Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 20, 2026 Updated 0 Hours ago

ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসার ফি বিশ গুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ভারত-মার্কিন প্রযুক্তি সম্পর্কে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে, যা চাকরি, রেমিট্যান্স এবং আমেরিকার উদ্ভাবনী শক্তিকে চালিত করতে ভারতীয় মেধার প্রবাহের ক্ষেত্রে বিপত্তিস্বরূপ

ট্রাম্পের এইচ১-বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা যে এইচ-১বি ভিসার ফি ,০০০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ,০০,০০০ মার্কিন ডলার হবে,  কর্পোরেট আমেরিকা, ভারত এবং সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এর দুই মাস আগে দেওয়া তাঁর একটি বিবৃতির পরেই এই ঘোষণাটি আসে, যেখানে তিনি গুগল মাইক্রোসফটের মতো মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছে দাবি করেছিলেন যে তারা যেন ‘‌ভারতে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে’‌ এবং কর্মসংস্থানগুলি মার্কিন মাটিতে ফিরিয়ে আনেযা ছিল তাঁর ‘‌আমেরিকা ফার্স্ট’‌ শ্রম নীতির একটি বাস্তব পদক্ষেপ এর প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিনিয়োগকারী এবং নির্বাহীরা সতর্ক করে দেন যে এই নতুন ফি বৃদ্ধির ফলে কোম্পানিগুলোর কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হবে, এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে ভারতীয় কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই ঘোষণাটি ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর সেই উৎসাহব্যঞ্জক যৌথ বিবৃতির সরাসরি পরিপন্থী, যেখানে মার্কিন অর্থনীতিতে বার্ষিক বিলিয়ন ডলার অবদান রাখা লক্ষ ভারতীয় ছাত্রের শক্তিশালী সম্প্রদায়ের প্রশংসা করা হয়েছিল যদিও এই নতুন উচ্চ ফি পরবর্তী চক্র থেকে এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, তবুও এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিদেশি-‌বিদ্বেষী বাগাড়ম্বর উস্কে দিয়েছে, যা মূলত ভারতীয়দের বিরুদ্ধে চালিত, কারণ তারাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্দিষ্ট ভিসা বিভাগের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যমেয়াদি নির্বাচনের প্রচারণার বাগাড়ম্বর জোরালো হওয়ার সাথে সাথে, এইচ১-বি ভিসার বিষয়টি একটি অর্থনৈতিক নির্বাচনী সংঘাতে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে রাজনৈতিক স্তরে, এই বিধিনিষেধগুলি সেই বিদেশীবিরোধী বর্ণনারও ইন্ধন জোগাচ্ছে যামেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ (ম্যাগা) প্রচারণার বৈশিষ্ট্য এবং যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই পরিবর্তনগুলির অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যা আইটি সংস্থা এবং রেমিট্যান্স থেকে শুরু করে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দক্ষ শ্রমিকের গতিশীলতা পর্যন্ত বিস্তৃত আমেরিকার অভিবাসন নিয়মের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং নতুন বাস্তবতা এখন এই প্রশ্ন উত্থাপন করছে যে, এই পরিবর্তনগুলি উভয় অর্থনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে মেধা প্রবাহ, শিক্ষাক্ষেত্র এবং সম্ভবত বিপরীতমুখী অভিবাসনের মাধ্যমে



ভারতীয় কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই ঘোষণাটি ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর সেই উৎসাহব্যঞ্জক যৌথ বিবৃতির সরাসরি পরিপন্থী, যেখানে মার্কিন অর্থনীতিতে বার্ষিক ৮ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখা ৩ লক্ষ ভারতীয় ছাত্রের শক্তিশালী সম্প্রদায়ের প্রশংসা করা হয়েছিল।



