ব্রিকস শহরগুলি যখন জলবায়ু ঝুঁকি, যানজট এবং অসম পরিষেবা সরবরাহের মতো অভিন্ন চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, তখন ফলাফল-ভিত্তিক নিরীক্ষা নগর শাসনকে নিছক নিয়ম পালনের অনুশীলন থেকে একটি নাগরিক-কেন্দ্রিক জবাবদিহিতার কাঠামোতে রূপান্তরিত করতে পারে।
বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশনস (এসএআই) শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের কনট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারতের নগর রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সিএজি-এর এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন একটি সংস্কার কর্মসূচির উপর আলোকপাত করে, যা আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি একটি নতুন উপলব্ধিকে স্বীকৃতি দেয় যে, গ্লোবাল সাউথের শহরগুলির জন্য এমন শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন, যা মূল্যায়ন করবে যে, শুধুমাত্র তহবিল প্রবিধান এবং আইনি নিয়ম মেনে ব্যয় করা হয়েছে কি না তার উপরই শুধু মনোযোগ না দিয়ে, সরকারি ব্যয় প্রকৃতপক্ষে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে কি না।
এই পার্থক্যটি ব্রিকস দেশগুলির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, যারা সম্মিলিত ভাবে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং বিশ্বের দ্রুততম সম্প্রসারণশীল কিছু নগর অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও তাদের শহরগুলি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি, তারা যানজট, আবাসন সঙ্কট ও অপরিকল্পিত বসতি, বন্যা ও চরম তাপপ্রবাহ, দুর্বল পরিবহণ ব্যবস্থা, দূষণ, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং অপ্রতুল সরকারি পরিষেবার মতো সমস্যারও সম্মুখীন, যে সমস্যাগুলি অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা এবং সামাজিক সংহতি উভয়কেই প্রভাবিত করে।
কমপ্লায়েন্স অডিটের সীমাবদ্ধতা
অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে সরকারি খাতের অডিট একটি পদ্ধতিগত গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে সরকারি কর্মসূচির ফলাফল-ভিত্তিক মূল্যায়নের উপর জোর দেওয়ার পরিবর্তে অসদাচরণ ও অনিয়ম দমনের জন্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি মেট্রো রেল প্রকল্প ক্রয় সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চললেও শহরের যাতায়াতের সময় কমাতে ব্যর্থ হতে পারে। একটি স্মার্ট সিটি ড্যাশবোর্ড প্রযুক্তিগত ভাবে চালু থাকলেও তার ব্যবহার ব্যাপক ভাবে কম হতে পারে। স্যানিটেশন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বর্জ্য নিষ্কাশনের চ্যালেঞ্জ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার সমাধান করতে পারে না। যদিও এই ধরনের তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবুও উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য তা যথেষ্ট না-ও হতে পারে, যেখানে শহরগুলি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, প্রশ্নটি আর এমন নয় যে তহবিল সঠিক ভাবে ব্যয় করা হয়েছে কি না; বরং প্রশ্নটি হল এই ব্যয় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উন্নতি করেছে কি না।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশনস-এর (আইএনটিওএসএআই) ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডস অফ সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশনস (আইএসএসএআই) কমপ্লায়েন্স অডিটকে কার্যকারিতা এবং জনমূল্যের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী পারফরম্যান্স অডিট থেকে স্পষ্ট ভাবে আলাদা করে দেখে। ঠিক এখানেই সিএজি-র ‘জীবনযাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য’ এবং ফলাফল-ভিত্তিক অডিটের উপর জোর দেওয়া প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ভারত নাগরিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে ১০১টি শহরের জীবনযাত্রার মান, স্থায়িত্ব এবং পরিষেবা প্রাপ্তির সুযোগ খতিয়ে দেখছে। সিএজি বলেছে, এই উপলব্ধি-ভিত্তিক নিরীক্ষার লক্ষ্য হল জবাবদিহিতার কেন্দ্রে নথিপত্রের পরিবর্তে নাগরিকদের স্থাপন করা।
