কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার পরিচয় চুরি করাকে সক্ষম করেছে। এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জের জন্য শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত সমাধানের প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে যে চ্যাটজিপিটি-র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলি জাল আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করতে পারে, যা এআই-এর দ্বৈত-ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ ব্যাপক অপব্যবহার রোধে বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি তুলে ধরে জনসাধারণের ভয় দূর করার চেষ্টা করেছেন, ঘটনাটি আরও গভীর পদ্ধতিগত সমস্যা তুলে ধরে। এআই প্রযুক্তিগুলি আরও পরিশীলিত ও প্রাপ্তিযোগ্য হয়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্বারা অপব্যবহারের সম্ভাবনা একটি প্রকৃত ও স্থায়ী হুমকি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পটভূমিতে, দ্বৈত-ব্যবহার প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রভাবগুলি সমালোচনামূলকভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদীয়মান হুমকি
এআই অসংখ্য শিল্পকে রূপান্তরিত করেছে, এবং অতুলনীয় সুবিধা এবং উদ্ভাবন প্রদান করেছে। যাইহোক, এর সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি, এআই জটিল নৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলি উপস্থাপন করেছে যা সমাজ সবে বুঝতে শুরু করেছে। চ্যাটজিপিটি-র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলির জাল আধার এবং প্যান কার্ড তৈরির ক্ষমতা সম্পর্কে সাম্প্রতিক প্রকাশগুলি একটি উদ্বেগজনক দ্বৈত-ব্যবহারের ঘটনাকে তুলে ধরে। এই সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রযুক্তির প্রকৃতি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশাকে গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও এআই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করে, একই প্রযুক্তি প্রতারণামূলক কার্যকলাপ, সাইবার আক্রমণ এবং ভুল তথ্য প্রচারণা চালানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এআই মডেলগুলির বিশ্বাসযোগ্য জাল পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষমতা একটি বিপজ্জনক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় যেখানে অপরাধমূলক উদ্যোগ, সন্ত্রাসী সংগঠন এবং দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রগুলি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করার জন্য এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে।
চ্যাটজিপিটি-র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলির জাল আধার এবং প্যান কার্ড তৈরির ক্ষমতা সম্পর্কে সাম্প্রতিক প্রকাশগুলি একটি উদ্বেগজনক দ্বৈত-ব্যবহারের ঘটনাকে তুলে ধরে।
ভারতের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাগুলি এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। কোউইন ডেটা লঙ্ঘন গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ডেটাবেসের দুর্বলতাগুলি উন্মোচিত করেছে, অন্যদিকে এআই-চালিত ডিপফেক কেলেঙ্কারিগুলি আর্থিক জালিয়াতির জন্য সিনিয়র একজিকিউটিভদের অনুকরণ করে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ঘিরে ফেলেছে। ম্যাকআফি রিপোর্ট অনুসারে, ৮৩ শতাংশ ভারতীয় জাল ভয়েস কলের কারণে অর্থ হারিয়েছেন। নির্বাচনী মরসুমে, এআই-সক্ষম বট নেটওয়ার্ক ও ডিপফেক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্লাবিত করে, জনমত পরিবর্তন করে, এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বিপদের মুখে ফেলে। তাছাড়া, চিনা-উৎসের এআই অ্যাপগুলিকে নিষিদ্ধ করার ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে কীভাবে এআই-চালিত ডেটা মাইনিং কার্যক্রম সরাসরি সার্বভৌমত্ব ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলে। লুণ্ঠনকারী ঋণ অ্যাপগুলি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারীর ডেটা বার করতে এবং জোর করে পুনরুদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে এআই বিশ্লেষণকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যামাররা জিপে, ফোনপে এবং পেটিএম-এর মতো ইউপিআই অ্যাপ প্ল্যাটফর্মের ক্লোন তৈরি করার সুযোগ পেয়েছে। ইতিমধ্যে, জাল অফিসিয়াল নথি তৈরির জন্য চ্যাটজিপিটি-র মতো এলএলএম-এর অপব্যবহার সাইবার অপরাধীদের দ্বারা পরিচয় চুরিকে আরও সুবিধাজনক করে তুলেছে। এই ঘটনাগুলি এমন একটি ক্রমবর্ধমান প্যাটার্ন প্রকাশ করে যেখানে রাষ্ট্রীয় এবং অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি উভয় পক্ষই এআই-এর দ্বৈত-ব্যবহারের ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, হয় ক্ষমতা একত্রীকরণের জন্য অথবা অপরাধমূলক শোষণের জন্য, যা পদ্ধতিগত দুর্বলতা প্রকাশ করে।
সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি
এই নিরাপত্তা ঝুঁকির আরেকটি মাত্রা হল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকারী বিদেশী নাগরিকদের দ্বারা জাল নথির শোষণ। উদাহরণস্বরূপ, একাধিক প্রতিবেদনে এমন ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশী শরণার্থী ও রোহিঙ্গা অভিবাসীরা অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের জন্য জাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিল। একইভাবে, এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেখানে পাকিস্তানি নাগরিকেরা আধাসামরিক বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে গোপন অভিযানের সময় তাদের পরিচয় গোপন করার জন্য জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিল।
এআই-জেনারেটেড আধার বা প্যান কার্ডের উত্থান এই দুর্বলতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পঞ্জাব, এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলি, যা ইতিমধ্যেই অভিবাসনের চাপে জর্জরিত, অনুপ্রবেশের নাটকীয় বৃদ্ধি দেখতে পারে। ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়াগুলি এই ধরনের ডিজিটালভাবে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে লড়াই করবে, যা এআই-চালিত বিশ্বে জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষিত করার জটিলতা বাড়িয়ে তুলবে।
অত্যাধুনিক জালিয়াতিগুলি যদি ঐতিহ্যবাহী সনাক্তকরণ পদ্ধতিগুলি এড়িয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা চৌকিগুলিতে প্রাথমিকভাবে নথির সত্যতার উপর নির্ভরশীল যাচাইকরণ প্রক্রিয়াগুলি অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে।
সম্ভবত আরও উদ্বেগজনক হল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি। সন্ত্রাসবাদী উপাদানগুলি যদি জাল নথির প্রাপ্যতা পায়, তবে এর প্রতিক্রিয়া বিপর্যয়কর হতে পারে। সেক্ষেত্রে পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক স্থাপনা বা সরকারি ভবনের মতো সংবেদনশীল স্থানে প্রবেশ সম্ভবপর হয়ে ওঠে। অত্যাধুনিক জালিয়াতিগুলি যদি ঐতিহ্যবাহী সনাক্তকরণ পদ্ধতিগুলি এড়িয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা চৌকিগুলিতে প্রাথমিকভাবে নথির সত্যতার উপর নির্ভরশীল যাচাইকরণ প্রক্রিয়াগুলি অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে। অনুপ্রবেশকারীরা আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করতে পারে, অথবা অনুমানকৃত পরিচয়ের অধীনে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, জাতীয় প্রতিরক্ষা ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতার দ্বারা সক্ষম সূক্ষ্ম, অদৃশ্য অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়ে।
