Expert Speak Raisina Debates
Published on May 18, 2026 Updated 0 Hours ago

ট্রাম্পের ২০২৬ সালের সাইবার কৌশলটি একদিকে যেমন মার্কিন প্রযুক্তিগত শক্তির প্রদর্শন, তেমনই একটি দীর্ঘস্থায়ী বহুমাত্রিক সংঘাতে সাইবার আধিপত্যের সীমাবদ্ধতার স্বীকৃতিকেও প্রতিফলিত করে।

ট্রাম্পের সাইবার কৌশলে ইরান ফ্যাক্টর

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা কৌশলের প্রকাশকে অবশ্যই দ্রুত অবনতিশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করতে হবে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে তীব্রতর হতে থাকা সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলঅপারেশন এপিক ফিউরিএবংরোরিং লায়ন’-এর অধীনে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে, তখন থেকে এই সংঘাত প্রচলিত সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সীমা ছাড়িয়ে একটি জটিল সংকর সংগ্রামে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাইবার অভিযান, প্রক্সি কার্যকলাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং তথ্যযুদ্ধ পরস্পরের সঙ্গে জড়িত থেকেছে। মার্কিন-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি দীর্ঘস্থায়ী, বহুক্ষেত্রীয় সংঘাত, যেখানে সাইবার জগৎ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কৌশলটি সাইবার শক্তির ধারণায় একটি উল্লেখযোগ্য বিবর্তনকে তুলে ধরে, যা সক্রিয় সম্পৃক্ততা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের সঙ্গে সাইবার অভিযানের একীকরণের উপর জোর দেয়।

সুতরাং, মার্কিন সাইবার কৌশলের সময়কাল কোনওভাবেই আকস্মিক নয়। এটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কূটনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান চাপের মুখে পড়েছে, সামরিক সংঘাতগুলি থেকে অস্পষ্ট কৌশলগত লাভ অর্জিত হয়েছে, এবং মার্কিন সম্পদভৌত ডিজিটাল উভয়ইইরানের অত্যাধুনিক সাইবার সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত সামরিক শক্তির ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে।


২০২৬ সালের কৌশলটি শিল্পকে বেশি করে অর্থনৈতিক প্রণোদনার অধীনে পরিচালিত একটি অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, বাজার-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বেচ্ছানির্ভর অনুবর্তিতাকে উৎসাহিত করে, এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার উপর অধিক জোর দেয়।



এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কৌশলটি কেবল একটি নীতিগত কাঠামো হিসেবেই নয়, বরং একটি রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের ঘোষণা হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে, যা এমন এক সময়ে স্থিতিস্থাপকতা আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয় যখন আমেরিকার শক্তি একাধিক উপায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর মূলে রয়েছে সাইবার-বাস্তবতা সঙ্গে এক বোঝাপড়া: এই স্বীকৃতি যে কিছু ভূ-রাজনৈতিক সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান নেই। দ্বিতীয়ত, আক্রমণের ক্রমবর্ধমান হার সত্ত্বেও, কঠোর শক্তির আদর্শগত ব্যবহার সাইবার যুদ্ধকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। তবুও রাষ্ট্রগুলি দেখেছে যে ক্ষমতার প্রচলিত পরিমাপকগুলো ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মূল প্রশ্ন হল, সদ্য চালু হওয়া সাইবার কৌশলটি কি বর্ধিত শক্তির ইঙ্গিত দেয়, নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে এর বিদ্যমান সাইবার অবস্থানের দুর্বলতাগুলি প্রকাশ করে। ট্রাম্পের সাইবার কৌশল আমেরিকার সাইবার নীতির বিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে চিহ্নিত করে। এটি এমন এক দ্রুত পরিবর্তনশীল হুমকির প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা বাইডেন প্রশাসনের অধীনে গৃহীত পদ্ধতির সঙ্গে তুলনার সুযোগ করে দেয়। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা কৌশলটি সরকারের পাশাপাশি বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপরও দায়িত্ব অর্পণ করেছিল, যেখানে বিধিমালা বাধ্যতামূলক করা, ফেডারেল সমন্বয় বৃদ্ধি করা, এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপক বাস্তুতন্ত্র তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল। এর বিপরীতে, ২০২৬ সালের কৌশলটি শিল্পকে বেশি করে অর্থনৈতিক প্রণোদনার অধীনে পরিচালিত একটি অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, বাজার-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বেচ্ছানির্ভর অনুবর্তিতাকে উৎসাহিত করে, এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার উপর অধিক জোর দেয়।