ভারতীয় প্রতিভা প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং অফশোর সার্ভিসেস উভয়ের মাধ্যমেই মার্কিন প্রযুক্তি কর্মীবাহিনীর একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে শুধু ২০২৪ সালেই ভারতীয় নাগরিকেরা লক্ষ হাজারের বেশি ভিসা পেয়েছেন, এবং ভারতীয় সংস্থাগুলি সমস্ত এইচ-১বি অনুমোদনের ২০ শতাংশ অর্জন করেছে, যা মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় তাদের আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এক-চতুর্থাংশ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থী হওয়ায় এই উপস্থিতি আরও জোরদার হচ্ছে এদের অনেকেই স্নাতক হওয়ার পরপরই কাজ করার জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন এবং অবশেষে পূর্ণকালীন প্রযুক্তিগত পদে যোগদান করেন সময়ের সাথে সাথে অনেকেই নেতৃত্বস্থানীয় পদে অধিষ্ঠিত হন, যার প্রমাণ মেলে গুগল, আইবিএম, অ্যাডোবি এবং মাইক্রোসফটের মতো ফরচুন ৫০০ কোম্পানির শীর্ষ পদগুলিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওদের আধিপত্যের মাধ্যমে


অফশোরিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভারতের প্রযুক্তি শিল্প মার্কিন কর্পোরেট কার্যক্রমের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গ্রাহক পরিষেবা, বাজার গবেষণা, আইটি পরিষেবা, প্রকৌশল এবং অন্যান্য পেশাদার পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতের আউটসোর্সিং রপ্তানি ২১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হয়েছিল এতে প্রায় . মিলিয়ন পেশাদার কর্মসংস্থান হবে, যার মধ্যে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এই চাহিদার প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ আসবে ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজি (আইসেট) সংক্রান্ত মার্কিন-ভারত উদ্যোগ এবং টেকনোলজি রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইউএস-ট্রাস্টেড পার্টনার্স (ট্রাস্ট) কর্মসূচির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলি ভারতজুড়ে প্রায় ,৮০০টি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার স্থাপন করেছে, যেখানে . মিলিয়ন মানুষ কর্মরত আছেন এর মধ্যে জেপি মরগান চেজের ৫৫,০০০ জনের  বিশাল কর্মীবাহিনী এবং ভারতে মাইক্রোসফটের ১৮,০০০ কর্মী অন্তর্ভুক্ত, যার অন্যতম বৃহত্তম গবেষণা উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডিকেন্দ্রটি হায়দরাবাদে অবস্থিত এই স্তরের উদ্যোগের অর্থ হল, যে কোনও তাৎক্ষণিক বৃহৎ আকারের রিশোরিং প্রচেষ্টা মার্কিন সংস্থাগুলির দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাবে, কারণ তারা এই কেন্দ্রগুলির উপর নির্ভরশীল


মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি ক্ষেত্রের চাকরি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিটি আকর্ষণীয় শোনালেও, এটি বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন প্রথম সমস্যাটি হল, এই ভারতীয় কর্মীদের পদ পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী নেই শ্রম বিভাগের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (পার্ম) প্রক্রিয়া অনুসারে, একজন বিদেশি কর্মীকে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করার আগে নিয়োগকর্তাদের প্রথমে পদটির জন্য বিজ্ঞাপন দিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে কোনও মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা এই পদের জন্য যোগ্য নন এই সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, শূন্যস্থান পূরণের বাইরেও অন্যান্য কারণে ভারতীয় মেধার চাহিদা অনেক বেশি একটি পেশা ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসার অংশীদারিত্ব মাত্র এক শতাংশ বাড়লে বেকারত্ব . শতাংশ কমে যায়, এবং সেই ক্ষেত্রের মার্কিন কর্মীদের আয়ের বৃদ্ধি . থেকে .২৬ শতাংশ দ্রুততর হয়



শ্রম বিভাগের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (পার্ম) প্রক্রিয়া অনুসারে, একজন বিদেশি কর্মীকে গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করার আগে নিয়োগকর্তাদের প্রথমে পদটির জন্য বিজ্ঞাপন দিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে কোনও মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা এই পদের জন্য যোগ্য নন।