যদিও মূলধারার এআই প্ল্যাটফর্মগুলিতে অবৈধ বা ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু রোধ করার জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, সাইবার অপরাধীরা প্রতিকূল প্ররোচনার মাধ্যমে বা কম নৈতিক বিধিনিষেধ-সহ কাস্টমাইজড এআই মডেল স্থাপন করে নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী সাইবার অপরাধের বিপরীতে, যার জন্য প্রায়শই বিশেষজ্ঞ দক্ষতার প্রয়োজন হত, এআই-চালিত অপরাধগুলি এখন অপেশাদার খেলোয়াড়দের দ্বারাও কার্যকর করা যেতে পারে, যা হুমকির পরিমাণ এবং পুনঃপৌনিকতা তীব্র করে তোলে। সক্রিয় শাসন কাঠামো, নৈতিক তদারকি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বৈত-ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করা, জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করা, এবং আধুনিক সমাজের ভিত্তি কাঠামোকে বিপদের মুখে ফেলার ঝুঁকি রাখে।
বিশ্বাসের পতন: সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিচয় যাচাইকরণ
এআই-এর দ্বৈত-ব্যবহারের সম্ভাবনা থেকে উদ্ভূত একটি তাৎক্ষণিক উদ্বেগ হল সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ক্ষয়। এআই-উৎপাদিত জাল নথির সংখ্যাবৃদ্ধি এই সিস্টেমগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে। ডিপফেক প্রযুক্তির উত্থান বিশ্বাসের ভিত্তির জন্য একটি অনন্য বিপদ উপস্থাপন করে, যা আর্থিক ক্ষেত্রের মধ্যে পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে। কণ্ঠস্বর প্রমাণীকরণ, বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এবং ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী উপকরণগুলি ধীরে ধীরে মক মিডিয়ার সামনে উন্মুক্ত হয় এবং ব্যক্তিদের হুবহু অনুকরণ করতে পারে।
লেনদেন, সম্মতি এবং গ্রাহক সম্পৃক্ততার জন্য পরিচয়ের সত্যতার উপর নির্ভরশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি আস্থার ক্ষয়ের মুখোমুখি হয়, যা তাদের মূল কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ডিপফেক অপব্যবহারকারী আক্রমণকারীরা সুরক্ষা প্রোটোকল লঙ্ঘন করতে পারে, জালিয়াতি স্থানান্তর শুরু করতে পারে, আর্থিক বাজারকে কাজে লাগাতে পারে, এবং পেশাদারদের প্রতারণা করতে পারে। এআই ও সাইবার অপরাধের সম্মিলিত প্রভাব বিকেন্দ্রীভূত, বেনামি এবং অত্যন্ত দক্ষ সন্ত্রাসী তহবিল নেটওয়ার্কের একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে, যা ভাঙার জন্য ঐতিহ্যবাহী সন্ত্রাসবাদ দমন পদ্ধতিগুলিকে প্রচুর লড়াই করতে হবে।
তদুপরি, যখন ব্যক্তিগত তথ্য জাল পরিচয়পত্রের সঙ্গে সমন্বিত করা হয়, তখন এটি ডার্ক ওয়েবের অবৈধ বাজারে একটি অত্যন্ত মূল্যবান পণ্য হয়ে ওঠে। এআই চুরি করা পরিচয় সংগ্রহ, প্যাকেজিং এবং বিক্রিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পরিচয় চুরি, যা ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, তা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, এবং লক্ষ লক্ষ লোককে এমন অপরাধের শিকার হতে হবে যা তারা করেনি।
এআই ও সাইবার অপরাধের সম্মিলিত প্রভাব বিকেন্দ্রীভূত, বেনামি এবং অত্যন্ত দক্ষ সন্ত্রাসী তহবিল নেটওয়ার্কের একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে, যা ভাঙার জন্য ঐতিহ্যবাহী সন্ত্রাসবাদ দমন পদ্ধতিগুলিকে প্রচুর লড়াই করতে হবে।
এই ধরনের পরিবেশে ডিজিটাল পরিচয়ের উপর আস্থা হ্রাস পাচ্ছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বৃহত্তর জনসাধারণের আস্থা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে ডিপফেকগুলি বৈধ ও প্রতারণামূলক মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে রেখাটি অস্পষ্ট করে তোলে, যার ফলে কনফর্মিস্ট আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন পদ্ধতিগুলি অপ্রতুল হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে মানবিক সতর্কতার সমন্বয়কারী একটি সর্ব-অন্তর্ভুক্ত নিরাপত্তা কাঠামো ব্যতিরেকে আর্থিক ক্ষেত্র একটি পদ্ধতিগত পতনের ঝুঁকিতে পড়ে, যা অবশেষে পরিচয় যাচাইকরণের উপর নির্ভরশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর আস্থাকে বিপন্ন করে।
একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া: নিয়ন্ত্রণ, উদ্ভাবন এবং জনসচেতনতার দিকে
