Author : Lavanya Mani

Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 09, 2026 Updated 0 Hours ago

বর্তমান বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে, কারণ ক্ষমতার পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি, নতুন -‌রাষ্ট্রীয় শক্তিসমূহ, ভঙ্গুর জোট এবং সেকেলে নিয়মকানুন বৈশ্বিক শাসনকে একটি অচল খেলায় পরিণত করেছে।

বর্তমান বহুপাক্ষিকতার অসম্ভাব্যতা

২০২৫ সালে ৮০তম রাষ্ট্রপুঞ্জ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) নেতারা যখন বহুপাক্ষিক সংস্কারের আহ্বান জানানোর বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন, এবং এর ফলে সংলাপ আলোচনার আরেকটি পর্ব শুরু হতে চলেছে, তখন এই বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখাটা প্রাসঙ্গিক। বেশিরভাগ সংস্কার বিতর্ক আলোচনা ন্যায্যতা বা কার্যকারিতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, কিন্তু এখন সবাই জানে যে বর্তমান বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো এর কোনওটিই নয়। যদি সংস্কারের কারণটি আরও মৌলিক হয়অর্থাৎ যদি এমন হয় যে আমরা এমন একটি সেকেলে খেলা খেলার চেষ্টা করছি যার নিয়মগুলো আর কার্যকর নয়, যা খেলাটিকে একটি অচলাবস্থায় পরিণত করেছে? যদি বহুপাক্ষিকতা দেশগুলির খেলার একটি বিন্যাস হয়, তবে এটি প্রতিটি খেলার সেই মৌলিক উপাদানগুলোই ধারণ করে যা খেলাটিকে সংজ্ঞায়িত করে। যদি সেই মৌলিক উপাদানগুলি বিমূর্তভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে খেলাটি তার বর্তমান রূপে খেলা অসম্ভব হয়ে পড়ে।


এই জোটটি বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ, বিশ্ব জিডিপি-র (পিপিপি ভিত্তিতে) প্রায় ৪০ শতাংশ, এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যা বৈশ্বিক বৃদ্ধিকে চালিত করছে এবং অর্থনৈতিক গতিপথকে রূপ দিচ্ছে।


পরিবর্তনশীল খেলোয়াড় ও দল এবং রেফারিবিহীন একটি খেলা

আমরা একটি শিথিল দ্বিমেরু বিশ্বে আছি নাকি একটি বহুমেরু বিশ্বে আছি, তা বিতর্কের বিষয়। বহুমেরুত্বের দাবি নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে রাশিয়া চিন একটি বহুমেরু বিশ্ব এবং একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যৌথ ঘোষণা  জারি করেছিল, এবং ২৮ বছর পরেও আমরা বহুমেরুত্বের উত্থান নিয়ে আলোচনা করছি। একমেরু বা দ্বিমেরু বিশ্বে আমাদের বড় কোনও ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না; এটি ছিল সুস্পষ্ট অনস্বীকার্য। বহুমেরুত্বও একইভাবে স্পষ্ট হবে। আমরা সত্যিই একটি বহুমেরু বিশ্বে আছি কি না, তা নির্বিশেষে একটি বিষয় স্পষ্ট: অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষমতা জোটের বিন্যাস পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্রিকস-এর ১১টি পূর্ণ সদস্য এবং ১০টি অংশীদার দেশ রয়েছে, যা প্রধান মহাদেশ এবং ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত: এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকা, যা গ্লোবাল সাউথ এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। এই জোটটি বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪৯. শতাংশ, বিশ্ব জিডিপি- (পিপিপি ভিত্তিতে) প্রায় ৪০ শতাংশ, এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যা বৈশ্বিক বৃদ্ধিকে চালিত করছে এবং অর্থনৈতিক গতিপথকে রূপ দিচ্ছে। এই জোটটি বৈশ্বিক শক্তির ভবিষ্যৎকেও নিয়ন্ত্রণ করে, কারণ বিশ্বের অবশিষ্ট কয়লা প্রকল্পের (নির্মাণাধীন বা নির্মাণ-পূর্ববর্তী প্রকল্প) ৯৪ শতাংশই তাদের অধীনে রয়েছে, উন্নয়নাধীন তেল গ্যাস সক্ষমতার ৪০ শতাংশ তাদের দখলে আছে, এবং তারা ইতিমধ্যেই বিশ্বের মোট সৌর বিদ্যুতের ৫১ শতাংশ উৎপাদন করে। শক্তি সরবরাহের পরবর্তী ধারার উপর ব্রিকসের এই আধিপত্য ক্রমবর্ধমানভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করবে, রূপান্তরের গতি নির্ধারণ করবে, এবং জ্বালানির অস্থিরতা মূল্য উভয়কেই প্রভাবিত করবে। এছাড়াও, ব্রিকস দেশগুলি বিশ্বের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় ৪২ শতাংশের জন্য দায়ী, এবং বিশ্বের বৃহত্তম চাল গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত রাশিয়া এই জোটের অংশ। অতীতে শুধুমাত্র তাদের অভ্যন্তরীণ নীতিই বিশ্বব্যাপী মূল্য সংকট সৃষ্টি করেছে। অধিকন্তু, রাশিয়ার নেতৃত্বে একটি ব্রিকস শস্য বিনিময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদীয়মান পরিকল্পনাটি বৈশ্বিক শস্য বাজার এবং মূল্যকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে এই জোটের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে, যা বর্তমান পশ্চিমী-নেতৃত্বাধীন বিনিময় কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে। এই সব কিছুই ব্রিকসকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই নয়, বরং বৈশ্বিক পণ্যের সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যার প্রত্যক্ষ আন্তর্জাতিক অভ্যন্তরীণ প্রভাব রয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে ক্ষমতার পালাবদল এবং অর্থনৈতিক প্রভাব এখন বৈশ্বিক কৌশলগুলির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


