-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
গত এক দশকে ভারতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে স্বাস্থ্য বিমা কভারেজ ২০১৭-১৮ সালের প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে ৫৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।
‘প্রবীণ ব্যক্তিরা স্থানীয় ও বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি: আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আমাদের মঙ্গল এবং আমাদের অধিকার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে যখন ১ অক্টোবর ২০২৫-এ বিশ্ব রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করছিল, তখন ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (পিএমজেএওয়াই) সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে ভারতের প্রচেষ্টা এই আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারগুলোর একটি বাস্তব স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিভাত হয়। এটি প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য নীতির কেন্দ্রে স্থাপন করে, প্রান্তিক অবস্থানে নয়। যখন ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ‘আয়ুষ্মান বয়ো বন্দনা’ (এভিভি) নামে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে তিনটি পিএমজেএওয়াই-এর অংশ ছিল না। তারপর থেকে দুটি—ওড়িশা এবং দিল্লি—এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গই এর বাইরে রয়েছে। তাই এই উদ্যোগটি সত্যিকারের জাতীয় রূপ পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
যখন ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ‘আয়ুষ্মান বয়ো বন্দনা’ (এভিভি) নামে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে তিনটি পিএমজেএওয়াই-এর অংশ ছিল না। তারপর থেকে দুটি—ওড়িশা এবং দিল্লি—এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গই এর বাইরে রয়েছে।
ভারত ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকলের জন্য পিএমজেএওয়াই প্রকল্প সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আয় আর যোগ্যতার মাপকাঠি থাকল না, ফলে বার্ধক্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণাটি নতুন করে সংজ্ঞায়িত হল। এই বিজ্ঞপ্তিটি দুটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি করেছে। যে সকল প্রবীণ ব্যক্তি ইতিমধ্যেই পিএমজেএওয়াই প্রকল্পের আওতাভুক্ত পরিবারের সদস্য, তাঁরা পরিবারপ্রতি ৫ লক্ষ টাকার একটি টপ আপ পাবেন। আর যে সকল প্রবীণ ব্যক্তি বর্তমানে পিএমজেএওয়াই-এর বাইরে আছেন, তাঁরাও পরিবারভিত্তিক ৫ লক্ষ টাকার কভারেজ পাবেন। উদ্দেশ্যটি সহজ: ভারত এমন একটি বয়সে আয়ের শর্তটি তুলে দিতে চায়, যখন প্রয়োজন বাড়ে এবং বাজেট সীমিত হয়ে আসে।
এই সম্প্রসারণটি একটি স্বতন্ত্র আয়ুষ্মান বয়ো বন্দনা কার্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (এনএইচএ) জানিয়েছে যে প্রত্যেক যোগ্য প্রবীণ ব্যক্তি একটি পৃথক কার্ড পাবেন। আবেদন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে করা যাবে, এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের সহায়তায়ও আবেদন করা যাবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তালিকাভুক্তি অনুমোদিত হওয়ার দিন থেকেই চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য হাসপাতালে ভর্তির কভারেজের এই ঐতিহাসিক সর্বজনীনকরণের প্রেক্ষাপটে, এই নিবন্ধটি গত এক বছরে কভারেজের সম্প্রসারণ রেখা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে।
প্রবীণদের যত্নে বর্তমান কভারেজের প্রবণতা এবং ফাঁকফোকর
