উত্তর-পূর্ব ভারতে আন্তঃসীমান্ত জলপথ বাণিজ্য, আঞ্চলিক একীকরণ এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য একটি কৌশলগত পথ প্রদান করে, যা এই অঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের আন্তঃসীমান্ত জলপথগুলি এই অঞ্চলের অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য অপেক্ষাকৃত অপ্রচলিত সুযোগ প্রদান করে এবং বাণিজ্য সংযোগ, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও পরিবেশগত নিরাপত্তা জোরদার করে। অ্যাক্ট ইস্ট নীতি এবং বর্তমান নীতিগত উদ্যোগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এটি বোঝা অপরিহার্য যে, কী ভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলি - যেমন ব্রহ্মপুত্র, বরাক এবং কালাদান - এই অঞ্চলটিকে মূল ভূখণ্ড ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করার কৌশলগত ধমনী হিসাবে কাজ করে এবং স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রচার করে। ২০১৪ সালে পুনঃপ্রবর্তিত ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রাণবন্ত অর্থনীতির সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতকে সংযুক্ত করার জন্য একটি রূপান্তরমূলক পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। এই অঞ্চলের প্রতিবন্ধকতাময় ভূখণ্ড এবং জটিল সীমান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবহণ করিডোরগুলি উন্নত করা - বিশেষ করে এর সমৃদ্ধ নদী শৃঙ্খলের মাধ্যমে - অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন, সমৃদ্ধি উদ্দীপিত করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের কৌশলগত ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অঞ্চলের প্রতিবন্ধকতাময় ভূখণ্ড এবং জটিল সীমান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবহণ করিডোরগুলি উন্নত করা - বিশেষ করে এর সমৃদ্ধ নদী শৃঙ্খলের মাধ্যমে - অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন, সমৃদ্ধি উদ্দীপিত করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের কৌশলগত ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ধমনী হিসেবে নদী
উত্তর-পূর্ব ভারত অনন্য ভাবে আন্তঃসীমান্ত নদী - বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র এবং বরাক নদীগুলির একটি ঘন শৃঙ্খল দ্বারা সমৃদ্ধ - যা ভারতকে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল এবং চিনের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই নদীগুলি কেবল বাস্তুতন্ত্র নয়; আধুনিক মহাসড়ক বা রেল করিডোর বিদ্যমান থাকার অনেক আগে থেকেই এগুলি চিরাচরিত ভাবে বাণিজ্য ধমনী হিসাবে কাজ করেছে, যা সীমান্ত জুড়ে মানুষ, পণ্য এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে সক্ষম করে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ জলপথ কর্তৃপক্ষের (আইডব্লিউএআই) অধীনে কৌশলগত বিনিয়োগ এই ঐতিহাসিক সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার নদীপথকে এখন জাতীয় জলপথ হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে, যা টার্মিনাল, ড্রেজিং, কার্গো-হ্যান্ডলিং অবকাঠামো এবং নেভিগেশন সিস্টেম দ্বারা সমর্থিত। ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুটগুলি উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি জলবাহিত বাণিজ্যকে আরও উন্মুক্ত করেছে, যার ফলে বঙ্গোপসাগরে এবং সেখান থেকে বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পণ্য পরিবহণ সম্ভব হয়েছে।
অতএব এই আন্তঃসীমান্ত জলপথগুলি দ্বৈত কৌশলগত ভূমিকা পালন করে:
• অর্থনৈতিক ভাবে তারা শিলিগুড়ির মতো যানজটপূর্ণ স্থল করিডোরের পরিবর্তে একটি সাশ্রয়ী, কম কার্বন সরবরাহের বিকল্প প্রদান করে।
• ভূ-রাজনৈতিক ভাবে, তারা উত্তর-পূর্বকে একটি স্থলবেষ্টিত পরিধি হিসেবে নয়, বরং মূল ভূখণ্ড ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তকারী একটি প্রাকৃতিক প্রবেশদ্বার অঞ্চল হিসেবে স্থাপন করে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ অভিমুখীকরণকে শক্তিশালী করে।
এ ভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের নদীগুলি একটি বৃহত্তর সংযোগের আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে জলপথগুলি আঞ্চলিক বাণিজ্যকে সমর্থন করে, শক্তি ও পণ্য প্রবাহকে সহজতর করে এবং আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক একীকরণকে আরও গভীর করে।
অসম ও মিজোরাম: নতুন বাণিজ্য সীমান্ত পরিচালনাকারী নদী করিডোর
অসমের নদীগুলি - বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র এবং বরাক – চিরাচরিত ভাবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগকে স্থিতিশীল করেছে। যদিও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলি এই জলপথগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তবে জাতীয় জলপথ প্রকল্পের অধীনে সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলি তাদের পুনরুজ্জীবনের অনুঘটক হয়ে উঠেছে। এই নদীগুলি খাদ্যশস্য, নির্মাণ সামগ্রী, সার ও বাঁশ বহন করে সাশ্রয়ী এবং কম কার্বন পণ্য পরিবহণ সক্ষম করে। অসমের রাজধানী গুয়াহাটির পান্ডু বন্দর চিরাচরিত ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখানে ব্রহ্মপুত্র নদী রাজ্যের অভ্যন্তরে নৌ চলাচল এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হত। ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল অসমের বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করে, শিলিগুড়ি করিডোরের মতো স্থলপথের উপর চাপ কমিয়ে দেয়। নদীর তীরবর্তী সম্প্রদায়গুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে আঞ্চলিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করে এবং এই নৌপথগুলির দ্বারা ফল, মশলা এবং হস্তশিল্পের জন্য মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত জিঞ্জিরাম নদী স্থানীয় জনগণের জন্য একটি বাণিজ্য পথ হিসেবে কাজ করে এবং সীমান্ত বাজারগুলিকে সহজতর করে।
