Author : Pratnashree Basu

Published on May 29, 2025 Updated 1 Days ago

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হেগসেথের ইন্দো-প্যাসিফিক সফর মিত্রদের আশ্বস্ত করে এবং বিশেষ করে চিনের উত্তেজনার মধ্যে জাপান ও ফিলিপিন্সের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করে

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশল: ট্রাম্প ২.০-এর অধীনে হেগসেথের চাপ

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জাপানের টোকিয়োতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে মার্কিন ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ এবং জাপানের মিনিস্টার অফ ডিফেন্স জেনারেল নাকাতানি করমর্দন করেন।

ফিলিপিন্স ও জাপানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ - চিনেআগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দো-প্যাসিফিক কম্যান্ড (ইউএস-ইন্দোপ্যাকম) সামরিক সহযোগিতা, যৌথ মহড়া এবং কৌশলগত মোতায়েনের মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বগুলি কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রাথমিক ভাবে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত বৈদেশিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি চিরাচরিত জোটগুলিকে চাপে ফেলা এবং বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা তৈরি করার জন্য বিবেচিত হয়, যার ফলে বিশ্ব নিরাপত্তায় মার্কিন সম্পৃক্ততা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড হ্রাস করার পরিকল্পনা সম্পর্কে অনিশ্চয়তার পাশাপাশিই প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হ ইউক্রেন এবং গাজার দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটের মধ্যেবিশেষ করে চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক চাপান-উতোরের মাঝে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে

হাওয়াই, ফিলিপিন্স এবং জাপানে মার্কিন-ইন্দোপ্যাকম সফরকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি এই সফর দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদার করার জন্য অপরিহার্যক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা গতিশীলতার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার জন্য স্পষ্ট কৌশলগত প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন ছিল।

তাই মার্কিন ডিফেন্স সেক্রেটারি হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পিট হেগসেথের প্রথম সরকারি সফর সম্পর্ক পুনর্নিশ্চিত করার চাইতেও আরও অনেক বেশি জরুরি ছিল। হাওয়াই, ফিলিপিন্স এবং জাপানে মার্কিন-ইন্দোপ্যাকম সফরকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি এই সফর দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদার করার জন্য অপরিহার্যক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা গতিশীলতার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার জন্য স্পষ্ট কৌশলগত প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন ছিল। এ ভাবে হেগসেথের কর্মকাণ্ড তিনটি মূল নীতির উপর কেন্দ্রীভূত ছিল: প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আধুনিকীকরণ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা-শিল্প সহায়তা সম্প্রসারণ এবং  প্রতিরোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

ম্যানিলা সফরের সারসংক্ষেপ

ম্যানিলায় হেগসেথ প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মানবহীন ব্যবস্থার সহ-উৎপাদন সরবরাহ সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা। ফিলিপিন্স যখন তার সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ করছে, তখন মার্কিন সহায়তা তার সামুদ্রিক ক্ষেত্র সচেতনতা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আসন্ন বালিকাতান মহড়ার অংশ হিসেবে আমেরিকা নেভি-মেরিন এক্সপিডিশনারি শিপ  ইন্টারডিকশনারি সিস্টেম (এনএমইএসআইএস) একটি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল মোতায়েন করার কথা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও মার্কিন বিশেষ অপারেশন বাহিনী তাইওয়ান থেকে মাত্র ১২০ মাইল দক্ষিণে বাটানেস দ্বীপপুঞ্জে ফিলিপিন্সের সেই অঞ্চলে মেরিনদের প্রশিক্ষণ দেবে, যা কিনা মার্কিন-চিন উত্তেজনার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরণস্থল। বালিকাতান ২০২৫ মহড়ার ৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র সংস্করণগুলির মধ্যে অন্যতম হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে ফিলিপন্সের দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে একটি বিস্তৃত যুদ্ধভাব বজায় থাকবে, যার মধ্যে ফিলিপিন্সের অঞ্চল এবং দক্ষিণ চিন সাগর দুই-ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আসন্ন বালিকাতান মহড়ার অংশ হিসেবে আমেরিকা নেভি-মেরিন এক্সপিডিশনারি শিপ ইন্টারডিকশনারি সিস্টেম (এনএমইএসআইএস) একটি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল মোতায়েন করার ঘোষণা করেছে

মার্কোস প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান মিত্রতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করছে, বিশেষ করে যখন ফিলিপিন্স দক্ষিণ চিন সাগরে বারবার উত্তেজনাময় চিনা আগ্রাসনের সম্মুখীন হচ্ছে। চিনের আধিপত্যকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক উদ্বেগ হিসাবে উল্লেখ করে ফিলিপিন্সের ডিফেন্স  সেক্রেটারি গিলবার্তো তেওডোরো জুনিয়র জোর দিয়ে বলেছেন যে, হুমকিটি জাতীয় নিরাপত্তার বাইরেও বিস্তৃত। মিউচুয়াল ডিফেন্স ট্রিটি বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এমডিটি) পরিধি সম্প্রসারণ এবং এনহ্যান্সড ডিফেন্স কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট বা বর্ধিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি (ইডিসিএ) শক্তিশালী করার ফলে মার্কিন সেনাদের ফিলিপিন্সের সামরিক ঘাঁটিতে  প্রবেশাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, বিশেষ করে তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চিন সাগরের কাছে, বাহিনী মোতায়েন সামরিক সম্পদ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