গত এক বছরে দুটি জোরালো সংকেত পাওয়া গেছে। ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে রাজ্যসভায় দেওয়া এক জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে, আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অধীনে ১.০৬ লক্ষেরও বেশি দাবির নিষ্পত্তি করা হয়েছে । এটি নির্দেশ করে যে তালিকাভুক্তি এখন বয়স্ক রোগীদের জন্য ভর্তি এবং চিকিৎসাগত কার্যক্রমে রূপান্তরিত হচ্ছে। ওই জবাবে তালিকাভুক্তদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে পরিষেবা স্থানান্তরের সুবিধার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সংকেতটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির ভিত্তি সম্পর্কিত। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতজুড়ে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার অধীনে ৩৩,০৮০টি হাসপাতাল তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৫,৩৯৭টি বেসরকারি হাসপাতাল। এই নেটওয়ার্কটি পরিষেবা স্থানান্তরের বিষয়টিকে বাস্তবসম্মত করে তোলে, যখন প্রবীণ এবং তাদের যত্নকারীদের এটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কে অবহিত ও সহায়তা করা হয়।
বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ২০১৭-১৮ সালে ৭০ বছরের বেশি বয়সী মোট ৪৯ মিলিয়ন ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ৭.৩ মিলিয়ন ব্যক্তি স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় ছিলেন, যা ছিল খুবই কম। কিন্তু ২০১৮ সালে পিএমজেএওয়াই চালু হওয়ার কারণে এই কভারেজ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে ৭০ বছরের বেশি বয়সী মোট ৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ২৫ মিলিয়নে উন্নীত হয়।
ভারতের সর্বশেষ সরকারি জনসংখ্যার পরিসংখ্যান ২০১১ সালের, আর সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫ সালে ৭০ বছরের বেশি বয়সী ভারতীয়দের সংখ্যা ৬.৭ কোটি হবে। এই জনসংখ্যার একটি অংশকে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার (পিএমজেএওয়াই) অধীনে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার (এভিভি) মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে, গত এক বছরে ৭০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার সম্প্রসারণের একটি প্রাথমিক হিসাব সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ সরকারি তথ্য ব্যবহার করে করার চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রাফ ১-এ ৭০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার জন্য পিএমজেএওয়াই-এর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য বিমা কভারেজ এবং এভিভি চালুর আগের ও পরের কভারেজ উভয়ই দেখানো হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ২০১৭-১৮ সালে ৭০ বছরের বেশি বয়সী মোট ৪৯ মিলিয়ন ব্যক্তির মধ্যে মাত্র ৭.৩ মিলিয়ন ব্যক্তি স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় ছিলেন, যা ছিল খুবই কম। কিন্তু ২০১৮ সালে পিএমজেএওয়াই চালু হওয়ার কারণে এই কভারেজ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে ৭০ বছরের বেশি বয়সী মোট ৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ২৫ মিলিয়নে উন্নীত হয়। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ এভিভি চালু হওয়ার পর, বর্তমান ৭০ বছরের বেশি বয়সী আনুমানিক ৬৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে এই কভারেজ আরও বেড়ে ৩৭ মিলিয়নে পৌঁছেছে। এর অর্থ হল, ভারতের ৭০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশেরও বেশি স্বাস্থ্য বিমার আওতায় এসেছেন।
সূত্র:জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ, এলএএসআই রিপোর্ট, পিএমজেএওয়াই ড্যাশবোর্ডের ডেটার উপর ভিত্তি করে গণনা
এই প্রচেষ্টার জন্য বেশ কিছু অনুমানের প্রয়োজন হয়েছে, কারণ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য বিমা কভারেজ পরীক্ষা করার জন্য পরিচালিত সুনির্দিষ্ট সমীক্ষা লংগিটিউডিনাল এজিং স্টাডি ইন ইন্ডিয়া (এলএএসআই)-র সর্বশেষ উপলব্ধ সংখ্যাগুলো ২০১৭-১৮ সালের, যা একটি ভিত্তি বছর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পিএমজেএওয়াই-এর বয়স-ভিত্তিক কভারেজের তথ্য এখন আর এনএইচএ-র পিএমজেএওয়াই ড্যাশবোর্ডে পাওয়া যায় না (যা আগে উপলব্ধ ছিল), এবং এটি অনুমান করা হয়েছে যে ষাটোর্ধ্ব এবং সত্তরোর্ধ্ব জনসংখ্যার জন্য পিএমজেএওয়াই-এর আনুপাতিক কভারেজ একই। পরিশেষে, এলএএসআই-এর গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, ব্যক্তিগত বিমা এবং অন্যান্য কর্মসংস্থান-সংযুক্ত স্বাস্থ্য বিমা কভারেজকে সত্তরোর্ধ্ব মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশে স্থির রাখা হয়েছে। এনএইচএ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ পিএমজেএওয়াই-এর আওতাভুক্ত ছিল, এবং আনুপাতিক কভারেজ অনুযায়ী, ষাটোর্ধ্ব মোট নিবন্ধনের ৪২ শতাংশ সত্তরোর্ধ্ব বয়স গোষ্ঠীর মধ্যে ছিল।
এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ২০২৫ সালে দিল্লি এবং ওড়িশা পিএমজেএওয়াই-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর জন্য উপস্থাপিত এভিভি কভারেজের পরিমাণ স্ফীত হওযার কথা। একইভাবে, পিএমজেএওয়াই-এর অধীনে থাকা সত্তরোর্ধ্ব জনসংখ্যার কিছু অংশের পূর্ববর্তী কভারেজ ইতিমধ্যেই এভিভি কভারেজে স্থানান্তরিত হয়ে যেত, যার ফলে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর অনুমানে কিছু দ্বৈত গণনা ঘটত। তবে, নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলির দিকে তাকালে দেখা যায়, যেখানে এভিভি চালুর আগেই জনসংখ্যার প্রায় সমপর্যায়ের কভারেজ ছিল, সেখানে এটি এখনও বড় আকারে শুরু হয়নি। গত এক বছরে নাগাল্যান্ডে মাত্র ১০৩টি এবং মেঘালয়ে ২০৪টি এভিভি তালিকাভুক্তি অনুমোদিত হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে পিএমজেএওয়াই কভারেজের অংশ থাকা সত্তরোর্ধ্ব জনসংখ্যাকে এখনও নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হয়নি। রাজ্যগুলিতে এভিভি প্রকল্প পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে প্রবীণ জনসংখ্যার মধ্যে সত্তরোর্ধ্বদের কভারেজের অনুপাত বাড়তে বাধ্য, কিন্তু পূর্ববর্তী সমীক্ষায় চিহ্নিত সচেতনতার ঘাটতির কারণে বাকি ৪৫ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টাটি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। প্রবীণ জনসংখ্যার মধ্যে স্বাস্থ্য বিমা কভারেজ এবং সচেতনতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে যখন ওয়েভ ২ এলএএসআই (২০২৫)-এর ফলাফল প্রকাশিত হবে।
একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, এবং এটি অংশীদারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, সামাজিক যত্ন, এবং ডিজিটাল সরঞ্জাম জুড়ে মান, ভূমিকা ও সমন্বয়কে রূপ দিতে সাহায্য করেছে।
২০২৪ সালে প্রবীণদের যত্নের সংস্কার সম্পর্কিত নীতি আয়োগের অবস্থানপত্রটি ব্যাখ্যা করে যে, প্রবীণদের ভালভাবে সেবা দেওয়ার জন্য বিমার সাথে আর কী কী থাকা প্রয়োজন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারত সুবিধা-ভিত্তিক চিকিৎসা পরিষেবার উপর জোর দিয়েছে, অথচ গৃহ-ভিত্তিক এবং অ-চিকিৎসা পরিষেবা সীমিত মনোযোগ পেয়েছে। এটি প্রবীণদের যত্ন পরিষেবার জন্য জাতীয় মানের অভাব এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে গুণমান ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক ও পর্যবেক্ষণ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে। এই উপাদানগুলো ছাড়া শুধু বিমা কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে পারে না। বিমা কভারেজের পরিপূরক হিসেবে, প্রতিবেদনটি একটি বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে যা পিএমজেএওয়াই-এর — যা এখন এভিভি — উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি এমন ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রাথমিক যত্নের আহ্বান জানায় যা বয়স্কদের চাহিদার প্রতি সাড়া দেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি যত্নের সুযোগ নিশ্চিত করে। এটি জেরিয়াট্রিক যত্নের দক্ষতার ক্ষেত্রে কর্মীবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা এবং বার্ধক্যে রোগের ধরনের উপর একটি জ্ঞানভাণ্ডারের গুরুত্বের উপরও জোর দেয়। এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রবীণদের অনেক চাহিদা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং একাধিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার জন্য ধারাবাহিক ফলো-আপ এবং বাড়ি থেকে হাসপাতালে এবং আবার বাড়িতে ফিরে আসার জন্য নির্ভরযোগ্য পথের প্রয়োজন হয়।
