-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
যুদ্ধ, মার্কিন সেনা ছাঁটাই এবং চিনের উত্থানের মুখোমুখি হয়েও রাষ্ট্রপুঞ্জ এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করছে বহুমেরু বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য জরুরি সংস্কারের উপর।
‘রাষ্ট্রপুঞ্জ মানবজাতিকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়নি, বরং মানবজাতিকে নরক থেকে বাঁচানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে’… রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বিতীয় মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারস্কজোল্ডের এই বিখ্যাত উক্তি আশা ও হতাশা উভয়ই জাগিয়ে তোলে, যখন বিশ্ব নেতারা ৮০তম রাষ্ট্রপুঞ্জের জেনারেল অ্যাসেম্বলি বা সাধারণ পরিষদের বৈঠকের জন্য নিউ ইয়র্কে সম্মিলিত হন। ১৯৪৫ সালের সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্রমবর্ধমান অস্থির পরিবেশে বর্তমানে ‘যুদ্ধোত্তর’ উদারপন্থী প্রতিষ্ঠানটি কিছু অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ইউক্রেন ও গাজায় নিরলস যুদ্ধ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক তহবিল হ্রাস এবং বিশ্ব জুড়ে ক্রমবর্ধমান মানবিক সঙ্কট রাষ্ট্রপুঞ্জকে নতুন করে ভাবনাচিন্তার পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যাই হোক, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি ত্রুটিপূর্ণ হলেও স্থিতিস্থাপক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থা। অপ্রতিরোধ্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রাষ্ট্রপুঞ্জের তার কূটনৈতিক তাৎপর্য ও কাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ রয়েছে, তবে কেবলমাত্র যদি সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করে পদ্ধতিগত সংস্কার করা হয়।
ইউক্রেন ও গাজায় নিরলস যুদ্ধ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক তহবিল হ্রাস এবং বিশ্ব জুড়ে ক্রমবর্ধমান মানবিক সঙ্কট রাষ্ট্রপুঞ্জকে গণনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
বহু সঙ্কট এবং মার্কিন ছাঁটাই
বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রপুঞ্জ তার দুর্বল সম্মতি ব্যবস্থা, অবাস্তব আদেশ, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সিদ্ধান্ত গ্রহণের অচলাবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক অচলাবস্থার জন্য সমালোচিত হয়ে আসছে। সিরিয়া, গাজা ও ইউক্রেনে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জ নিষেধাজ্ঞা, নিরস্ত্রীকরণ এবং সংঘাত সমাধানের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে লড়াই করছে। মার্কিন ছাঁটাইয়ের ফলে এই সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ বাজেটে সবচেয়ে বড় অবদানকারী (প্রায় ২২ শতাংশ) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাজেটের ২৫ শতাংশ বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল প্রত্যাহার করেছে, একটি আর্থিক শূন্যতা যা পূরণ করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন ইইউ সদস্যরা তাদের নিজস্ব বাজেটগত সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), মানবাধিকার কাউন্সিল, প্যারিস চুক্তি এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-সহ (ইউনেসকো) বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ‘যুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থা কেবল অপ্রচলিতই ছিল না, বরং এখন একটি অস্ত্র’, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিবৃতিটি সংঘাত সমাধান এবং সাহায্যের প্রতি ওয়াশিংটনের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে চিত্রিত করে, বহুপাক্ষিক কূটনীতি অনুসরণের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’কে অগ্রাধিকার দেয়।
প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিস্থাপকতা: রাষ্ট্রপুঞ্জ কি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারবে?
