অতীতের সরকারগুলির অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ থেকে শিক্ষা নিয়ে পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের বিষয়ে একটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার জন্য ভারতের সামনে এখন একটি কৌশলগত সুযোগ রয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট (ইউপিএ) সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রী পি. চিদম্বরম সম্প্রতি বলেছেন যে, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের পাকিস্তান-সমর্থিত মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার পর তিনি শক্তি প্রয়োগের পক্ষে ছিলেন। চিদম্বরম বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যে, আমাদের প্রতিশোধমূলক কিছু করা উচিত। আমি প্রধানমন্ত্রী এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমি অনুমান করতে পারি যে, হামলা চলার সময়েই প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় পররাষ্ট্র বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্বারা এই সিদ্ধান্তটি মূলত প্রভাবিত হয়েছিল যে, আমাদের পরিস্থিতিটির প্রতি শক্তি সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়, বরং আমাদের কূটনৈতিক উপায় অবলম্বন করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন: ‘[প্রতিশোধ না নেওয়ার] এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়েছিল এমন এক পরিস্থিতিতে, যখন সারা বিশ্ব থেকে দিল্লির উপর এই চাপ আসছিল যে, আমরা যেন যুদ্ধ শুরু না করি।’
দলীয় সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে যে কোনও ভারতীয় সরকারের শক্তি প্রয়োগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনও বিষয় নেই, যার জন্য ঐকমত্যের প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপগুলি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূত্রপাত না ঘটিয়েও অপরাধের শাস্তি দিতে এবং ভবিষ্যতের অস্থিরতা সীমিত করার জন্য শক্তিশালী সাধনী হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী পাল্টা জবাবে বলেছেন: ‘সতেরো বছর পর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদম্বরম এমন একটি কথা স্বীকার করলেন, যা গোটা দেশ আগে থেকেই জানত – বিদেশি শক্তির চাপে ২৬/১১-র ঘটনাটি ভুল ভাবে সামলানো হয়েছিল। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।’
চিদম্বরমের এই বিলম্বিত স্বীকারোক্তি এবং পরবর্তী সমালোচনা ও দোষারোপ সত্ত্বেও ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের (পিআরসি) বিরুদ্ধে ভারতের শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে ভারতের দু’টি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল – ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) - মধ্যে একটি ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং তাকে সুসংহত করার সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে যে কোনও ভারতীয় সরকারের শক্তি প্রয়োগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনও বিষয় নেই, যার জন্য ঐকমত্যের প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপগুলি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূত্রপাত না ঘটিয়েও অপরাধের শাস্তি দিতে এবং ভবিষ্যতের অস্থিরতা সীমিত করার জন্য শক্তিশালী সাধনী হিসেবে কাজ করতে পারে। রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের প্রতিক্রিয়ায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘বিমানশক্তি’ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। কারণ এর ‘সুবিধা’ স্থল হামলার বিকল্পগুলির চেয়ে বেশি। ইউপিএ সরকারের আমলে এই সুপারিশটি কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বিমানশক্তি ব্যবহারের এই সুপারিশটি পরবর্তী মোদী সরকার দু’বার বাস্তবায়ন করেছে। প্রথমটি ছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার পর মোদী সরকার জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেএম) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় এবং দ্বিতীয়টি ছিল যখন ভারত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগামে বেসামরিক নাগরিকদের গণহত্যার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এ ভাবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে ঐকমত্যের পরীক্ষাটি দু’টি ক্ষেত্রে পূরণ হয়েছিল।
আগামী বহু বছর ধরে কোনও ভারতীয় সরকারই রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসী ও আঞ্চলিক আগ্রাসী অ্যাজেন্ডার মোকাবিলা এড়াতে পারবে না। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা ভারতের দু’টি প্রধান জাতীয় দলের জন্য অপরিহার্য।
পাকিস্তান-সমর্থিত প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার পর এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ — তা প্রকাশ্য সামরিক অভিযান হোক বা নিষ্ক্রিয়তা — নিয়ে রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা ঘটে। তা সত্ত্বেও শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে একটি গভীর ও স্থায়ী ঐকমত্য গড়ে তোলার একটি সুনির্দিষ্ট সুযোগ রয়েছে। এর ভিত্তি হল এই ধারণা যে, পাকিস্তান বিভিন্ন সরকারের আমল জুড়ে ভারতের বিরুদ্ধে অবিরাম জিহাদি সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে আসছে। আগামী বহু বছর ধরে কোনও ভারতীয় সরকারই রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসী ও আঞ্চলিক আগ্রাসী অ্যাজেন্ডার মোকাবিলা এড়াতে পারবে না। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা ভারতের দু’টি প্রধান জাতীয় দলের জন্য অপরিহার্য।
