ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম একটি চাপের পরীক্ষার মুখোমুখি। ঘন ঘন ইউপিআই বিভ্রাটের জন্য ব্যাকআপ সিস্টেম, স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের প্রয়োজন।
ভূমিকা
গত কয়েক মাসে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) উল্লেখযোগ্য বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ লেনদেন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে ব্যবহারকারীদের কয়েক ঘণ্টা ধরে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) স্বীকার করেছে যে, 'মাঝে মাঝে প্রযুক্তিগত সমস্যা' দেখা দেওয়ায় লেনদেন আংশিকভাবে কমে গিয়েছে, তবে সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে একাধিক বিভ্রাটের পুনরাবৃত্তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যেহেতু ইউপিআই মাসে ১৬ বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন পরিচালনা করে। এই বিভ্রাটগুলি অন্তর্নিহিত সিস্টেমিক দুর্বলতাগুলিকে তুলে ধরে, এবং ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার জন্য ব্যবহারিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।
ইউপিআই ভারতের আর্থিক ভূদৃশ্যের রূপান্তর ঘটাচ্ছে
ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়িত সমাজ তৈরির লক্ষ্যে ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের সাফল্যে ইউপিআই একটি প্রধান অনুঘটক হয়ে উঠেছে। তবে, এর অব্যাহত সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার উপর নয়, বরং সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা ও সুরক্ষা নিয়ে ব্যবহারকারী জনসাধারণের আস্থার উপর নির্ভর করে। ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য আস্থা মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অতএব, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য, জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখা ও বৃদ্ধি করা শুধু পরিপূরক দিক নয় বরং একটি মৌলিক প্রয়োজনীয়তা।
২০২৫ সালের এপ্রিলের মতো বারবার বিভ্রাটের ফলে ইউপিআই-এর পরিকাঠামো এবং নির্ভরযোগ্যভাবে এর আয়তন বাড়ানোর ক্ষমতার উপর নজরদারি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইউপিআই-এর মাধ্যমে ভারতের আর্থিক দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যা মূলত নগদ-ভিত্তিক অর্থনীতি থেকে ডিজিটাল লেনদেনের নেতৃত্বাধীন অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। স্মার্টফোনের বিস্তার এবং সহায়ক নীতিগত পদক্ষেপের ফলে, ইউপিআই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। পিডব্লিউসি-র একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত এখন বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৪৬ শতাংশের কৃতিত্বের অধিকারী, যা গত ১২ বছরে খুচরা ডিজিটাল পেমেন্টে ৯০ গুণ বৃদ্ধি প্রতিফলিত করে। এটি পরিবর্তনের আয়তন ও প্রভাবকে তুলে ধরে। মাসিক ইউপিআই লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে , এবং ২০২৪ সালে প্রতি মাসে ১৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ, এই সংখ্যা ১৮.৩ বিলিয়ন পৌঁছেছে। তবে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে সামান্য হ্রাস পেয়ে তা ১৭.৮৯ বিলিয়ন হয়েছে, যার জন্য ঘন ঘন বিভ্রাটকে দায়ী করা যেতে পারে।
নিচের চিত্রটি জানুয়ারি ২০২২ থেকে মে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউপিআই -এর পুনরাবৃত্ত পরিষেবা ব্যাঘাতের চিত্র তুলে ধরে।
চিত্র ১: ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধান ইউপিআই বিভ্রাটের কালানুক্রমিক সময়রেখা যা সিস্টেমিক দুর্বলতাগুলি তুলে ধরে
সূত্র: লেখকের নিজস্ব তথ্য https://www.npci.org.in/what-we-do/upi/uptime-upi-month-wise এ উপলব্ধ তথ্য থেকে