অসম এবং মিজোরামে নদী-ভিত্তিক বাণিজ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশগত তত্ত্বাবধানের একটি ইতিবাচক সংমিশ্রণকেই দর্শায়। অভ্যন্তরীণ জল পরিবহণে সড়ক পরিবহণের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কম কার্বন উপস্থিতি রয়েছে।
কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (কেএমএমটিটিপি) অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির আধুনিকীকরণ ও সমন্বিতকরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নদী ও সড়ক শৃঙ্খলের মাধ্যমে মিজোরামকে মায়ানমারের সিটওয়ে বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, প্রকল্পটি পরিবহণ দূরত্ব কমিয়ে দেয় এবং পরিবহণ খরচ কমায়। এই করিডোরটি মিজোরামের কৃষি ও হস্তশিল্প পণ্যের বৃহত্তর বাজারে রফতানি সহজতর করে এবং উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক একীকরণকে উৎসাহিত করে। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি পরিবেশগত স্থায়িত্ব লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যকে নিশ্চিত করে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া জুড়ে মিজোরামের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।
অসম এবং মিজোরামে নদী-ভিত্তিক বাণিজ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশগত তত্ত্বাবধানের একটি ইতিবাচক সংমিশ্রণকেই দর্শায়। অভ্যন্তরীণ জল পরিবহণে সড়ক পরিবহণের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কম কার্বন উপস্থিতি রয়েছে। সম্প্রদায়-চালিত বাণিজ্য মডেলগুলি - বিশেষ করে অসমে স্থানীয় নৌকা চালক ও সমবায় গোষ্ঠীগুলিকে সম্পৃক্ত করে - নদী বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করে। মিজোরামে পরিবেশ-বান্ধব বন্দর অবকাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী জল ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের সমন্বিতকরণ স্থিতিশীল বাণিজ্যের প্রতি এই প্রতিশ্রুতিকে দর্শায়। এই পদ্ধতিগুলি নিশ্চিত করে যে, অর্থনৈতিক লাভগুলি মৎস্য, জলাভূমি বা জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে আপস করে না, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের জলপথ ক্রমবর্ধমান ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বারবার বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরা নাব্যতাকে ব্যাহত করে, নদীর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বাণিজ্য ধারাবাহিকতাকে বিপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রহ্মপুত্রের অপ্রত্যাশিত বন্যা নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ক্ষয় ঘটায়, যার ফলে ব্যয়বহুল ব্যাঘাত ঘটে। একই ভাবে, বৃষ্টিপাতের অভাব পরিবহণকে প্রভাবিত করতে পারে। প্লাবনভূমিতে ভারী পলি জমা প্রায়শই নৌচলাচলকে ব্যাহত করে। এই জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি এবং আঞ্চলিক জীবিকা নির্বাহকারী বাস্তুতন্ত্রকে আরও হুমকির মুখে ফেলে। বিভিন্ন চরম ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলার দরুন ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকায় ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে কার্যকর বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং খরা প্রশমনের জন্য সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো নকশা এবং অববাহিকা-ব্যাপী বহুপাক্ষিক সমন্বয় প্রয়োজন।
এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে কার্যকর বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং খরা প্রশমনের জন্য সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো নকশা এবং অববাহিকা-ব্যাপী বহুপাক্ষিক সমন্বয় প্রয়োজন।
বর্ধিত সংযোগ ব্যবস্থা চোরাচালান এবং বন্যপ্রাণী পাচারের মতো অবৈধ কার্যকলাপের ঝুঁকিও বহন করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য - যার মধ্যে বিপন্ন প্রজাতিও রয়েছে - এটিকে শোষণমূলক অবৈধ বাণিজ্য অনুশীলনের ঝুঁকিতে ফেলেছে, যা প্রায়শই আন্তঃসীমান্ত স্থল এবং জলপথের মধ্য দিয়ে যায়। ভারত-মায়ানমার-তাইল্যান্ড ত্রিপাক্ষিক মহাসড়ক এবং কেএমএমটিটিপি ইন্দো-বর্মা জীববৈচিত্র্যের হটস্পট অতিক্রম করে, যেখানে বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতি বিকশিত হয়। অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধের জন্য স্যাটেলাইট নজরদারি, নিয়মিত নদী টহল এবং দেশগুলির মধ্যে অভিন্ন সাধারণ গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার করে সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। নদীগুলিকে বৈধ বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ জলপথ হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য এই কৌশলগুলি অপরিহার্য।
