এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় মিন্ট-এ।
সমস্যার সমাধানের জন্য এক পক্ষের মহাশক্তির মর্যাদাকে অন্য পক্ষের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের সামরিক ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং কিয়েভকে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের উপর হামলা চালায়। রুশ কৌশলগত পরিকল্পনাকারীরা আশা করেছিলেন যে, এক পক্ষকাল সময়ের মধ্যেই ইউক্রেনের পতন ঘটবে। চার বছর পরেও মস্কো এখনও দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জনের মূল যুদ্ধকালীন লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এই সংঘাত ইতিমধ্যেই নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত সামরিক অভিযানের দৈর্ঘ্যকে ছাড়িয়ে গেছে, যা এটিকে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউরোপে রাশিয়ার দীর্ঘতম যুদ্ধ করে তুলেছে।
রুশ বাহিনী একাধিক অক্ষ জুড়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করা সত্ত্বেও তারা নিরঙ্কুশ সাফল্য অর্জনের জন্য লড়াই করছে। কারণ ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ তাদের অগ্রগতি ধীর করে দিয়েছে এবং উভয় পক্ষেরই উচ্চ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা গতি পেয়েছে। রুশ, ইউক্রেনীয় এবং মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা বিভিন্ন স্তর ও ফরম্যাটে বৈঠক করেছেন। আবুধাবিতে সাম্প্রতিক ত্রিপাক্ষিক আলোচনা আরও বাস্তববাদী পদ্ধতির ইঙ্গিত দিয়েছে, যা রাশিয়া ও ইউক্রেনের উচ্চ-পদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রতিফলিত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবুও আলোচনার অবস্থানের গভীর ভিন্নতা দর্শায় যে, এই বিষয়গুলির সমাধান না করলে যে কোনও শান্তিই ভেঙে পড়বে।
আবুধাবিতে সাম্প্রতিক ত্রিপাক্ষিক আলোচনা আরও বাস্তববাদী পদ্ধতির ইঙ্গিত দিয়েছে, যা রাশিয়া ও ইউক্রেনের উচ্চ-পদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রতিফলিত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থা
রাশিয়ার সামরিক কৌশল ইউক্রেনের তীব্র জনবল ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য বিভিন্ন ফ্রন্টে একদল সৈন্য মোতায়েন করার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ, রাশিয়ান বাহিনী গত বছর কুরস্ক অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে এবং উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের সুমিতে একটি নতুন ফ্রন্ট খোলে। পোকরোভস্ক, মিরনোগ্রাদ, সিভেরস্ক এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াপোল দখলের মাধ্যমে দোনেৎস্ক-এ রাশিয়া নতুন সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এই সাফল্যগুলি মূলত উদ্দেশ্যগত নয়, বরং কৌশলগত থেকেছে। কারণ রাশিয়া ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অভ্যন্তরীণ ভাবে মস্কো যুদ্ধের অর্থায়নের উচ্চ ব্যয়, উচ্চ সুদের হার, নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর উপর স্থিতিশীল ইউক্রেনীয় হামলার কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, যার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জো বাইডেনের মার্কিন রাষ্ট্রপতিত্বের তুলনায় তীব্র জনবল ঘাটতি, যুদ্ধের ক্লান্তি ও প্রকাশ্য মার্কিন সমর্থন হ্রাস সত্ত্বেও কিয়েভ ইউরোপীয় অংশীদারদের সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির কারণে রাশিয়ার অগ্রগতি সীমিত করেছে। রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোর উপর তারা হামলা জোরদার করেছে এবং সীমিত অস্ত্র যুদ্ধে তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করেছে, বিশেষ করে এআই-সক্ষম ড্রোন এবং নির্ভুল-নির্দেশিত সরঞ্জামের মাধ্যমে এমনটা করেছে। এ ছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে পরিবর্তন - যার মধ্যে রয়েছে একজন জনপ্রিয় যুদ্ধকালীন ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বাজপাখিসম লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিরিলো বুদানভকে জেলেনস্কির চিফ অফ স্টাফ হিসেবে নিয়োগ - ইউক্রেনের আলোচনার অবস্থানের প্রতি আস্থা পুনর্নবীকরণ করেছে। বুদানভ তাঁর পশ্চিমি প্রতিপক্ষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একত্রে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি সত্ত্বেও ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করা থেকে অনেক দূরে।