উল্লেখযোগ্যভাবে, এনপিসিআই-এর আপটাইম ড্যাশবোর্ড ২০২৫ সালের মার্চের পরে আপডেট করা হয়নি, যার ফলে উল্লেখযোগ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সময়কালে ডেটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই বিভ্রাটগুলি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ডিজিটাল পেমেন্ট ভারতের অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে, ভারত সরকার ভিম অ্যাপের মাধ্যমে ইউপিআই গ্রহণে ছোট বিক্রেতাদের উৎসাহিত করার জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। যত বেশি মানুষ এবং ব্যবসা নগদহীন পেমেন্টে স্থানান্তরিত হচ্ছে, ইউপিআই ডাউনটাইমের প্রতিটি মিনিটের তত বেশি বাস্তব প্রভাব রয়েছে।
একটি ব্যাক-আপ সিস্টেমের প্রয়োজন
এই ঘটনাগুলি একটি স্পষ্ট সমস্যা উন্মোচিত করেছে: মূলত ভারতের মূল ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ বিকল্পের অনুপস্থিতি। যদিও ইউপিআই হল সর্বাধিক ব্যবহৃত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, এই ব্যাঘাতগুলি দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য একটি একক রেলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি তুলে ধরে। যদিও কার্ড নেটওয়ার্ক বা ইমিডিয়েট পেমেন্ট সার্ভিস (আইএমপিএস)/নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মতো বিকল্প বিদ্যমান, তবুও এগুলি হয় সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে যাঁদের পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) মেশিন নেই, অথবা এগুলি ইউপিআই-এর মতো তাৎক্ষণিক এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব নয়।
২০২৫ সালের এপ্রিল এবং মে মাসে ইউপিআই বিভ্রাটের সময়, ব্যবহারকারীদের পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না, যা আরও স্থিতিশীল বিকল্পের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। যদিও নগদ সর্বদা একটি বিকল্প হিসাবে উপলব্ধ, আজ অনেক গ্রাহক নগদ অর্থ ব্যবহার করা এড়িয়ে যান এবং ডিজিটাল পেমেন্টের গতি ও স্বাচ্ছন্দ পছন্দ করেন ।
স্বচ্ছতার এই অভাব সিস্টেমিক জবাবদিহিতা এবং ঘটনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করে, যা ব্যবহারকারীদের মনে সিস্টেমের কার্যকারিতা ও স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
কৃতিত্ব হিসাবে বলা যায়, এনপিসিআই সিস্টেমে কিছু ব্যাকআপ তৈরি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউপিআই লাইট - যা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই ছোট পেমেন্ট করতে দেয় - কাছাকাছি ডিভাইস-টু-ডিভাইস (এনএফসি) যোগাযোগ ব্যবহার করে। এটি সংক্ষিপ্ত নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের সময় কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে, তবে এর সীমা রয়েছে, কারণ এটি শুধু অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে কাজ করে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় না। একটি প্রধান ইউপিআই অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতার মতে, গ্রাহকেরা এখনও বিকল্প উপায় হিসাবে ইউপিআই লাইট ব্যবহার করা সত্ত্বেও সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সমাধান পছন্দ করেন।
অন্যান্য সমাধান, যেমন ইউপিআই১২৩পে এবং আনস্ট্রাকচার্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা (ইউএসএসডি) ভিত্তিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, কম সংযোগ বা স্মার্টফোনের অভাবের ক্ষেত্রে ব্যাকআপ হিসেবে এনপিসিআই দ্বারা চালু করা হয়েছিল। তবে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার সমস্যা, সীমিত ব্যাঙ্ক সহায়তা, টেলিকম ইন্টিগ্রেশন চ্যালেঞ্জ এবং খরচ-সম্পর্কিত বাধার কারণে এদের ব্যবহারিক বাস্তবায়ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাকআপ সিস্টেম তৈরির প্রচেষ্টা করা হলেও, তাদের বর্তমান রূপ যথেষ্ট আস্থা বা ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ অনুপ্রাণিত করেনি।
এনপিসিআই স্পটলাইটে: ইউপিআই ব্যর্থতা এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা
এনপিসিআই — ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে একটি অলাভজনক সংস্থা ভারতের পেমেন্ট সিস্টেম, ইউপিআই-এর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। এর নকশা ও কার্যকারিতা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা প্রতি মাসে কোটি কোটি রিয়েল-টাইম লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করে।