পূর্বোক্ত প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের বাইরে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিপলস রিপাবলিক অফ ইন্ডিয়া বা পিআরসি) কর্তৃক সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতের উচিত ছিল চিনা সামরিক বাহিনীর ভূমি দখলের জবাবে একই ধরনের পদক্ষেপ করা — অর্থাৎ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর যেখানেই কৌশলগত ভাবে সুবিধাজনক ও সম্ভব, সেখানেই চিনের বিরুদ্ধে একই কাজ করা। ফলস্বরূপ, এটি একটি পারস্পরিক পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করত। ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) লাদাখের এলএসি বরাবর পাঁচটি স্থানে ভূখণ্ড দখল করে। ২০২০ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী (আইএ) এবং পিএলএ-র মধ্যে একটি সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়, যাতে বেশ কয়েকজন ভারতীয় ও চিনা সৈন্য নিহত হন। গলওয়ান সংঘর্ষ ভারতকে এলএসি-র পুরো এলাকা জুড়ে সেনা সমাবেশ করতে বাধ্য করে। ২০২০ সালের অগস্ট মাসের শেষের দিকে একটি আকস্মিক অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী কৈলাস পর্বতমালা দখল করে, যা চিন নিজেদের বলে দাবি করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিন প্যাংগং সো হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ তীর থেকে পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয় এবং ভারতও কৈলাস পর্বতমালা থেকে একই কাজ করতে রাজি হয়। এই পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সেনা প্রত্যাহারে ভারী সরঞ্জাম এবং বিপুল সংখ্যক সৈন্য জড়িত ছিল। এলএসি বরাবর একাধিক স্থানে চিনা দখলের জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৈলাস পর্বতমালা দখলের পদক্ষেপটি বিরোধী দল কংগ্রেসের কাছ থেকেও অন্তত প্রাথমিক ভাবে হলেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল। তবে মোদী সরকার কিছু মহলের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল — যার মধ্যে এমন সমালোচকও ছিলেন যাঁরা পূর্বে মনমোহন সিং সরকারের অধীনে একই ধরনের পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিলেন — যাঁরা এই পদক্ষেপটিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে চালিত বলে মনে করেছিলেন। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও পারস্পরিক পাল্টা পদক্ষেপের মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
কৌশলগত ভাবে ভবিষ্যৎ চিনা ও পাকিস্তানি সীমান্ত লঙ্ঘনের দ্রুততর প্রতিক্রিয়ার জন্য ভৈরব ব্যাটালিয়ন, রুদ্র ব্রিগেড এবং এখনও প্রতিষ্ঠিত না হওয়া ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপের (আইবিজি) কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা আরও উন্নত সরঞ্জাম দ্বারা সজ্জিত হবে।
তা সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার পরবর্তী চিনা ভূমি দখলের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ভাবে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবং কৈলাস পর্বতমালার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশৃঙ্গগুলি দখলের কৌশলগত আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বন করেনি। উপরন্তু, চিনা অনুপ্রবেশ এবং ভূমি দখলের ব্যাপকতার কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে কৈলাস পর্বতমালায় পরিচালিত অভিযানের পুনরাবৃত্তি করে আরও আগ্রাসী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে সৃষ্ট লকডাউন, যা চিনা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছিল। কৌশলগত ভাবে ভবিষ্যৎ চিনা ও পাকিস্তানি সীমান্ত লঙ্ঘনের দ্রুততর প্রতিক্রিয়ার জন্য ভৈরব ব্যাটালিয়ন, রুদ্র ব্রিগেড এবং এখনও প্রতিষ্ঠিত না হওয়া ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপের (আইবিজি) কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা আরও উন্নত সরঞ্জাম দ্বারা সজ্জিত হবে। এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলি প্রয়োজনে কৌশলগত উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করবে।
তবে ভারতের শত্রুদের মোকাবিলায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। প্রথমত, যদিও লাদাখে পিএলএ-র ভূমি দখলের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের প্রতিক্রিয়া আরও আক্রমণাত্মক কৌশলগত পদক্ষেপের তুলনায় অপ্রতুল ছিল, তবুও একটি ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চিনারা তাদের সেনা সমাবেশের সময় কমিয়ে তাদের সামরিক মহড়াকে এলএসি জুড়ে ভূখণ্ড দখলের আক্রমণে রূপান্তরিত করেছিল। কিন্তু এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ অবলম্বনের ফলেও সম্ভব হয়েছিল। ফলস্বরূপ, তারা ভারতকে একটি সম্পন্ন ঘটনার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। ২০২০ সালে চিন অনেকটা ১৯৬২ সালের অক্টোবরের মতোই কাজ করেছিল — একটি বৈশ্বিক সঙ্কটকে নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করে। তখন তারা কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে ভারতকে আক্রমণ করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লির সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল, কিন্তু ফলাফল পরিবর্তন করার জন্য অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ২০২০ সালে বেজিং একই ভাবে কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে সৃষ্ট অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণ করে। আংশিক ভাবে অসংগঠিত ভারতীয় সেনাবাহিনী তা খুব একটা প্রতিরোধ করতে পারেনি। সুতরাং একটি বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে সৃষ্ট বৃহত্তর মনোযোগের বিচ্যুতি ভবিষ্যতে ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও চিনা সামরিক অভিযানেও ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয় শিক্ষাটি নিহিত রয়েছে পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের প্রকৃত ব্যবহারে — যে পদক্ষেপগুলি মোদী সরকার সম্পূর্ণ রূপে না হলেও বেশ কার্যকর ভাবে বাস্তবায়ন করেছে — যা ভবিষ্যৎ সরকারগুলি অনুকরণ এবং উন্নত করতে পারে। পরিশেষে, সামরিক বিকল্পগুলি প্রয়োগের মূল শর্তটি থাকবে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্প, ক্ষমতায় থাকা দল বা জোট নির্বিশেষে।
কার্তিক বোম্মাকান্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Kartik is a Senior Fellow with the Strategic Studies Programme. He is currently working on issues related to land warfare and armies, especially the India ...
Read More +