সাংহাইয়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে আটকের ঘটনাটি দর্শায় যে, কী ভাবে বেজিং অরুণাচল প্রদেশের উপর তার আঞ্চলিক দাবি জাহির করার জন্য বেসামরিক প্রশাসনিক হাতিয়ার ব্যবহার করে, যদিও প্রকাশ্য সংঘাতের সীমার নিচেই তা থাকে।
২১ নভেম্বর অরুণাচল প্রদেশের একজন ভারতীয় নাগরিক প্রেমা থংদক-কে সাংহাইয়ের পুডং বিমানবন্দরে আঠেরো ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং চিনা অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। যখন প্রেমা এ হেন ব্যবহারের কারণ জানতে চান, তখন এক কর্মকর্তা তাঁকে বলেছিলেন যে, যেহেতু প্রেমা অরুণাচল প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই তাঁর পাসপোর্ট গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এই অঞ্চলটি ‘চিনের অংশ’। এই ঘটনাটি ভারতে তীব্র জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাটিকে একটি নিয়মিত অভিবাসন সংক্রান্ত বিরোধ বলে মনে করা হলেও এটি অরুণাচল প্রদেশের উপর চিনের আঞ্চলিক দাবি জোরদার করার জন্য আমলাতান্ত্রিক হাতিয়ার ব্যবহার করার একটি দীর্ঘ বিন্যাসের সঙ্গে একেবারে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নিয়মিত কনস্যুলার বিরোধের বদলে এই পদক্ষেপগুলি এমন একটি হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে, যার মাধ্যমে বেজিং তার আঞ্চলিক দাবিগুলি প্রকাশ্য সংঘাতের সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলকে নিজের বলে দাবি করে।
এই প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপগুলি চিনের দশকের পর দশক ধরে বজায় রাখা একটি ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সঙ্কেত কৌশলের অংশ। এই সঙ্কেতগুলিতে সামরিক শক্তি জড়িত নয়; বরং এগুলি বেসামরিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে ভিসা, পাসপোর্ট, পারমিট এবং এখন বিমানবন্দর চেক অন্তর্ভুক্ত হলেও তা সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত কনস্যুলার বিরোধের বদলে এই পদক্ষেপগুলি এমন একটি হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে, যার মাধ্যমে বেজিং তার আঞ্চলিক দাবিগুলি প্রকাশ্য সংঘাতের সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলকে নিজের বলে দাবি করে।
সাংহাই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য বোঝার জন্য, অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের প্রতি চিনের দীর্ঘস্থায়ী ভিসা অনুশীলনের দিকে নজর ফেরানো জরুরি, যে অঞ্চলটিকে বেজিং ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত হিসাবে উল্লেখ করে। চিন চিরাচরিত ভাবে অরুণাচলের বাসিন্দাদের সঙ্গে তার কনস্যুলার সংক্রান্ত আচার-আচরণে দু’টি অভিন্ন সাধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে এবং প্রতিটি তার আঞ্চলিক দাবির উপর ভিত্তি করেই করেছে: অর্থাৎ কোনও ভিসার প্রয়োজন নেই বলে দাবি করা এবং স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান করা। এই অনুশীলনগুলি আমলাতান্ত্রিক অসঙ্গতি নয়, বরং অরুণাচলের উপর তার দাবি জাহির করা এবং ভারতের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পরিকল্পিত একটি অ-সামরিক উপায়।
প্রথম পদ্ধতিটি চিনের এই দাবির উপর ভিত্তি করে গৃহীত যে, অরুণাচল প্রদেশ তার ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবং তাই এই পদ্ধতিটি ইঙ্গিত করে যে, এর বাসিন্দারা হলেন চিনা নাগরিক, যাঁদের প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন হয় না। এই যুক্তিটি কয়েক দশক ধরে পর্যায়ক্রমে কার্যকর হয়ে আসছে। এর একটি প্রাথমিক উদাহরণ হল ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে, যখন অরুণাচল প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং এবং রাজ্য বিধানসভার স্পিকার টি.এল. রাজকুমারকে ভিসার প্রয়োজন নেই বলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে একই প্রবণতা আবারও দেখা দেয়, যখন একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় আমন্ত্রিত ৪৮ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদলের চার সদস্যের আমন্ত্রণ হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা হয়। কারণ চিনা পক্ষ তাঁদের চিনা নাগরিক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। একই বছরে, অরুণাচল প্রদেশের এক আইএএস অফিসার গণেশ কোয়ুকে ১০০ জন ভারতীয় বেসামরিক কর্মচারীর জন্য পরিকল্পিত একটি শিক্ষা সফরের জন্য ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়। পূর্ববর্তী ঘটনাগুলির বিপরীতে ভারত সরকার পুরো সফর বাতিল করে, তার নাগরিকদের প্রতি এই ধরনের আচরণ গ্রহণে দৃঢ় অস্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
