হরমুজ সঙ্কট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাঠামোগত জ্বালানি দুর্বলতাগুলিকে উন্মোচিত করেছে, যা বাহ্যিক ব্যাঘাতকে অঞ্চলব্যাপী অর্থনৈতিক চাপে পরিণত করেছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। ৪ মার্চের মধ্যে সামুদ্রিক যান চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের ১০ শতাংশেরও কম হয়ে যায়। ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছয় এবং এশীয় বাজারে এলএনজি-র দাম তীব্র ভাবে বৃদ্ধি পায়। যদিও একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ফলে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা সীমাবদ্ধ এবং অস্থিতিশীল রয়ে গিয়েছে। কারণ মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটার ফলে প্রবাহ স্বাভাবিক স্তরের চেয়ে অনেকটাই নিচে রয়েছে।
এই ঘটনাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রভাব বহন করে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অনুসারে, ২০২৪ সালে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী অপরিশোধিত তেলের ৮৪ শতাংশ এবং এলএনজি-র ৮৩ শতাংশ এশীয় বাজারের জন্য নির্ধারিত ছিল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ) ইতিমধ্যেই তার ‘সাউথইস্ট এশিয়া এনার্জি আউটলুক ২০২৪’-এ উল্লেখ করেছিল যে, এই অঞ্চলটি তার বর্তমান তেল আমদানির ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীল। এটি এমন একটি দুর্বলতা, যা ২০২৬ সালের সংঘাতকে এখন একটি তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে রূপান্তরিত করেছে। এই সঙ্কট দূরবর্তী ও অস্থিতিশীল সরবরাহ অঞ্চলের উপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতার কাঠামোগত দুর্বলতাকে তুলে ধরে।
যদিও একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ফলে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা সীমাবদ্ধ এবং অস্থিতিশীল রয়ে গিয়েছে। কারণ মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটার ফলে প্রবাহ স্বাভাবিক স্তরের চেয়ে অনেকটাই নিচে রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা এবং কৌশলগত দুর্বলতা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান জ্বালানি সঙ্কট এ কথাই তুলে ধরেছে যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কী ভাবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে এনেছে: এই অঞ্চলের সংঘাত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে এবং জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে, যেমনটি চিত্র ১-এ দেখানো হয়েছে।
চিত্র ১: মধ্যপ্রাচ্যের উপর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির আমদানি নির্ভরতা

উৎস: ভিয়েতনাম ইনভেস্টমেন্ট রিভিউ
আঞ্চলিক প্রধান দেশগুলি তেল সঙ্কটের তীব্র প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে। সারের ঘাটতির ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রভাবের বাইরেও, তেল সঙ্কট সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই সমস্ত কারণ একত্রিত হয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলিকে সতর্ক করেছে। তাৎক্ষণিক সঙ্কট মোকাবিলায় অনেক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ তাদের তেল সরবরাহের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তবে কম্বোডিয়া, লাওস এবং মায়ানমারের মতো দেশগুলি - যারা তেল সরবরাহের জন্য তাদের প্রতিবেশীদের উপর নির্ভরশীল - বিকল্প উৎস সুরক্ষিত করে সঙ্কটটির মোকাবিলা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, চিন ও ভিয়েতনাম থেকে জ্বালানি রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞার পর কম্বোডিয়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার দিকে তার আমদানি বৈচিত্র্যময় করেছে। দীর্ঘস্থায়ী তেল সঙ্কট এখন এই অঞ্চল জুড়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতিতে অবদান রেখেছে, যা সরাসরি সাধারণ জনগণকে প্রভাবিত করছে।
সারণি ১: মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির উপর এর প্রভাব
|
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ |
জ্বালানি আমদানির শতাংশ |
সঙ্কটের প্রভাব |
|
ফিলিপিন্স |
• প্রায় ৯৫-৯৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পারস্য উপসাগর থেকে আসে; • প্রায় ১০০ শতাংশ তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল |
• সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আসিয়ান রাষ্ট্র — এডিবি এবং আইএনজি-র মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত • জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ১০০ পেসো ছাড়িয়ে গিয়েছে; সকল সরকারি সংস্থায় ১০-২০ শতাংশ বাধ্যতামূলক বিদ্যুৎ/জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস • ৪ দিনের সরকারি কর্মসপ্তাহ চালু; প্রেসিডেন্ট মার্কোস ২১.৪৭ বিলিয়ন পেসোর জরুরি তহবিল ছাড় দিয়েছেন • ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বাণিজ্যিক মজুত মাত্র ৫০-৬০ দিনের; রাশিয়া থেকে ৭০০,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে |
|
তাইল্যান্ড |
• উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৫৯ শতাংশ অপরিশোধিত তেল; • উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ২৮ শতাংশ এলএনজি/এলপিজি; ৬৭ শতাংশ নাইট্রোজেন সার |
• অয়েল ফুয়েল ফান্ডের মাধ্যমে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২৯.৯৪ ভাট-এ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে; সরকার বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা ডব্লিউএফএইচ) করার নির্দেশ দিয়েছে • প্রক্রিয়াজাত জ্বালানির রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে (লাওস এবং মায়ানমার ছাড়া); কাঁচামালের ঘাটতির কারণে রায়ং ওলেফিনস প্ল্যান্টের কার্যক্রম স্থগিত করেছে • ১১০ দিনের মজুত; জৈবজ্বালানির মিশ্রণ ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে |
|
ভিয়েতনাম |
• উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৮৭-৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল; • উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ৪৯ শতাংশ এলএনজি/এলপিজি |
• সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেলের দাম প্রায় ৮৪ শতাংশ বেড়েছে; গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ • জ্বালানি আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে; সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের উৎস থেকে ৪০ লক্ষ ব্যারেল জ্বালানি সংগ্রহ করেছে • এই অঞ্চলের ক্ষুদ্রতম কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ • বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে; চিন ও তাইল্যান্ড জেট ফুয়েল রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় জেট ফুয়েলের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে |
|
সিঙ্গাপুর |
• উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৫২ শতাংশ অপরিশোধিত তেল; • গ্যাস থেকে ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ |
• অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে শোধনাগারগুলি উৎপাদন কমিয়েছে; অ্যাস্টার কেমিক্যালস ‘ফোর্স ম্যাজুর’ (অর্থাৎ অপ্রত্যাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা) ঘোষণা করেছে • এলএনজি-র দরুন গভীর ভাবে ঝুঁকির সম্মুখীন — বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল • বিপুল পরিমাণ সরকারি রিজার্ভ মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে খারাপ প্রভাব থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করে • স্পট মার্কেটের মাধ্যমে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল দিয়ে আমদানিতে বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে |
|
মালয়েশিয়া |
• উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬৯ শতাংশ; • গ্যাস থেকে ২৮ শতাংশ বিদ্যুৎ (বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ) |
• তেল ও এলএনজি-র প্রধান রফতানিকারক; সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির চাপের সম্মুখীন। • সার প্রস্তুতকারকরা নতুন বরাত স্থগিত করেছে; সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলি হিলিয়াম সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। • জ্বালানি রফতানির উপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। |
|
ইন্দোনেশিয়া |
• উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল; • পশ্চিম এশিয়া থেকে ৭৫ শতাংশ সালফার আমদানি করা হয়। |
• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি; তেলের ভর্তুকির বাজেট ব্যারেল প্রতি ৭০ মার্কিন ডলার • ৩৮১.৩ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার (২২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) জ্বালানি ভর্তুকি সীমা অতিক্রম করার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে • ত্বরান্বিত বায়োডিজেল কর্মসূচি (বি৫০ ব্লেন্ড); পিটি চন্দ্র আসরি প্যাসিফিককে ‘ফোর্স ম্যাজু’ ঘোষণা করা হয়েছে; তেলের মজুত মাত্র প্রায় ২১-২৩ দিনের। |
|
মায়ানমার |
অভ্যন্তরীণ পরিশোধনের উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা নেই; তাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল। |
• সামরিক হুন্তা একদিন পর পর গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা (জোড়/বিজোড় লাইসেন্স প্লেটের রেশনিং) চালু করে। • ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলি থেকেই জ্বালানি ঘাটতির খবর পাওয়া গিয়েছে; সামরিক অভিযানগুলিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। • জ্বালানি সরবরাহের জন্য তাইল্যান্ডের উপর নির্ভরশীল; মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলানোর জন্য আর্থিক সক্ষমতা মারাত্মক ভাবে সীমিত। চলমান গৃহযুদ্ধ মানবিক জ্বালানি সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। |