শক্তির প্রকাশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা কৌশল

মূলত, এই কৌশলটি সাইবার জগৎকে প্রতিযোগিতার একটি ক্ষেত্র এবং জাতীয় শক্তির একটি স্তম্ভ উভয় হিসেবেই উপস্থাপন করেএটি একটি বৃহৎ কৌশলের সম্প্রসারণ যা অর্থনৈতিক, সামরিক এবং আদর্শগত মাত্রাগুলিকে একীভূত করে। ট্রাম্পের সাইবার কৌশলটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে (এনএসএস) দৃশ্যমানআমেরিকা ফার্স্টনীতিকে সাইবার জগতেও প্রয়োগ করতে চায় এবং একে বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাইবার কৌশলটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি হুমকিকে গুরুত্ব দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাঙ্কিং, খাদ্য সরবরাহ জল শোধনের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবাগুলিতে আমেরিকার বৃহত্তর বিপদ উপলব্ধির মধ্যে সেগুলিকে স্থাপন করে। এই লক্ষ্যে, দলিলটিতে সাইবার জগতের মধ্যে ছয়টি নীতিগত স্তম্ভ এবং তিনটি প্রধান ক্ষেত্রের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এতে বাকস্বাধীনতার সংকোচন হিসেবে যা বর্ণনা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং সেন্সরশিপ, নজরদারি আদর্শগত পক্ষপাতিত্ব মোকাবিলায় প্রযুক্তি ব্যবহারের অঙ্গীকারকে সর্বাগ্রে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই কৌশলটি অনলাইন বিপদের পরিধিকে গুপ্তচরবৃত্তির বাইরে প্রসারিত করে ধ্বংসাত্মক প্রচারণা, প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রম, এবং সাংস্কৃতিক অন্তর্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।


এতে বাকস্বাধীনতার সংকোচন হিসেবে যা বর্ণনা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং সেন্সরশিপ, নজরদারি ও আদর্শগত পক্ষপাতিত্ব মোকাবিলায় প্রযুক্তি ব্যবহারের অঙ্গীকারকে সর্বাগ্রে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই কৌশলটি অনলাইন বিপদের পরিধিকে গুপ্তচরবৃত্তির বাইরে প্রসারিত করে ধ্বংসাত্মক প্রচারণা, প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রম, এবং সাংস্কৃতিক অন্তর্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।



আমেরিকার ইরানের সঙ্গে চলতি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই যে এই কৌশলটি সামনে এসেছে, তা উপেক্ষা করা যায় না। ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আমেরিকার সাইবার দুর্বলতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে চালকবিহীন সিস্টেম, জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল, জাহাজ চলাচল এবং প্রতিপক্ষের তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে। ইরানের সাইবার অভিযানগুলি ঐতিহাসিকভাবে অসামঞ্জস্যকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা,  এবং মিত্র অংশীদারদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাই, এই কৌশলের স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রতিরক্ষার উপর জোর দেওয়াকে শুধুমাত্র সক্রিয় পরিকল্পনা হিসেবে নয়, বরং প্রমাণিত দুর্বলতার প্রতিক্রিয়া হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে হবে।

সাইবার স্থিতিস্থাপকতার ছয়টি নীতিগত স্তম্ভ

এই কৌশলে ছয়টি মূল স্তম্ভের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে: প্রতিপক্ষের আচরণকে প্রভাবিত করার মতো করে এর নকশা তৈরি তার বাস্তবায়ন; নিয়ন্ত্রক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা; ফেডারেল নেটওয়ার্ক জুড়ে একটি জিরো-ট্রাস্ট আর্কিটেকচার তৈরি করা; জ্বালানি গ্রিড, আর্থিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, ডেটা সেন্টার, জল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষার উপর মনোযোগ দেওয়া; গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষিত করতে এবং এর মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত বুদ্ধিবৃত্তিক সুবিধা বজায় রাখতে দ্রুত উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা; এবং পরিশেষে, দেশের অভ্যন্তরে প্রতিভা বিকাশে অগ্রাধিকার দেওয়া।

২০২৬ সালের মার্কিন সাইবার কৌশলটি অনলাইন আক্রমণ থেকে দেশকে সুরক্ষিত করা এবং হ্যাকার, বিদেশি গুপ্তচর অন্যান্য ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে পূর্ববর্তীটির চেয়ে আরও বেশি তৎপর সক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্ক রক্ষা করা, মিত্রদের সঙ্গে কাজ করা, এবং প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করতে সাইবার নন-সাইবার উভয় ধরনের পদক্ষেপযেমন নিষেধাজ্ঞা বা আইন প্রয়োগব্যবহার করা। এছাড়াও, ২০২৬ সালের কৌশলটি বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, প্রযুক্তির উন্নতি করা এবং শত্রুদের কার্যকলাপ জনসমক্ষে প্রকাশ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে।

২০১৮ সালের কৌশলের তুলনায় এতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১৮  সালের সংস্করণটিডিফেন্ডিং ফরওয়ার্ডবাঅগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা উপর জোরালোভাবে গুরুত্ব দিয়েছিল, অর্থাৎ বিপদগুলি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছনোর আগেই থামিয়ে দেওয়া এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু এটি সরকারি পদক্ষেপ এবং সামরিক ধাঁচের প্রতিক্রিয়ার উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। নতুন কৌশলটি সিস্টেম সুরক্ষিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারের কাছ থেকে সরিয়ে বড় সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারীদের উপর অর্পণ করেছে। এটি স্থিতিস্থাপকতার উপরও অধিক জোর দেয়, যার অর্থ হল সিস্টেমগুলি আক্রান্ত হলেও যেন কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