সমালোচকরা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রভাবের মৃত্যুঘণ্টা হিসেবে বিবেচনা করলেও, গবেষণাগুলি দর্শিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি (আইও) প্রায়শই চটপটে এবং অভিযোজিত, রাজনৈতিক অস্থিরতা সহ্য করতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পাশাপাশি অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র অভিযোজন বা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আচরণগত কৌশল গ্রহণ করে অস্তিত্বগত সঙ্কটের মুখে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার প্রতি বর্তমান বৈরিতার মাত্রা অতুলনীয় হতে পারে, তবে রাষ্ট্রপুঞ্জ অতীতে এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে বিদ্যমান অচলাবস্থা শীতল যুদ্ধের সেই উত্তেজনাপূর্ণ দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই কোরিয়া, কিউবা এবং ভিয়েতনামের সংঘাতের যে কোনও সমাধানকে থামিয়ে দিয়েছিল। পি৫ সদস্যদের ভেটোর মাধ্যমে সৃষ্ট একপেশে ক্ষমতার সমীকরণকে আরও প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধকরণ প্রস্তাব রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদকে এমন একটি সুযোগ প্রদান করে, যেখানে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ কোনও ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হলে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন বিরোধিতা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ সম্প্রতি ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের উপর নিউ ইয়র্ক ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেছে, যখন রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের দুই সদস্য ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সার্বজনীন সদস্যপদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরের কারণে রাষ্ট্রপুঞ্জ একটি মেরুকরণকৃত, তবুও বিশ্বায়িত বিশ্বে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে বিদ্যমান অচলাবস্থা শীতল যুদ্ধের সেই উত্তেজনাপূর্ণ দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই কোরিয়া, কিউবা এবং ভিয়েতনামের সংঘাতের যে কোনও সমাধানকে থামিয়ে দিয়েছিল।
সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই কঠিন সময়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন। ইউএন@৮০ উদ্যোগের অধীনে, কিছু মৌলিক ব্যয়-কমানোর প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যেমন রাষ্ট্রপুঞ্জের ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট ২০ শতাংশ কমানো এবং অভিন্ন সাধারণ মতাদেশ-সহ প্রোগ্রামগুলিকে একীভূত করা, যেমন ইউএনএফসিসিসি ইউএনইপি এবং এইচআইভি-এডস-এর উপর যৌথ রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্মসূচি ডব্লিউএইচও-এ সঙ্গে। ব্যয়-কার্যকর পদক্ষেপগুলি শান্তিরক্ষা মিশনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) এবং ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রকে (এসআইডিএস) উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্মসূচিগুলি রক্ষা করার লক্ষ্যে কাজ করে।
সংস্কারই সময়ের প্রয়োজন
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে ‘প্যাক্ট ফর দ্য ফিউচার’ - রাষ্ট্রপুঞ্জের তিনটি স্তম্ভ, অর্থাৎ স্থিতিশীল উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার জুড়ে ৫৬টি প্রতিশ্রুতির রূপরেখা প্রদানকারী একটি বিস্তৃত দলিল - ২০২৪ সালে ১৯৩ সদস্যের ইউএনজিএ দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। যদিও এই দলিলটি গৃহীত হয়েছিল, তবুও এটি সাতটি দেশের তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিল, যার বেশিরভাগই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। এই বিরোধ সংগঠনটির প্রতি সমসাময়িক হতাশার প্রতিফলন ঘটালেও বিকল্পের অভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাধান্যকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে চিনের বৃহত্তর প্রভাব বিস্তারের জন্য উত্তরোত্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে বেজিং তার ‘গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ’ - আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পুনর্গঠনের জন্য তার ভিশন ডকুমেন্টের উন্মোচন করেছে। চিন রাষ্ট্রপুঞ্জের জন্য তহবিল বৃদ্ধি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, তারা আগামী পাঁচ বছরে ডব্লিউএইচও-কে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের চেয়ে কম, তবে এটি একটি প্রতীকী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসাবে গণ্য করা হয়। তবে যে কোনও সংস্কারমূলক কর্মসূচি বিশেষ করে ইউএনএসসি-র কর্মসূচি পি৫-এর বিরোধিতার সম্মুখীন হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো উদীয়মান আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলির জন্য আদর্শগত শাসন কাঠামোর প্রয়োজন হবে - রাষ্ট্রপুঞ্জ বহুপাক্ষিক আলোচনার জন্য একটি বৈধ মঞ্চ প্রদান করে।
বহুপাক্ষিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জকে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রবর্তন করতে হবে এবং প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে হবে। অন্যান্য বহুপাক্ষিক মঞ্চ এখনও এর পরিধির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল এবং দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পুনর্নির্মাণ করা আদর্শ বাজি হবে, বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি শক্তির জন্য। বাস্তববাদীরা মনে করেন যে, রাষ্ট্রপুঞ্জ সংঘাত প্রতিরোধ বা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে, তবে চরম সহিংসতার পরিণতি পরিচালনার জন্য এর মানবিক ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপুঞ্জ ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ শূন্যতা পূরণ করে এবং ‘বিশ্বব্যাপী শক্তি’ হিসেবে কাজ করে - জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং সংঘাতের মতো ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রমকারী সমস্যাগুলির জন্য একটি সমন্বিত বৈশ্বিক কৌশল প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো উদীয়মান আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলির জন্য আদর্শগত শাসন কাঠামোর প্রয়োজন হবে - রাষ্ট্রপুঞ্জ বহুপাক্ষিক আলোচনার জন্য একটি বৈধ মঞ্চ প্রদান করে। তবে যে কোনও অগ্রগতি নির্ভর করবে সংস্থাটি ‘নতুন’ বহুমেরু বিশ্বের সাথে কী ভাবে খাপ খাইয়ে নেয়, তার উপর।
হিনা মাখিজা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Makhija is an Associate Fellow at ORF and specializes in the study of Multilateralism, International Organizations, Global Norms, India at UN, Multilateral Negotiations, and ...
Read More +