চিন চিরাচরিত ভাবে অরুণাচলের বাসিন্দাদের সঙ্গে তার কনস্যুলার সংক্রান্ত আচার-আচরণে দু’টি অভিন্ন সাধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে এবং প্রতিটি তার আঞ্চলিক দাবির উপর ভিত্তি করেই করেছে: অর্থাৎ কোনও ভিসার প্রয়োজন নেই বলে দাবি করা এবং স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান করা। এই অনুশীলনগুলি আমলাতান্ত্রিক অসঙ্গতি নয়, বরং অরুণাচলের উপর তার দাবি জাহির করা এবং ভারতের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পরিকল্পিত একটি অ-সামরিক উপায়।
২০১১ সালের দিকে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি আবির্ভূত হয়, যখন চিন অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান শুরু করে। এই পদ্ধতিটি একই ভাবে ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি চিনের অস্বীকৃতি প্রকাশ করে, তবে তা হয় একটি ভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে এক ভারোত্তোলন কোচ এবং অরুণাচলের এক ক্রীড়াবিদ ফুজিয়ানে একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যাপলড ভিসা পেয়েছিলেন। নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁদের ভ্রমণের জন্য ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানান। সেই বছরের জুন মাসে একটি ভারতীয় ক্যারাটে দলের সদস্যরা একই সমস্যার সম্মুখীন হন, যদিও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে চিনা কর্তৃপক্ষ স্ট্যাপলড ভিসাগুলি নিয়মিত স্ট্যাম্পড ভিসা দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে, যখন চেংদুতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসের আগে চিনা দূতাবাস অরুণাচল প্রদেশের তিনজন উশু খেলোয়াড়কে স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান করে।
প্রেমা থংদককে সাম্প্রতিক আটক করে রাখার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় চিনের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ভারত সরকার বলেছে যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং রাজ্যের বাসিন্দাদের ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করার অধিকার রয়েছে। এ দেশের সরকার চিনা কর্তৃপক্ষকে এটাও নিশ্চিত করতে বলেছে যে, ভারতীয় নাগরিকরা চিনে ভ্রমণ করার সময় বা তার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্যায্য ভাবে তাঁদের আলাদা যেন না করা হয়।
ভারত সরকারের তীব্র প্রতিবাদকে অভ্যন্তরীণভাবে স্বাগত জানানো হলেও এই পর্বগুলি আসলে দর্শায় যে, চিন তার আঞ্চলিক দাবির ইঙ্গিত দেওয়ার পদ্ধতিতে ইচ্ছে মতো পরিবর্তন করছে। চিন কখনও কখনও ভিসা দিতে অস্বীকার করে, কখনও কখনও ভিসা অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করে এবং কখনও কখনও স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান করে। এই পরিবর্তন বিভ্রান্তি বা সদিচ্ছার ফলাফল নয়, বরং কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখার জন্য একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।
এই কৌশলগত অস্পষ্টতা একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা আসলে চিন যখন ভারতের উপর চাপ প্রয়োগ করতে চায়, তখন প্রকাশ্য সংঘর্ষের সীমার নিচে থাকা অবস্থায় ব্যবহার করে। একটি সাধারণ ব্যাখ্যা হল এই যে, এই ধরনের পদক্ষেপগুলি দ্বন্দ্ব বা প্রশাসনিক ত্রুটিকেই প্রতিফলিত করে। তবে অসঙ্গতিও এক ধরনের কৌশল বটে। কোনও ভিসার প্রয়োজন নেই এ হেন দাবি করা, স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান এবং মাঝে মাঝে সাধারণ ভিসা প্রদান করার মাধ্যমে চিন একই সঙ্গে তিনটি বার্তা প্রেরণ করে: এই অঞ্চলটি বিতর্কিত এবং চিন সেটিকে নিজের বলে সর্বাধিক দাবি করে; এই দাবিগুলির প্রয়োগ সম্পূর্ণ রূপে চিনের বিবেচনার আওতাধীন; এবং ভারত চিনের প্রশাসনিক আচরণ নির্ভরযোগ্য ভাবে অনুমান করতে পারে না, যার ফলে নিয়মিত মিথস্ক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে।
