Author : Sayantan Haldar

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 10, 2026 Updated 0 Hours ago

নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তামূলক ভূমিকাযা কূটনীতি, নজরদারি এবং সামুদ্রিক পুলিশিং কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করেইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিমণ্ডলকে রূপদানে ভারতের প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে

ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতীয় নৌবাহিনীর উদীয়মান নিরাপত্তা ভূমিকা

ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জটিল ও বহুমুখী মাত্রা অন্তর্ভুক্ত করে বিকশিত হয়েছে। বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে নিরাপত্তার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে নয়াদিল্লি একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করায় দেশের প্রধান সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। যদিও সাধারণত মনে করা হয় যে, নৌবাহিনীর ভূমিকা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভারতীয় নৌবাহিনী সামুদ্রিক ক্ষেত্রে কূটনৈতিক এবং পুলিশি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তার পরিধি ক্রমান্বয়ে প্রসারিত করেছে। ভারতের জন্য, নৌবাহিনীর ভূমিকার এই বৈচিত্র্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরে ভারতের কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে এর উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, নয়াদিল্লির নৌ-‌প্রস্তুতি জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নির্ধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, একটি কূটনৈতিক এবং পুলিশি সংস্থা হিসেবে নৌবাহিনীর ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।


নয়াদিল্লির নৌ প্রস্তুতি জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নির্ধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত।



ভারতের সম্প্রসারিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

একটি কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে, নৌবাহিনী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি অনুকূল সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা কূটনীতি, যৌথ মহড়া এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিভিন্ন সমমনস্ক দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে সেইসব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা এ পর্যন্ত ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় প্রান্তিক অবস্থানে ছিল। ফলস্বরূপ, ইন্দো-প্যাসিফিকের যৌথ সামুদ্রিক পরিসরে উপকূলীয় দেশগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ভারতের বিদেশনীতি তার প্রতিবেশী অঞ্চলের ধারণাকে আরও প্রসারিত করেছে বলে মনে হয়।

এছাড়াও, নৌবাহিনী তার পুলিশি ভূমিকার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। সামুদ্রিক ক্ষেত্র হল শাসন ও নিয়মকানুন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে মহাসাগরে একটি নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাণিজ্য, সংযোগ এবং সামুদ্রিক সম্পদের স্থিতিশীল ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য। এটি মহাসাগরে পুলিশি কার্যক্রমের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি ভূমিকাকে নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ প্রশস্ত করেছে। ভারতের জন্য পুলিশি কার্যক্রম তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রচেষ্টার একটি মূল মাত্রা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশল শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় তিনটি স্বতন্ত্র উন্নয়নের মাধ্যমে এই মাত্রার বিবর্তনকে চিহ্নিত করা যায়।

প্রথমত, ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার ফলে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীকে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। হামলাকারীরা আরব সাগরের মধ্য দিয়ে যে পথ ব্যবহার করেছিল, তা সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার উল্লেখযোগ্য আন্তঃসম্পর্ক প্রদর্শন করে। পুলিশি কার্যক্রমের দায়িত্বে নিয়োজিত ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর এই অন্তর্ভুক্তি নৌবাহিনীর পুলিশি ভূমিকা শক্তিশালী করার দিকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয়ত, ভারতীয় নৌবাহিনী দ্বারা পরিচালিত ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার – ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন (আইএফসি-আইওআর) প্রতিষ্ঠা করে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের সাথে সাথে তথ্য সংগ্রহ, আদান-প্রদান এবং প্রচার সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতিমূলক প্রচেষ্টাকে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। আইএফসি-আইওআর-এর মাধ্যমে ভারত বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগের পুলিশি কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চেয়েছে।


সম্প্রতি তিনটি নতুন নৌযানের — আইএনএস মাহে, আইএনএএস ৩৩৫ (অসপ্রে) এবং আইসিজিএস অমূল্য — আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি এই পরিবর্তনকেই তুলে ধরে।



