় সিবিসি সংস্কারের পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে যেদক্ষতা-ভিত্তিক প্রোগ্রামগুলির শিক্ষার্থীরা চিরাচরিত পরিবেশের তুলনায় সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাসমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং ধারণাগত বোধগম্যতা বেশি প্রদর্শন করেছে। এই শিক্ষার্থীরা তাদের শেখার পাশাপাশি উচ্চতর স্ব-কার্যকারিতা এবং সম্পৃক্ততাও প্রদর্শন করেছে। অর্থাৎ ‘শিখতে শেখার লক্ষণ’-এর কথা বলা হয়েছেযা কেবল পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করার পরিবর্তে আজীবন শিক্ষণকে সমর্থন করে। চিরাচরিতমুখস্থ-ভিত্তিকপরীক্ষা-ভিত্তিক শিক্ষা দুর্বল শিক্ষার্থীদের পিছনে ফেলে দেয়যা তাদের আরও সফল সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যবধানকেই প্রশস্ত করে। বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, ‘শিক্ষার সঙ্কট বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে’, যা সেই দরিদ্র গ্রামীণ যুবকদের জীবনের সম্ভাবনাকেই সীমিত করেযাদের ‘একটি ভাল শিক্ষার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

চিরাচরিত, মুখস্থ-ভিত্তিক, পরীক্ষা-ভিত্তিক শিক্ষা দুর্বল শিক্ষার্থীদের পিছনে ফেলে দেয়, যা তাদের আরও সফল সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যবধানকেই প্রশস্ত করে।

এই চ্যালেঞ্জগুলি স্বীকার করে ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি (ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি বা এনইপি২০২০ পাঠ্যক্রমশিক্ষাদান এবং মূল্যায়নকে দক্ষতা-ভিত্তিক পদ্ধতির দিকে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি সামগ্রিক মূল্যায়নকেই দর্শায়যা কেবল জ্ঞান নয়দক্ষতামনোভাব এবং মূল্যবোধেরও মূল্যায়ন করে এবং যা জ্ঞানকে একত্রিত করতে  দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয়।

মূল্যায়ন সংস্কারে ভারতের যাত্রা এবং কিছু সমস্যা

১৯৮৬ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রথম ভারতীয় স্কুলগুলিতে মুখস্থ শেখা কমাতে ধারাবাহিক ব্যাপক মূল্যায়ন (কন্টিনিউয়াস কম্প্রিহেনসিভ ইভ্যালুয়েশন বা সিসিইচালু করে। তবে এই পরিবর্তনটি কেবল ২০০০ সালের মধ্যেই ঘটেছিলযখন কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসইনম্বরের পরিবর্তে গ্রেডসেমিস্টার ব্যবস্থা এবং ক্ষেত্র-ভিত্তিক প্রশ্ন যোগ করার পাশাপাশি ২০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের গুরুত্ব চালু করে। এনইপি ২০২০ পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী নীতিগত আদেশ প্রদান করে৩৬০° সামগ্রিক অগ্রগতি প্রদর্শনকারী কার্ডের মতো সিবিএ সাধনীগুলির জন্য সুযোগ তৈরি করেযা পরখ-এর মতো মানসম্মত মূল্যায়নের পাশাপাশি মার্কশিট ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করে। এটি বোর্ড পরীক্ষাগুলিতেও সংস্কারের প্ররোচনা দিয়েছেযা এখন কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুইয়ের মধ্যে সেরাবেছে নেওয়ার বিকল্প রয়েছে এবং ক্ষেত্রে পরীক্ষায় আসে বস্তুনিষ্ঠ এমসিকিউ (একটি প্রশ্নের একাধিক উত্তর দেওয়া থাকে এবং সঠিক উত্তর বেছে নিতে হয়এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন।