নীতিগত পথ
উত্তর-পূর্ব ভারত একটি অত্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত। অতএব, এর জলপথ উন্নয়ন কেবল পরিবহণের প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি, অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণ এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত।
ডিজিটাল নেভিগেশন ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু-স্থিতিশীল প্রযুক্তি-সহ জলপথের অবকাঠামোর সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের জন্য স্থিতিশীল, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা বন্যা, ক্ষয় এবং পলি-পরিবর্তনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে। নদীতীরবর্তী রাজ্যগুলির মধ্যে আঞ্চলিক জল সহযোগিতা জোরদার করাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে নদী ব্যবস্থাপনা খণ্ডিত না হয়ে সহযোগী হয়ে ওঠে। এই সহযোগিতা কেবল রাজ্য বা মন্ত্রী পর্যায়ে থাকা উচিত নয়; স্থানীয় সরকার, নদী সম্প্রদায়, ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ অপারেটরদের শাসন কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করতে হবে। যেখানে জলবিদ্যুৎ ঝুঁকি, সীমান্ত বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন গতিশীলতা আসলে ঘটে, সেটিই প্রকৃত বাস্তবতা হয়ে ওঠে।
এই সহযোগিতা কেবল রাজ্য বা মন্ত্রী পর্যায়ে থাকা উচিত নয়; স্থানীয় সরকার, নদী সম্প্রদায়, ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ অপারেটরদের শাসন কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করতে হবে। যেখানে জলবিদ্যুৎ ঝুঁকি, সীমান্ত বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন গতিশীলতা আসলে ঘটে, সেটিই প্রকৃত বাস্তবতা হয়ে ওঠে।
সংবেদনশীল সীমান্ত পরিবেশের কারণে নদী করিডোরগুলিতে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান সমস্যাগুলি আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধে আইনি কাঠামো, নজরদারি ব্যবস্থা এবং যৌথ প্রয়োগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে অ্যাক্ট ইস্ট নীতির অধীনে, সড়ক ও রেল অবকাঠামোর সঙ্গে জলপথকে সমন্বিত করলে তা নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করবে। এই করিডোরগুলিকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতির (যেমন উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা প্রকল্প) সঙ্গে সংযুক্ত করলে তা রফতানি-ভিত্তিক মূল্য শৃঙ্খলকে সমর্থন করতে পারে এবং লজিস্টিক খরচ কমাতে পারে। সর্বোপরি, সীমান্ত হাট/বাজার, যেখানে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষ অনানুষ্ঠানিক ভাবে জলপথের মাধ্যমে বাণিজ্য করে, তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে ও সমর্থন করতে হবে। কারণ এগুলি শান্তি নির্মাণ, জীবিকা এবং মানুষ থেকে মানুষ কূটনীতির স্বল্প হলেও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
পরিশেষে বলা যায়, পরিবেশগত সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন জলপথের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। নদীর বাস্তুতন্ত্র ভঙ্গুর এবং যে কোনও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে পরিবেশগত তত্ত্বাবধানের সঙ্গে বৃদ্ধির ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। পলির ভারসাম্য, জলাভূমি সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, ক্ষয়, জলবায়ু-সৃষ্ট নদী পরিবর্তন এবং জলপথে অবৈধ বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে যে, এই নদী ব্যবস্থাগুলি স্থিতিশীল সমৃদ্ধির ইঞ্জিন হবে না কি ভবিষ্যতের সংঘাত ও অবক্ষয়ের উৎস হবে। এমন একটি রূপান্তরমূলক পথের প্রয়োজন, যেটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের জলপথগুলিকে একই সাথে অর্থনৈতিক সুযোগ, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং পরিবেশগত সংরক্ষণের সংযোগকারী হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। কেবলমাত্র তখনই তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অভিন্ন সাধারণ আঞ্চলিক সমৃদ্ধি গড়ে তুলতে পারে।
অনামিকা বড়ুয়া আইআইটি গুয়াহাটির ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক।
রূপম ভাদুড়ি আইআইটি গুয়াহাটির সেন্টার ফর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ-এর পোস্ট ডক্টরাল ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Anamika Barua is a Professor in the Department of Humanities and Social Sciences at the Indian Institute of Technology Guwahati (IITG), India, and a Visiting ...
Read More +
Rupam Bhaduri is a Post-Doctoral Fellow at the Centre for Disaster Management and Research, IIT Guwahati. Currently, his postdoctoral research centres on socio-hydrology, community research, ...
Read More +