এমনকি তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত মার্কিন অর্থনীতিও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের প্রভাব থেকে পুরোপুরি রক্ষা পেতে পারে না।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে মার্কিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন, যা স্পষ্টতই কৌশলগত আশ্বাস প্রদান এবং রাজনৈতিক সংকেত দেওয়ার একটি মুহূর্ত হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে চলতি মার্কিন-ইজরায়েল সামরিক অভিযান, যার সাংকেতিক নাম 'অপারেশন এপিক ফিউরি', শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর এই ভাষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ, সাফল্য এবং অবশ্যম্ভাবিতার একটি আখ্যানকে সুসংহত করার চেষ্টা করা হয়। তবুও, এই বাগাড়ম্বরপূর্ণ নিশ্চয়তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল আধুনিক যুদ্ধের পরিচিত উত্তেজনাগুলি: বিতর্কিত ফলাফল, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
তাঁর সতর্কভাবে সাজানো ভাষণ ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ সাফল্যের—আর্টেমিস ২-এর উৎক্ষেপণ—একটি সংক্ষিপ্ত, প্রায় দায়সারা স্বীকৃতি দিয়ে শুরু করেন, এবং এরপরই সবেগে যুদ্ধ প্রচেষ্টার দিকে মোড় নেন। এই পরিবর্তনটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ: মার্কিন প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে সামরিক আধিপত্যের এক বৈপরীত্য, যা জাতীয় শ্রেষ্ঠত্বের একটি বৃহত্তর বার্তাকে শক্তিশালী করে। এরপর যা ঘটেছিল তা হল যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যের এক ব্যাপক ঘোষণা। তিনি দাবি করেন, ইরান মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নজিরবিহীন ক্ষতির শিকার হয়েছে — এর নৌবাহিনী ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বিমান বাহিনী পঙ্গু হয়েছে, নেতৃত্বের কাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, এবং অস্ত্রের পরিকাঠামো মূলত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
একটি সর্বাধিকবাদী (ম্যাক্সিমালিস্ট) দৃষ্টিভঙ্গি
যুদ্ধকালীন বাগাড়ম্বরে এই ধরনের দাবি অস্বাভাবিক না হলেও, তা ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ চরমপন্থাকেই প্রতিফলিত করে। এই সংঘাতকে একটি প্রায়-পূর্ণাঙ্গ বিজয় হিসেবে তাঁর উপস্থাপনা অস্পষ্টতার অবকাশ প্রায় রাখে না, যদিও এর স্বাধীন যাচাই এখনও অধরা। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে: অপ্রতিরোধ্য শক্তি যদি চূড়ান্তভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিপক্ষের আচরণকে নতুন রূপ দিতে পারে।
ট্রাম্পের অতীতের সিদ্ধান্তগুলোর উল্লেখ, বিশেষ করে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার ঘটনা, বর্তমান সংঘাতকে এমন একটি নীতিগত পথের যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছে, যা তিনি বহু বছর আগে শুরু করেছিলেন।
তিনি যে যুক্তিগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলিও ছিল একইভাবে পরিচিত। ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রতি তার আদর্শগত বৈরিতা, এবং জঙ্গি প্রক্সিদের সমর্থন করার ইতিহাসকে বিচ্ছিন্ন উদ্বেগ হিসেবে নয়, বরং একটি অবিচ্ছিন্ন, প্রায় সভ্যতা-ধ্বংসকারী হুমকির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ট্রাম্পের অতীতের সিদ্ধান্তগুলির উল্লেখ, বিশেষ করে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসা, বর্তমান সংঘাতটিকে এমন একটি নীতিগত গতিপথের যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিল, যা তিনি বহু বছর আগে শুরু করেছিলেন।
তবুও, যা বিশেষভাবে চোখে পড়েছিল তা কেবল বিপদগুলি চিহ্নিতকরণ নয়, বরং সেগুলিকে যে নৈতিক স্বচ্ছতার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ইরানকে আগ্রাসী এবং অস্থিতিশীলকারী উভয় হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছিল, যা সূক্ষ্মতা বা বিকল্প ব্যাখ্যার জন্য খুব কমই সুযোগ রেখেছিল। এই দ্বৈততা দৃষ্টিভঙ্গি—ভাল বনাম মন্দ, শৃঙ্খলা বনাম বিশৃঙ্খলা—ট্রাম্পের বিদেশনীতি বিষয়ক বক্তব্যের একটি ধারাবাহিক বৈশিষ্ট্য, এবং এখানে তা পুরোপুরি প্রদর্শিত হয়েছিল।
এই সমস্ত আশাবাদের আড়ালে