এই নীতিগত উদ্যোগ সত্ত্বেও অসম বাস্তবায়ন, ব্যবস্থার মধ্যকার জড়তা এবং ক্ষমতা-সম্পর্কিত ব্যবধানের মতো বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জগুলি রয়ে গিয়েছে। অনেক স্কুলে স্থিতিশীল শিক্ষাগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদসময়  সহায়তার অভাব রয়েছে। এটি আরও জোরদার করে যেশিক্ষক  অভিভাবক উভয়ের মধ্যে মানসিকতার তারতম্য এবং নম্বর-চালিতপাঠ্যপুস্তক-ভিত্তিক পরীক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। বেশির ভাগ শিক্ষকই পাঠ্যক্রম বা সিলেবাস সম্পূর্ণ করা এবং পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্রের জন্য কোচিংয়ে মনোনিবেশ করে চলেছেন। কিন্তু রুব্রিক ডিজাইনকর্মক্ষমতা-ভিত্তিক প্রশ্ন এবং দক্ষতা-ভিত্তিক প্রশ্নগুলিতে দক্ষতার অভাব রয়েছে। তাঁদের পেশাদার বিকাশক্ষমতাই সীমিত রয়ে গিয়েছে এবং শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতার সঙ্গে অপ্রতুল সংযোগ রয়েছে। শিক্ষকশিক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রশাসকদের মধ্যে ‘সিবিই’ আসলে বাস্তবে কীতা বোঝার সমস্যার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই সংস্কারগুলি প্রায়শই শ্রেণিকক্ষের মূল্যায়নে প্রকৃত পরিবর্তনের পরিবর্তে প্রশ্নপত্রের ধরনে আংশিক পরিবর্তনের দিকে হ্রাস পায়। সুতরাংপাঠ্যক্রমপাঠ্যপুস্তকশিক্ষক প্রস্তুতি এবং শ্রেণিকক্ষে অনুশীলনের মধ্যে পদ্ধতিগত সমন্বয় ছাড়া সিবিএ উপরিস্তরেই থেকে যায়নির্দেশনামূলক পদ্ধতিগুলিকে পুনরায় নকশা করার পরিবর্তে প্রশ্নের বিন্যাস পরিবর্তন করে।

দক্ষতা, ন্যায়সঙ্গত শিক্ষা এবং সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেয় এমন জরুরি মূল্যায়ন সংস্কার ছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি প্রজন্ম স্বল্প-দক্ষতা, স্বল্প-সুযোগের ভবিষ্যতের মধ্যে আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সর্বোপরিভারতে স্কুলের বৈচিত্র্য এবং মাত্রা কাঠামোগত বাধা তৈরি করে। স্কুল  শিক্ষার্থীদের পটভূমির বিস্তৃত পরিসরের অর্থ হল যে কোনও অভিন্ন সংস্কার সম্পদের বৈচিত্র্যময় অধিকারভাষা সহায়তা এবং শেখার সুযোগের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এই বৈচিত্র্য এবং মাত্রা বাস্তবায়নের মানসম্মতকরণগুণমান পর্যবেক্ষণ স্থিতিশীল শিক্ষা প্রদানকে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। তাই সু-সম্পন্ন সিবিএসই স্কুলগুলি সমগ্র ব্যবস্থা জুড়ে পদ্ধতিগত রূপান্তরের পরিবর্তে সংস্কারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপসমই রয়ে গিয়েছে।

এর পাশাপাশিদুর্বল শিক্ষার ফলাফল ভারতীয় শিক্ষায় একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ। পরখ ২০২৪ দর্শিয়েছে যেতৃতীয় শ্রেণির ৩৬ শতাংশ শিশু মৌলিক পাঠ্য পড়তে পারে না এবং ৪০ শতাংশ মৌলিক গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে পারে না। জাতীয় অর্জন সমীক্ষায় (ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট সার্ভে বা এনএএস২০২১  ২০১৭-এর সম্মিলিত ফলাফল দর্শিয়েছে যেগত কয়েক বছর ধরে অগ্রগতি প্রায় একই রকম থেকেছে। শিক্ষা সংক্রান্ত কম্প্রিহেনসিভ মডিউলার সার্ভে (এনএসএস-এর ৮০তম দফা) বেসরকারি কোচিংয়ের উপর অত্যধিক নির্ভরতাকেই প্রকাশ্যে এনেছেযা মাধ্যমিক স্তরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