এর মডেল একটি সহযোগী পদ্ধতির উপর নির্ভর করে , যেখানে ব্যাঙ্ক, অ্যাপ ও নিয়ন্ত্রকরা ডিজিটাল লেনদেন সহজতর করার জন্য সহযোগিতা করে। এই স্তরবিশিষ্ট দায়িত্ব কাঠামো ইউপিআই-কে একটি শেয়ার করা পরিকাঠামোতে পরিণত করে, যেখানে স্থিতিস্থাপকতা শুধু এনপিসিআই-এর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপরই নির্ভর করে না, বরং অংশগ্রহণকারী ব্যাঙ্ক এবং তৃতীয় পক্ষের প্রদানকারীদের দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলার উপরও নির্ভর করে।
১২ এপ্রিল ২০২৫ সালের বিভ্রাটকে পেমেন্ট অপারেটরদের সাম্প্রতিক স্মৃতিতে ইউপিআই-এর দীর্ঘতম বিভ্রাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এনপিসিআই এর কারণ হিসেবে ‘চেক ট্রানজেকশন স্টেটাস’ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) কলের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধিকে দায়ী করেছে, যা এই বিতরণকৃত মডেলের দুর্বলতাগুলি প্রকাশ করেছে। যদিও এনপিসিআই আপডেটেড ইন্টিগ্রেশন নির্দেশিকা জারি করেছে এবং উন্নত এপিআই ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে , এই পর্বটি এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যে সিস্টেম-ব্যাপী স্থিতিস্থাপকতার জন্য সমস্ত অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ক্রমাগত সতর্কতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
যদিও এপ্রিল ২০২৫ সালের বিভ্রাটকে একটি নির্দিষ্ট সমাধানসহ একটি পরিচিত কারণের জন্য দায়ী করা হয়েছে, এনপিসিআই মার্চ, এপ্রিল এবং মে ২০২৫ সালে ঘটে যাওয়া অন্যান্য বিভ্রাটের কারণগুলি প্রকাশ্যে জানায়নি। স্বচ্ছতার এই অভাব সিস্টেমিক জবাবদিহিতা এবং ঘটনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করে, যা ব্যবহারকারীদের মনে সিস্টেমের কার্যকারিতা ও স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ব্যাঘাতের কারণ বা এটি মোকাবিলার জন্য করা পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট বিবরণ ছাড়া, সিস্টেমের প্রতি ব্যবহারকারীর আস্থা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ যেমন উল্লেখ করেছেন, ইউপিআই-এর প্রতি জনসাধারণের আস্থা শুধু আপটাইমের উপর নির্ভর করে না, বরং এনপিসিআই এবং এর অংশীদারেরা যখন কোনও সমস্যায় পড়ে তখন তা কতটা খোলামেলা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জানানো হয় তার উপরও নির্ভর করে।
ইউপিআই এবং ভারতের বৃহত্তর ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামোর উপর জনসাধারণের আস্থা রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত নেহাত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন হবে। এর জন্য অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব প্রয়োজন হবে।
যদিও সাম্প্রতিক বিভ্রাটগুলি পদ্ধতিগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে, তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ইউপিআই ভারতের একমাত্র ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম নয়, এবং এটি প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার জন্য অনন্যভাবে সংবেদনশীলও নয়। ইমিডিয়েট পেমেন্ট সার্ভিস (আইএমপিএস), ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (নেফট), রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস), এবং আধার এনেবল্ড পেমেন্ট সিস্টেম (এইপিএস) সহ অন্য পেমেন্ট চ্যানেলগুলি অতীতে মাঝে মাঝে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
এখানে চ্যালেঞ্জ হল ক্রমবর্ধমান লেনদেনের পরিমাণ এবং ব্যবহারের বৈচিত্র্যের সঙ্গে সিস্টেম ডিজাইনকে অভিযোজিত করা। ইউপিআই লাইট-এর আয়তন বৃদ্ধি করা, ইউএসএসডি-এর মতো অফলাইন লেনদেনের বিকল্পগুলি বিকাশ করার, এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সেরা অনুশীলনগুলি প্রয়োগ করার জন্য এনপিসিআই-এর চলতি প্রচেষ্টাগুলি পরিকাঠামোগত শাসনের জন্য একটি সক্রিয় পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করে।
নতুন সামগ্রিক সত্তা (এনইউই) — একটি হারানো সুযোগ?