|
কম্বোডিয়া |
অভ্যন্তরীণ পরিশোধন ক্ষমতা নেই; তাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। |
• ৬,৩০০টি জ্বালানি স্টেশনের মধ্যে প্রায় ২,০০০টি বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে; ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি বন্ধ থাকবে • ৩০ দিনেরও কম সময়ের জ্বালানি মজুত; সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে নিজস্ব শোধনাগার এবং মজুত তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে • জ্বালানির উপর আমদানি শুল্ক এবং ভ্যাট বাতিল • সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আরও জ্বালানি আমদানি করা হবে |
|
লাওস |
অভ্যন্তরীণ পরিশোধন ক্ষমতা নেই; তাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানির উপর নির্ভরশীল; কিছু জলবিদ্যুৎ রফতানি হয়। |
• একটি দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির অধীনে তাইল্যান্ড থেকে তেল রফতানি গ্রহণ করে। • ঘাটতি মেটাতে ভিয়েতনাম ও অন্যান্য উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি সংগ্রহ করেছে, পাশাপাশি জ্বালানি শুল্ক হ্রাস করেছে এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। |
|
ব্রুনেই |
প্রধান তেল/এলএনজি রফতানিকারক হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল, যার মূল্য ৫০৫.৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। |
• তেল ও এলএনজি-র প্রধান রফতানিকারক — বিশ্বব্যাপী উচ্চমূল্য থেকে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে • জ্বালানি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে • সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সুলতান হাসানাল বলকিয়া অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন • বিদেশি নিবন্ধিত যানবাহনগুলিকে দেশে প্রবেশের সময় ফুয়েল ট্যাঙ্কে কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশ জ্বালানি ভর্তি রাখার নিয়ম চালু করা হয়েছে |
|
তিমুর-লেস্তে |
অভ্যন্তরীণ পরিশোধন ক্ষমতা নেই; সম্পূর্ণ রূপে আমদানির উপর নির্ভরশীল; কৌশলগত মজুত ২০–৬৫ দিনের। |
• বায়ু-উন্দান গ্যাসক্ষেত্র ২০২৫ সালের জুন মাসে বন্ধ হয়ে যাবে • ২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত জ্বালানি পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল’ বলে জানা গিয়েছে; আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, উত্তোলনের হার অব্যাহত থাকলে ২০৩০-এর দশকের শেষের দিকে পেট্রোলিয়াম তহবিল নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। |
সূত্র: লেখকদ্বয় দ্বারা সঙ্কলিত
জ্বালানি সঙ্কটে রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে সরকারি প্রতিক্রিয়াগুলি প্রধানত তিনটি কৌশলের উপর কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে: চাহিদা ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব হস্তক্ষেপ এবং বাহ্যিক বৈচিত্র্যকরণ (দ্রষ্টব্য সারণি ১)। এই পদক্ষেপগুলি ব্যাপক অর্থনৈতিক ব্যাঘাত সীমিত রেখে তাৎক্ষণিক ঘাটতি মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
একটি প্রধান প্রতিক্রিয়া হল চাহিদা নিয়ন্ত্রণ। সরকারগুলি জ্বালানি খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি থেকে কাজ করার নীতি, সংক্ষিপ্ত কর্মসপ্তাহ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ। ফিলিপিন্স সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে, অন্য দিকে তাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করেছে। মায়ানমার জোড়-বিজোড় যানবাহন ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি রেশনিং আরোপ করেছে এবং কম্বোডিয়া ও লাওসের মতো দেশগুলি দৃশ্যমান ঘাটতির মধ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে।
একটি প্রধান প্রতিক্রিয়া হল চাহিদা নিয়ন্ত্রণ। সরকারগুলি জ্বালানি খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দূর থেকে কাজ করার নীতি, সংক্ষিপ্ত কর্মসপ্তাহ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ।
একই সময়ে, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রশমিত করতে রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন উপায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাইল্যান্ড ক্রমবর্ধমান ঘাটতি সত্ত্বেও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার ‘অয়েল ফুয়েল ফান্ড’-এর উপর নির্ভর করেছে, অন্য দিকে ইন্দোনেশিয়া মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি ভর্তুকি বজায় রেখেছে, যা সরকারি অর্থায়নের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ভিয়েতনাম জ্বালানি আমদানি শুল্ক কমিয়েছে এবং তার স্থিতিশীলতা তহবিল ব্যবহার করেছে এবং কম্বোডিয়া জ্বালানির উপর থেকে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে দিয়েছে। এর বিপরীতে, সিঙ্গাপুর ভর্তুকির উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভর না করে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে তার আর্থিক ভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়েছে, যা এই অঞ্চলে রাজস্ব সক্ষমতার পার্থক্যকে তুলে ধরে।
