Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 16, 2026 Updated 0 Hours ago

ট্রাস্ট-এর অধীনে মার্কিন-ভারত বায়োটেক সহযোগিতা শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের চেয়েও বেশি কিছু; এটি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলকে নতুন রূপ দিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করতে পারে।

মার্কিন-ভারত ট্রাস্ট উদ্যোগ বায়োটেকের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিচ্ছে

২০২৫ সালের জুলাই মাসে নোবেল বিজয়ী ডেভিড গ্রস ভারতের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে সফল করার জন্য এমন একটি মৌলিক প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন যা বর্তমানে দেশটির নেই: আবিষ্কার ও উদ্ভাবন। ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও এই বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বোঝা গিয়েছে, তবে এটি খুব কমই স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওয়াশিংটন ডিসি সফরের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ইউএস-ইন্ডিয়া ট্রাস্ট ইনিশিয়েটিভ (কৌশলগত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পর্ককে রূপান্তরিত করা) চালু করে। ভারতের উপর আরোপিত নতুন শুল্ক, অভিবাসন নিয়ম এবং ভিসার নিয়ম পরিবর্তনসহ অন্য কূটনৈতিক পরিবর্তনগুলি বৈশ্বিক সম্পর্ককে বদলে দেবে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জৈবপ্রযুক্তি-‌সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে বৈশ্বিক উদ্ভাবন বাস্তুতন্ত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতকে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে তার সক্ষমতা প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।

বায়োটেকনোলজি শুধু স্বাস্থ্যসেবার গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) নিয়েই নয়, বরং এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, বায়োম্যানুফ্যাকচারিং এবং এমনকি প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিরও সংশ্লিষ্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির উপর তার মনোযোগ বাড়িয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন অন ইমার্জিং বায়োটেকনোলজি (এনএসসিইবি) প্রতিষ্ঠা , যা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উদীয়মান বায়োটেকনোলজির উপর মনোযোগ অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রায়োগিক গবেষণা এবং গভীর প্রযুক্তির পুঁজিরও ব্যাপক সমাহার রয়েছে।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির উপর তার মনোযোগ বাড়িয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন অন ইমার্জিং বায়োটেকনোলজি (এনএসসিইবি) প্রতিষ্ঠা, যা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উদীয়মান বায়োটেকনোলজির উপর মনোযোগ অব্যাহত রেখেছে।



২০২৩ সাল পর্যন্ত, জেনেরিক ওষুধের অবদানের পরিমাণের দিক থেকে ভারত তৃতীয় এবং বৈশ্বিক অবদানের মূল্যের দিক থেকে ১৪তম স্থানে ছিল, যা এটিকে একটি বিশ্বনেতায় পরিণত করেছে। ভারতের জন্য ট্রাস্ট ইনিশিয়েটিভ একটি বৈশ্বিক ফার্মাসি হিসেবে তার সক্ষমতার বাইরে প্রসারিত হওয়া এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে এটি বায়োটেক উদ্ভাবনে একটি নেতা হয়ে উঠতে পারে। ভারত প্রতিভার এক ক্রমবর্ধমান উৎস এবং একটি ধারাবাহিকভাবে সাশ্রয়ী বাজার। একত্রে, এই শক্তিগুলি ওষুধ তৈরির সময় এবং খরচকে যথেষ্ট পরিমাণে কমাতে পারে, যা গ্লোবাল সাউথের সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলিতে জীবন রক্ষাকারী উদ্ভাবন নিয়ে আসবে।

ভারতের বায়োই৩ নীতির সঙ্গে সঙ্গতি: দেশীয় উদ্ভাবন, বৈশ্বিক একীকরণ

২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত ভারতের বায়োই৩ নীতি (অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সমতার জন্য বায়োটেক) উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বায়োটেকনোলজিকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পরিবর্তন তুলে ধরে। এই নীতিটি তিনটি মূল ক্ষেত্রের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে: উদ্যোক্তা বৃদ্ধি; স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবনে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; এবং স্টার্ট-আপদের উৎসাহিত করা, জটিল আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সহজ করা এবং অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে গবেষণা, নীতি ও শিল্পের মধ্যেকার ব্যবধান পূরণ করা।

এখানে, ট্রাস্ট ইনিশিয়েটিভ তিনটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য একটি কাঠামোগত সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে:

১। জিনোমিক্স, ডায়াগনস্টিকস, সিন্থেটিক বায়োলজি এবং ব্যক্তিগতকৃত ওষুধের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী প্রযুক্তি বিকাশকারী প্রাথমিক পর্যায়ের সংস্থাগুলির জন্য বায়োটেক ইনকিউবেটর;
২। সীমান্ত-পার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উদ্ভাবনের দ্রুততর বৈধতা নিশ্চিত করে, বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায়;
৩। অগ্রাধিকারমূলক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং অতিমারি মোকাবিলার প্রস্তুতির বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ এবং সহ-উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম।