উপরে আলোচিত দু’টি চিনা পদ্ধতির থেকে কিছুটা ভিন্ন হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাটি এই ধরনের কৌশলের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। থংদক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে একই পথে কোনও প্রকার অসুবিধে ছাড়াই ভ্রমণ করেছিলেন। তবে এই সফরের সময় - যা একই পথে তাঁর পূর্ববর্তী ভ্রমণের মাত্র এক বছর পরে ছিল - তাঁকে বলা হয়েছিল যে তাঁর পাসপোর্ট অবৈধ। কারণ তিনি অরুণাচল প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই নির্বাচনী প্রয়োগ আইনের রাজনৈতিক চরিত্রকেই প্রকাশ করে। চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং যখন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ‘জাংনান চিনেরই ভূখণ্ড’ এবং চিন ‘তথাকথিত অরুণাচল প্রদেশকে কখনওই স্বীকৃতি দেয়নি’, তখন এই ব্যাখ্যাটি আরও জোরদার হয়ে ওঠে, আটক করা আসলে হয়রানি করা নয়, বরং একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। এই ধরনের বিবৃতি চিনের দীর্ঘস্থায়ী বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দর্শায় যে, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন কনস্যুলার বিরোধ ছিল না।
চিন কখনও কখনও ভিসা দিতে অস্বীকার করে, কখনও কখনও ভিসা অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করে এবং কখনও কখনও স্ট্যাপলড ভিসা প্রদান করে। এই পরিবর্তন বিভ্রান্তি বা সদিচ্ছার ফলাফল নয়, বরং কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখার জন্য একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।
সাংহাইয়ের ঘটনার সময়সীমাও এর রাজনৈতিক তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। গত এক বছর ধরে ভারত ও চিন উভয়ই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও অবনতি রোধে পরিমাপযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারত বিশ্বব্যাপী চিনা নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু করেছে; প্রায় পাঁচ বছর পর সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে; সরকার কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করেছে; এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর অবশিষ্ট সংঘাতের বিষয়গুলি সমাধানের প্রচেষ্টায় সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি সীমিত স্বাভাবিকীকরণের দিকে একটি সতর্কতামূলক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয় এবং অনেক পর্যবেক্ষক এগুলিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রতিফলন হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে শুধুমাত্র অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা হওয়ার কারণে একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা বেজিংয়ের উদ্দেশ্য এবং সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে একটি ভিন্ন বাস্তবতাকেই প্রকাশ করে।
কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক বিষয়গুলিতে বেজিংয়ের এ হেন দৃঢ়তা চিনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের স্থবিরতার প্রচেষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত। সম্প্রতি জাপানের প্রাইম মিনিস্টার সানে তাকাইচি বলেছেন যে, তাইওয়ানে চিনা আক্রমণ জাপানের জন্য একটি অস্তিত্বগত সঙ্কট তৈরি করতে পারে এবং এর আত্মরক্ষা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করতে পারে, যা বেজিংয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। চিনা কূটনীতিকরা ‘কাট অফ দ্য ডার্টি নেক’ বা ‘পচে যাওয়া অংশ বাদ দেওয়া’র মতো হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। চিনা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণের বিষয়ে এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছিল। এই উত্তেজনার ফলে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়, যার পরে ট্রাম্প টোকিয়োকে তাইওয়ানের বিষয়ে নিজের ‘কণ্ঠস্বর রোধ’ করতে বলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। চিন জাপানের সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বযুক্ত মনোভাব পোষণ করলেও ভারতের ক্ষেত্রে চিন নিজেদের আঞ্চলিক দাবিগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সূক্ষ্ম, অ-সামরিক উপায়ের উপর নির্ভর করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ধরনটি একই: চিনের আঞ্চলিক দৃঢ়তা পুনরুত্থিত হয়েছে এবং অনেকে এটিকে বেজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের বিষয়ে যুক্ত করেছেন।
বেজিংয়ের উদ্দেশ্য ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আশঙ্কা থেকে গেলেও এই ধরনের ঘটনাগুলি ভারতের অভ্যন্তরে স্পষ্ট অভ্যন্তরীণ পরিণতিও বহন করে। বিদেশে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে জড়িত ঘটনাগুলি কেবল কনস্যুলার চ্যানেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এগুলি দ্রুত জনসাধারণের আলোচনার মাধ্যমে প্রতিধ্বনিত হয়। ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর থেকে চিনের প্রতি ভারতীয় জনমত উল্লেখযোগ্য ভাবে কঠোর হয়েছে। সমীক্ষাগুলিও এই পরিবর্তনের উপর জোর দেয়: ওআরএফ-এর ২০২৪ সালের বৈদেশিক নীতি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ভারতীয় জনগণের মধ্যে চিনকে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয় এবং ২০২৩ সালের পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ৬৭ শতাংশ ভারতীয় চিন সম্পর্কে প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। অতএব, সাংহাইয়ের ঘটনাটি ইতিমধ্যেই প্রচলিত এই আখ্যানের সঙ্গেই মিলে যায় যে, চিন নিয়মিত ভাবে ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদাকে চ্যালেঞ্জ করে।
ছোট আকারের উস্কানিগুলি বিশাল ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, সরকারগুলিকে দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে বাধ্য করে, যোগাযোগের জন্য স্থান হ্রাস করে এবং কূটনৈতিক খরচ বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে এই কারণগুলি কৌশলের জন্য কূটনৈতিক ক্ষেত্রকে সঙ্কুচিত করে।
ফলস্বরূপ, এই ঘটনাগুলি ভারতের নীতিগত বিকল্পগুলিকে সীমাবদ্ধ করে তোলে, এমনকি যখন নয়াদিল্লি বেজিংয়ের সঙ্গে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়। ছোট আকারের উস্কানিগুলি বিশাল ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, সরকারগুলিকে দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে বাধ্য করে, যোগাযোগের জন্য স্থান হ্রাস করে এবং কূটনৈতিক খরচ বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে এই কারণগুলি কৌশলের জন্য কূটনৈতিক ক্ষেত্রকে সঙ্কুচিত করে। নীতিনির্ধারকরা যোগাযোগের শৃঙ্খল বজায় রাখতে বা নির্বাচনী সহযোগিতা অনুসরণ করতে চাইলেও, সাংহাই ঘটনার মতো পর্বগুলি অভ্যন্তরীণ ভাবে এই ধরনের প্রচেষ্টাকে ন্যায্যতা দেওয়ায় গোটা বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরিশেষে, সাংহাইয়ে ভারতীয় নাগরিককে আটকের ঘটনা এ বিষয়টিকেও আরও জোরদার করে যে, চিনের পদক্ষেপগুলি বিচ্ছিন্ন কনস্যুলার ত্রুটি নয়, বরং প্রশাসনিক সঙ্কেতের স্থিতিশীল কৌশলের অংশ। বেসামরিক পদ্ধতিগুলিকে বেছে বেছে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, বেজিং প্রকাশ্য সংঘর্ষ এড়িয়ে তার আঞ্চলিক দাবিগুলি জোরদার করে চলেছে, যা ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টার সীমা প্রকাশ করে।
তুষার জোশি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভিজিটিং ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Tushar Joshi was a Visiting Fellow at the Observer Research Foundation. During his fellowship, his research will examine the domestic drivers of India’s foreign policy ...
Read More +