ট্রান্সআটলান্টিক জোটে স্পষ্ট ফাটল দেখা যাচ্ছে, তা সে সদস্য দেশগুলি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে ন্যাটো থেকে সরে আসা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির মাধ্যমেই হোক বা ট্রাম্প ২.০-এর অধীনে পুনরায় শুরু হওয়া শুল্ক যুদ্ধের মাধ্যমেই হোক, যার জবাবে মিত্র দেশগুলিও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।



যখন নতুন জোটগুলি গতি পাচ্ছে, তখন পুরনো জোটগুলি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ট্রান্সআটলান্টিক জোটে স্পষ্ট ফাটল দেখা যাচ্ছে, তা সে সদস্য দেশগুলি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে ন্যাটো থেকে সরে আসা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির মাধ্যমেই হোক বা ট্রাম্প .-এর অধীনে পুনরায় শুরু হওয়া শুল্ক যুদ্ধের মাধ্যমেই হোক, যার জবাবে মিত্র দেশগুলিও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপমার্কিন শুল্কের জবাবে ইইউ ২৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্য রপ্তানির উপর শুল্ক আরোপ করেছে, যা ১৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের ইইউ রপ্তানিকে প্রভাবিত করেছিল এই সমস্যাগুলি সমাধান করা সহজ নয়, বিশেষ করে রাশিয়ার কথিত হুমকি থেকে উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করলে। ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্ররা ঋণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার চাপের কারণে ন্যাটোর নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একা ন্যাটোকে টিকিয়ে রাখতে পারবে না, কারণ তাদের নিজেদেরও ঋণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার সমস্যা রয়েছে, যা শত বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো মে ২০২৫- মুডি' কর্তৃক মার্কিন ক্রেডিট রেটিং কমানোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে সুতরাং, এই চ্যালেঞ্জটি কেবল একটিট্রাম্প-সম্পর্কিত সমস্যাহওয়ার সম্ভাবনা কম। উপরন্তু, যেহেতু শুল্ক যুদ্ধের নজির ইতিমধ্যেই স্থাপিত হয়েছে, তাই এগুলি এখন এমন একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ব্যবহার করতেই  থাকবে, তা সেখানে যে কোনও প্রশাসনই ক্ষমতায় থাকুক না কেন। সর্বোপরি, বিকল্প হাতিয়ারই বা কী আছে? ফলে, ‘মিত্রএবংঅংশীদার’-এর মধ্যেকার ঐতিহ্যবাহী পার্থক্যটি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, এবং নিরাপত্তা জোট অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মধ্যেকার পার্থক্যও বিলীন হয়ে গেছে।