সাম্প্রতিক এই ঘটনাবলির আলোকে, নিউ আমব্রেলা এনটিটি ( এনইউই ) কাঠামোটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এনইউই প্রকল্পটি ছিল ২০১৯ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ যা এনপিসিআই-এর সমান্তরালে খুচরা পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা করবে এমন সত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল ভারতে একক ডিজিটাল পেমেন্ট অপারেটর হওয়ার ফলে এনপিসিআই-এর ঘনত্বের ঝুঁকি দূর করা। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ২০২০ সালে এনইউই স্থাপন করতে ইচ্ছুক সত্তাদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা শুরু করে। তবে, একাধিক সত্তা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরেও পরের বছর প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও আরবিআই এনইউই -এর দরজা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেনি, তবুও সিস্টেমিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা প্রসারের উপায় হিসাবে এই কাঠামোটি পর্যালোচনা করা সার্থক হতে পারে।
একটি স্থিতিস্থাপক ডিজিটাল পেমেন্ট মডেলের দিকে
যত বেশি সংখ্যক মানুষ এবং ব্যবসা নগদহীন অর্থপ্রদানের দিকে ঝুঁকছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলের মতো বারবার বিভ্রাটের ফলে ইউপিআই-এর পরিকাঠামো এবং নির্ভরযোগ্যভাবে এর আয়তন বাড়ানোর ক্ষমতার উপর নজরদারি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আজকের দিনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হল ইউপিআই জিরো-মার্চেন্ট-ডিসকাউন্ট-রেট (জিরো-এমডিআর) ব্যবস্থায় কাজ করে। এটি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করলেও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী, ব্যাঙ্ক ও ফিনটেকগুলির বাণিজ্যিক কার্যকারিতা সীমিত করেছে, যারা চব্বিশ ঘণ্টা সিস্টেমটিকে সমর্থন করে এবং সুরক্ষিত রাখে। এটি ব্যবহারকারীদের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ তারা এমন একটি সিস্টেমের উপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে যার রক্ষণাবেক্ষণ ও উদ্ভাবন সীমিত বাণিজ্যিক প্রণোদনার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
একটি নামমাত্র লেনদেন ফি বা একটি স্তরযুক্ত এমডিআর কাঠামো পুরো বাস্তুতন্ত্রের খেলোয়াড়দের আরও ভাল ব্যাকআপ এবং উন্নত গ্রাহক সহায়তায় বিনিয়োগ করার অনুমতি দেবে।
এই মডেলটি পুনর্বিবেচনা করা, এমনকি স্বল্পাকারে হলেও, তা একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে। একটি নামমাত্র লেনদেন ফি বা একটি স্তরযুক্ত এমডিআর কাঠামো পুরো বাস্তুতন্ত্রের খেলোয়াড়দের আরও ভাল ব্যাকআপ এবং উন্নত গ্রাহক সহায়তায় বিনিয়োগ করার অনুমতি দেবে। বর্তমানে, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এই দায়িত্ব অনেকগুলি এনপিসিআই এবং এর অংশীদারদের উপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বর্তায়। টেকসই রাজস্ব প্রবাহ প্রবর্তন এই বোঝা আরও সমানভাবে বিতরণ করতে সাহায্য করবে এবং অংশীদারদের উচ্চ আপটাইম ও কর্মক্ষমতা মান বজায় রাখতে উৎসাহিত করবে।
ইউপিআই তার জনপ্রিয়তা এবং অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে; এখন একে তার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী সহকর্মীদের কাছ থেকে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং একক-বিন্দু দুর্বলতা মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এনইউই বা সরবরাহকারীদের বৈচিত্র্যের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে এবং বাধ্যতামূলক ব্যাকআপ ও অফলাইন মোডের মতো আকস্মিক পরিকল্পনা প্রয়োগ করে, ভারত নিশ্চিত করতে পারে যে চাপের মধ্যে তার ডিজিটাল পেমেন্ট মেরুদণ্ড শক্তিশালী থাকবে।
ইউপিআই এবং ভারতের বৃহত্তর ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামোর উপর জনসাধারণের আস্থা রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত নেহাত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন হবে। এর জন্য অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব প্রয়োজন হবে। একটি সু-পরিকল্পিত ফি মডেল এই প্রচেষ্টার মেরুদণ্ড গঠন করতে পারে, এবং এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে যে সিস্টেমটির রক্ষণাবেক্ষণকারীরা পর্যাপ্তভাবে সজ্জিত, অনুপ্রাণিত ও পুরস্কৃত।
তনুষা ত্যাগী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর ডিজিটাল সোসাইটিজ-এর গবেষণা সহকারী।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Tanusha Tyagi is a research assistant with the Centre for Digital Societies at ORF. Her research focuses on issues of emerging technologies, data protection and ...
Read More +