Author : Aparna Roy

Published on Feb 10, 2026 Updated 0 Hours ago

এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-

ভারতের অর্থনীতিকে চালিত করা শহুরে কেন্দ্রগুলি এখন নিয়মিত নিজেদের ভারেই ডুবে যাচ্ছেযা দুর্বল পরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে উদাসীনতার শিকার।

বেসরকারি খাত ভারতের শহুরে বন্যার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে

গত বর্ষায় ভারত জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত আবারও শহরগুলি গভীর দুর্বলতাগুলিকে উন্মোচিত করেছে। কলকাতাদিল্লিমুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর মতো মহানগরী-সহ অনেক শহরে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ধ্বংসলীলার একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছে ভারতের অর্থনীতিকে চালিত করতে সক্ষম এই শহগুলি এখন নিয়মিত ভাবে নিজেদের ভারেই ডুবে যাচ্ছে অপরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উদাসীনতার শিকার হচ্ছে শহরগুলি জলবায়ু ঙ্কটজনিত চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৩% বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে তাই শহুরে বন্যা এখন আর কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয় এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটযা জরুরি এবং পদ্ধতিগত পদক্ষেপের দাবি করে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের ২০১৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারেভারত প্রতি বছর বন্যাজনিত কারণে গড়ে প্রায় বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ছাড়াই শহরগুলি প্রসারিত হওয়ায় এই সংখ্যাটি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুতরাং সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী বহুমুখী কৌশল প্রণয়ন করা জরুরিযা শহুরে ভারত জুড়ে বৃষ্টির জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেপ্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ পুনরুদ্ধার করতে এবং জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামো নির্মাণ করতে সক্ষম

অপরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উদাসীনতার শিকার হচ্ছে শহরগুলি জলবায়ু ঙ্কটজনিত চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৩% বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে

এই ধরনের একটি কৌশলকে অবশ্যই শহুরে বন্যা মোকাবিলায় মূল অংশীদারদের ভূমিকাকে কাজে লাগাতে হবে। বেসরকারি খাত তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাখাত-নির্দিষ্ট জ্ঞান এবং অত্যাধুনিক উদ্ভাবনকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতার মাধ্যমে সরকারগুলি সামনে প্রকট দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরি করতে পারে প্রতিবন্ধকতা দুটি হল সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের অভাব এবং ঝুঁকির ব্যাপক পর্যবেক্ষণ।

পৌরসভাগুলি জন্য একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা হল বৃষ্টির জল এবং কঠিন বর্জ্যের ব্যবস্থাপনাযা প্রায়শই শহরের নর্দমাগুলিকে আটকে দেয় এবং বন্যা প্রভাব আরও বাড়িয়ে তোলে। ভারত প্রতি বছর ৬২ মিলিয়ন টন পৌর কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন করেযার মধ্যে ৬০ শতাংশেরও কম সংগ্রহ করা হয় এবং প্রায় ১৫ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। আবর্জনা সংগ্রহ প্রক্রিয়াজাতকরণের অপ্রতুলতার কারণে শহরগুলি নিষ্কাশন পথগুলি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা  জল সহনশীলতার জন্য সম্ভাবনাময় বাজার-ভিত্তিক সমাধান তৈরি করে ব্যবসাগুলি সরকারি প্রচেষ্টাকে পরিপূরক করে তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপআইটিসি- ‘ওয়েলবিইং আউট অফ ওয়েস্ট’ (ডব্লিউওডব্লিউ বা ওয়াওউদ্যোগটি একাধিক শহরে বর্জ্য পৃথগীকরণসংগ্রহ  পুনর্ব্যবহারের পরিমাপযোগ্য মডেল প্রদর্শন করেছেযা হাজার হাজার টন শুকনো বর্জ্য সংগ্রহ করে পৌর ব্যবস্থার উপর চাপ কমিয়েছে ২০২ সালে  পরিমাণ ৬৩,৭০০ মেট্রিক টন ছিল এই উদ্যোগটি ভারতের . মিলিয়ন পরিবারের কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই ভাবে, রিসাইকল-এর মতো স্টার্টআপগুলি ডিজিটাল মঞ্চ ব্যবহার করে বর্জ্য উৎপাদনকারীদের পুনর্ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত করছেযা নিশ্চিত করে যেপ্লাস্টিক  নির্মাণ সংক্রান্ত বর্জ্য ঝড়ের ফলে সৃষ্ট নর্দমায় ফেলে না দিয়ে সেগুলিকে অর্থনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তা  পৌর চুক্তির মাধ্যমে এই ধরনের প্রভাব সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলিকে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করলে শহুরে বন্যার তীব্রতা সরাসরি কমানো যেতে পারে।

