অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও তথ্যের অসামঞ্জস্যতার উপর ভিত্তি করে ভিসা-সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব ভারতের বিশ্বব্যাপী গতিশীলতাকে সীমাবদ্ধ করে। অভিবাসন প্রশাসনের মাধ্যমে পাসপোর্ট ক্ষমতা শক্তিশালী করাই এই বাধাগুলি দূর করার মূল চাবিকাঠি।
গ্লোবাল নর্থের দেশগুলি - যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনের দেশগুলি - শ্রম বাজারের চাপ, অতিরিক্ত পর্যটন, অবৈধ অভিবাসন ও নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকার অবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিবাসন ও বসতি স্থাপন নীতি কঠোরতর করার দরুন গ্লোবাল সাউথ থেকে নর্থে ক্রমবর্ধমান চলাচলের উপর চাপ পড়ছে। ভারতের ক্ষেত্রে এটি ভিসা সংক্রান্ত দীর্ঘতর অপেক্ষার সময়, কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, বেশি সংখ্যক আবেদন প্রত্যাখ্যান, অতিরিক্ত কাগজপত্র এবং দেশের সঙ্গে ‘দৃঢ় সম্পর্ক’ প্রমাণ করার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার মাধ্যমে স্পষ্ট। এই ভিসা-সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব ও অনিশ্চয়তা ভ্রমণকারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য অসুবিধা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। অভ্যন্তরীণ ভাবে, লক্ষ্যনির্দিষ্ট নীতির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে, যা ভারতীয় পাসপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অবস্থানকে শক্তিশালী করে এবং যার ফলে বিশ্বব্যাপী চলাচলের ব্যবস্থাও উন্নততর হয়।
সীমান্তের বাইরে চলাচল সহজতর করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টের ক্ষমতা উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে লক্ষ্যনির্দিষ্ট যোগাযোগ স্থাপন অপরিহার্য, যাতে অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করা যায় এবং ভিসা সম্পর্কিত ‘প্রতিকূল নির্বাচন’ সংক্রান্ত সমস্যা দূর করা যায়।
পাসপোর্টের গতিশীলতা ও শক্তি মূল্যায়ন করে পাসপোর্ট র্যাঙ্কিং সূচকগুলি নির্ধারণ করে দেয় যে, পূর্ব-পরিকল্পিত ভিসার প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই পাসপোর্টধারী ব্যক্তি কতগুলি গন্তব্যে যেতে পারেন। এই সূচকগুলি একটি দেশের বৈশ্বিক প্রভাব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক পরিসরের প্রতিফলন ঘটায়। এগুলি শ্রম বাজারের উন্মুক্ততা ও আন্তঃসীমান্ত গতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত সমীকরণকেও তুলে ধরে। ভারতের প্রবৃদ্ধির গতিপথ শক্তিশালী মৌলিক বিষয়গুলি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে রয়েছে আগের চেয়ে বেশি ব্যয় ক্ষমতাসম্পন্ন তরুণ ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি, একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় শ্রমশক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি। তবে নোমাড ইনডেক্স অনুসারে, ভারতের পাসপোর্ট ক্রমাঙ্ক হেনলি সূচকে (৮২/১০৩) পাঁচ ধাপ পিছিয়েছে এবং ১৯৯টি দেশের মধ্যে ১৪৮তম স্থানে রয়েছে। আজকের বিশ্বায়িত বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পাসপোর্টের শক্তি এবং ভারতের প্রবৃদ্ধির আখ্যান আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজতর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটাবে, বিশেষ করে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে, যেখানে আরও বেশি নাগরিক বিদেশে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন। সীমান্তের বাইরে চলাচল সহজতর করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টের ক্ষমতা উন্নত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে লক্ষ্যনির্দিষ্ট যোগাযোগ স্থাপন অপরিহার্য, যাতে অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করা যায় এবং ভিসা সম্পর্কিত ‘প্রতিকূল নির্বাচন’ সংক্রান্ত সমস্যা দূর করা যায়। এই ধরনের প্রচেষ্টা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ সময়, অতিরিক্ত পর্যটন, অভিবাসনের শ্রমবাজারে প্রভাব এবং অভিবাসন প্রবাহ ও পর্যটক চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত বিস্তৃত প্রভাব মোকাবিলা করতেও সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাপী গতিশীলতা: মূল দ্বন্দ্বের কারণ