তৃতীয়ত, এবং আরও সম্প্রতি, নৌবাহিনী সমুদ্রে তার নজরদারি এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। সম্প্রতি তিনটি নতুন নৌযানের —  আইএনএস মাহে, আইএনএএস ৩৩৫ (অসপ্রে),  এবং আইসিজিএস অমূল্য  — আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি এই পরিবর্তনকেই তুলে ধরে। ইন্দো-প্যাসিফিক এবং ভারতের নিকটবর্তী অঞ্চলে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, সামুদ্রিক ক্ষেত্রে নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, যার মধ্যে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতাসম্পন্ন গবেষণা জাহাজের মোতায়েনও অন্তর্ভুক্ত, ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা লক্ষ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিপদ সৃষ্টি করে। এর ফলেই ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলে বৃহত্তর নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

২৪ নভেম্বর, নৌবাহিনী নতুন মাহে-শ্রেণির ডুবোজাহাজ-বিরোধী অগভীর জলের যুদ্ধযান ‘আইএনএস মাহে’-কে কমিশন করে। এই যানটির কাজ হল উপকূলীয় প্রতিরক্ষার প্রথম স্তরকে শক্তিশালী করা এবং অগভীর উপকূলীয় জলে ডুবোজাহাজ পর্যবেক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করা। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যানটির লক্ষ্য হল সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, উপকূলীয় টহল এবং উপকূলীয় সংকীর্ণ পথে মাইন পাতার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করা।

১৭ ডিসেম্বর, নৌবাহিনী আরও একটি ইউনিট অন্তর্ভুক্ত করে, যার নাম আইএনএএস ৩৩৫ (অসপ্রে)। এটি এমএইচ-৬০আর হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী দ্বিতীয় ভারতীয় নৌবিমান স্কোয়াড্রন, যা নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সক্ষমতাকে একটি বড় ধরনের গতি প্রদান করে। যুদ্ধ ও নজরদারি উভয় ক্ষেত্রেই এর বহুমুখী ক্ষমতার কারণে নৌবিমান চালনা নৌবাহিনীর নিরাপত্তা কার্যক্রমের একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। আইএনএএস ৩৩৫ ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনার জন্য সুসজ্জিত এবং একই সঙ্গে এটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানকেও উন্নত করে।

১৯ ডিসেম্বর, ভারতীয় কোস্ট গার্ড তাদের আটটি অদম্য-শ্রেণির ফাস্ট পেট্রোল ভেসেলের মধ্যে তৃতীয় জাহাজ, আইসিজিএস অমূল্য-কে, তাদের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আইসিজিএস অমূল্যকে নজরদারি ও উপকূলীয় টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং চোরাচালান-বিরোধী প্রচেষ্টাসহ বিস্তৃত পরিসরের অভিযানমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তার পুলিশি ব্যবস্থায় কোস্ট গার্ডের কেন্দ্রীয় ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে, এই জাহাজটির অন্তর্ভুক্তি ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের মধ্যে পুলিশি ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক নজরদারির উপর প্রদত্ত গুরুত্বকে তুলে ধরে।


সম্প্রতি এই তিনটি জাহাজের কমিশনিং ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির কনস্ট্যাবুলারি (আইন প্রয়োগকারী)-‌র ক্রমবর্ধমান তাৎপর্যকে আরও বেশি করে তুলে ধরে।



ইন্ডিয়ান ওশান গার্ডের ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, যার মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীতে এর অন্তর্ভুক্তি এবং আইএফসি-আইওআর-এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত, ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে পরিসর (‌ডোমেন)‌ নজরদারির গুরুত্বকে তুলে ধরে। তবে, সম্প্রতি এই তিনটি জাহাজের কমিশনিং ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির কনস্ট্যাবুলারি (আইন প্রয়োগকারী)-‌র ক্রমবর্ধমান তাৎপর্যকে আরও বেশি করে তুলে ধরে। সমুদ্রে একটি প্রধান কূটনৈতিক শক্তি এবং সামরিক শাখা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান জটিল ও বহুমুখী ভূমিকার প্রেক্ষাপটে দেখলে, নৌবাহিনীর কনস্ট্যাবুলারি কার্যক্রম ইঙ্গিত দেয় যে ইন্দো-প্যাসিফিকের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিও বিকশিত হচ্ছে।



সায়ন্তন হালদার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের  অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.