-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
দেশের ১৯৭৩ সালের সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্কিত - সামরিক বাহিনীর শ্রেণিবিন্যাস এবং কম্যান্ড কাঠামোর একটি সংস্কার ও নির্বাহী বিভাগের তুলনায় বিচার বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস, যা ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর ক্ষমতার ভারসাম্যকে কার্যকর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
১৩ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি দেশের সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন। কয়েক সপ্তাহের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তার মিত্র দলগুলির সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংশোধনী স্বাক্ষরের ফলে বেসামরিক সরকার ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক ভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টকে আপিল আদালত হিসেবে ছেড়ে দিয়ে এবং সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নবপ্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক আদালতের (এফসিসি) কাছে হস্তান্তর করে। পাকিস্তানের প্রধান ক্ষমতাধরদের মধ্যে দীর্ঘ প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ২৭তম সংশোধনী বেসামরিক-সামরিক গতিশীলতার উপর সবচেয়ে কঠোর আঘাত করেছে, যদিও প্রায়শই ক্ষমতার পরিসর সামরিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই ছিল। সংশোধনীটি তা হলে ঠিক কী পরিবর্তন আনবে?
১৯৭৩ সালের সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্কিত - সামরিক বাহিনীর শ্রেণিবিন্যাস ও কম্যান্ড কাঠামোর সংস্কার এবং নির্বাহী বিভাগের তুলনায় বিচার বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস, যা দেশের ক্ষমতার ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর ভারসাম্যকে কার্যকর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। পাকিস্তানের মতো একটি দেশে - যা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সম্পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা মিশ্র ধরনের সরকারের চাপ ও টানাপড়েনের প্রতি সংবেদনশীল এবং উভয়ের মধ্যে দোদুল্যমান – সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলি আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশের বিষয়গুলির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকলাপের উপর প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে জাতীয় কৌশলগত কম্যান্ডের একজন কম্যান্ডারকেও সেনাপ্রধানের সুপারিশে নিযুক্ত করবেন এবং জাতীয় কম্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেবেন।
প্রথমত, সংশোধনীটি ২৪৩ অনুচ্ছেদের কিছু উপাদান পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে, যা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত রসায়নকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই পরিবর্তনগুলির একটি প্রধান ভিত্তি হল কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কম্যান্ড ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করা। সুতরাং, সেনাপ্রধান আসিম মুনির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এটি এমন একটি নবনির্মিত পদ, যার মাধ্যমে তিনি তিনটি বাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবেন। এর মাধ্যমে ২৭ নভেম্বর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান তাঁর মেয়াদ শেষ করার পর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বিলুপ্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে জাতীয় কৌশলগত কম্যান্ডের একজন কম্যান্ডারকেও সেনাপ্রধানের সুপারিশে নিযুক্ত করবেন এবং জাতীয় কম্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেবেন। এর পাশাপাশি সংশোধনীটি কিছু পাঁচ তারকাবিশিষ্ট পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে - ফিল্ড মার্শাল, রাষ্ট্রপতি, নৌবহরের অ্যাডমিরাল, বিমান বাহিনীর মার্শাল - যাঁরা সমস্ত বেসামরিক ও ফৌজদারি অভিযোগ থেকে আজীবন দায়মুক্তি পাবেন। তাঁরা তাঁদের পদমর্যাদা, ইউনিফর্ম ও সুযোগ-সুবিধা আজীবন ধরে রাখতে পারবেন এবং রাষ্ট্রপতির বিবেচনার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অবসর গ্রহণের পরেও পদমর্যাদা বজায় রাখতে পারবেন। এই পরিবর্তনগুলি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আসিম মুনিরকে দেশের ফিল্ড মার্শাল হিসেবে উন্নীত করা হবে। সামরিক কম্যান্ডের কাঠামো এবং শ্রেণিবিন্যাসে বর্তমান পরিবর্তনগুলিকে আসিম মুনিরের ফিল্ড মার্শাল হিসেবে উত্থান এবং সমস্ত ক্ষমতা তাঁর হাতে কেন্দ্রীভূত করার জন্য তাঁর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসাবে দেখা হচ্ছে। এই সংশোধনী তাঁকে দেশের কার্যকারিতায় ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে এবং ২০২৭ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও সেগুলি প্রসারিত করে।
একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির দুঃসাহসিক কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভারতের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ক্ষমতার এই একত্রীকরণের জন্য একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করার উদ্দেশ্যে এই সংশোধনীটি সাংবিধানিক অব্যবস্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানের বাড়াবাড়ির পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসনকে অকার্যকর করে তোলে। এটি সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ভেঙে এটিকে আপিল আদালতে পরিণত করে, যেখানে সাংবিধানিক বিষয়গুলি এফসিসি দ্বারা শুনানি করা হবে। বিচারকদের পদোন্নতি নির্ধারণের কোনও মানদণ্ড ছাড়াই এফসিসি-র গঠনও অস্বচ্ছতায় মোড়া এবং বিচারকদের নিয়োগগুলি প্রতিষ্ঠানের সুরে সুর মিলিয়ে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যই পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১৪ নভেম্বর এফসিসি-র কার্যক্রম শুরু করার পর করা কোনও নিয়োগই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বা সাংবিধানিক বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে না এবং শুধু মাত্র প্রধান বিচারপতি আমিনউদ্দিন খান ব্যতীত। এফসিসি সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায় অনুসরণ করতেও বাধ্য থাকবে না এবং ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট ও এফসিসি উভয়ের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারকদের নির্বাচন করার জন্য একটি বিশেষ পার্লামেন্টারি কমিটি নিয়োগ করা হবে। বিচার বিভাগীয় কমিশনে নির্বাহী নিয়োগকারীও থাকবে, যা বিচারকদের নির্বাচনকে প্রাথমিক ভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া করে তুলবে। কাদের বদলি করা যেতে পারে তা নির্ধারণের উপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিচার বিভাগের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সংশোধনী পাসের জন্য ঐকমত্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ইমরান খানের পিটিআই - যারা সংশোধনীর বিরোধিতা করেছিল - ছাড়া সমস্ত প্রধান দলই এর বিধানগুলিকে কোনও না কোনও আকারে মেনে নিয়েছে। পিপিপি ১৮তম সংশোধনী প্রত্যাহারের বিষয়ে আপত্তি জানালেও, দেশে সেনাবাহিনীর আধিপত্যকে সর্বোচ্চ করে তোলার পরিবর্তনগুলিকে স্বাগত জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলি সর্বদা আস্থা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিতে ভুগছে। বিচারকদের নির্যাতন করা হয়েছে, তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁদের পরিবারকেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি লক্ষ্যবস্তুতে রূপান্তরিত করেছে।
কেউ কেউ সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও বেশিরভাগই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন এবং পরিবর্তে তাঁদের নিজস্ব ক্ষমতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করেছেন। বর্তমান সংশোধনী পাস হওয়ার পর, সুপ্রিম কোর্টের দুই জ্যেষ্ঠতম বিচারক প্রতিবাদে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বর্তমান ঘটনাবলিকে ‘সামরিক-অনুপ্রাণিত সাংবিধানিক বিপর্যয় এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতা দখল’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এই বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং মে মাসে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের লক্ষ্যবস্তু হামলার পর থেকে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। যদিও ভারতের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ প্রতিষ্ঠা করা এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ঝুঁকি বৃদ্ধি করা। তবে পাকিস্তানের মতো একটি দেশের জন্য - যেখানে গভীর কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে এবং কার্যকর ভাবে সেগুলি মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট দক্ষ নেতৃত্বের অভাব রয়েছে - সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থনকে একটি কম ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল হিসাবে দেখা হয়। একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির দুঃসাহসিক কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভারতের জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের বিষয়ে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করার বিষয়ে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রবণতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর উস্কানিমূলক বক্তব্য এই দুঃসাহসিকতারই প্রতিফলন ঘটায়। পারমাণবিক কম্যান্ড সম্পর্কিত কৌশলগত সিদ্ধান্তের উপর নিয়ন্ত্রণও একজন ব্যক্তির উপরেই ন্যস্ত হওয়ায় এবং নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের মধ্যে কোনও সমতা না থাকায়, পারমাণবিক আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে এই রূপান্তরটি সম্পূর্ণ রূপে মসৃণ হবে বলে আশা করা যায় না - সামরিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির উপর সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলবে, তাদের ভারসাম্য পরিবর্তন করবে এবং পাশাপাশি অন্যান্য পরিষেবার প্রধানদের ক্ষমতাও হ্রাস পাবে, যারা সেনাবাহিনীর অধীনস্থ হওয়ার পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেছে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ওপেন-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President - ORF and Studies at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with ...
Read More +
Shivam Shekhawat is a Junior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her research focuses primarily on India’s neighbourhood- particularly tracking the security, political and economic ...
Read More +