ভারতের অডিট ব্যবস্থার বাস্তবতা যাচাই
ভারতের জন্য এই ধরনের একটি পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি, যেখানে নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা নিরীক্ষা পদ্ধতিগত অনিয়ম প্রকাশ করার পাশাপাশি এটিও ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার পরিকাঠামো নির্মাণকেই একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। উদাহরণস্বরূপ, দেরাদুনের স্মার্ট সিটিজ মিশনের নিরীক্ষায় ব্যয়বহুল ‘স্মার্ট সমাধান’ বাস্তবায়নে বেশ কিছু ‘অনিয়ম’ প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু পদ্ধতিগত ও আর্থিক অনিয়মের চেয়েও, এই ধরনের নিরীক্ষাগুলি মেগা পরিকাঠামোতে ব্যয় এবং প্রকৃত নগর ফলাফলের মধ্যকার একটি সংযোগহীনতাকেও প্রকাশ করে। একই ভাবে, কেরলের অটল মিশন ফর রিজুভেনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন-এর (অম্রুত) একটি সিএজি অডিটে পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়নে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি শহর প্রকল্পের বিলম্ব, সম্পদের অব্যবহার এবং পরিষেবার উন্নতির অপ্রতুল মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে।
যদি নিরীক্ষায় শুধুমাত্র রাস্তা সংযোজন ও মেট্রো লাইন স্থাপনের ব্যয়ের পরিবর্তে যাতায়াতের সময় হ্রাসের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় অথবা কত কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে, তার পরিবর্তে জলের প্রাপ্যতার উন্নতির বিষয়টি পরিমাপ করা হয়, তবে সরকার ঠিকাদার বা বিভাগ-কেন্দ্রিক না হয়ে নাগরিক-কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবে।
এই প্রেক্ষাপটে, ফলাফল-ভিত্তিক নিরীক্ষা জননীতিকে মৌলিক ভাবে রূপান্তরিত করতে পারে। যদি নিরীক্ষায় শুধুমাত্র রাস্তা সংযোজন ও মেট্রো লাইন স্থাপনের ব্যয়ের পরিবর্তে যাতায়াতের সময় হ্রাসের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় অথবা কত কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে, তার পরিবর্তে জলের প্রাপ্যতার উন্নতির বিষয়টি পরিমাপ করা হয়, তবে সরকার ঠিকাদার বা বিভাগ-কেন্দ্রিক না হয়ে নাগরিক-কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবে।
এই ধরনের একটি পদ্ধতি নগর আমলাতন্ত্রের প্রণোদনা বদলে দেবে। বর্তমানে, পৌর ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনগত স্থায়িত্বের উপর কঠোর ভাবে মূল্যায়ন করা বা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকারী ফলাফলের ভিত্তিতে পরিমাপ করার পরিবর্তে, প্রধানত আর্থিক শৃঙ্খলা এবং প্রকল্প সমাপ্তির জন্য পুরস্কৃত করা হয়। সুতরাং, ফলাফল-ভিত্তিক নিরীক্ষা শুধুমাত্র ঘটনার পরবর্তী তদন্তের পরিবর্তে শাসন সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সাধনী হয়ে উঠতে পারে।
ফলাফল-ভিত্তিক সরকারি অডিটে বৈশ্বিক শিক্ষা
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এই ধরনের রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অডিট অফিসের ২০২৫-৩০ কৌশল ‘বিশ্বাস-মূল্য-প্রভাব’ (‘ভ্যালু-ট্রাস্ট-ইমপ্যাক্ট’) প্রচলিত হিসেবরক্ষণ সম্মতি এবং প্রতিবেদনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ফলাফল-ভিত্তিক পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হয়েছে, যা অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং পরিষেবার কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মসূচি