সামগ্রিকভাবে, এই অনন্য সংযোগটি বিশ্বব্যাপী বায়োটেক উদ্ভাবনের পরবর্তী ধারাকে চালিত করার সম্ভাবনা রাখে, যেখানে ভারত শুধু একজন অংশগ্রহণকারী হিসেবেই নয়, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য, বায়োটেকনোলজি উদ্ভাবন এবং বায়োম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ফলাফল নির্ধারণে একজন সহযোগী নেতা হিসেবেও ভূমিকা রাখবে।

এআই এবং বায়োটেক: উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ সংযোগস্থল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বায়োটেকনোলজির সংযোগ দ্রুত চিকিৎসা, জীবন বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সীমানা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। পরিমাপযোগ্য, আন্তঃকার্যক্ষম এবং সুরক্ষিত ডিজিটাল-বায়োটেক স্থাপত্য তৈরির মাধ্যমে ট্রাস্ট ভারতকে বায়োটেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সেতুবন্ধনকারী বৈশ্বিক প্রচেষ্টার একটি মূল কেন্দ্রে পরিণত হতে সক্ষম করে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সুপরিচিত এআই-বায়োটেক উদ্ভাবন বাস্তুতন্ত্র সহ-সৃষ্টির জন্য সহযোগিতা করতে পারে। এই বাস্তুতন্ত্রে আন্তঃসীমান্ত বায়োমেডিকেল গবেষণার জন্য একটি ফেডারেল লার্নিং স্থাপত্য থাকা উচিত, যাতে ডেটা গোপনীয়তা এবং সুরক্ষায় কোনও আপস না করা নিশ্চিত হয়। এতে আন্তঃকার্যক্ষম বায়োইনফরমেটিক্স প্ল্যাটফর্মও অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত যা জিনোমিক্স, ক্লিনিক্যাল তথ্য এবং ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়াকে সংয়ুক্ত করে। এছাড়াও, এতে (নৈতিক) এআই-ভিত্তিক বায়োম্যানুফ্যাকচারিং অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা ভ্যাকসিন, বায়োলজিকস এবং সেল থেরাপির নির্ভুল উৎপাদন সম্ভব করে তুলবে।


পরিমাপযোগ্য, আন্তঃকার্যক্ষম এবং সুরক্ষিত ডিজিটাল-বায়োটেক স্থাপত্য তৈরির মাধ্যমে ট্রাস্ট ভারতকে বায়োটেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সেতুবন্ধনকারী বৈশ্বিক প্রচেষ্টার একটি মূল কেন্দ্রে পরিণত হতে সক্ষম করে।



এই ধরনের একটি ডিজিটাল-বায়োটেক সংযুক্ত বাস্তুতন্ত্র শুধু উদ্ভাবনের গতিই বাড়াবে না। বায়োটেকনোলজি ক্রমবর্ধমানভাবে ডেটা-নির্ভর হয়ে ওঠায় জৈব-নৈতিকতার প্রশ্ন, ডেটা সার্বভৌমত্বের বিষয়, দ্বৈত-ব্যবহারের হুমকি এবং অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতিত্ব এখন কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাস্ট উদ্যোগটি এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় একটি সম্মিলিত নেতৃত্ব কাঠামো তৈরিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে, যা নিশ্চিত করবে যে এআই-বায়োটেক উদ্ভাবনগুলি মানব-কেন্দ্রিক এবং সর্বজনীনভাবে সহজলভ্য থাকে। এটি খণ্ডিত এবং প্রযুক্তি-জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিকল্পও প্রদান করবে, গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি পরিমাপযোগ্য টেমপ্লেট সরবরাহ করবে, এবং দেখাবে যে পরিমাপযোগ্য, আন্তঃকার্যক্ষম এবং সুরক্ষিত ডিজিটাল-বায়োটেক স্থাপত্য তৈরির মাধ্যমে ট্রাস্ট ভারতকে বায়োটেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সেতুবন্ধনকারী বৈশ্বিক প্রচেষ্টার একটি মূল কেন্দ্রে পরিণত হতে সক্ষম করে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক উদ্যোগকে একত্রিত করার প্রয়োজন রয়েছে। কূটনৈতিক মতপার্থক্য দূর করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ছাড়া, অবিশ্বাস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে অবশ্যই বাধ্যতামূলক নিয়ম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করতে হবে যা উদ্ভাবন ও জবাবদিহিতাকে সহজতর করে। বর্তমানে, ভারত উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে যা বায়োটেকনোলজি এবং উদ্ভাবনে তার সম্ভাব্য বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে।