তথ্য অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ভিসা সংগ্রহ করা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ চাওয়ার মতোই একটি বিষয় - যা একটি চিরাচরিত ‘মার্কেট ফর লেমনস’ সমস্যা উপস্থাপন করে এবং এই কথাই দর্শায় যে, একই দেশ থেকে আগত ব্যক্তিরা একই ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এই ঝুঁকিগুলি ব্যক্তিগত পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে করা পৃথক প্রোফাইলিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর হয়। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ও বিশ্বব্যাপী গতিশীলতার সামগ্রিক অভিজ্ঞতা গঠনে হুমকি মূল্যায়নও একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন তত্ত্ব এই ব্যাখ্যা দেওয়ারই চেষ্টা করেছে যে, ধারণাগত ঝুঁকিগুলি কী ভাবে এই মূল্যায়নগুলিকে প্রভাবিত করে। বেশির ভাগ অভিবাসন প্রবাহ গ্লোবাল সাউথ থেকে গ্লোবাল নর্থে প্রসারিত হয় এবং প্রায়শই উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়। এই বাধাগুলি আদর্শগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য, অপরাধ সংক্রান্ত উদ্বেগ, অভিবাসন-সম্পর্কিত লঙ্ঘন, শ্রমবাজারের প্রভাব এবং স্থানীয় জনগণ অভিবাসীদের কী চোখে দেখেন… এই নানাবিধ কারণ দ্বারা আকার পায়।
অভিবাসীদের নিজ দেশ থেকে বিশ্বব্যাপী গতিশীলতার বিষয়টি দেখলে, পাসপোর্টের ক্ষমতা ও এর দ্বারা প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাগুলি বিভিন্ন কারণের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এগুলিকে তিনটি বিভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে: দেশীয় স্তরের কারণ (আধিপত্য, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি), অর্থনৈতিক কারণ এবং বিশ্বব্যাপী শাসনের কারণ। নিম্নলিখিত বিভাগগুলিতে সম্পৃক্ত অর্থনৈতিক দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
অর্থনৈতিক অবস্থান এবং পাসপোর্টের শক্তি
প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, শাসনের মান ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার মতো গভীর কাঠামোগত ও উন্নয়নমূলক কারণগুলির মাধ্যমে পাসপোর্ট ক্ষমতা মাথাপিছু আয়ের দ্বারা দৃঢ় ভাবে প্রভাবিত হয়। মূলত দেশগুলি মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানও উন্নত করে এবং পাশাপাশি দারিদ্র্য, অপরাধ ও দুর্নীতি হ্রাস পায়। এই উন্নয়নমূলক অর্জনগুলি একটি শক্তিশালী বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ও বর্ধিত প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা অর্জনে অবদান রাখে, যা ফলস্বরূপ একটি দেশের পাসপোর্ট ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গতিশীলতার সহজতরতা উন্নত করতে পারে।
ছবিতে দেখানো হয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ভারতের প্রেক্ষাপটে উচ্চ আয়ের সঙ্গে হ্রাসপ্রাপ্ত বৈশ্বিক গতিশীলতার দ্বন্দ্ব - যেমন বৃহত্তর অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা ও কাঠামোগত সূচকগুলিতে উন্নতি - সম্পর্কিত সম্ভাব্য কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
চিত্র ১: ১৪৪টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির পাসপোর্ট র্যাঙ্কিং

(হেনলি ইনডেক্স এবং আইএমএফ, ২০২৫ থেকে প্রাপ্ত তথ্য। ম্যাটপ্লটলিব ব্যবহার করে তৈরি)
বিঃদ্রঃ: নিম্ন পাসপোর্ট র্যাঙ্ক শক্তিশালী পাসপোর্ট ক্ষমতা নির্দেশ করে বলে লাইনটি নিম্নমুখী, যা মাথাপিছু জিডিপির সঙ্গে অনোন্যক।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী গতিশীলতার উপর দ্বিগুণ প্রভাব ফেলে। প্রথমত, দৃঢ় বাণিজ্য সম্পর্কের দ্বারা সমর্থিত শক্তিশালী উন্মুক্ত অর্থনীতির প্রমাণপত্র পাসপোর্ট ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন একটি দেশ তার বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করে এবং ব্যবসায়িক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ উভয়কেই উৎসাহিত করে, তখন তারা কম ভিসা বিধিনিষেধের সম্মুখীন হয় এবং চলাচল সংক্রান্ত সহজলভ্যতা উপভোগ করে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চুক্তিগুলি এই প্রভাবকেই দর্শায়। কারণ এগুলির মাধ্যমে উন্নত প্রবেশাধিকার, সুগম ভিসা পদ্ধতি এবং কম দ্বন্দ্বযুক্ত সহজ চলাচলের জন্য পথ প্রসারিত করেছে।
