ভারতের সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে রাজস্ব একত্রীকরণ, মূলধনী ব্যয়ের অগ্রাধিকার এবং ঘাটতি অর্থায়ন প্রবৃদ্ধি ও ঋণের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তার উপর।
সামষ্টিক বিশ্বাসযোগ্যতা হল এমন কিছু সঙ্কেতের সমষ্টি, যা পরিবার, সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জানায় যে, আর্থিক সংখ্যাসমূহ আদৌ বিশ্বাসযোগ্য কি না। এটি এ-ও দর্শায় যে, আজকের ব্যয় ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়ায় কি না। ভারতের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট একই সঙ্গে সামষ্টিক বিশ্বাসযোগ্যতার একটি ভিত্তি এবং একটি উন্নয়নমূলক সাধনী। সুতরাং বাজেট বিশ্লেষণ করার সময় সঠিক প্রশ্নটি কেবল ‘কতটা ব্যয় করা হচ্ছে?’ নয়। বরং আসল প্রশ্ন হল ‘কীসের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে, এর অর্থায়ন কী ভাবে হচ্ছে, এবং প্রবৃদ্ধি বা রাজস্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে সংখ্যাসমূহ কতটা স্থিতিশীল থাকবে?’
২০২৫-২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট প্রধান ঘাটতিগুলির ক্ষেত্রে অতিমারি-পরবর্তী স্বাভাবিকীকরণকে প্রসারিত করেছে। ২০২৫-২৬ সালে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৪.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে, যা ২০২৩-২৪ সালের ৫.৬ শতাংশ (প্রকৃত) এবং ২০২৪-২৫ সালের ৪.৮ শতাংশের (সংশোধিত অনুমান) চেয়ে কম। রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ১.৫ শতাংশ, প্রাথমিক ঘাটতি জিডিপির ০.৮ শতাংশ এবং কার্যকর রাজস্ব ঘাটতি (মূলধনী সম্পদ তৈরির জন্য অনুদান বাদ দিয়ে রাজস্ব ঘাটতি) জিডিপির ০.৩ শতাংশ ধরা হয়েছে।
বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে দু’টি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মোট কর আদায় গত বছরের গতির চেয়ে পিছিয়ে আছে (বাজেট অনুমানের ৪৯.১ শতাংশ বনাম সংশ্লিষ্ট সময়ের ৫৫.৯ শতাংশ)। দ্বিতীয়ত, মূলধনী ব্যয় সংক্রান্ত বাস্তবায়ন গত বছরের চেয়ে এগিয়ে আছে (৫৮.৭ শতাংশ বনাম ৪৬.২ শতাংশ)।
এই অনুপাতগুলি উৎসাহব্যঞ্জক নিঃসন্দেহে। কিন্তু এর বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে অন্তর্নিহিত হিসেবের উপর। বাজেট নোটে ২০২৫-২৬ সালের জন্য নামমাত্র জিডিপি ৩৫৬.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা (২০২৪-২৫ সালের সংশোধিত অনুমানের চেয়ে প্রায় ১০.১ শতাংশ বেশি) উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নামমাত্র প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলে আর্থিক অনুপাতগুলি ইতিবাচক দেখায় এবং তা না হলে স্বাভাবিক ভাবেই নেতিবাচক দেখায়। সুতরাং, আর্থিক সংহতকরণকে লব (রাজস্ব এবং ব্যয়ের গুণমান) এবং ডিনোমিনেটর বা হর-এর (নামমাত্র জিডিপি) একটি মিশ্রণ হিসেবে দেখতে হবে।
চিত্র ১: কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাটতির প্রবণতা (জিডিপি-র শতাংশ)

উৎস: বাজেট অ্যাট এ গ্লান্স ২০২৫-২৬
সংখ্যাই কথা বলুক
বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে দু’টি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মোট কর আদায় গত বছরের গতির চেয়ে পিছিয়ে আছে (বাজেট অনুমানের ৪৯.১ শতাংশ বনাম সংশ্লিষ্ট সময়ের ৫৫.৯ শতাংশ)। দ্বিতীয়ত, মূলধনী ব্যয় সংক্রান্ত বাস্তবায়ন গত বছরের চেয়ে এগিয়ে আছে (৫৮.৭ শতাংশ বনাম ৪৬.২ শতাংশ)। এই মিশ্রণটি স্বাভাবিক ভাবে খারাপ নয়। এটি বিনিয়োগের অগ্রিম ব্যয়ের প্রতিফলন হতে পারে। কিন্তু এটি ঘাটতির গতিপথকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে যে, করের ঘাটতি সময় সম্পর্কিত না কি কাঠামোগত। কন্ট্রোলার জেনারেল অফ অ্যাকাউন্টসও সতর্ক করেছেন যে, বছরের মাঝামাঝি সময়ের আর্থিক ঘাটতির হার প্রাপ্তি ও ব্যয়ের সময়গত অসামঞ্জস্যের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং বছরের পরবর্তী সময়ে তা সমন্বয় করা হতে পারে। তবুও বছরের মাঝামাঝি সময়ের চিত্রটি বাজেট হিসেবের বাস্তবতার জন্য একটি কার্যকর ‘স্ট্রেস টেস্ট’।