এই ধরনের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক এবং সমন্বিত সমাধানের প্রয়োজন। প্রথম পদক্ষেপ হল উন্নত এআই শাসন কাঠামোর বিকাশ। নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই এআই সিস্টেমের স্থাপনা, প্রাপ্যতা এবং ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলিকে বাধ্যতামূলক করার জন্য স্বেচ্ছানির্ভর আচরণবিধির বাইরে যেতে হবে। এআই বিকাশকারীদের ক্ষতিকারক সামগ্রীর উৎপাদন সনাক্ত করা এবং সেগুলি বন্ধ করার জন্য গতিশীল পর্যবেক্ষণ এবং রিয়েল-টাইম অডিটিং-সহ ব্যর্থ হবে না এমন নিরাপদ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সরকারগুলিকে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনুবর্তিতা কার্যকর করা, অপব্যবহার তদন্ত করা এবং নিয়মকানুন অভিযোজিত করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিশেষায়িত এআই ওয়াচডগ সংস্থাগুলিতেও বিনিয়োগ করতে হবে।
একই সঙ্গে, নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলিকে আরও পরিশীলিত করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী নথি যাচাইকরণ ব্যবস্থাগুলি শুধু ভিজ্যুয়াল পরিদর্শনের উপর নির্ভর করে, এবং এআই-উৎপাদিত জালগুলির বিরুদ্ধে অপ্রতুল। বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ, ব্লকচেন-সমর্থিত পরিচয় ব্যবস্থাপনা, এবং এনক্রিপ্ট করা যাচাইকরণ টোকেনগুলি এমন সব আশাব্যঞ্জক বিকল্প নিয়ে আসছে যা ব্যাপকভাবে কার্যকর করা উচিত। সুরক্ষা সংস্থাগুলিকে অবশ্যই এআই-চালিত ফরেনসিক সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করতে হবে, যা সিন্থেটিক পরিবর্তন ও মেটাডেটা অসঙ্গতি সনাক্ত করতে এবং ওয়াটারমার্কিং অসঙ্গতিগুলি নথিভুক্ত করতে সক্ষম।
বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ, ব্লকচেন-সমর্থিত পরিচয় ব্যবস্থাপনা, এবং এনক্রিপ্ট করা যাচাইকরণ টোকেনগুলি এমন সব আশাব্যঞ্জক বিকল্প নিয়ে আসছে যা ব্যাপকভাবে কার্যকর করা উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান জনশিক্ষা ও সচেতনতার মধ্যে নিহিত। নাগরিকদের ডিজিটাল দুর্বলতার বাস্তবতা সম্পর্কে সংবেদনশীল হতে হবে। পরিশেষে, এআই যুগে দ্বৈত-ব্যবহার প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অগ্রগতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং অগ্রগতি যাতে অপ্রত্যাশিত সংকটের পূর্বাভাস না হয়ে ভালর পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করার সংগ্রাম।
উপসংহার
চ্যাটজিপিটি-র জাল আধার ও প্যান কার্ড তৈরির ক্ষমতা সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য কোনও একক ঘটনা নয়; এগুলি একটি বিস্তৃততর উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ অব্যাহত থাকার সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহারের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আর্থিক সংহতি এবং সামাজিক আস্থা পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি দিককে স্পর্শ করবে। এই ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য একটি সর্বাত্মক পদ্ধতির প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন, উন্নত এআই-চালিত যাচাইকরণ প্রযুক্তি, ক্ষমতায়িত তদারকি সংস্থা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা হল ব্যাপক প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। এখন কর্তৃত্বপূর্ণভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হলে অপরাধীদের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার ঝুঁকি থাকবে, যারা ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক লাভের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অপব্যবহার করবে। নৈতিকভাবে এবং কার্যকরভাবে এআই পরিচালনার তাগিদ আগে কখনও এখনকার চেয়ে বেশি ছিল না, কারণ প্রযুক্তির সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সমাজকে রক্ষা করি।
সৌম্য অবস্থি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Soumya Awasthi is Fellow, Centre for Security, Strategy and Technology at the Observer Research Foundation. Her work focuses on the intersection of technology and national ...
Read More +