সাইবার অভিযান নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে কার্যকর হতে পারে, কিন্তু এগুলো ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বা কঠোর সামরিক শক্তির বিকল্প হতে পারে না। সর্বোত্তম ক্ষেত্রে, কার্যকর সাইবার সক্ষমতা উভয়কেই পরিপূরণ করতে পারে।



আরেকটি পরিবর্তন হল বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং বাকস্বাধীনতা উন্মুক্ত ইন্টারনেটের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ, সেইসঙ্গে নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতার উপর জোর দেওয়া। এটি নিয়ন্ত্রক সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুততর উদ্ভাবনকেও সমর্থন করে। সামগ্রিকভাবে, নতুন কৌশলটি ২০১৮ সালের পদ্ধতির চেয়ে ব্যাপকতর, অধিক সমন্বিত এবং প্রোঅ্যাক্টিভ। এই কৌশলের উপর ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক ইরানের মতো দেশগুলির বিরুদ্ধে তার সাইবার শক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সাইবার শক্তির সীমাবদ্ধতা

যদিও এই দলিলে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে, তবে একতরফা পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার উপর এর জোর কূটনীতির ভূমিকাকে দুর্বল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষভাবে সমস্যাসঙ্কুল, যেখানে কূটনৈতিক পথগুলি সীমিত এবং যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় মার্কিন কূটনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলিকে তুলে ধরেছে, যা উগ্র-দক্ষিণপন্থী যুদ্ধবিরোধী শিবিরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করেছে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সতর্ক মনোভাবকে স্পষ্ট করেছে। সাইবার অভিযান নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে কার্যকর হতে পারে, কিন্তু তা স্থিতিশীল কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বা কঠোর সামরিক শক্তির বিকল্প হতে পারে না। সর্বোত্তম ক্ষেত্রে, কার্যকর সাইবার সক্ষমতা উভয়কেই পরিপূরণ করতে পারে।

শক্তি ও দুর্বলতার অস্পষ্টতা

মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কৌশলের প্রকাশের সময়টিই সম্ভবত এর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মার্কিন শক্তির উপর দৃশ্যমান চাপের মধ্যে প্রকাশিত এই নথিটিযা আক্রমণাত্মক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের উপর জোর দেয়উদীয়মান হুমকি মোকাবিলায় বিদ্যমান পন্থাগুলির দ্বারা পুরোপুরি অর্জিত না হওয়া মার্কিন স্থিতিস্থাপকতা আধিপত্যের একটি চিত্র তুলে ধরতে চায়।

যেহেতু সাইবার সংঘাত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ এবং বহুক্ষেত্রীয় অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে, তাই ক্ষমতার প্রচলিত সূচকগুলিসামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক নাগালনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আর যথেষ্ট নয়। এই অর্থে, কৌশলটিকে সংঘাতের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির একটি প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিফলন উভয় হিসাবেই দেখা যেতে পারে। তবে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং আমেরিকান কূটনৈতিক সামরিক কার্যকারিতার উপর দৃশ্যমান চাপের মধ্যে এর প্রকাশ গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে।


যেহেতু সাইবার সংঘাত নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ এবং বহুক্ষেত্রীয় অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে, তাই ক্ষমতার প্রচলিত সূচকগুলি — সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক নাগাল — নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আর যথেষ্ট নয়। এই অর্থে, কৌশলটিকে সংঘাতের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির একটি প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিফলন উভয় হিসাবেই দেখা যেতে পারে।



রাষ্ট্রীয় অরাষ্ট্রীয় পক্ষগুলির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একটি নমনীয় স্থিতিস্থাপক সাইবার কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম। ক্ষমতার অসামঞ্জস্য সাইবার জগতে প্রতিবন্ধকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে, এবং একটি সম্পদ-নিবিড় পন্থাযা এই যুদ্ধের সময় মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের কার্যকলাপে প্রতিফলিত হয়েছেসবসময় উপযুক্ত নাও হতে পারে। চলতি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, বিভাজন একটি গুরুতর দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে। ইরানের সাইবার অভিযানগুলি প্রায়শই বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেখানে সমন্বয় তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতিকে কাজে লাগানো হয়েছে। উপরন্তু, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দ্রুত গতি পরিকাঠামো সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।

পরিশেষে, এই নথিটি সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে: সাইবার নিরাপত্তা শুধু একটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি একটি গভীর কৌশলগত উভয়সঙ্কট, যেখানে এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও সংঘাতের বহুমাত্রিক পরিসরকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্পদ সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু সাইবার হুমকির ধারাবাহিকতা, প্রতিপক্ষের স্থিতিস্থাপকতা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের জন্যও সাইবার নিরাপত্তা একটি দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।



সৌম্য অবস্থি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।

বিবেক মিশ্র অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Soumya Awasthi

Soumya Awasthi

Dr Soumya Awasthi is a Fellow, Centre for Security, Strategy and Technology at the Observer Research Foundation. Her work focuses on the intersection of technology and ...

Read More +
Vivek Mishra

Vivek Mishra

Vivek Mishra is Deputy Director – Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation. His work focuses on US foreign policy, domestic politics in the US, ...

Read More +