Author : Nysa Arora

Published on Nov 06, 2025 Updated 0 Hours ago

বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ভারতের উত্থান ব্যয়-কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা, নীতিগত উদ্ভাবন এবং চিরাচরিত সুস্থতা সংক্রান্ত ব্যবস্থার কৌশলগত মিশ্রণকে দর্শায়।

নিরাময়ের মূল্য: ভারতের চিকিৎসা পর্যটন অর্থনীতি এবং এর বৈশ্বিক লেনদেন

উন্নত দেশগুলিতে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় দীর্ঘ অপেক্ষার এই যুগে আরো বেশি সংখ্যক রোগী সাশ্রয়ী মূল্যের, উচ্চ মানের চিকিৎসা সেবার সন্ধানে সীমান্ত অতিক্রম করতে পছন্দ করছেন, যা চিকিৎসা পর্যটন নামে পরিচিত। চিকিৎসা  পর্যটন বলতে কম দামের উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য ভ্রমণকে বোঝায়, যেখানে চিকিৎসা কেন্দ্রের গুণমান প্রাথমিক ভাবে কোনও মানুষকে নিজের দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। চিকিৎসা পর্যটন সূচক (এমটিআই) রোগীদের গন্তব্যস্থল, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিষেবার মানের উপর ভিত্তি করে দেশগুলিকে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে এই বিষয়গুলি মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে। এমটিআই-তে ভারত বিশ্বব্যাপী (৪৬টির মধ্যে) দশম স্থানে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ সাশ্রয় প্রদান করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কানাডা সূচকের শীর্ষে রয়েছে এবং তার পরেই রয়েছে সিঙ্গাপুর।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পর্যটন বাজার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০২১ সালে  ৩২.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা ২০২২ সালে ৩৫.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রতি বছর বৃদ্ধির হার ১১.৭ শতাংশ। অনুমান বলছে, এমনকি কোভিড-১৯ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় - যার ফলে নিষেধাজ্ঞা সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছিল - ২০২৬ সালের মধ্যে এই শিল্প ৫৪.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ১১.১ শতাংশ। এটি চিকিৎসা পর্যটনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বাজারে ভারতের ইতিবাচক অবস্থানকেই দর্শায়।

ঐতিহাসিক পটভূমি এবং প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি

১৯৯০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণ-পরবর্তী সময়ে ভারতের চিকিৎসা পর্যটনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য দায়ী করা যেতে পারে, যার ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা শিল্পে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ঘটে। এই সময়কালে বড় শহরগুলির প্রধান বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিদেশি রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং এমনকি পশ্চিমী  দেশগুলি থেকে। ভারতের তুলনামূলক ভাবে ব্যয়-কার্যকারিতার কারণে ২০০২ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি বিদেশী রোগীদের চিকিৎসাকে রফতানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে উৎসাহিত করে।

ভারতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য - যেমন যোগ্য ইংরেজিভাষী চিকিৎসক, উন্নত নির্ণায়ক অবকাঠামো এবং আয়ুর্বেদ যোগ-সহ আধুনিক ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের বিষয়টি বিশ্ব জুড়ে মানুষের কাছে আরও আকর্ষ হয়ে উঠেছে। বিশ্বায়নের কারণে ২০২৫ সালে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর তুর্কিয়ে-সহ সেরা চিকিৎসা পর্যটন গন্তব্যগুলির সমতুল্য।

এই নীতিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই হিল ইন ইন্ডিয়াপ্রচারণা এবং চিকিৎসা ভ্রমণকে সহজতর করার জন্য ভ্রমণ ভিসা নীতির উদারীকরণের মতো কৌশলগত উদ্যোগগুলিও যুক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আস্থা জোরদার করার জন্য অনেক ভারতীয় হাসপাতাল জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিসিআই) স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য - যেমন যোগ্য ইংরেজিভাষী চিকিৎসক, উন্নত নির্ণায়ক অবকাঠামো এবং আয়ুর্বেদ যোগ-সহ আধুনিক ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের বিষয়টি বিশ্ব জুড়ে মানুষের কাছে আরও আকর্ষ হয়ে উঠেছে। বিশ্বায়নের কারণে ২০২৫ সালে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর তুর্কিয়ে-সহ সেরা চিকিৎসা পর্যটন গন্তব্যগুলির সমতুল্য।

চিকিৎসা পর্যটনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা: ভারত তার বাইরে

ভারতে চিকিৎসা পর্যটন একটি অপ্রত্যাশিত কিন্তু গতিশীল সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা উন্নয়নের রৈখিক গতিপথের পরিবর্তে কাঠামোগত পরিবর্তন দ্বারা চিহ্নিত। ৫৬০ লক্ষেরও বেশি ভ্রমণের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের শীর্ষ ২০টি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পর্যটন বাজারের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে, প্রায় ১৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করেছে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সুস্থতা-কেন্দ্রিক দেশগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বই, চেন্নাই, নয়াদিল্লি, আহমেদাবাদ এবং ব্যাঙ্গালোর। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (২০২২) মতে, ২০২১ সালে পাঞ্জাব (২৯.২২ শতাংশ) এবং মহারাষ্ট্র (১৭.৬ শতাংশ) আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পর্যটকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, যেখানে তামিলনাড়ু (১৭.০২ শতাংশ) এবং উত্তরপ্রদেশ (১৬.১৯ শতাংশ) ছিল দেশীয় চিকিৎসা ভ্রমণকারীদের জন্য শীর্ষস্থানীয়। একই বছরে সমস্ত আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ২১.২ শতাংশ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত ভ্রমণ করেছিলেন।