তৃতীয় একটি স্তম্ভ হল বাহ্যিক বৈচিত্র্যকরণ। বেশ কয়েকটি দেশ বিকল্প সরবরাহকারী ও পথের সন্ধান করেছে, যার মধ্যে নিরাপদ ট্রানজিট নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের উৎস থেকে আমদানি বৃদ্ধি করা অন্তর্ভুক্ত। রাশিয়ার জ্বালানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে উৎসাহিত হয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক সমন্বয় — যেমন তাইল্যান্ডের জ্বালানি রফতানি সীমিত করা এবং বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তির অধীনে প্রতিবেশী দেশগুলিতে সরবরাহ বজায় রাখা — ঘাটতি মোকাবিলায় সাহায্য করেছে।
সামগ্রিক ভাবে, এই পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদি ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মাত্র, যা জ্বালানি নির্ভরতা এবং সরবরাহ স্থিতিস্থাপকতার গভীরতর কাঠামোগত দুর্বলতাগুলির সমাধান না করেই কেবল তাৎক্ষণিক চাপ মোকাবিলা করে।
রাশিয়ার জ্বালানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে উৎসাহিত হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
হরমুজ প্রণালী সঙ্কট দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উপর মারাত্মক নির্ভরশীলতাকে সামনে এনেছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এই দুর্বলতাগুলি মোকাবিলা করার জন্য আসিয়ান উদ্ভাবনী সমাধানের মাধ্যমে জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করার বিভিন্ন কৌশল অন্বেষণ করছে। তবে এই প্রচেষ্টার বেশিরভাগই জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যেখানে দেশগুলি ইরানের সঙ্গে নিরাপদ পথের জন্য আলোচনা করে বা রাশিয়ার মতো বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে বের করে এর প্রভাব প্রশমিত করার চেষ্টা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি দীর্ঘমেয়াদি তেল সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। ইরান-মার্কিন উত্তেজনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে রাশিয়ার উপর নির্ভরশীলতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হবে।
এটি রাশিয়ার আঞ্চলিক অবস্থানকে সুসংহত করে তাকে লাভবান করলেও এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অর্থনীতিগুলিকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলবে। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দোদুল্যমান নীতি এই দেশগুলির জন্য একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলি আপাতত তেল ও গ্যাসের সঙ্কট সামাল দিতে পারলেও একটি দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট তাদের অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এই সঙ্কট সম্ভবত বাজেট অনুমান, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয়ের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দোদুল্যমান নীতি এই দেশগুলির জন্য একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলি আপাতত তেল ও গ্যাসের সঙ্কট সামাল দিতে পারলেও একটি দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট তাদের অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার আর একটি দিক হল, কী ভাবে জ্বালানি সঙ্কট অনেক দেশকে সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও তাইল্যান্ডের মতো দেশগুলি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। একই সময়ে, এই সঙ্কট নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, যার ফলে ইন্দোনেশিয়া, লাওস, তাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচিতে আরও বেশি জোর দিয়েছে।
সামগ্রিক ভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসম্পর্ককে তুলে ধরেছে, যা এই অঞ্চলের কৌশলগত দুর্বলতা এবং জ্বালানি নির্ভরতার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিকে উন্মোচিত করেছে। এই সঙ্কট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকে বারবার ঘটে চলা সঙ্কটে খাপছাড়া ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতের ধাক্কা সামলানোর জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধ্য করেছে।
শ্রীপর্ণা ব্যানার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
অভিষেক শর্মা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sreeparna Banerjee is an Associate Fellow in the Strategic Studies Programme. Her work focuses on the geopolitical and strategic affairs concerning two Southeast Asian countries, namely ...
Read More +
Abhishek Sharma is a Junior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the Indo-Pacific regional security and geopolitical developments with a special ...
Read More +