টোকিয়ো সফরের সারসংক্ষেপ

সেক্রেটারি হেগসেথ জাপানের ডিফেন্স মিনিস্টার জেনারেল নাকাতানির সঙ্গে দেখা করেছেন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর জোর দিয়েছেন। বর্তমানে জাপানে প্রায় ৫৪,০০০ মার্কিন সামরিক কর্মী হাওয়াইতে ইন্দো-প্যাসিফিক ম্যান্ডে কর্মরত। তবে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তৎকালীন প্রাইম মিনিস্টার ফুমিও কিশিদার মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তির অধীনে উভয় দেশই এই কাঠামোটির মাধ্যমে জাপানভিত্তিক একটি নতুন সদর দফতরের সংস্কার করার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের লক্ষ্য হল ইউনাইটেড স্টেটস ফোর্সেস জাপান-কে (ইউএসএফজে) একটি যৌথ বাহিনীর সদর দফতরে রূপান্তর করা, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতির দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এই পরিবর্তনের প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যেই চলছে বলে ঘোষণা করে হেগসেথ জাপানে মার্কিন সামরিক কম্যান্ডকে ‘ওয়ার ফাইটিং’ সদর দফতরে উন্নীত করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। দুই দেশ আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র অর্থাৎ দৃশ্যমান-পাল্লার এএমআরএএএম যৌথ উৎপাদনের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে এবং যুদ্ধাস্ত্রের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এসএম-৬-এর মতো মাটি থেকে আকাশে মিসাইল উৎপাদনে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পূর্ব চিন সাগরের তীরবর্তী জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রবেশাধিকারের সম্ভাবনার উপরও আলোচনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের লক্ষ্য হল ইউনাইটেড স্টেটস ফোর্সেস জাপান-কে (ইউএসএফজে) একটি যৌথ বাহিনীর সদর দফতরে রূপান্তর করা, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতির দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

প্রাক্তন প্রাইম মিনিস্টার শিনজো আবে ফুমিও কিশিদার নেতৃত্বে জাপান উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা সংস্কার করেছে। এগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যগুলির সঙ্গেই সাযুজ্যপূর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে পাল্টা আক্রমণ ক্ষমতা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে বিনিয়োগ এবং আরও নমনীয়, যুদ্ধ-প্রস্তুত আত্মরক্ষা বাহিনীর উন্নয়ন। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায়, বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালীতে, ওয়াশিংটন এবং টোকিয়ো সামরিক সমন্বিতকরণকে শক্তিশালী করছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইন্দোপ্যাকম-এর ভূমিকা

ম্যানিলায় তাঁর প্রথম সফরের আগে হেগসেথ ২০২৫ সালের ২৪-২৬ মার্চ ইন্দোপ্যাকম পরিদর্শন করেন সে সময় তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা গতিশীলতা মার্কিন জোট ও অংশীদারিত্বের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন শাখা অর্থাৎ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, মেরিন কোর এবং মহাকাশ বাহিনী পরিষেবা প্রদানকারী সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অভিযানমূলক প্রস্তুতির গুরুত্বের উপর জোর দেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ যোদ্ধা কম্যান্ডের মধ্যে বৃহত্তম কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইন্দোপ্যাকম ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযান তত্ত্বাবধান করে, যার মধ্যে জাপান এবং ফিলিপিন্সের মতো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল সমন্বিত প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা, যার মধ্যে অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করাও সম্পৃক্ত। এর ফলে এ বিষয়টি সুনিশ্চিত করা যায় যে, কোনও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে চিন যদি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে জড়িত হয়, তবে আক্রমণকারী দেশ যেন একটি জটিল ব্যয়বহুল প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ যোদ্ধা কম্যান্ডের মধ্যে বৃহত্তম কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইন্দোপ্যাকম ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযান তত্ত্বাবধান করে, যার মধ্যে জাপান এবং ফিলিপিন্সের মতো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত।

দক্ষিণ চিন সাগরে ফিলিপিন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও জাপান উত্তর-পূর্ব এশিয়া বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই জোটগুলি যাতে আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধে রূপান্তরিত হয়, তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ইন্দোপ্যাকম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যানিলা টোকিয়োর  সঙ্গে ওয়াশিংটনের অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎকে আকার দেবে। হেগসেথের বিবৃতি অর্থাৎ ...আমেরিকা ফার্স্টমানে কেবল আমেরিকা নয়’ আসলে ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্টনীতির একটি সূক্ষ্ম বক্তব্যকেই দর্শায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলেও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নিযুক্ত রয়েছে। বিবৃতিতে সেই অংশীদার দেশগুলির উদ্বেগের কথাও স্বীকার করা হয়েছে, যারা ট্রাম্পের আমলে বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি হ্রাসের আশঙ্কা করছে

 


প্রত্নশ্রী বসু অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.