সময়সীমার প্রশ্নে, ট্রাম্প জোরালোভাবে আশাবাদী সুর গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মূল কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলি "প্রায় শেষের পথে" এবং সামরিক অভিযানের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়টি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। এটি একটি সাহসী দাবি, বিশেষ করে এমন একটি সংঘাতে যেখানে একটি আঞ্চলিক শক্তি জড়িত, যাদের সক্ষমতা অপ্রতিসম, এবং যারা সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিতেও প্রস্তুত। তাঁর এই দাবি যে "সব তাস আমাদের হাতে" রাজনৈতিকভাবে হয়তো সাড়া ফেলতে পারে, কিন্তু কৌশলগতভাবে এটি ইরানের কৌশল পরিবর্তনের এবং পরোক্ষ প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করার ঝুঁকি তৈরি করে।
আমেরিকার জ্বালানি স্বাধীনতার উপর ট্রাম্পের জোর দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করা, কিন্তু এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের গভীর আন্তঃসংযুক্ত প্রকৃতিকে উপেক্ষা করেছে।
সংঘাতের অর্থনৈতিক দিকটি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্য—যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবসময়ই একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়—স্বীকার করা হলেও, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকলাপের কারণে সৃষ্ট সাময়িক বিঘ্ন হিসেবে একে খারিজ করে দেওয়া হয়। আমেরিকার জ্বালানি স্বাধীনতার উপর ট্রাম্পের জোর দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করা, কিন্তু এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের গভীর আন্তঃসংযুক্ত প্রকৃতিকে উপেক্ষা করেছে। এমনকি তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত মার্কিন অর্থনীতিও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারে না।
বাস্তবতা যাচাই
প্রকৃতপক্ষে, এর ব্যাপকতর অর্থনৈতিক প্রভাব যতটা ক্ষণস্থায়ী বলে মনে করা হচ্ছে, ততটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। জ্বালানির উচ্চ মূল্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক বৃদ্ধিতে সম্ভাব্য মন্দা এই ধরনের সংঘাতের কাঠামোগত পরিণতি, কেবল আকস্মিক বিঘ্ন নয়। মার্কিন মিত্রদের জন্য, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ায়, এর মূল্য আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দায়ভার ভাগাভাগি এবং কৌশলগত জোটবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ভূ-রাজনৈতিকভাবে, এই সংঘাত বিদ্যমান জোটগুলিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সেগুলির ভঙ্গুরতাও উন্মোচিত করছে বলে মনে হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল-উপসাগরীয় দেশগুলির সহযোগিতা জোরদার হওয়া সুস্পষ্ট, কিন্তু কিছু অংশীদারের পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ত হতে দ্বিধা অন্তর্নিহিত মতপার্থক্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু অরাষ্ট্রীয় শক্তিগুলির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তার উপর, চিন ও রাশিয়ার মতো বাইরের শক্তিগুলির এই সংঘাতকে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি সুযোগের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু অরাষ্ট্রীয় শক্তিগুলির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
ভাষণটি কার জন্য ছিল?
অভ্যন্তরীণভাবে, ট্রাম্পের ভাষণটি যতটা না কৌশলগত যোগাযোগের অংশ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের অংশ। জনমত যখন ক্লান্তি ও উদ্বেগের লক্ষণ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে, তখন আসন্ন বিজয়ের উপর জোর দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। লক্ষ্য হল সমালোচনাকে অগ্রাহ্য করা, সমর্থন সুসংহত করা, এবং সংঘাতটিকে প্রয়োজনীয় ও সমাধানের কাছাকাছি হিসেবে তুলে ধরা। এই আখ্যানটি টিকে থাকবে কি না, তা প্রেসিডেন্টের বাগাড়ম্বরের চেয়ে বাস্তব পরিস্থিতির উপর বেশি নির্ভর করবে।
মূলত, ভাষণটি বাস্তবতার মূল্যায়নের পাশাপাশি একটি অভিপ্রায় ঘোষণার মতোও কাজ করেছে। এটি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে, আধিপত্য জাহির করেছে, এবং সংঘাতের সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবুও, আন্তর্জাতিক রাজনীতির এমন অনেক মুহূর্তের মতোই, এক্ষেত্রেও প্রত্যাশা এবং ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান অনিশ্চিতই থেকে যায়। যুদ্ধ খুব কমই ভাষণে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলে, এবং প্রতিপক্ষেরা খুব কমই পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্য অনুযায়ী আচরণ করে। আগামী সপ্তাহগুলিই নির্ধারণ করবে যে এটি সত্যিই সমাপ্তির সূচনা ছিল, নাকি এমন একটি সংঘাতের আরেকটি পর্যায় যার পরিণতি কেবল উন্মোচিত হতে শুরু করেছে।
এই ভাষ্যটি প্রথম এনডিটিভি -তে প্রকাশিত হয়েছিল।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...
Read More +