Published on Aug 27, 2025 Updated 0 Hours ago

শেখ হাসিনার পতন বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্থানের দ্বার উন্মোচন করেছে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পশ্চাদপসরণের মাঝেই যুব-নেতৃত্বাধীন শক্তিগুলি উত্থিত হচ্ছে।

এনসিপির উত্থান এবং বাংলাদেশের বিশৃঙ্খল রাজনীতিতে আটকে পড়া

বাংলাদেশ উপদেষ্টা পরিষদ সম্প্রতি ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের জন্য একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এই সংশোধনীর আওতায় প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দল এবং দলের নেতাদের বিচার শেষ না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম ছাত্র-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-সহ (এনসিপি) আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের তিন দিনের বিক্ষোভের ফলে এই সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়েছিল। এনসিপির উত্থান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে দল ও সংগঠনের ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তিদের আগমনকেই প্রকাশ্যে তুলে ধরে। তবে ধর্মনিরপেক্ষ ও যুক্তিবাদী রাজনীতির জন্য ক্রমশ সঙ্কুচিপরিসর এই নতুন সত্তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে

এনসিপির উত্থান

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদল (এসএডি) এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক, যাঁরা আওয়ামী লীগের (এএল) সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি অরাজনৈতিক, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহ থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠায় রূপান্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি রূপান্তরমূলক মুহূর্ত। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ফলে তৈরি ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করতে এই দলটি বিক্ষোভের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আদর্শগত ভাবে দলটি মধ্যপন্থী হিসেবে অবস্থান করে। দলটি একটি নতুন গণপরিষদ গঠন এবং একটি পুনর্লিখিত সংবিধানের দাবি করেছে, যা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জনক শেখ মুজিবুর রহমানের মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকারকে উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবর্তন/সংশোধন করবে।

আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনসিপি একটি ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ গঠনের দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করেছে। এর লক্ষ্য বাংলাদেশি রাজনীতিকে পুনর্নির্ধারণ করা, কয়েক দশকের পদ্ধতিগত ব্যর্থতার সংশোধন করা এবং দেশকে ‘গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন রাজনৈতিক জাতি’ হিসেবে উপস্থাপন করা।

আদর্শগত ভাবে দলটি মধ্যপন্থী হিসেবে অবস্থান করে। দলটি একটি নতুন গণপরিষদ গঠন এবং একটি পুনর্লিখিত সংবিধানের দাবি করেছে, যা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জনক শেখ মুজিবুর রহমানের মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকারকে উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবর্তন/সংশোধন করবে। তবে এনসিপি এখনও স্পষ্ট করেনি যে, তারা উত্তরাধিকারের কোন নির্দিষ্ট দিকগুলিকে চ্যালেঞ্জ পুনর্গঠন করতে চায়। দলটি শেখ হাসিনার অধীনে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকে একটি কর্তৃত্ববাদী একনায়কতন্ত্র হিসেবেও বর্ণনা করেছে। দলবিরোধী বক্তব্য আদর্শের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা এনসিপিকে দক্ষিণপন্থী দল এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির আরও কাছে নিয়ে এসেছে।

ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ঝুঁকির সম্মুখে অরক্ষিত

প্রবর্তনের সময় বাংলাদেশের মূল সংবিধান দেশটিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। পরে এটি পরিবর্তন করা হয় ২(ক) অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে, যা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে মনোনীত করে। ধর্মনিরপেক্ষতা পরবর্তীতে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হলেও এখন এটি ইসলামের আনুষ্ঠানিক মর্যাদার পাশাপাশি বিদ্যমান। এই পরিস্থিতি একটি জটিল বিতর্কিত আদর্শগত পরিসর তৈরি করেছে

আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমর্থন করলেও, হাসিনার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা উগ্রপন্থী দলগুলিকে তাদের প্রভাবের ক্ষেত্র প্রসারিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। ঢাকায় কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির বেশ কয়েকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাদের উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে।

আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি) মতো মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি চিরাচরিত ভাবে কট্টরপন্থী সত্তাগুলির সঙ্গে মেলামেশা করেছে। হাসিনা সরকারেরও জামাত-এ-ইসলামী (জেইআই) বা হেফাজত-এ-ইসলামের (এইচআইআই) মতো সংগঠনগুলির সঙ্গে অস্বস্তিকর, বিতর্কিত সম্পর্ক ছিল। এটি দলগুলিকে আরও ধর্মীয় স্বীকৃতি এবং রক্ষণশীল অংশ গ্রামীণ এলাকা থেকে সমর্থনের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এইচআইআই-এর নেতা শাহ আহমেদ শফী একসময় হাসিনাকে ‘কোয়ামির জননীউপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তা সত্ত্বেও, তাঁর সরকার চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিল। এ ছাড়াও, তিনি ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করেন এবং ২০১২ ২০১৩ সালে এটি সংশোধন করেন।

তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে - যারা কখনও মুক্তিযুদ্ধ’ (স্বাধীনতা আন্দোলন)  দেখেনি এবং কেবল হাসিনার নেতৃত্বে বেড়ে উঠেছে - আওয়ামী লীগের নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রেরসমালোচনা করেছে এবং তাদের কাছে এই মূল্যবোধগুলি আরও বিমূর্ত বলে মনে হয়।

তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে - যারা কখনও মুক্তিযুদ্ধ’ (স্বাধীনতা আন্দোলন) দেখেনি এবং কেবল হাসিনার নেতৃত্বে বেড়ে উঠেছে - আওয়ামী লীগের নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রের সমালোচনা করেছে এবং তাদের কাছে এই মূল্যবোধগুলি আরও বিমূর্ত বলে মনে হয়। তারা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি হতাশ সন্দেহবাদী। তাদের নজরে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অলস একটি অংশ এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে। এই মনোভাব শেখ মুজিবুর রহমানের (দেশের পিতা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা এবং শেখ হাসিনার বাবা) প্রতিকৃতি সম্পত্তি ধ্বংসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছিল। এমনকি তরুণ প্রজন্ম সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের মর্যাদা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতি এই অসন্তোষ, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির ক্ষয়িষ্ণু স্থান এবং ইসলামবাদের প্রতি ঝোঁকের সঙ্গে মিলিত হয়ে এনসিপির মতো নতুন দলগুলি একটি জটিল অবস্থানে পড়েছে। দলের মধ্যপন্থী আওয়ামী লীগ-বিরোধী বক্তব্যের দরুন দলটি কট্টরপন্থী উপাদান দক্ষিণপন্থী দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতার পথে হেঁটেছে। এমনকি তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এইচআইআই-এর মহাসচিবের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিও জারি করেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রের প্রতি তাদের আদর্শগত ঝোঁকের কারণে দক্ষিণপন্থী বক্তব্যের সরাসরি সম্মুখীন হওয়া বা বিরোধিতা করার বিষয়টিও কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি এই নবপ্রতিষ্ঠিত দলের জন্য ভোট বৈধতা অর্জন করার পথ করে দিতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, দলটি ছাত্র বিক্ষোভকে সমর্থন করার জন্য জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে খেলাফতের সমর্থক আন্তর্জাতিক উগ্র ইসলামী সংগঠন হিবুত-উত-তাহরির (এইচইউটি) ঢাকায় খিলাফতের জন্য মার্চসমাবেশের ডাক দেয়, যা এনসিপির বর্তমান আহ্বায়ক সমর্থন করেছিলেন। ২০২৫ সালের ৩ মে এইচআইআই অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস প্রশাসন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মহিলা বিষয়ক সংস্কার কমিশনের বিরোধিতা করে একটি বড় সমাবেশের নেতৃত্ব দেদলটি সম-অধিকারের প্রস্তাবিত সংস্কারের নিন্দা করে এবং তৃতীয় লিঙ্গ’-এর মতো শব্দের অন্তর্ভুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে। সেই সমাবেশে উপস্থিত এনসিপি নেতৃত্বও এই একই আবেগ প্রতিধ্বনি করেছিলেন।

রাজনীতি যুবসমাজের জন্য একটি বৃহত্তর প্রশ্ন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার দক্ষিণপন্থী দলগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেকারণ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতিতে তাদের ভূমিকা ছিল। তারা জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং এখন শরিয়া আইন মেনে চলার জন্য উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। আবার লিঙ্গকেন্দ্রিক সংস্কারের বিরুদ্ধে এইচইআই-এর প্রতিবাদেরও সম্মুখীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে, বিএনপি সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সেনাবাহিনীও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন পরিচালনা করতে বলেছে।

এই সংগঠনগুলির বেশিরভাগই যখন উদীয়মান পর্যায়ে রয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতা ক্রমশ পিছু হঠছে, আওয়ামী লীগের উত্তরাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থান শূন্য হয়ে পড়ছে, তখন চরম দক্ষিণপন্থী দলগুলির জন্য সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া ও জোটের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি ও নিজেদের আদর্শকে প্রসারিত করার জন্য জমি উর্বর হয়ে উঠেছে

নির্বাচনের আহ্বান, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিএনপির ক্রমবর্ধমান গতিশীলতা তরুণদের এনসিপির মতো নতুন সত্তা দলগুলিকে - যারা এই ব্যবস্থার প্রতি হতাশ - অন্যান্য কট্টরপন্থী সত্তার সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করতে পারে। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অভ্যন্তরে প্রজন্মগত পরিবর্তন ক্রমবর্ধমান আদর্শগত দ্বন্দ্বকেই তুলে ধরে। এই সংগঠনগুলির বেশিরভাগই যখন উদীয়মান পর্যায়ে রয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতা ক্রমশ পিছু হঠছে, আওয়ামী লীগের উত্তরাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থান শূন্য হয়ে পড়ছে, তখন চরম দক্ষিণপন্থী দলগুলির জন্য সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া ও জোটের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি ও নিজেদের আদর্শকে প্রসারিত করার জন্য জমি উর্বর হয়ে উঠেছে। আগাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমনটা আরও বেশি করে সম্ভব হতে পারে। এনসিপির মতো তরুণ দলগুলিকে সমর্থন করা এবং সংস্কার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করার ফলে তথাকথিত দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’-এর প্রকৃত চরিত্র অনিশ্চিত রয়ে গিয়েছে এবং দেশ গণতন্ত্র বিশৃঙ্খলার মাঝের সূক্ষ্ম ঝুঁকিপূর্ণ সুতোর উপর দিয়ে চলেছে।

 


আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

মধুরিমা প্রামাণিক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy

Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme’s Neighbourhood Studies Initiative.  He focuses on strategic and security-related developments in the South Asian ...

Read More +
Madhurima Pramanik

Madhurima Pramanik

Madhurima Pramanik is an intern with ORF’s Strategic Studies Programme. Her works focus on political, strategic and security related developments in South Asia , with a ...

Read More +