সব কিছু বিবেচনা করলে এই প্রবণতাগুলি শিক্ষাদানকে মৌলিক দক্ষতার সঙ্গে পুনর্বিন্যাস করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তাকে দর্শায়যা পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু সহায়তা প্রদান করেযাতে বর্তমান ব্যবধানগুলি আজীবন বৈষম্যে পরিণত না হয়। দক্ষতান্যায়সঙ্গত শিক্ষা এবং সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেয় এমন জরুরি মূল্যায়ন সংস্কার ছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি প্রজন্ম স্বল্প-দক্ষতাস্বল্প-সুযোগের ভবিষ্যতের মধ্যে আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সামনের পথ

এনইপি ২০২০ এবং এনসিএফ-এসই ২০২৩-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জনের জন্য সকল অংশীদারের মধ্যে সম্মতি-চালিত বাস্তবায়ন থেকে অভিন্ন সাধারণ মালিকানার অভিমুখে স্বেচ্ছাকৃত ভাবে স্থানান্তর প্রয়োজন। মূল্যায়ন সংস্কার কেবল তখনই চালিত হতে পারেযখন শিক্ষকস্কুল নেতৃত্বঅভিভাবকশিক্ষার্থীপ্রশাসক এবং গবেষকরা অর্থপূর্ণ ভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন, নিজেদের স্পষ্ট ভূমিকা অনুযায়ী কাজ করবেন এবং স্থিতিশীল সক্ষমতা-নির্মাণের পথে এগিয়ে যাবেন। ভারতীয় ভাষায় উদাহরণমূলক ভিডিও এবং মডেল মূল্যায়ন কার্যাবলি-সহ সিবিএ সকল ইন-চার্জ শিক্ষক প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এটিই প্রদর্শন করবে যেপ্রকৃত শিক্ষকরা বহুভাষিকসম্পদ-ঘাটতিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে দক্ষতা পরীক্ষা করেন। পেশাদার উন্নয়ন অবশ্যই ধারাবাহিকঅনুশীলন-সম্পন্নসহকর্মী শিক্ষার জন্য পরিসর করে দেয় এবং মূল্যায়ন কার্যগুলির সহ-নকশা  শ্রেণিকক্ষের প্রমাণের প্রতিফলনকে দর্শায়। এটি শিক্ষকদের সিবিএ সম্পর্কে ধারণাকে আরও গভীর করবেযার মধ্যে রয়েছে রুব্রিক নকশাগঠনমূলক প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিকারমূলক শিক্ষার জন্য তথ্যের ব্যবহার।

দ্বিতীয়তপ্রক্রিয়া এবং ফলাফলের একটি অভিন্ন সাধারণ পাঠ্যক্রমপাঠ্যপুস্তক এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষণ সম্পদে নির্দিষ্ট দক্ষতা সমন্বিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনসিইআরটি এবং এসসিইআরটি-দের গ্রেড-ভিত্তিকবিষয়-ভিত্তিক দক্ষতার সারণী প্রকাশ করা উচিত (অর্থাৎ একটি শিশুর প্রতিটি পর্যায়ে কী করা উচিত) সমস্ত নতুন পাঠ্যপুস্তককর্মপুস্তক  শিক্ষক নির্দেশিকাগুলিকে কেবল অধ্যায় বা বিষয় নয়এই দক্ষতার সঙ্গে স্পষ্ট ভাবে সাযুজ্যপূর্ণ করে তোলা উচিত। পাঠ্যক্রমের নথিতে প্রতিটি শেখার ফলাফলে এমন উদাহরণমূলক বিষয় বা কাজ থাকা উচিতযা দর্শাবে আসলে একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা পূরণ কেমন হয়।