সারণি ১: বছরের মাঝামাঝি সময়ের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই (এপ্রিল-নভেম্বর, ২০২৫-২৬)
|
ক্ষেত্র |
বাজেট অনুমান ২০২৫–২৬ (কোটি টাকা) |
নভেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত পরিমাণ (কোটি টাকা) |
বাজেট অনুমানের শতাংশ |
বিই-র (কপি) শতাংশ |
|
রাজস্ব প্রাপ্তি |
৩৪,২০,৪০৯ |
১৯,১০,৩১২ |
৫৫.৯% |
৫৯.৮% |
|
মোট কর রাজস্ব |
২৮.৩৭,৪০৯ |
১৩,৯৩,৯৪৬ |
৪৯.১% |
৫৫.৯% |
|
কর-বহির্ভূত রাজস্ব |
৫,৮৩,০০০ |
৫,১৬,৩৬৬ |
৮৮.৬% |
৭৮.৩% |
|
পুঁজি ব্যয় |
১১,২১,০৯০ |
৬,৫৮,২১০ |
৫৮.৭% |
৪৬.২% |
|
সুদ পরিশোধ |
১২,৭৬,৩৩৮ |
৭,৪৫,৭৬৫ |
৫৮.৪% |
৫৬.৬% |
|
আর্থিক ঘাটতি |
১৫,৬৮,৯৩৬ |
৯,৭৬,৬৭১ |
৬২.৩% |
৫২.৫% |
|
রাজস্ব ঘাটতি |
৫,২৩,৮৪৬ |
৩,৫৭,৩৮৮ |
৬৮.২% |
৬১.৫% |
|
প্রাথমিক ঘাটতি |
২,৯২,৫৯৮ |
২,৩০,৯০৬ |
৭৮.৯% |
৪১.৮% |
উৎস: সিজিএ-র মাসিক হিসেব
সুতরাং, সারণি ১ দেখায় যে, একত্রীকরণের বিষয়টি এখন বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করছে: মূলধনী ব্যয় অগ্রিম করা হয়েছে, যখন মোট কর প্রাপ্তি সংশ্লিষ্ট সময়ের তুলনায় পিছিয়ে আছে। তাই বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নটি ‘মূলধনী ব্যয় বনাম একত্রীকরণ’ নয়, বরং আর্থিক পথটি ঋণ গণিতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে কি না, তা নিয়ে। কারণ এটি প্রবৃদ্ধি, ঋণের খরচ এবং প্রাথমিক ভারসাম্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। যে কোনও আর্থিক পরিকল্পনার নেপথ্যে একটি সাধারণ অভেদ কাজ করে। যখন প্রাথমিক ভারসাম্য (সুদ প্রদান বাদ দিয়ে আর্থিক ভারসাম্য) বিদ্যমান ঋণের পরিমাণের সাপেক্ষে কার্যকর সুদের হার এবং নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যেকার পার্থক্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তখন ঋণ ও জিডিপি অনুপাত স্থিতিশীল হয়।
মূলধনী ব্যয় এবং ঋণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা
দু’টি সংখ্যা ব্যয়ের গুণমানকে নির্দেশ করে: সুদের বিল (একটি পূর্ব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ খরচ) এবং কার্যকর মূলধনী ব্যয় (প্রবৃদ্ধিমুখী উপাদান)। ব্যয়ের গুণমানকে এই বাস্তবতার নিরিখে মূল্যায়ন করা উচিত যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সুদ প্রদানের জন্য ১২.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা বাজেট করা হয়েছিল। রাজস্ব ভিত্তির তুলনায় এটি একটি কঠিন সীমাবদ্ধতা। বাজেটের সমষ্টিগত হিসাব ব্যবহার করে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সুদ প্রদান রাজস্ব প্রাপ্তির প্রায় ৩৭ শতাংশ। যখন সুদ এত বেশি রাজস্ব শোষণ করে, তখন ধাক্কাগুলি হয় আকস্মিক ব্যয় সঙ্কোচন করে বা উচ্চতর ঋণের দিকে ঠেলে দেয়। মোদ্দা কথা দুই পরিস্থিতিই বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করতে পারে।