মূল্যায়ন করে। একই ভাবে, ব্রাজিলের ট্রিবুনাল দি কন্টাস দা উনিয়াও (টিসিইউ) বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক ব্যবহার করে, সরকারি নীতিতে সামাজিক ফলাফলকে একীভূত করে এবং দুর্বল ও নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উপর এই নীতিগুলির প্রভাব পরিমাপ করে একটি উদ্ভাবনী সরকারি ব্যয় মূল্যায়ন পদ্ধতির পথপ্রদর্শক হয়েছে। চিনও ক্রমবর্ধমান ভাবে স্থানীয় প্রশাসনিক মূল্যায়নকে দূষণ হ্রাস, নগর পরিবহণের দক্ষতা এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের মতো পরিমাপযোগ্য নগর সূচকের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ব্রিকস দেশগুলির জন্য ফলাফল-ভিত্তিক নিরীক্ষার এই সমন্বয় একটি বৃহত্তর নগর শাসন চুক্তির সুযোগ তৈরি করে। মুম্বই, সাও পাওলো, জোহানেসবার্গ, সাংহাই, কায়রো এবং জাকার্তা একই ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক আবাসন, পরিবেশগত অবক্ষয়, পরিবহণ যানজট, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং অবকাঠামো অর্থায়নের ঘাটতি জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে।
এই ধরনের অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলি ব্রিকস-এর মধ্যে আরও উচ্চাভিলাষী শহর-থেকে-শহর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে, যা কেবল আনুষ্ঠানিক আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালের মুম্বই-সাংহাই সিস্টার সিটি চুক্তির লক্ষ্য ছিল এশিয়ার দু’টি বৃহত্তম আর্থিক ও বন্দর শহরের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি করা, যার মধ্যে নগর উন্নয়ন, পরিবহণ, ফিনটেক এবং বর্ধিত অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ডারবান এবং রিও ডি জেনিরো রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন-এর (ইউএনএফসিসিসি) বৈশ্বিক জলবায়ু ও উপকূলীয় শাসন ফোরাম, রিও+২০ প্রক্রিয়া এবং আরও বেশ কয়েকটি নগর জলবায়ু শৃঙ্খলের মাধ্যমে সম্পৃক্ত হয়েছে। একই ভাবে জোহানেসবার্গ এবং ভারতীয় মেট্রোপলিটন সংস্থাগুলি আইসিএলএআই এবং সি৪০ সিটিজ-এর মতো বহুপাক্ষিক নগর শৃঙ্খলগুলিতে স্থিতিশীল নগর গতিশীলতা, জলবায়ু অভিযোজন এবং মেট্রোপলিটন শাসন নিয়ে আলোচনা করেছে। তবুও এই ব্যবস্থাগুলির বেশিরভাগই খণ্ডকালীন বা খাপছাড়া রয়ে গিয়েছে।
বেশিরভাগ সিস্টার-সিটি চুক্তির নীতিগত প্রাসঙ্গিকতাও সীমিত। এগুলি সাংস্কৃতিক উৎসব, প্রতিনিধিদলের ভ্রমণ এবং স্মারকলিপির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু এই প্রতীকী আদান-প্রদানগুলি অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস শহরগুলিকে অবশ্যই পরিমাপযোগ্য নগর ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, বন্দর নগরী মুম্বই ও রিও ডি জেনিরোর মধ্যে একটি উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা অংশীদারিত্ব বন্যা অভিযোজন, পাহাড়ি বসতি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ুগত দুর্বলতাগুলি খতিয়ে দেখতে পারে। একই ভাবে বেঙ্গালুরু ও শেনজেন নগর ডিজিটাল শাসন এবং পৌর প্রযুক্তির সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে। দিল্লি ও সাও পাওলো যৌথ ভাবে বাস বিদ্যুদয়ন এবং বহুমুখী গণপরিবহণ একীকরণ নিয়ে গবেষণা করতে পারে এবং অন্য দিকে জোহানেসবার্গ ও আমদাবাদ তাপ প্রশমন কৌশল বিনিময় করতে পারে।
একটি ব্রিকস নগর জবাবদিহিতা কাঠামো
এই ধরনের অংশীদারিত্ব আরও অনেক বেশি অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে, যদি তা নিরীক্ষা-সমর্থিত জবাবদিহিতা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকে। একটি ব্রিকস নগর নিরীক্ষা প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা হলে তা অংশগ্রহণকারী শহরগুলিকে জলবায়ু অভিযোজন এবং জনসেবা প্রদানে তাদের ফলাফল পর্যায়ক্রমে তুলনা করার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। ধারণাগত র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে শহরগুলি একে অপরের প্রমাণ-ভিত্তিক অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে। এর ফলে ব্রিকস দেশগুলির নগর নিরীক্ষা সংস্থাগুলি (এসএআই) কেবল আর্থিক হিসেব এবং পদ্ধতিগত সম্মতির নিরীক্ষক না হয়ে, নগর নীতি শিক্ষার সহায়ক হিসেবে বিকশিত হতে পারবে।