তৃতীয়তশিক্ষকদের জন্য শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন সাধনীগুলির পুনরায় পরিকল্পনা করার প্রয়োজনপ্রতিটি গ্রেডের জন্য তৈরি সহজ দক্ষতার চেকলিস্ট তৈরি করা এবং আইটেম ব্যাঙ্ক (বিষয়ভিত্তিক ভাণ্ডারব্যবহার করা দরকার। তাদের ক্রমাগত মূল্যায়ন - যেমন দ্রুত ধারণাগত পরীক্ষাযুক্তির কাজপোর্টফোলিও পর্যালোচনা এবং দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাতে-কলমে কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা উচিত।

পেশাদার উন্নয়ন অবশ্যই ধারাবাহিক, অনুশীলন-সম্পন্ন, সহকর্মী শিক্ষার জন্য পরিসর করে দেয় এবং মূল্যায়ন কার্যগুলির সহ-নকশা ও শ্রেণিকক্ষের প্রমাণের প্রতিফলনকে দর্শায়।

চতুর্থতপ্রশ্নপত্রের নকশায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে দশম দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার জন্য বোর্ড পরীক্ষার সংস্কারের গতি অব্যাহত রাখতে হবে, যার মধ্যে প্রয়োগ-ভিত্তিককেস-ভিত্তিক এবং বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নের অংশ বৃদ্ধি করাসংক্ষিপ্ত উত্তরের মিশ্র ধরন, তথ্যের ব্যাখ্যা এবং পরিস্থিতি-ভিত্তিক কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে সমর্থন করা উচিতযেখানে স্কুলগুলিকে প্রকল্পপোর্টফোলিও বা ল্যাব কাজের মূল্যায়ন করতে বলা হয়। বড় সিলেবাস প্রত্যাহারের পরিবর্তে মূল দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট বা সিইউইটিপরীক্ষার সংস্কারের লক্ষ্যেও কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি সামগ্রিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্যআরও অর্থবহ এবং শিক্ষার্থীদের জীবন কর্মক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে।

সংস্কারগুলিকে অভিভাবক এবং সম্প্রদায়কে আলোচনার আওতায় আনতে হবে। জনসাধারণের বক্তৃতাস্কুল-স্তরের ওরিয়েন্টেশন এবং সরলশব্দভাণ্ডার-মুক্ত প্রতিবেদনগুলি সামগ্রিক এবং দক্ষতা-ভিত্তিক মূল্যায়নের বোধগম্যতা বৃদ্ধি করতে পারে। এর পাশাপাশি ওপেন-বুক এগজ্যামের মতো নতুন ফরম্যাট সম্পর্কে উদ্বেগ কমাতে পারে এবং কোচিংয়ের উপর একচেটিয়া নির্ভরতার পরিবর্তে সহায়ক হোম লার্নিং অনুশীলনগুলিকে উৎসাহিত করতে পারে।

পরিশেষেমূল্যায়ন সংস্কারকে একটি শিক্ষণ ব্যবস্থা হিসেবেও দেখা উচিত। স্বাধীনপর্যায়ক্রমে গবেষণা এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় তুলনামূলক গবেষণার মাধ্যমে ক্রমাগত অধ্যয়ন করা উচিত যে, আসলে কোন পদ্ধতিটি কাজ করছেকার জন্য এবং কোন পরিস্থিতিতে তা কার্যকারী। এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত প্রমাণগুলি নীতি সংশোধনশিক্ষক শিক্ষা এবং সম্পদ নকশাকে অবহিত করবেযাতে নিশ্চিত করা যায় যেমূল্যায়ন দ্রুত পরিবর্তনশীলজ্ঞান- এবং উদ্ভাবন-চালিত সমাজের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল থাকে।

সিবিএ-এর দিকে একটি সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারত এমন একটি মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করতে পারেযা শিক্ষার্থীরা কী বোঝে এবং কী করতে পারেসেই বিষয়টিকে সত্যিকার অর্থেই প্রতিফলিত করে। পরবর্তী দশকটি পরীক্ষাগুলিকে স্মৃতির পরিমাপ থেকে অর্থপূর্ণ শিক্ষার মূল্যায়নে রূপান্তরিত করার সুযোগ উপস্থাপন করে।

 


অর্পণ তুলসিয়ান অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমি ডিপ্লোমেসির সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.