নড়বড়ে পরিসরে শান্তি আলোচনা
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইস্তানবুলে ২০২২ সালের প্রথম দিকের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। আলোচনা দ্বিপাক্ষিক মার্কিন-রাশিয়া ফরম্যাটে শুরু হয়েছিল, পরে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের শেষের দিকে একাধিক দফার আলোচনার পর একটি ২৮-দফা কাঠামো রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন দ্বারা ২০ দফায় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল (ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী ধারাগুলি সংশোধন করা হয়েছিল)। কিন্তু মস্কো পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। মূল মতবিরোধের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধরত দেশগুলির ভূখণ্ড, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধবিরতির শর্তাবলির ক্ষেত্রে অমীমাংসিত অবস্থান।
কিয়েভ তার সার্বভৌম ভূখণ্ডের সালামি-স্লাইসিঙের (অর্থাৎ খুব সুচারু ভাবে ধীর পদ্ধতিতে একটু একটু করে জমি কেড়ে নেওয়া) যেকোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং ১৯৯১ সালের সীমান্ত পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া দৃঢ়ভাবে বলেছে যে যুদ্ধবিরতি ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া থেকে প্রত্যাহারের উপর নির্ভরশীল; তারা ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও চায়। ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়ে, তারা পশ্চিমাদের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে এবং যুক্তি দেয় যে রাশিয়ার প্রত্যাহার কিয়েভকে পুনরায় সংগঠিত হতে এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে সক্ষম করবে না। এই বিষয়গুলির সমাধান না করা যে কোনও শান্তি চুক্তি ভঙ্গুর এবং নতুন করে উত্তেজনার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়ে, তারা পশ্চিমাদের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে এবং যুক্তি দেয় যে রাশিয়ার প্রত্যাহার কিয়েভকে পুনরায় সংগঠিত হতে এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে সক্ষম করবে না।
সামনের পথ
ক্রমশ এ বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে, রাশিয়ার উপর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার রীতিগত সম্প্রসারণ বা ইউক্রেনের উপর একটি অপ্রত্যাশিত মীমাংসা গ্রহণের জন্য বলপূর্বক চাপ… কোনওটাই স্থিতিশীল শান্তি বয়ে আনবে না। শাস্তিমূলক সর্বাধিকতা ও জোরপূর্বক আপসের সীমা এখন স্পষ্ট। যদিও সর্বশেষ আলোচনার কোনও অগ্রগতি হয়নি, তবুও এটি কূটনৈতিক চ্যানেলকে অচল করে রেখেছে। পরবর্তী সূক্ষ্ম, প্রযুক্তিগত আলোচনা আরও ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আলোচনাগুলি এমন ক্ষেত্রগুলিতে মনোনিবেশ করতে পারে যেখানে ঐক্য - তা সে যতই বিনয়ী হোক না কেন – কিছুটা হলেও সম্ভব: যুদ্ধবন্দিদের বিনিময়, জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার উপর পারস্পরিক সংযম, ঘনবসতিপূর্ণ নগর কেন্দ্রগুলিতে হামলা বন্ধ করা এবং অঞ্চল, সুরক্ষা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতার কাঁটাবিদ্ধ প্রশ্নগুলি সমাধানের জন্য কাঠামোগত পথ নির্মাণ। এই ধরনের ক্রমবর্ধমানতায় নাটকীয়তার অভাব থাকতে পারে, তবে প্রায়শই তা কৌশলগত স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত।
এর মূলে রয়েছে রাজনৈতিক এবং সামরিক দ্বিধা। কিয়েভের সার্বভৌম সংস্থাকে এড়িয়ে না গিয়ে মস্কোকে মুখ রক্ষাকারী প্রস্থান প্রদান করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করাই হবে কেন্দ্রীয় ভারসাম্যমূলক কাজ। এই প্রতিযোগিতামূলক বাধ্যবাধকতাগুলির - বৃহৎ ক্ষমতার মর্যাদা এবং জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ - সমন্বয় সাধনই নির্ধারণ করবে যে কূটনীতি সংঘাত পরিচালনা থেকে সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে পারে কি না।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় মিন্ট-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...
Read More +
Rajoli Siddharth Jayaprakash is a Junior Fellow with the ORF Strategic Studies programme, focusing on Russia’s foreign policy and economy, and India-Russia relations. Siddharth is a ...
Read More +