ভারত এই ক্ষেত্রটিকে সংগঠিত করতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে, নীতি আয়োগের নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে একটি প্রবীণ পরিচর্যা সংস্কার প্রক্রিয়া চালু করা হয়। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, এবং এটি অংশীদারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, সামাজিক যত্ন, এবং ডিজিটাল সরঞ্জাম জুড়ে মান, ভূমিকা ও সমন্বয়কে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপগুলি পরিষেবা প্রদানকারী এবং অর্থ প্রদানকারীদের গুণমান ও ধারাবাহিকতার জন্য একটি সাধারণ কাঠামো প্রদান করে এভিভি-কে সহায়তা করতে পারে।
অনুমোদনের বাইরে: এভিভি-কে কেন্দ্র করে একটি প্রবীণ পরিচর্যা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা
যেহেতু এভিভি-র আওতা দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, তাই তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হল অনুমোদনগুলোকে বাস্তবে সেবায় রূপান্তরিত করা। এভিভি ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, এভিভি কার্ড বিতরণের হার অনুমোদনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে — ৮ মিলিয়ন অনুমোদনের বিপরীতে মাত্র প্রায় ১২,৫০০টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে — যদিও সেবা পাওয়ার জন্য কার্ড বিতরণ একটি অপরিহার্য শর্ত নয়। অনুমোদনই যোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয়, তাই হাসপাতাল এবং হেল্প-ডেস্কগুলোর উচিত একই ভিজিটে ই-কার্ড ডাউনলোড বা প্রিন্ট করার ব্যবস্থা করা এবং ডেস্ক থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগেই সুবিধাভোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। এরপর প্রচার কার্যক্রমের মনোযোগ দেওয়া উচিত তাঁদের উপর, যাঁরা সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন হন। আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি)-এর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ের উদ্যোক্তারা (ভিএলই) এমন সম্প্রদায়গুলির প্রবীণদের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহায়তা করতে পারেন, যেখানে সচেতনতা এবং চলাচলের সুযোগ কম। গ্রামীণ এলাকাগুলির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিধবা নারী এবং আশি বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা প্রায়শই একাধিক অসুবিধার সম্মুখীন হন এবং তাঁদের জন্য বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হয়। পিএমজেএওয়াই এবং এভিভি পোর্টালে বয়স-ভিত্তিক বিভাজিত ডেটায় প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করলে গবেষকেরা বাস্তব সময়ের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবেন, এবং এটি প্রয়োজনে নীতি সংশোধনে সহায়তা করবে।
এক বছর পর, আয়ুষ্মান বয়ো বন্দনা প্রকল্পটি ঘোষণা থেকে বাস্তবায়নে পরিণত হয়েছে, এবং এর আওতা এখন প্রায় সারা দেশে বিস্তৃত। নেটওয়ার্কটি বিশাল, কভারেজ স্থানান্তরযোগ্য এবং দাবির সংখ্যা বাড়ছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হল দুর্গম অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে এর প্রসার ঘটানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সেগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসায় রূপান্তরিত করা, পাশাপাশি তাদের ঘিরে প্রবীণদের যত্নের একটি বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা। মান নির্ধারণ, কর্মীবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, গৃহভিত্তিক যত্ন এবং সুচিন্তিত প্রযুক্তি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। এভাবেই ভারত একটি সাহসী অধিকারকে সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক যত্নপ্রার্থী ব্যক্তির জন্য নির্ভরযোগ্য সুরক্ষায় পরিণত করতে পারে।
ওমেন সি কুরিয়ান হলেন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড এসডিজি প্রোগ্রাম-এর হেলথ ইনিশিয়েটিভ-এর সিনিয়র ফেলো এবং প্রধান।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Oommen C. Kurian is Senior Fellow and Head of the Health Initiative at the Inclusive Growth and SDGs Programme, Observer Research Foundation. Trained in economics and ...
Read More +