Author : Sohini Bose

Published on Dec 26, 2025 Updated 0 Hours ago

ওয়াশিংটন যখন বাংলাদেশে বন্দর উন্নয়নের দিকে নজর দিচ্ছে, তখন ঢাকাকে অবশ্যই বৃদ্ধির সুযোগের ঙ্গে বৃহৎ শক্তিগুলির তীব্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

আমেরিকা-বাংলাদেশ সম্পর্ক: বন্দর, শক্তি এবং অংশীদারি

গণমাধ্যমগুলির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  কোয়াড পোর্টস অফ দ্য ফিউচার পার্টনারশিপের অধীনে বাংলাদেশে একটি বন্দর নির্মাণ করতে চাইছে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাওয়া এই উদ্যোগটি হল কোয়াড (অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত) কর্তৃক গৃহীত একটি কৌশলগত সহযোগিতামূলক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হল টেকসই স্থিতিস্থাপক বন্দর পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সংযোগ, লজিস্টিকস স্থিতিস্থাপকতা এবং উন্নত মানের পরিকাঠামো জোরদার করা। এর উদ্দেশ্য হল এই জোটের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে 'সমন্বয় সাধন, তথ্য বিনিময়, সর্বোত্তম অনুশীলন ভাগ করে নেওয়া এবং উন্নত মানের বন্দর পরিকাঠামোতে সরকারি বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের বিনিয়োগ একত্রিত করা' জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বন্দর উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ঢাকায় মূল অংশীদারদের সঙ্গে একটি প্রাথমিক বৈঠক করেছে এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের আগে একটি ব্যাপক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের বৃহত্তম বন্দর শহর চট্টগ্রামে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বড় দলের আগমনের সাম্প্রতিক খবরও পাওয়া গিয়েছে। যদিও এই বন্দর উন্নয়ন উদ্যোগের কেন্দ্রে কোয়াডের স্বার্থই রয়েছে, তবে এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে আরও দৃঢ় অবস্থান লাভের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকেও মূর্ত করে তোলে, যে অঞ্চল দ্রুত প্রধান শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার একটি অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

বন্দরের শক্তি

বিশাল ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশ বঙ্গোপসাগর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কৌশলগত গুরুত্ব লাভ করেছে। এর কারণ হল উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলির অর্থনৈতিক উদারীকরণ, চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলিতে সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার প্রদানের জন্য উপসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণার উদ্ভব। এই কারণগুলি বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থানকে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে, যা ভারত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে একটি সংযোগকারী স্থান হিসেবে কাজ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ পথ দ্বারা পরিবেষ্টিত। এটি জ্বালানি বাণিজ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মালাক্কা প্রণালীর মতো সংকটপূর্ণ জলপথের কাছাকাছি অবস্থিত। জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় পরিপূর্ণ একটি ভবিষ্যৎ এই সামুদ্রিক অঞ্চলে একটি শক্ত ঘাঁটি স্থাপনের জন্যপ্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য কেবল নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ রক্ষা করা নয়, বরং এই সমুদ্রে থাকা হাইড্রোকার্বন ভান্ডারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিদ্যমান স্থিতাবস্থার জন্য একটি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র জাপানের মতো বহিঃআঞ্চলিক পক্ষগুলিকে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে থাকা উদীয়মান অর্থনীতিগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে উৎসাহিত করছে।

তবে, যেহেতু উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রায়শই প্রয়োজনীয় সম্পদ বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকে না, তাই তাদের বন্দরগুলি উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তায় নির্মিত হয়।



বেশ কয়েকটি কারণে বন্দর উন্নয়নে সহযোগিতা এই ধরনের অংশীদারিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সর্বাগ্রে, বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সমস্ত রাষ্ট্রের জন্য উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বন্দর পরিকাঠামো একটি অপরিহার্য প্রয়োজন, কারণ তারা তাদের আমদানি রপ্তানির জন্য মসৃণ সামুদ্রিক পরিবহণের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যা তাদের জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখে। সামুদ্রিক পরিবহণ বিশ্ব বাণিজ্যের মেরুদণ্ড, যেখানে ৮০ শতাংশেরও বেশি পণ্য সমুদ্রপথে পরিবাহিত হয়। বন্দরগুলি এই সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তবে, যেহেতু উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রায়শই প্রয়োজনীয় সম্পদ বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকে না, তাই তাদের বন্দরগুলি উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তায় নির্মিত হয়। বিনিয়োগকারী দেশের জন্য, বন্দরগুলি বিদেশি অর্থনীতিতে প্রবেশের একটি দ্বার, যার মাধ্যমে শিল্প উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, বাণিজ্য জ্বালানি চাহিদা সুরক্ষিত করা এবং নৌ-‌সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কৌশলগত সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং, বন্দর উন্নয়ন কার্যক্রমে জড়িত হওয়া একটি পারস্পরিক লাভজনক প্রচেষ্টা যা কেবল কূটনীতিই নয়, সদিচ্ছাকেও শক্তিশালী করে। বন্দর টার্মিনালের মালিকানা এবং পরিচালনা এই ধরনের সম্পৃক্ততাকে আরও অনুকূল করে তোলে এবং বিদেশি দেশকে বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করে।