বর্তমানে ভারতীয়রা বিশ্বব্যাপী পর্যটন বাজারে শীর্ষ অবদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন এবং ভ্রমণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মৌলিক বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্রমবর্ধমান ব্যয়যোগ্য আয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সম্পদ স্থানান্তর ও বিশ্বায়নের ফলে পরিবর্তিত পছন্দগুলি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলেছে। বর্তমানে ভারতীয়রা বিশ্বব্যাপী পর্যটন বাজারে শীর্ষ অবদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন এবং ভ্রমণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেমনটা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক উল্লেখ করেছে। এটি একটি আত্মবিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করলেও ভিসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ও সীমাবদ্ধ বিশ্বব্যাপী গতিশীলতার ক্রমাগত চ্যালেঞ্জগুলির সঙ্গে তীব্র ভাবে বিপরীত। এখানে জনসংখ্যার আকার, বেকারত্ব ও আয়ের বৈষম্যের মতো দেশীয় অর্থনৈতিক কারণগুলি নজরে আসে। এই সূচকগুলি নির্দেশ করে যে, গন্তব্য দেশগুলি কী ভাবে অভিবাসন-সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলি উপলব্ধি করে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে থেকে যাওয়া, অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং শ্রমবাজার লঙ্ঘনের উদ্বেগগুলিকে প্রভাবিত করে। ধারণাগত নৈতিক বিপদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গন্তব্য দেশগুলি প্রায়শই আরও ভ্রমণকারীদের বিস্তারিত তথ্য দাবি করে প্রতিক্রিয়া জানায়। এই প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর স্বচ্ছতা এবং তথ্য প্রকাশ অপ্রতিসম তথ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে, যা অনেকটা চিরাচরিত ‘লেমন মার্কেট’ সমস্যা সমাধানের মতোই।
ভবিষ্যতের পথ: দেশীয় সংস্কার
কাঠামোগত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বিকশিত হলেও লক্ষ্যনির্দিষ্ট এবং ক্ষুদ্র নীতিগত হস্তক্ষেপগুলি অর্থপূর্ণ ভাবে একটি দেশের পাসপোর্ট শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গতিশীলতার ফলাফল উন্নত করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
• সন্দেহজনক অভিবাসন সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: তথাকথিত ভিসা মিল (ভিসা প্রদানকারী সংস্থা) এবং প্রতারণামূলক পরামর্শদাতারা বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কার্যকলাপে জড়িত। যেমন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, ভুয়ো কাজ ও ছাত্র ভিসার জন্য ব্যক্তিদের প্রতারণা, নথি জাল করা এবং ভিসার সাক্ষাৎসূচি নিশ্চিত করার জন্য স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করা। এই জালিয়াতিগুলি সন্দেহাতীত ব্যক্তিদের জন্য যথেষ্ট আর্থিক ক্ষতির দিকে চালিত করে এবং বিশ্বব্যাপী অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারতের সুনামের গুরুতর ক্ষতি করে। এর প্রভাব শুধুমাত্র ভুক্তভোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা ন্যায্য আবেদনকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং সামগ্রিক অভিবাসন কাঠামোর অখণ্ডতার উপর চাপ সৃষ্টি করে। উপস্থাপিত অভিবাসন আইন, ২০২১ একটি সঠিক লক্ষ্যের অভিমুখে চালিত করে, যার লক্ষ্য হল অনিয়মিত অভিবাসন পথগুলি মোকাবিলা করা এবং অনিবন্ধিত অভিবাসন চক্রের নিয়ন্ত্রণ করে পুরনো নিয়মকানুনের সংস্কার করা। তবে আইনটি বিচারাধীন রয়েছে এবং তা সংসদে উপস্থাপিত হয়নি বা আইনি অগ্রাধিকার পায়নি।