এই খেলার অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে বলতে গেলে, যুদ্ধ-পরবর্তী বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে বিষয়টি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা হল অরাষ্ট্রীয় পক্ষগুলির উত্থান, যারা এমন সব উপায়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করে যা পুরোপুরি বোঝা বা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়যেমন প্রযুক্তি সংস্থা, সামরিক ঠিকাদার, বৈশ্বিক সক্রিয়তাবাদী নেটওয়ার্ক, এনজিও বা গণমাধ্যম। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় যেমনটি তুলে ধরা হয়েছে, গ্রেটা থানবার্গের জলবায়ু ইস্যুতে জনমতকে একত্রিত করা, জনহিতকর ফাউন্ডেশনগুলির বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য কৃষি নীতিকে প্রভাবিত করা, কিংবা এনজিও নেটওয়ার্ক এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলিকে অভ্যন্তরীণ আমলাতন্ত্র বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রভাবিত করা হোক, এই ধরনের অরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক পক্ষগুলি এখন বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শক্তিশালীমাধ্যমহিসেবে কাজ করছে, যা পূর্বে শুধু রাষ্ট্রগুলির জন্যই সংরক্ষিত ছিল। বিখ্যাত পণ্ডিত টমাস ওয়েইস এই ধরনের পক্ষগুলিকে তৃতীয় ইউএন হিসেবে অভিহিত করেন, কারণ বহুপাক্ষিক কার্যসূচিতে তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে (এখানেপ্রথম ইউএনহল প্রতিষ্ঠানটি নিজে এবংদ্বিতীয় ইউএনহল এর আমলারা)



এই সমস্ত অ-‌রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলি যে ক্ষমতার অধিকারী, তা বর্তমান বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রচলিত দায়বদ্ধতা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে, যা তাদের বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য একই সঙ্গে অপরিহার্য এবং বিঘ্ন সৃষ্টিকারী করে তুলেছে।



গত দশকে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোই বিশেষভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের আরেকটি গবেষণায় দেশীয় আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অসাধারণ প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে:‌ তা সে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলিতে পালান্টিয়ারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নজরদারি সক্ষম করা হোক, কিংবা মেটার মতো সংস্থার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা মার্কিন নজরদারি আইনের অধীনে মার্কিন সার্ভারে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশি বিধিবিধানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো হোক, অথবা বাইডু আলিবাবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং ওপেনএআই-এর জেনারেটিভ এআই-এর সামরিক ব্যবহারে সমর্থনের মতো সরকারি কৌশলগত উদ্দেশ্যের সঙ্গে নিজেদের সারিবদ্ধ করা হোক, প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবেসুপার পলিসি এন্টারপ্রেনিউয়ারসহিসেবে নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে। এই সমস্ত -‌রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলি যে ক্ষমতার অধিকারী, তা বর্তমান বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রচলিত দায়বদ্ধতা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে, যা তাদের বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য একই সঙ্গে অপরিহার্য এবং বিঘ্ন সৃষ্টিকারী করে তুলেছে। 


এই সমস্ত পরিবর্তনের মূলে রয়েছে এই খেলায় একজন রেফারির অনুপস্থিতি। মার্কিন আধিপত্যবাদী স্থিতিশীলতা যুদ্ধ-পরবর্তী শাসন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিত্তি দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এই ধারণাটি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি, এবং যুক্তরাষ্ট্রও এই ব্যবস্থাগুলিকে কার্যকরভাবে ধরে রাখার ভূমিকা পালন করেনি। এখন তারা মূলত এগুলিকে পরিত্যাগ করেছে, ফলে খেলাটি রেফারিবিহীন হয়ে পড়েছে। সেই রেফারি ন্যায্য ছিলেন কি না তা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রশ্ন, কিন্তু বাস্তবতা হল ব্যবস্থাটি বর্তমানে ভিত্তিহীন হয়ে পড়েছে।