মেডিকেল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে স্বীকৃত ভারত বিশ্ব চিকিৎসা পর্যটন মানচিত্রে নিজের স্থান দৃঢ় করছে। বাংলাদেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা পর্যটনের শীর্ষ উৎস দেশ এবং ৫৪ শতাংশ চিকিৎসা পর্যটক এই দেশ থেকে এসেছেন ২০২৩ সালে ৪৪৯,০০০-এরও বেশি মানুষ ভারতে এসেছেন২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে (চিত্র ১) চিকিৎসা দরুন বিদেশি পর্যটক আগমন (এফটিএ) ৪.২৭ লক্ষ থেকে ৬.৯৭ লক্ষে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে ১.৮৩ লক্ষে নেমে এসেছে। মন্দা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে পর্যটন-সম্পর্কিত বৈদেশিক মুদ্রা আয় ২.১১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

চিত্র ১: চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মোট বছরভিত্তিক বিদেশি পর্যটক আগমন (২০১৬-২০২৪)

The Price Of Healing India S Medical Tourism Economy And Its Global Trade Offs

সূত্র: ইমিগ্রেশন ব্যুরো (বিওআই) থেকে সংগৃহীত তথ্য, *: অস্থায়ী

এই খাতকে উৎসাহিত করার জন্য ভারত জাতীয় চিকিৎসা ও সুস্থতা পর্যটন কৌশল, ই-মেডিকেল ভিসা, বিদেশি বিপণন এবং একটি চিকিৎসা ও সুস্থতা পর্যটন বোর্ডের মতো প্রকল্প চালু করেছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় বাজার উন্নয়ন সহায়তা (এমডিএ) প্রকল্পের অধীনে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছে, ২০১৮-১৯ সালে বিদেশি অনুষ্ঠানের জন্য ১০.২ লক্ষ টাকা এবং ২০২০-২১ সালে ইথিওপিয়ায় স্বাস্থ্য মিশনের জন্য ৭.৫ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে। অতিমারির পরে এই খাতটি গতিশীলতা অর্জন করেছে, ২০২৩ সালে বিনামূল্যে ভ্রমণ অনুমোদনের (এফটিএ) অধীনে ৫.৪ লক্ষেরও বেশি চিকিৎসা-সম্পর্কিত আগমন রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধিকেই প্রতিফলিত করে। ২০২৫ সালের লোকসভার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সরকারি মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল (এমভিটি) পোর্টাল চালু, সম্প্রসারিত ই-ভিসা অ্যাক্সেস এবং টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলিতে লক্ষ্যবস্তু অবকাঠামো বিনিয়োগের মতো উদ্যোগগুলি  পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করে।

চ্যালেঞ্জ এবং নৈতিক উদ্বেগ

ভারতের চিকিৎসা পর্যটনের উত্থানকে ঘিরে প্রধান উদ্বেগগুলির মধ্যে একটি হল সুবিধাভোগী প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য। স্বাস্থ্যসেবা বাজার ক্রমবর্ধমান মেরুকৃত পরিস্থিতিতে রয়েছে, একদিকে দুর্বল অর্থায়নপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যদিকে প্রথম শ্রেণির কর্পোরেট হাসপাতাল। এই খাতটি মূলত অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রসারিত হয়েছে। একটি প্রধান দুর্বলতা হল একটি বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অনুপস্থিতি, যেখানে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিকে কমিয়ে আনা বা সুযোগগুলিকে অতিরঞ্জিত করার প্রবণতা দেখায়, যা নৈতিক উদ্বেগ তৈরি করে। অবহিত সম্মতি তথ্য সুরক্ষা উদ্বেগগুলি বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক, যখন  রোগীরা বিভিন্ন আইনি ভাষাগত পরিবেশ থেকে আসে

একটি প্রধান দুর্বলতা হল একটি বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অনুপস্থিতি, যেখানে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিকে কমিয়ে আনা বা সুযোগগুলিকে অতিরঞ্জিত করার প্রবণতা দেখায়, যা নৈতিক উদ্বেগ তৈরি করে।