• অভিবাসন কূটনীতি বৃদ্ধি: অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য-সম্পর্কিত অগ্রগতির পাশাপাশি একটি দেশ যে ভাবে তার অভিবাসীদের পরিচালনা করে - বিশেষ করে অতিরিক্ত সময় ধরে অবস্থান এবং ভিসা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে - আন্তর্জাতিক ধারণা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি গন্তব্য দেশগুলির জন্য একটি ইতিবাচক সঙ্কেত তৈরি করে এবং পাসপোর্ট ক্ষমতা জোরদার করতে অবদান রাখতে পারে। জার্মানি-ভারত মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি এগ্রিমেন্ট (এমএমএ) ২০২৩ এবং ফ্রান্স-ভারত এমএমএ, ২০২১ এই ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ। এই বিধানগুলি দ্বন্দ্বহীন প্রত্যাবাসন সুনিশ্চিত করে এবং সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য স্পষ্ট ও বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ব্যবস্থার সময় নয়াদিল্লি কর্তৃক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ভিসা লঙ্ঘনকারীদের প্রত্যাবাসনের মতো সক্রিয় পদক্ষেপগুলিরও শক্তিশালী সঙ্কেত প্রভাব রয়েছে।
• জাতীয় অভিবাসন নীতি (এনএমপি): ভারতের বর্তমান অভিবাসন নীতির পরিসর বিভক্ত এবং একটি ঐক্যবদ্ধ, সংহত কাঠামোর অভাব রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম শ্রম রফতানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের এখনও কৌশলগত অভিবাসন নীতি নেই। পরিবর্তে, ভারতের পদ্ধতি মূলত প্রতিক্রিয়ামূলক। অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করতে, আন্তর্জাতিক আস্থা তৈরি করতে, নিজেদের কর্মীদের কল্যাণ রক্ষা করতে, ভিসা-সম্পর্কিত সকল ধরনের দ্বন্দ্ব কমাতে এবং বিশ্বব্যাপী গতিশীলতা সূচক উন্নত করতে ভারতের জরুরি ভিত্তিতে একটি সুসংহত এবং দূরদর্শী জাতীয় অভিবাসন নীতির প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কা ও মেক্সিকোর মতো দেশ - উভয় প্রধান শ্রম রফতানিকারক দেশ - ইতিমধ্যেই কাঠামোগত অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে এবং ভারতকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক থাকা ও বিদেশে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এটি অনুসরণ করতে হবে।
ইতিবাচক সূচনা বিন্দু হল লক্ষ্যনির্দিষ্ট অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং এ কথা নিশ্চিত করা যে, ভবিষ্যতে অভিবাসন এমন এক পরিবেশে ঘটবে, যা সুদৃঢ় অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয় এবং শক্তিশালী কাঠামোগত পরিস্থিতিতেই ঘটবে।
এই সমাধানগুলি বিশ্বব্যাপী গতিশীলতা উন্নত করতে এবং স্পষ্ট অভিবাসন পথ তৈরি করতে বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নীতির উপর মনোযোগ দিলেও ভূ-রাজনীতি ও গন্তব্য দেশের কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক দিকগুলির মতো বাহ্যিক কারণগুলি সম্পর্কে বিশেষ ধারণা দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষিতগুলি, বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে, আরও গভীর মনোযোগের দাবি রাখে। অভিবাসনকে আরও ভাল ভাবে পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতের গবেষণা ও নীতিগুলিকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যটন এবং অভিবাসনের চাহিদাকে রূপদানকারী এমন কাঠামোগত কারণগুলি পরীক্ষা করা উচিত এবং দেশভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। অনেক দেশেই ভারতের প্রবাসীর সংখ্যা সর্বাধিক এবং ভারতের নাগরিকদেরও বিদেশ ভ্রমণের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ রয়েছে। দেশটির শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী গতিশীলতার ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের জন্য পাসপোর্ট ক্ষমতা উন্নত করা এবং কার্যকর ভাবে অভিবাসন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রচেষ্টা ভারতের প্রবৃদ্ধির আখ্যানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ কথা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে, ইতিবাচক সূচনা বিন্দু হল লক্ষ্যনির্দিষ্ট অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং এ কথা নিশ্চিত করা যে, ভবিষ্যতে অভিবাসন এমন এক পরিবেশে ঘটবে, যা সুদৃঢ় অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয় এবং শক্তিশালী কাঠামোগত পরিস্থিতিতেই ঘটবে। এটি ভারতীয় ভ্রমণকারী ও কর্মীদের বিশ্বব্যাপী গতিশীলতাকে দীর্ঘকাল ধরে প্রভাবিত করে এমন তথ্যগত ব্যবধান কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মনীশ বৈদ্য অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Manish Vaidya is a Research Assistant with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. His work centres on research and active engagement in applied economics, with a ...
Read More +