বন্দরগুলি কৌশলগত সম্পদও বটে, কারণ এই সুবিধাগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বার্থিং এবং অন্যান্য পরিষেবার জন্য জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেয়। কৌশলগতভাবে, এর অর্থ হল সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত বা ব্যাহত করার ক্ষমতা, যার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ শৃঙ্খলও অন্তর্ভুক্ত। সংঘাতের সময়ে, এর মধ্যে নির্দিষ্ট জাহাজের প্রবেশাধিকার বন্ধ বা সীমাবদ্ধ করার সক্ষমতাও থাকতে পারে, যা বৃহত্তর এসএলওসি কাঠামোর মধ্যে বন্দরগুলির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও জোরদার করে। অধিকন্তু, বাণিজ্যিক বন্দরগুলি জ্বালানি সরবরাহ, রসদ সরবরাহ এবং জাহাজ মেরামতের মতো অপরিহার্য নৌ-‌কার্যকারিতা প্রদান করতে পারে। একটি নিবেদিত সামরিক ঘাঁটি ছাড়াই সংবেদনশীল পরিকাঠামোযোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার এবং অস্ত্র প্ল্যাটফর্মস্থাপন করা যেতে পারে।

বন্দরসংক্রান্ত বিষয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা থাকবে না?

এই সুবিধাগুলি ছাড়াও, বাংলাদেশে বন্দর স্থাপন পরিচালনার নিজস্ব কিছু সুবিধা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ত্রিভুজাকার শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত হওয়ায়, এই সামুদ্রিক অঞ্চলে নজরদারির জন্য বাংলাদেশ একটি আদর্শ অবস্থানে রয়েছে। ভারত, মায়ানমার, নেপাল এবং ভুটানের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি একটি অনন্য ভৌগোলিক সুবিধাও ভোগ করে, যা এটিকে একটি উপকূলীয় প্রবেশদ্বারসহ বঙ্গোপসাগরের পশ্চাৎভূমির সংযোগের কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে বাংলাদেশের বন্দরগুলি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি সামুদ্রিক বাণিজ্যের কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর চিনা বিনিয়োগ পেয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর মংলা বন্দরে চিন ভারত উভয়েরই উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব রয়েছে। জাপান মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে।


বঙ্গোপসাগরের ত্রিভুজাকার শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত হওয়ায়, এই সামুদ্রিক অঞ্চলে নজরদারির জন্য বাংলাদেশ একটি আদর্শ অবস্থানে রয়েছে। ভারত, মায়ানমার, নেপাল এবং ভুটানের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি একটি অনন্য ভৌগোলিক সুবিধাও ভোগ করে, যা এটিকে একটি উপকূলীয় প্রবেশদ্বারসহ বঙ্গোপসাগরের পশ্চাৎভূমির সংযোগের কেন্দ্রে স্থাপন করেছে।