একটি ব্রিকস নগর নিরীক্ষা প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করা হলে তা অংশগ্রহণকারী শহরগুলিকে জলবায়ু অভিযোজন এবং জনসেবা প্রদানে তাদের ফলাফল পর্যায়ক্রমে তুলনা করার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। ধারণাগত র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে শহরগুলি একে অপরের প্রমাণ-ভিত্তিক অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারবে।
দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান উন্নতিই নীতিগত সিদ্ধান্তকে যৌক্তিকতা দেয়। নাগরিকদের জন্য বিষয়টি প্রকল্পের বৈধতা নিয়ে নয়; বরং তা হল সময় মতো বাস আসা, বর্ষাকালে বৃষ্টির জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা। যদিও দুর্নীতি দমন এবং পদ্ধতিগত অখণ্ডতা নিশ্চিত করার জন্য প্রচলিত নিরীক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্যগুলি অত্যাবশ্যক, তবে আজকের নগর শাসনে জবাবদিহিতার একটি অতিরিক্ত স্তর প্রয়োজন এবং তা হল ফলাফলের ভিত্তিতে জবাবদিহিতা।
নিরীক্ষা থেকে নগর সংস্কার
সাম্প্রতিক ব্রিকস এসএআই শীর্ষ সম্মেলন এই শূন্যতাকে স্বীকার করে নিয়েছে। যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয় এবং উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে ফলাফল-ভিত্তিক নিরীক্ষা শুধু ব্রিকস জোটকেই নয়, বরং গ্লোবাল সাউথের সকল উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে সরকারি মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং নগরের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয় এবং উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে ফলাফল-ভিত্তিক নিরীক্ষা শুধু ব্রিকস জোটকেই নয়, বরং গ্লোবাল সাউথের সকল উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে সরকারি মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং নগরের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
ভারতের জন্য এই রূপান্তর বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় শহরগুলি ইতিমধ্যেই দেশের জিডিপির ৬০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে এবং ভারত যখন তার ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ কর্মসূচি পূরণের জন্য সচেষ্ট হবে, তখন জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এগুলি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবুও খণ্ডিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দুর্বল পৌর সক্ষমতা, অপ্রতুল তথ্য ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দুর্বল সমন্বয়ের মতো প্রচলিত নগর শাসন কাঠামো ক্রমাগত শহুরে ফলাফলকে ক্ষুণ্ণ করছে। যদিও শুধুমাত্র নাগরিক-কেন্দ্রিক নিরীক্ষা এই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলি সমাধান করতে পারে না, তবে এটি সরকারের অগ্রাধিকারকে ‘কত খরচ হয়েছে?’ থেকে ‘নাগরিকদের জন্য কী পরিবর্তন হয়েছে?’-তে মৌলিক ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। এটি কেবল একটি হিসেবরক্ষণ সংস্কারের চেয়েও বেশি কিছু। এটি একটি গণতান্ত্রিক আদেশ।
ধবল দেশাই অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dhaval is a Vice President - Platforms and Communities at Observer Research Foundation, Mumbai. His spectrum of work covers diverse topics ranging from urban renewal ...
Read More +