অরক্ষিত মাঠে নতুন কৌশল, ভাঙা স্কোরবোর্ড সহ

বৈশ্বিক শাসনের খেলার কৌশলগুলি বিকশিত হয়েছে, এবং খেলার মাঠও পরিবর্তিত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করা, শুল্ক যুদ্ধে জড়ানো, আন্তঃসীমান্ত নজরদারিকে কাজে লাগানো, এবং -‌রাষ্ট্রীয় খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর্মসূচিকে রূপ দেওয়া এখন ক্ষমতা প্রভাব বিস্তারের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। নতুন খেলোয়াড়দের প্রবেশ এবং পুরনোদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কর্মসূচিগুলি এমনভাবে রূপ পাচ্ছে যা বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির মূল নকশা দিয়ে অনুমান করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।


বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করা, শুল্ক যুদ্ধে জড়ানো, আন্তঃসীমান্ত নজরদারিকে কাজে লাগানো, এবং অ-‌রাষ্ট্রীয় খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর্মসূচিকে রূপ দেওয়া এখন ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।



কিন্তু এইমূল্যায়ন ব্যবস্থাএখনও সেকেলে রয়ে গেছে। স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা প্যারিস চুক্তির জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রার মতো সূচকগুলি এখনও অতীতের একটি যুগের অনুমান এবং কাঠামোর উপর ভিত্তি করে তৈরি। আমরা এই লক্ষ্যগুলির কোনওটিই অর্জনের ধারেকাছে নেই, এবং দায়বদ্ধতা বা প্রয়োগযোগ্য পরিণতি না থাকায়, এই লক্ষ্যগুলি বড় জোর আকাঙ্ক্ষামাত্র, যা সম্ভবত এর প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে। পরিবর্তিত বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে বারবার এই একই সূচকগুলিকে নতুন করে তৈরি করলে তা সেগুলিকে আরও বেশি বৈধতা বা গতি দেবে না। এই পর্যায়ে, এই সেকেলে মূল্যায়ন ব্যবস্থা আঁকড়ে থাকাটা সম্ভবত শুধুই একটি সাঙ্ক কস্ট ফ্যালাসি বা  বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেই লোকসানের মুখোমুখি ব্যবস্থাকে আঁকড়ে থাকার ভ্রান্তি।

এই খেলায় যে প্রধান উপাদান অনুপস্থিত তা হল এর সময়কাল। একটি সাধারণ খেলার মতো নয়, বহুপাক্ষিকতার এইখেলারকোনও নির্দিষ্ট শেষ নেই, যা এটিকে আরও জটিল করে তোলে, স্বল্পমেয়াদি কৌশল অবলম্বনে উৎসাহিত করে এবং কাঠামোগত ত্রুটিগুলির পরিণতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

উপসংহার

বর্তমান পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিকতার মধ্যে সাধারণ লক্ষ্যমাত্রার অভাব রয়েছে, এমনকি পুরনো মিত্র অংশীদারদের মধ্যেও। শান্তি স্থিতিশীলতার যে মূল্যবোধগুলি এই যুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরির চালিকাশক্তি ছিল, সেগুলি শুধু সংকটের মুহূর্তেই বোঝা যায়। আজকের পরিবেশে ঝুঁকি অনেক বেশি, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত, এবং বিভিন্ন পক্ষের কৌশলগত সাধারণ লক্ষ্যগুলিকে অবমূল্যায়িত করা হয়। যা সর্বোচ্চ ‘‌খেলার সময়’‌ বলে মনে হচ্ছে, তা আসলে একটি পদ্ধতিগত বিশৃঙ্খলা, কারণ খেলাটি ব্যবস্থার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে গেছে এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা তার সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করছে।

সংস্কারের বিতর্কগুলি প্রতিটি পক্ষের অগ্রাধিকার এবং অ্যাজেন্ডাকেই প্রতিফলিত করে। একমাত্র যে বিষয়ে তারা সবাই একমত হতে পারে তা হল, এই ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাপক মতবিরোধ এবং অচলাবস্থাগুলো এই ইঙ্গিত দেয় যে, আমরা যেভাবেই দেখি না কেন, কেউই আর এই খেলা খেলতে চায় না বা বর্তমান ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখে না। আর যখন খেলাটি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং কেউ খেলতে চায় না, তখন ব্যবস্থাটি কেবল স্থবির হয়ে পড়ে নাএটি ভেঙে পড়ে, এবং বৈশ্বিক অঙ্গন অরক্ষিত হয়ে যায়।


লাবণ্য মনি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.