 
যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র প্রধান শক্তি যার বঙ্গোপসাগরে ব্যাপক স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও কোনও বন্দর বিনিয়োগ নেই। এর কারণ দুটি। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব মূলত পরিকাঠামোগত বিনিয়োগের পরিবর্তে কূটনৈতিক, নিরাপত্তা এবং শাসনতান্ত্রিক চ্যানেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের আগস্টে শাসন পরিবর্তনের আগে পনেরো বছর ধরে বাংলাদেশ শাসন করা পূর্ববর্তী আওয়ামী লিগ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল বেশ অস্থির গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং মানবাধিকার নিয়ে ঘন ঘন মতপার্থক্য সম্পর্কটিকে তিক্ত করে তুলেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের একটি গুজব ছিল, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটন ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লিগ সরকারকে সমর্থন দিত। যদিও মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এই ধরনের জল্পনা অস্বীকার করেছেন, তবে দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত এই দ্বীপটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে প্রায় কিলোমিটার দক্ষিণে এবং উত্তর-পশ্চিম মায়ানমার থেকে কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ফলে এটি বাংলাদেশের চিন-নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটি বিএনএস শেখ হাসিনা এবং মায়ানমারের কোকো দ্বীপপুঞ্জে বেজিংয়ের গোয়েন্দা স্থাপনা উভয়েরই কাছাকাছি অবস্থিত। কাজেই বঙ্গোপসাগরে নজরদারির জন্য এটি একটি আদর্শ অবস্থানে রয়েছে। এই দ্বীপগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দিতে হাসিনা অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর -‌প্রথাগত মন্তব্যগুলি এই জল্পনার জন্ম দেয় যে, তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির পেছনে কোনও বিদেশি শক্তির হাত ছিল

বন্দর ক্ষমতার খেলা

তবে, বর্তমানে ঢাকায় ক্ষমতায় থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি রাজনৈতিক পালাবদল প্রত্যক্ষ করেছে। যদিও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ডেমোক্রেটিক পার্টির, অর্থাৎ মার্কিন বিরোধী দলের, প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবুও তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজয়কে একটি চিঠির মাধ্যমে অভিনন্দন জানান, যেখানে অংশীদারিত্বের প্রতি উন্মুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। যদিও মার্কিন বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প থেমে যায়, নতুন ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত বৈদেশিক সাহায্য স্থগিত করার কয়েক দিন পরেই ইউনূস মার্কিন বিলিয়নেয়ার জর্জ সোরোসের ছেলে অ্যালেক্স সোরোসের সঙ্গে দেখা করেন এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় দেশ মার্কিন রপ্তানি বাড়ানোর উপায় শনাক্ত করার জন্য কাজ করার পাশাপাশি শুল্ক নিয়ে বেশ কয়েক দফা আলোচনাও করেছে। বাংলাদেশ মার্কিন কৃষি পণ্যেরতুলা, গম, ভুট্টা এবং সয়াবিনেরআমদানি বাড়াতে আগ্রহী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রেরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বার্থ রয়েছে, কারণ এটি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য একক বৃহত্তম বাজার। যেহেতু এই শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চালিত করে, তাই দেশটির কর্মসংস্থান, প্রতিযোগিতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা সরাসরি মার্কিন বাজারের চাহিদা এবং শুল্কসহ বাণিজ্য নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বল্পমূল্যের, বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত পোশাক থেকে উপকৃত হয়।

এটি লক্ষণীয় যে, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর উন্নয়ন উদ্যোগটি কোয়াডের আওতাধীন, তবুও এটি অন্য কোয়াড দেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে পারে, কারণ বন্দরগুলি, বিশেষ করে যেগুলি একে অপরের কাছাকাছি অবস্থিত, সেগুলি সর্বাধিক বাণিজ্য আকর্ষণ করার জন্য প্রতিযোগিতা করে।


সুতরাং, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নির্মিত বা পরিচালিত একটি বন্দর উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। তবে, এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে, শুধু চিনের সঙ্গেই নয়, বরং ভারত জাপানের সঙ্গেও, যারা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বন্দর উন্নয়ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে। এটি লক্ষণীয় যে, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর উন্নয়ন উদ্যোগটি কোয়াডের আওতাধীন, তবুও এটি অন্য কোয়াড দেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে পারে, কারণ বন্দরগুলি, বিশেষ করে যেগুলি একে অপরের কাছাকাছি অবস্থিত, সেগুলি সর্বাধিক বাণিজ্য আকর্ষণ করার জন্য প্রতিযোগিতা করে। এগুলি অগত্যা আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য নির্মিত হয় না, বরং জাতীয় লাভের জন্যই নির্মিত হয়। ঢাকার জন্য তার উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থগুলির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের অগ্রাধিকারগুলি রক্ষা করতে যথেষ্ট কূটনৈতিক দক্ষতার প্রয়োজন হবে, যাতে এটি তার ভূ-রাজনৈতিক সুবিধাগুলিকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে পারে। ঢাকার কূটনৈতিক বিচক্ষণতা এই বিষয়টিও নির্ধারণ করবে যে, এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সহযোগিতার সেতু হয়ে উঠবে নাকি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।



সোহিনী বোস অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.