এছাড়াও, বেসরকারি ক্ষেত্র বাস্তবসম্মত কারণে কর্মসংস্থান দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবগুলির বিরোধিতা করেছে শ্রম ব্যয়ের পার্থক্য বিশাল, কারণ ভারতীয় আইটি পেশাদারেরা প্রায়শই সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি ক্ষেত্রের কর্মীদের আয়ের একটি ভগ্নাংশ উপার্জন করেন এর অর্থ হল, কাজ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করলে খরচ বাড়বে, লাভের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ভাবন ব্যাহত হবে ইতিহাসও ইঙ্গিত দেয় যে এই ধরনের পদক্ষেপগুলিতে হিতে বিপরীত হয় ২০২০ সালে, যখন ট্রাম্প সাময়িকভাবে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ক ভিসা নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখন অনেক কোম্পানি দূরবর্তী অফশোরিং বাড়িয়ে দেয়যা এই ধরনের আদেশের সীমাবদ্ধতাগুলি তুলে ধরে


ভারতের জন্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা বা ভিসা কড়াকড়ি আরোপ করা হলে তা হবে বিধ্বংসী ২০২৪ অর্থবছরে, ভারতের আইটি ক্ষেত্র মোট আভ্যন্তর উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় শতাংশ অবদান রেখেছে এবং রপ্তানি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হয়েছে ভারতের আইটি পরিষেবা রাজস্বের ৭৯ শতাংশই রপ্তানি-নির্ভর, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজার, যার কাছে আছে প্রযুক্তি রপ্তানির চাহিদার ৬০ শতাংশযার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর অর্থ হল, যে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্যয়ের সামান্য মন্দাও এই ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলিকে কর্মী নিয়োগ কমাতে উৎসাহিত করে, যার অর্থ হল একটি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা লক্ষ লক্ষ ভারতীয় চাকরিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে এবং আরও অনেক বেশি ছাঁটাই করতে বাধ্য করবে রপ্তানি এবং কর্মসংস্থানের বাইরেও, ভারত বিশ্বের রেমিট্যান্সের শীর্ষ প্রাপক দেশ, যা ২০২৪ সালে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে রেকর্ড ১২৯. বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার ২৭. শতাংশ এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলি কাজের ভিসা বা কর্মসংস্থান বন্ধ করে দিলে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, যা রুপির মান দুর্বল করতে পারে এবং ভারতীয় পরিবারগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজের ভিসার উপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় প্রতিভার বৈশ্বিক পুনর্বণ্টন ত্বরান্বিত হতে পারে কানাডার অভিবাসন-বান্ধব নীতি গত এক দশকে ভারতীয় অভিবাসীর সংখ্যা ৩২৬ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক ছাত্র, অস্থায়ী কর্মী এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের শীর্ষ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অস্ট্রেলিয়া এবং জার্মানিও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল গণিত (STEM) ক্ষেত্রের পেশাজীবীদের জন্য অভিবাসন কর্মসূচি প্রসারিত করেছে, অন্যদিকে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভর্তি ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে নীতি-নির্ভর এই পুনর্বণ্টন নজিরবিহীন নয়; ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তা মোকাবিলার অংশ হিসেবে উইপ্রোর মতো কোম্পানিগুলো জার্মানিতে ডিজিটাল উদ্ভাবন কেন্দ্র খুলেছিল



মার্কিন কোম্পানিগুলি কাজের ভিসা বা কর্মসংস্থান বন্ধ করে দিলে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, যা রুপির মান দুর্বল করতে পারে এবং ভারতীয় পরিবারগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।