অতিরিক্ত বৃষ্টির জল ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের জন্য উদ্ভাবনী প্রকৌশল  আর্থিক সমাধানেরও প্রয়োজন। রাজ্য সরকারগুলি তরফে চাওয়া বর্ষা-পরবর্তী ত্রাণ প্যাকেজের পরিমাণ এখন হাজার হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর সালেই তেলেঙ্গানা প্রায় ,০১৮.৭২ কোটি টাকার ক্ষতির কথা জানিয়েছে কারণ প্রবল বৃষ্টিতে আবাসিক এলাকাবিদ্যুৎ নেটওয়ার্কবাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছিল। ব্যবসাগুলি জন্য বন্যা সহনশীলতায় বিনিয়োগ করা কেবল কর্পোরেট দায়িত্বই নয়এটি একটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তাও বটে।

রিসাইকল-এর মতো স্টার্টআপগুলি ডিজিটাল মঞ্চ ব্যবহার করে বর্জ্য উৎপাদনকারীদের পুনর্ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত করছেযা নিশ্চিত করে যেপ্লাস্টিক  নির্মাণ সংক্রান্ত বর্জ্য ঝড়ের ফলে সৃষ্ট নর্দমায় ফেলে না দিয়ে সেগুলিকে অর্থনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইনফোসিস এবং উইপ্রোর মতো সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেছে। তাদের ইএসজি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে ইনফোসিস একটি ব্যাপক বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ কর্মসূচি তৈরি করেছেযা তাদের ক্যাম্পাস জুড়ে ৩৭০টিরও বেশি গভীর-প্রোথিত কূপ এবং ৩৫টি হ্রদ পুকুর নির্মাণ করেছেযা সম্মিলিত ভাবে ১৮ মিলিয়ন টনেরও বেশি ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ করতে সক্ষম। উইপ্রো  বার বায়োম এনভায়রনমেন্টাল ট্রাস্টঅ্যাকোয়াডাম এবং ম্যাপইউনিটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে সারজাপুরে একটি সমন্বিত জল ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগটি অভ্যন্তরীণ জল সাশ্রয়ী ব্যবস্থার সঙ্গে বাহ্যিক ভাবে কেন্দ্রীভূত পার্টিসিপেটরি অ্যাকুইফার ম্যাপিং-কে (পিএকিউএমএকত্রিত করেযা বেঙ্গালুরুতে পুনর্ভরণ কূপ স্থাপনঅচল খোলা কূপগুলির পুনরুজ্জীবন এবং সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন অ্যাকুইফার ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। শিল্পক্ষেত্রবাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক কমপ্লেক্স জুড়ে এই ধরনের বেসরকারি খাতের উদ্যোগগুলিকে প্রসারিত করলে অতিরিক্ত চাপে জর্জরিত পৌর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উপর থেকে চাপ যথেষ্ট পরিমাণে কমানো যেতে পারে।

তবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত সমাধানের কার্যকর বাস্তবায়ন নির্ভর করে বৃষ্টিপাতের ধরনিষ্কাশন প্রবাহ এবং মাটির সম্পৃক্তি স্তরের সঠিক এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের উপরযাতে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের সঠিক মাত্রা মূল্যায়ন করা যায়। ভারতের বিদ্যমান হাইড্রোমেট নেটওয়ার্ক এই ক্ষেত্রে অপ্রতুল প্রতি ৫০০ বর্গ কিলোমিটারে একটিরও কম বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র থাকায়নির্ভরযোগ্য শহুরে বন্যা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরিতে ভারতকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (ইন্ডিয়া মিটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টদেশ জুড়ে প্রায় ,০০৮টি স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র (অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন বা এডব্লিউএস), ,৩৮২টি স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র (অটোমেটিক রেন গজ বা এআরজিএবং ২০০টি অ্যাগ্রো-এডব্লিউএস পরিচালনা করে। বিদ্যমান শৃঙ্খলটি স্থানীয় পূর্বাভাসের জন্য অত্যন্ত অপ্রতুলবিশেষ করে বন্যাপ্রবণ শহুরে এলাকাগুলিতে। উদাহরণস্বরূপ২০ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট দিল্লি শহরে বর্তমানে মাত্র ১৮টি এডব্লিউএস চালু আছে। ভারতীয় শহরগুলিতে স্থানীয় বৃষ্টিপাতনিষ্কাশন ক্ষমতা এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের হার কার্যকর ভাবে ট্র্যাক করার জন্য অতিরিক্ত এডব্লিউএস এবং এআরজি- উল্লেখযোগ্য সংস্কারের প্রয়োজন হবে।

বেসরকারি খাত বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্সএআই-চালিত হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিং এবং স্বল্প খরচের আইওটি সেন্সর নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ করে এই ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারেযা বাস্তব সময়ে বৃষ্টির জলের স্তর ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ক্লাইমাসেল-এর (টুমরো ডট আইওমতো স্টার্টআপগুলি স্যাটেলাইট ডেটামেশিন লার্নিং এবং মোবাইল ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত ক্রাউড-সোর্সড ইনপুট ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান করছে। একই ভাবে স্যাটশিওরের মতো সংস্থাগুলি ভারতীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রকে বাস্তব পর্যায়ের বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়নের সঙ্গে একীভূত করার জন্য কাজ করছে। বেসরকারি খাত দ্বারা পরিকল্পিত বন্যা সংক্রান্ত সেন্সরগুলি যা সিমেন্স মোবিলিটি এবং আর্থসেন্সের জেফায়া বায়ু মানের সেন্সরগুলি মতোই কাজ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় স্তরে বৃষ্টিপাতের তীব্রতাজলাবদ্ধতা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেবেযার ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সময় মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

বেসরকারি খাত বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্সএআই-চালিত হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিং এবং স্বল্প খরচের আইওটি সেন্সর নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ করে এই ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারেযা বাস্তব সময়ে বৃষ্টির জলের স্তর ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

পরিশেষেযেহেতু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রায়শই সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে নির্মাণরিয়েল এস্টেট এবং শিল্প প্রকল্পগুলি জলাভূমি প্লাবনভূমি দখল করে তাই তাদের অবশ্যই কঠোর পরিবেশগত মান মেনে চলার মাধ্যমে শহুরে জলাভূমি মতো প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানগুলিকে একীভূত রতে হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলগুলির স্থিতিস্থাপকতাকে কেন্দ্রে রেখে পরিকল্পনা করার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমকে জলবায়ু-সহনশীল নগর কর্মসূচির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ করতে হবে।

শহুরে বন্যা মোকাবিলায় ভারতের এই জরুরি পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা এর আগে কখন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। পরিমাপযোগ্য উদ্ভাবন তৈরি করেস্থিতিস্থাপকতায় অর্থায়ন করে এবং তাদের নিজস্ব বৃদ্ধিকে জলবায়ু-সহায়ক অনুশীলনের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ করার মাধ্যমে তারা ভারতীয় শহরগুলিকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র থেকে স্থিতিস্থাপক নগর বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরিত করতে পারে।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় হিন্দুস্থান টাইমস-

 

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.