এই কারণেই যে কোনও ‘মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি’কে সুদের বিলের পাশাপাশি বিচার করতে হবে। যদি উচ্চতর ব্যয় সরকারি ঋণের উপর ঝুঁকি সংক্রান্ত প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেয়, তবে সুদের খরচ রাজস্বের চেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে। এটি সেই উন্নয়নমূলক ব্যয়কেই সঙ্কুচিত করতে পারে, যেটিকে বাজেট রক্ষা করতে চায়। ব্যয়ের গুণমান অর্থায়নের গুণমান থেকে অবিচ্ছেদ্য। ২০২৫-২৬ সালের বাজেটও মূলধনী ব্যয়ের প্রতি অভিমুখ বজায় রেখেছে। মোট মূলধনী ব্যয় ১১.২১ লক্ষ কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়েছিল। বাজেট ১৫.৪৮ লক্ষ কোটি টাকার কার্যকর মূলধনী ব্যয়েরও (মূলধনী ব্যয় প্লাস মূলধন সম্পদ তৈরির জন্য অনুদান) পরিকল্পনা করেছে। এই বৃহত্তর পরিমাপটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ‘প্রবৃদ্ধি ব্যয়ের’ একটি অংশ হল সম্পদ তৈরির জন্য অনুদান এবং তা শুধু কেন্দ্রের নিজস্ব মূলধনী ব্যয় নয়।
বাজেটের সমষ্টিগত হিসাব ব্যবহার করে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সুদ প্রদান রাজস্ব প্রাপ্তির প্রায় ৩৭ শতাংশ। যখন সুদ এত বেশি রাজস্ব শোষণ করে, তখন ধাক্কাগুলি হয় আকস্মিক ব্যয় সঙ্কোচন করে বা উচ্চতর ঋণের দিকে ঠেলে দেয়। মোদ্দা কথা দুই পরিস্থিতিই বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করতে পারে।
যখন প্রকল্প নির্বাচন সুশৃঙ্খল হয়, বাস্তবায়ন সময়মাফিক হয় এবং সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তখন মূলধনী ব্যয় প্রবৃদ্ধিবর্ধক হয়ে ওঠে। যখন প্রকল্পগুলিকে ঠিক মতো বেছে নেওয়া হয় এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা শক্তিশালী থাকে, তখন সরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির উপর বড় প্রভাব পড়ে, পক্ষান্তরে দক্ষতা দুর্বল হলে গুণক প্রভাব হ্রাস পায়। বছরের মাঝামাঝি সময়ের তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত বছরের তুলনায় মূলধনী ব্যয় দ্রুততর গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই পরবর্তী বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি উঠছে বরাদ্দ নিয়ে নয়, বরং সরবরাহের গুণমান এবং সম্পন্ন হওয়া নিয়ে।
ব্যয়ের বিন্যাস সম্পর্কিত চিত্র ২ স্বল্পমেয়াদি বিবেচনামূলক সিদ্ধান্তের সীমাবদ্ধতাগুলিকে স্পষ্ট করে দেয়। ২০২৫-২৬ সালে ব্যয়ের ২২ শতাংশ রাজ্যগুলির কর ও শুল্কের অংশে, ২০ শতাংশ সুদ পরিশোধে এবং ৮ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় হয়। প্রধান ভর্তুকি ৬ শতাংশ এবং ‘ফিন্যান্স কমিশন এবং অন্যান্য হস্তান্তর’ হল ৮ শতাংশ। এই উপাদানগুলি স্বল্পমেয়াদে সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়। সুতরাং, বিবেচনামূলক সিদ্ধান্তের সুযোগ প্রধানত বিভিন্ন প্রকল্প, মূলধনী ব্যয় এবং হস্তান্তরের পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই কারণেই ‘ব্যয়ের গুণমান’ বলতে এককালীন কাটছাঁটকে নয়, কর্মসূচির উৎপাদনশীলতা এবং বাস্তবায়নকে বোঝায়।
চিত্র ২: টাকা আসলে কোথায় যায় (বাজেট ২০২৫-২৬)

উৎস: বাজেট অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৫-২৬
রাজস্ব ঘাটতি থেকে বোঝা যায় যে, সরকার বর্তমান ভোগে অর্থায়নের জন্য ঋণ নিচ্ছে কি না। কার্যকর রাজস্ব ঘাটতি মূলধনী সম্পদ সৃষ্টিকারী রাজস্ব অনুদান বাদ দিয়ে এটিকে আরও পরিমার্জন করে। ২০২৫-২৬ সালে কার্যকর রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ০.৩ শতাংশে বাজেট করা হয়েছে, যা ১.৫ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির চেয়ে অনেকটাই কম। এর অর্থ এই নয় যে, সমস্ত রাজস্ব ব্যয়ই খারাপ। বরং বাজেট এটি নিশ্চিত করতে চায় যে, ঋণের একটি বৃহত্তর অংশ সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাটি হল শ্রেণিবিন্যাস এবং ফলাফল সংক্রান্ত: ‘সম্পদ সৃষ্টিকারী’ অনুদানগুলিকে কি সঠিক ভাবে হিসেবের আওতায় আনা হয়েছে এবং সেগুলি কি ব্যবহারযোগ্য সম্পদ তৈরি করে?