সর্বোপরি, চিকিৎসা পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়া স্থানীয় ভাবে উপলব্ধ চিকিৎসা সুবিধাগুলির জন্যও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অভিজ্ঞ কর্মীরা ধনী দেশীয় বা বিদেশি রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে চলে যাওয়ার প্রবণতা পোষণ করে এবং সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে কর্মীর অভাব থাকে। বিদেশি রোগীদের জন্য কসমেটিক সার্জারি বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো লাভজনক পদ্ধতির ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ মৌলিক জনস্বাস্থ্যসেবা পরিত্যাগের দিকে চালিত করতে পারে। কোভিড-১৯ অতিমারি এই পদ্ধতির ত্রুটিগুলিও তুলে ধরেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় স্বাস্থ্যসেবা চাহিদার উপর মনোযোগ দেওয়ার দিকে একটি অস্থায়ী পরিবর্তন এসেছে।

নীতি ও কর্মের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গঠন

ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। মূল পদক্ষেপগুলির মধ্যে থাকতে পারে সরলীকৃত ই-ভিসা ভিসা মকুবের মতো কৌশলগত বিধান সহ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিধি সম্প্রসারণ করা, যা রোগীদের চলাচল সহজ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করে। ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি আন্তঃসীমান্ত রোগীর আগমন উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করেছে। চিকিৎসা ভিসা প্রক্রিয়া উন্নত করা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ২০২২ সালে ৬৫০,০০০ এরও বেশি চিকিৎসা ভিসা জারি করা হয়েছিল, ইরান, কাজাখস্তান এবং কাতারের মতো কিছু দেশে ই-মেডিকেল ভিসার সমস্যা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা পর্যটনের ভূ-পরিসরে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন উদীয়মান প্রতিযোগীদের কাছ থেকে শিখতে হবে। তুর্কি দুবাই সুগঠিত ভিসা, কার্যকর শাসন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দ্বারা সমর্থিত বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা বাস্তুতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভারতে খরচের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা নীতিগত অসঙ্গতিগুলি রয়ে গিয়েছেএমভিটি-তে (মেডিকেল ভ্যালু ট্যুরিজম) সম্প্রতি ২০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সমন্বিত প্রবৃদ্ধির দিকে একটি স্বাগত পদক্ষেপ।

ভারতকে তার অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার বিকল্পগুলির পরিসর তুলে ধরার জন্য বিজ্ঞাপন প্রচারে বিনিয়োগ করতে হবে।

সর্বোপরি, বিদ্যমান অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার ভ্রমণ খরচের জন্য ব্যাপক কভারেজ প্রদানকারী বিমা সংস্কারগুলি রোগীদের অভিজ্ঞতাকে মসৃণ করবে এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে। উপরন্তু, ভারতকে তার অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার বিকল্পগুলির পরিসর তুলে ধরার জন্য বিজ্ঞাপন প্রচারে বিনিয়োগ করতে হবে। ভারতের মূল্যবান প্রস্তাব হবে কেন্দ্রীভূত সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আয়ুষ (আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি) স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলিকে সমর্থন সম্প্রসারণ করা।

ভারতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের প্রচার জ্ঞান স্থানান্তরকে সহজতর করে এবং আরও ব্যাপক রোগীর অভিজ্ঞতা প্রদানের মাধ্যমে পরিষেবার মান উন্নত করতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আয়ুষ মন্ত্রণালয়, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (সিডিএসি) এবং সার্ভিস এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (এসইপিসি) সহযোগিতায় বিকশিত ‘হিল ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগটি একটি একক ডিজিটাল মঞ্চে আধুনিক প্রাচীন স্বাস্থ্যসেবা বিপণনের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে, যা চিকিৎসা পর্যটকদের জন্য সর্বস্তরীয় সহায়তা প্রদান করে। এই প্রচেষ্টাগুলিকে ত্বরান্বিত করার জন্য ভারতের উচিত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রচার করা, যা তাইল্যান্ডের মতো চিকিৎসা পর্যটন নেতাদের দ্বারা সফল ভাবে বাস্তবায়িত একটি মডেল।

পরিশেষে, ভারতের চিকিৎসা পর্যটন নীতি অবশ্যই তিনটি সম্ভাব্য লাভজনক বাজারের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক প্রচারণার দিকে পরিচালিত করতে হবে: (১) সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ রিজিওনাল কোঅপারেশন (সার্ক) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলি, (২) মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা এবং (৩) ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা। বাজার-নেতৃত্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একত্রে এই সমন্বিত নীতি পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে ভারত ২০২৬ সালের মধ্যে তার চিকিৎসা পর্যটন বাজারকে আনুমানিক  ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে সম্প্রসারিত করার জন্য সু-অবস্থানে রয়েছে, যা ভারতকে সাশ্রয়ী মূল্যের, উচ্চ মানের এবং সাংস্কৃতিক ভাবে উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। অতিমারি-পরবর্তী যুগে বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবাকে পুনর্নির্ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কাছে সহানুভূতি, অন্তর্ভুক্তি উদ্ভাবনের হাত ধরে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সামনের পথটি আশাব্যঞ্জক - কেবল অর্থনীতির জন্য নয়, বরং লক্ষ লক্ষ জীবনের জন্যও, যাঁরা আমাদের সীমান্তের মধ্যে নিরাময়ের পথ আশা আলোর খুঁজে পাবে

 


নাইসা অরোরা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ইন্টার্ন।


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.