অন্যান্য গন্তব্যে অভিবাসন সহজলভ্য হওয়ায় মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে সিলিকন ভ্যালির উদ্ভাবনী ক্ষমতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ শতাংশ ইউনিকর্ন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা অভিবাসী, এবং সেই প্রতিষ্ঠাতাদের ৪০ শতাংশই ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই প্রতিভার প্রবাহ ব্যাহত হলে পরবর্তী গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি টরন্টো বা বার্লিনে তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বলপূর্বক বিচ্ছিন্নতা একটি রিভার্স ব্রেন ড্রেন বামেধা প্রত্যাবর্তন উৎসাহিত করতে পারে, যেখানে দক্ষ ভারতীয় পেশাদারেরা দেশে ফিরে আসবেন বর্তমানে বিদেশে প্রায় ১৮ লক্ষ ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশে ফিরে ওলা ফ্লিপকার্টের মতো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন স্টার্টআপ ইন্ডিয়া এবং রামলিঙ্গস্বামী ফেলোশিপের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত তার মেধাকে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রে একীভূত করছে দেশের সাম্প্রতিক আত্মনির্ভরশীলতার প্রচেষ্টা এই প্রতিভা থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে তবে, এই নতুন বিন্যাস ফলপ্রসূ হতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং এই অন্তর্বর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুযোগ হারানোর ফলে বৃদ্ধি ধীর হবে এবং ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্বে চাপ সৃষ্টি হবে


ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মেধার অবাধ চলাচলে বিধিনিষেধের একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাবও পড়তে পারে ট্রাস্টের মতো সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে ভারত-মার্কিন সহযোগিতার সম্ভাবনার অনন্য দিকটি তুলে ধরে সরকারি সমর্থনের অভাব, অথবা তার চেয়েও খারাপ, কৃত্রিম শত্রুতা সৃষ্টি করা হলে তা নিশ্চিতভাবে সেইসব কর্মসূচির গতি কমিয়ে দেবে বা বন্ধ করে দেবে, যেগুলি ধারণা বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং সহ-উদ্ভাবনের উপর নির্ভরশীল যদি এই পরিস্থিতি বজায় থাকে, এবং অভিবাসন-বিরোধী মনোভাবের আকারে রাজনৈতিক প্রতিরোধের সঙ্গে আমেরিকানদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে ভারতীয় মেধার প্রবাহ অন্যান্য অনুকূল ভৌগোলিক অঞ্চল বা দেশগুলির দিকে মোড় নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন নীতির কারণে সৃষ্ট মেধা স্থানান্তরের সুযোগ নিতে জার্মানি ইতিমধ্যেই ভারতীয় কর্মীদের আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে



ভারত অন্য অংশীদারদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভাবলেও, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার জোটের মতো কয়েক দশকের পুরনো জনশক্তি চলাচলের ধারা এবং নির্ভরতা তৈরি করা কঠিন হবে।


শেষ পর্যন্ত, ভিসা ফি বিশ গুণ বাড়ানোর জন্য ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনটি বিদেশি মেধা নিয়োগ সীমিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, কিন্তু এটি ভারতকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে। এর ফলে বিশ্বের তুলনায় আমেরিকার উদ্ভাবনী শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং একই সঙ্গে এর অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্র এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে তাৎক্ষণিক ধাক্কা লাগতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগীদের দিকে মেধার সম্ভাব্য স্থানান্তর এবং ভারতে মেধা প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হওয়া। ভারত অন্য অংশীদারদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভাবলেও, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার জোটের মতো কয়েক দশকের পুরনো জনশক্তি চলাচলের ধারা এবং নির্ভরতা তৈরি করা কঠিন হবে। যখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও রোবোটিক্স দ্বারা চালিত আরেকটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, তখন মেধা ভূখণ্ডের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন ক্ষেত্রে মার্কিন নীতি পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই সংকটের ছদ্মবেশী আশীর্বাদগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য ভারতের চেষ্টা করা উচিত।


বিবেক মিশ্র অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর।

যোগেশ মহাপাত্র অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা ইন্টার্ন ছিলেন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.