❅ নিয়ন্ত্রক সংযুক্তিকে অবশ্যই কথায় নয়, কাজে পরিণত করতে হবে

আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে এবং অপরিহার্য স্বাস্থ্য প্রযুক্তির বাজারে আসার সময় কমানোর জন্য বিভিন্ন এক্তিয়ারের মধ্যে মানগুলির সমন্বয় সাধন — বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন, বায়োসেফটি মান, এবং মেধা সম্পত্তি (আইপি) ব্যবস্থার মতো পদ্ধতিগুলির ক্ষেত্রে — অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে নৈতিক পর্যালোচনা পদ্ধতি বাস্তবায়ন, সীমান্ত পেরিয়ে ট্রায়ালের ডেটা স্বীকৃতি, এবং মেধা সম্পত্তি আইন আপডেট করা, যাতে উন্মুক্ত বিজ্ঞান মডেল, সরকারি-বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত আবিষ্কারগুলিকে আরও কার্যকরভাবে চালিত করা যায়। নিয়ন্ত্রণের এই কাঠামো ছাড়া বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা অসম্পূর্ণ থাকতে পারে এবং আইনি অস্পষ্টতার সম্মুখীন হতে পারে।

❅ বাণিজ্যিক প্রণোদনা এবং শুল্কের স্তরগুলির পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক বায়োটেক মূল্য শৃঙ্খল বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে, উন্মুক্ততা এবং স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের কেন্দ্রে থাকবে বাণিজ্য নীতি। কর ছাড়, বাজারে বিশেষ সুবিধা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ভর্তুকিগুলি শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্যই নয়, বরং জাতীয় সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা বাড়ানোর জন্যও তৈরি করা উচিত। অসম নির্ভরতা ছাড়াই অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করা উচিত। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকে প্রাপ্ত জৈবিক উপাদান বা ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা বাণিজ্য চুক্তিতে পারস্পরিক সুবিধার ধারা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মোকাবিলা করা যেতে পারে।

❅ তথ্য-আদান-প্রদানের মান এবং জৈব-নৈতিকতার নিয়মগুলি চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সম্মিলিতভাবে তৈরি করা প্রয়োজন

সিন্থেটিক বায়োলজি, জিনোমিক্স এবং জিন এডিটিংয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে স্বচ্ছতা, বিশ্বাস এবং অনুবর্তিতা একটি অপরিহার্য বিষয়। ডেটা সিস্টেমের আন্তঃকার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং ভাগাভাগি অবশ্যই একটি সম্মিলিত নৈতিক ভিত্তি দ্বারা পরিপূরণ করতে হবে, যা বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এবং জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের বৈচিত্র্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। এর মধ্যে দ্বৈত-ব্যবহারের সমস্যা সমাধান করা, ডেটাতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, এবং বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের ন্যায়সঙ্গত স্বীকৃতি প্রদান করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, বিশেষ করে দেশীয় জ্ঞান বা পাবলিক ডেটাসেট থেকে উদ্ভূত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে।


ডেটা সিস্টেমের আন্তঃকার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং ভাগাভাগি অবশ্যই একটি সম্মিলিত নৈতিক ভিত্তি দ্বারা পরিপূরণ করতে হবে, যা বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এবং জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের বৈচিত্র্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।



এই নীতিস্তম্ভগুলি সম্মিলিতভাবে ট্রাস্ট ইনিশিয়েটিভের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করে। এতে বায়োটেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেটওয়ার্ক অনুপস্থিত, যা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে পারত। তবে, যদি এগুলিকে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে ভারত এবং তার আন্তর্জাতিক অংশীদাররা জৈব-উদ্ভাবনের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারবে, যা নিশ্চিত করবে যে এটি নিয়ন্ত্রিত, উন্মুক্ত, নৈতিক, এবং সুযোগ ও ঝুঁকি উভয়ের ক্ষেত্রেই শক্তিশালী।

ট্রাস্টের অধীনে মার্কিন-ভারত বায়োটেক সহযোগিতা কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক খেলার চেয়েও বেশি কিছু; এটি একটি ভূ-কৌশলগত পদক্ষেপ, যার বৈশ্বিক বায়োটেক মূল্য শৃঙ্খল রূপান্তরিত করা, উদ্ভাবনে সকলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, এবং স্থিতিস্থাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নৈতিক জৈব-শিল্প উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ভারত তার বায়োই৩ নীতি, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং এআই ব্যবহারের মাধ্যমে এই ভরবেগকে কাজে লাগাতে পারে, তবে ভারত বায়োটেক বিপ্লবের এক খেলোয়াড় এবং এর বৈশ্বিক ভবিষ্যতের সহ-নকশাকার উভয় হিসেবেই আবির্ভূত হতে পারবে।


শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.