দু’বছরের মধ্যে তাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রাইম মিনিস্টার হিসেবে আনুতিন চার্নভিরাকুলকে প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থার পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস পুনর্নির্মাণ এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তাইল্যান্ডের রাজনৈতিক বলয় মোটেই স্থিতিশীল নয় এবং গত কয়েক বছর তা বিশেষ ভাবে উত্তাল ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী পদে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র ও গেঁড়ে বসা রক্ষণশীলতার মধ্যে এক চির-অস্থির ভারসাম্যের দ্বারা চিহ্নিত। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবেশ করেছেন ভূমিজাই তাই পার্টির নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল, যিনি তাইল্যান্ডের রাজার রাজকীয় অনুমোদনের পর ৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাংবিধানিক আদালত (সিসি) কর্তৃক প্রাক্তন প্রাইম মিনিস্টার পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করার পরপরই তাঁর উত্থান ঘটে, যাঁর মেয়াদ কম্বোডিয়ার প্রাক্তন নেতা হুন সেনের সঙ্গে একটি ফাঁস হওয়া ফোন কলের কারণে আকস্মিক ভাবে শেষ হয়ে যায়।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনে পেতংতার্নকে তাঁর নিজের জেনারেলদের সম্পর্কে সমালোচনামূলক ভাবে কথা বলতে শোনা যায় এবং তিনি হুন সেনকে ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করেন। এই সুরটিকে অনুপযুক্ত বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। কারণ এই বছরের মে মাসের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল সীমান্ত বিরোধ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এমন এক সময়ে যখন নমপেনের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর জন্য আরও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল, তখন তাঁর মন্তব্যকে সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করা এবং তাইল্যান্ডের জাতীয় অবস্থানকে আপস করার শামিল বলে মনে করা হয়, যা ভূমিজাই তাই পার্টিকে অবিলম্বে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে প্ররোচিত করে। সাংবিধানিক আদালত রায় দেয় যে, তাঁর আচরণ নৈতিক মান লঙ্ঘনের শামিল এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এই ধরনের আচরণ প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদা ও দায়িত্বের সঙ্গে বেমানান। ফলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা ন্যায়সঙ্গত ছিল।
তাইল্যান্ডের রাজনৈতিক বলয় মোটেই স্থিতিশীল নয় এবং গত কয়েক বছর তা বিশেষ ভাবে উত্তাল ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী পদে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র ও গেঁড়ে বসা রক্ষণশীলতার মধ্যে এক চির-অস্থির ভারসাম্যের দ্বারা চিহ্নিত।
এ ভাবে ৫৮ বছর বয়সে আনুতিন চার্নভিরাকুল মাত্র দু’বছরের মধ্যে তাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হলেন, যা দেশটির চলমান রাজনৈতিক ভঙ্গুরতারই প্রতিফলন। তাঁর এই উত্থান সম্ভব হয়েছে প্রগতিশীল পিপলস পার্টির সমর্থনের মাধ্যমে, যা পূর্বে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি নামে পরিচিত ছিল। এই দলটি সংসদে সর্বাধিক সংখ্যক আসন পেলেও, রাজদ্রোহ আইন পরিবর্তনের দাবির কারণে ২০২৩ সালে রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের সরকার গঠন করা থেকে বিরত রাখে। পিপলস পার্টি দু’টি শর্তে চার্নভিরাকুলকে সমর্থন করতে রাজি হয়। প্রথমত, তিনি চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানাবেন এবং দ্বিতীয়ত, তিনি একটি নতুন সংবিধানের জন্য গণভোটের আয়োজন করবেন।
আনুতিন এখন একটি অস্থায়ী মতাদেশ নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁকে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা প্রমাণের কঠিন কাজটি মোকাবিলা করতে হবে, যা এখনও তার নিজস্ব দ্বন্দ্বের সঙ্গে লড়াই করছে।
বর্তমান উদ্দেশ্য
নতুন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার জগতে অপরিচিত নন। তিনি এর আগে উপপ্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনতুষ্টিমূলক কৌশলের জন্য পরিচিতি লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক ভাবে তিনি ২০২২ সালে গাঁজাকে অপরাধমুক্ত করার তদারকির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই নীতির জন্য তিনি উদ্ভাবনের জন্য প্রশংসা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হন। একজন সমঝোতাকারী এবং জোট-নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি তাঁকে তাইল্যান্ডের কোন্দলপূর্ণ রাজনৈতিক বলয়ে পথ চলতে সাহায্য করেছে। তবুও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টায় আগামী মাসগুলিতে তাঁর নেতৃত্বশৈলী পরীক্ষিত হবে।