উপসংহার
বিশ্বাসযোগ্যতা এই বিষয়ের উপরও নির্ভর করে যে, ঘাটতির কী ভাবে অর্থায়ন করা হয়। বাজেটের রাজস্ব ঘাটতি অর্থায়ন প্রধানত মোট ঋণ প্রাপ্তির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে জি-সেক (গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ) বাজার থেকে ঋণ গ্রহণই বৃহত্তম উপাদান। এতে ২০২৫-২৬ সালের বাজেট অনুমানে টি-বিলের (ট্রেজারি বিল) মাধ্যমে মোট ঋণ গ্রহণ শূন্য দেখানো হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপর অত্যধিক নির্ভরতার তুলনায় একটি বাজার-ভিত্তিক ঋণ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ এবং মূল্য নির্ধারণের জন্য সহজ। তবে এটি বিশ্বাসযোগ্যতাকে বন্ড-বাজারের অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। যদি মুদ্রাস্ফীতি অপ্রত্যাশিত ভাবে বাড়ে বা প্রবৃদ্ধি ধীর হয়, তবে ঝুঁকির প্রিমিয়ামও বাড়তে পারে। এটি ঋণ পরিশোধের খরচ বাড়িয়ে দেবে এবং আর্থিক সংস্থান কমিয়ে দেবে। এই কারণেই প্রাথমিক ঘাটতি এবং রাজস্ব ঘাটতির সূচকগুলি সারা বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
২০২৬-২৭ সালে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রধান লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের গুণমান, রাজস্বের বাস্তবতা এবং অর্থায়নের শর্তাবলি দ্বারাই বেশি বিচার করা হবে।
বছরের মাঝামাঝি সময়ের গতিপ্রকৃতি পরবর্তী বাজেট চক্রের জন্য তিনটি পরিমাপযোগ্য বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষার দিকে ইঙ্গিত করে। প্রথমত, নভেম্বর পর্যন্ত পরিলক্ষিত কর ঘাটতি একটি সাময়িক সমস্যা না কি একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবধান হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে? এটিই নির্ধারণ করবে যে, আর্থিক সংহতকরণের কতটা অংশ হারের প্রভাবের উপর নির্ভর করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মূলধনী ব্যয়ের অগ্রিম বরাদ্দ কেবল উচ্চতর ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে তা সম্পূর্ণ সম্পদ এবং পরিষেবার উন্নতিতে রূপান্তরিত হয় কি না। তৃতীয়ত, রাজস্বের তুলনায় সুদের বোঝা নিয়ন্ত্রণে থাকে কি না। কারণ এই অনুপাতটিই নির্ধারণ করে যে, উন্নয়নমূলক ব্যয়ের জন্য কতটা আর্থিক সুযোগ উপলব্ধ রয়েছে। সুতরাং, ২০২৬-২৭ সালে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রধান লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের গুণমান, রাজস্বের বাস্তবতা এবং অর্থায়নের শর্তাবলি দ্বারাই বেশি বিচার করা হবে।
আর্য রায় বর্ধন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির জুনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Arya Roy Bardhan is a Junior Fellow at the Centre for New Economic Diplomacy, Observer Research Foundation. His research interests lie in the fields of ...
Read More +