২৯ সেপ্টেম্বর সংসদে তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে তিনি তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় স্থিতিশীলতার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির জন্য কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত, সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তাঁর সরকারের প্রধান প্রধান অগ্রাধিকার হল পরিবারের আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান পারিবারিক ঋণ কমানো। দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি, - যা প্রায় ২.৫-৩ শতাংশ - আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে আছে এবং পারিবারিক ঋণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। যদিও আনুতিনের আর্থিক শৃঙ্খলা এবং গ্রামীণ ঋণ সহায়তার ওপর মনোযোগ কিছু গ্রামীণ এলাকায় — যা তাঁর দলের শক্ত ঘাঁটি — স্বাগত হয়েছে, তবে এটি এখনও বিনিয়োগকারী বা শহুরে মধ্যবিত্তদের প্রভাবিত করতে পারেনি।
দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি, - যা প্রায় ২.৫-৩ শতাংশ - আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে আছে এবং পারিবারিক ঋণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
তিনি অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ও এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুন প্রণোদনামূলক উদ্যোগ প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি শীর্ষস্থানীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তাইল্যান্ডের বৈশ্বিক সুনামকে উন্নত করার পরিকল্পনার উপরও জোর দিয়েছেন, যা তাঁর পূর্বসূরিরাও সফলভাবে অনুসরণ করেছিলেন। তাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ২১ অক্টোবর একটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা ২৯ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এর উদ্দেশ্য হল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ভ্রমণকে উৎসাহিত করা, যার মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকারীদের জন্য আয়কর ছাড়, কম পরিচিত গন্তব্য পরিদর্শনের জন্য প্রণোদনা এবং স্বল্প পরিচিত প্রদেশগুলিতে হোটেল সংস্কারের জন্য দ্বিগুণ কর ছাড়। এটি পর্যটন-সম্পর্কিত চাহিদা বাড়ানোর জন্য সেমিনার এবং প্রশিক্ষণে সরকারি খাতের ব্যয়কেও ত্বরান্বিত করবে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আর্থিক বছরের শেষ প্রান্তিকে লক্ষ লক্ষ পর্যটককে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট প্রচারমূলক প্রচারণা এবং বৈশ্বিক ভ্রমণ সংক্রান্ত মঞ্চগুলির সঙ্গে ছাড়ের অংশীদারিত্ব চালু করা হবে।
অভ্যন্তরীণ ভাবে আনুতিন দুর্নীতি এবং অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা তাঁর সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিচক্ষণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতিরই পুনঃনিশ্চয়তা দেয়।
সুতরাং, অন্তত স্বল্প মেয়াদে হলেও নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক লক্ষ্য হল বিশ্বাসযোগ্যতা সুসংহত করা এবং এই বছরের মার্চ বা এপ্রিল মাসে প্রত্যাশিত নির্বাচনের আগে নিজেকে একজন স্থিতিশীল ও ঐক্যবদ্ধকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা। তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জটি বিশাল: তাঁর জোটের মিত্রদের প্রত্যাশার ভারসাম্য রক্ষা করা, ক্রমবর্ধমান অস্থির ভোটারদের সন্তুষ্ট করা এবং রাজকীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের আস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিবেশী অঞ্চলে এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাইল্যান্ডের ভূমিকার পুনর্বিন্যাস করা।
পররাষ্ট্র নীতি
জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে কম্বোডিয়ার সাথে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মঞ্চে তাইল্যান্ডের ভূমিকা জোরদার করার জন্য আরও সক্রিয় কূটনৈতিক পদ্ধতির উপরও জোর দিয়েছেন।
কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ - যা মে মাস থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে – ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পরেও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এটি সমাধানের একটি পদক্ষেপ হিসেবে ২৬ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সময় ব্যাঙ্কক এবং নমপেন ‘কুয়ালালামপুরে তাঁদের বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে কম্বোডিয়া ও তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণাপত্রে’ স্বাক্ষর করেছে। কম্বোডিয়া এবং তাইল্যান্ড বিতর্কিত সীমান্ত থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার, ভূমি মাইন অপসারণ, সম্মতি তদারকির জন্য একটি আসিয়ান পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন, যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি এবং স্ক্যাম সেন্টারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য যৌথ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন, যিনি এই চুক্তিকে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীও এর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তবে তাইল্যান্ডের ফরেন মিনিস্টার সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও ‘শান্তি চুক্তি’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন এবং এটিকে পরিবর্তে ‘শান্তির একটি পথ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
কম্বোডিয়া এবং তাইল্যান্ড বিতর্কিত সীমান্ত থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার, ভূমি মাইন অপসারণ, সম্মতি তদারকির জন্য একটি আসিয়ান পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন, যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি এবং স্ক্যাম সেন্টারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য যৌথ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তাইল্যান্ডের সরকার ক্রমাগত বলে আসছে যে, সীমান্ত বিরোধটি দ্বিপাক্ষিক ভাবে সমাধান করা উচিত এবং উল্লেখ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার ভূমিকা কেবল মধ্যস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবুও তাইল্যান্ড বা কম্বোডিয়া — এবং অবশ্যই আসিয়ান — কেউই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের উপর তাদের নির্ভরতার কারণে একটি প্রতীকী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য ট্রাম্পের চাপকে উপেক্ষা করতে পারেনি। চুক্তিটির মান রক্ষা করা হবে কি না, তা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে তাইল্যান্ডের কৌশল বিকশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যকে নিয়ে গঠিত ফাইভ পাওয়ার ডিফেন্স অ্যারেঞ্জমেন্টস (এফপিডিএ) দেশগুলি সম্প্রতি ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ চিন সাগর জুড়ে তাদের ‘বারসামা লিমা’ মহড়া পরিচালনা করেছে, যা পশ্চিমি-সারিবদ্ধ শক্তিগুলির মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ব্যাঙ্ককের জন্য এটি প্রধান শক্তিগুলির মধ্যে তার চিরাচরিত ভারসাম্য রক্ষার কাজটিকে আরও জটিল করে তুলেছে, বিশেষ করে যখন চিন তার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অপরিহার্য নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে রয়েছে। এ দিকে, মেকং-গঙ্গা সহযোগিতা কাঠামোর অধীনে লাওসের সঙ্গে ভারতের একটি নতুন সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং সংযোগ উদ্যোগগুলিকে তুলে ধরে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে তাইল্যান্ড অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামলানোর পাশাপাশি প্রভাব বজায় রাখতে চায়।
তাইল্যান্ডের নিকট ভবিষ্যৎ সম্ভবত কেবল আনুতিনের নেতৃত্বের উপর নির্ভর করবে না, বরং তার প্রতিষ্ঠানগুলি আর একটি রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে সংহতি বজায় রাখতে পারে কি না তার উপর নির্ভর করবে। এমনকি যদি তাঁর মেয়াদ স্বল্পস্থায়ীও হয়, এই মাসগুলিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি বিনিয়োগকারীদের আস্থা, পররাষ্ট্র নীতির দিকনির্দেশনা এবং একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তাইল্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আকার দেবে। আসন্ন নির্বাচন কেবল তাঁর জোটের স্থায়িত্বকেই পরীক্ষার মুখে ফেলবে না, বরং ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতাকে দীর্ঘস্থায়ী শাসনতান্ত্রিক স্থিতিশীলতায় রূপান্তরিত করার জন্য দেশের সক্ষমতারও পরীক্ষা নেবে।
শ্রীপর্ণা ব্যানার্জি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sreeparna Banerjee is an Associate Fellow in the Strategic Studies Programme. Her work focuses on the geopolitical and strategic affairs concerning two Southeast Asian countries, namely ...
Read More +