বিশ্বব্যাপী এআই বিক্রেতারা যখন জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দিকে এগিয়ে আসছে, তখন ভারতকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, সেবাক্ষেত্রকে রূপদানকারী ব্যবস্থাগুলি যেন তাদের সেবাপ্রাপ্ত জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
আধুনিক হাসপাতাল এমন একটি জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে কোডের ভিত্তিতে সেবা পুনর্গঠিত হচ্ছে। ইংল্যান্ডে, এনএইচএস ইংল্যান্ডের ফেডারেটেড ডেটা প্ল্যাটফর্ম-এ (এফডিপি) প্যালান্টিয়ারের ভূমিকার মাধ্যমে এই পরিবর্তনটি একটি রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল হাসপাতালের তথ্যকে সংযুক্ত করা, পরিকল্পনা উন্নত করা, অপেক্ষার তালিকা কমানো এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও বেশি কার্যকর করে তোলা। ইংল্যান্ডের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) জানায় যে, রোগীর তথ্য জনসাধারণের নিয়ন্ত্রণেই থাকে। তবে এই বিতর্কটি এখনও বিদ্যমান। কারণ প্রশ্নটি তথ্য সুরক্ষার চাইতেও বড়। একটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আস্থার উপর নির্ভরশীল এবং সেই আস্থা তখন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে যখন এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সফটওয়্যারটি এমন একটি সংস্থা সরবরাহ করে, যার বৃহত্তর খ্যাতি প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা এবং নজরদারি-সম্পর্কিত কাজের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
ভারতের এই বিষয়ে গভীর মনোযোগ দেওয়া উচিত। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তাটি ছিল অ্যানথ্রোপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘মিথোস’ সম্পর্কিত, যা সাইবার ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলিকে দেখা উচিত। হাসপাতাল, বিমা প্ল্যাটফর্ম, রোগ নজরদারির নেটওয়ার্ক এবং ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (ইএইচআর) আর সাধারণ পরিষেবা প্রদানের মাধ্যম থাকে না, যখন সেগুলি অন্যত্র নির্মিত এআই সিস্টেমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
গুগল ডিপমাইন্ড ইতিমধ্যেই ভারতীয় সরকারি সংস্থা এবং বিজ্ঞান ও চিকিৎসাক্ষেত্রের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করেছে, যা দেখায় যে, কী ভাবে অগ্রণী এআই সংস্থাগুলি সংবেদনশীল জনপরিসরের দিকে এগিয়ে আসছে। হাসপাতাল-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রের কেন্দ্রে তাই এখন মূল প্রশ্ন হল, প্রযুক্তির রাজনৈতিক চরিত্রকে এআই সংস্থাগুলির নেপথ্যে থাকা মানুষ এবং সেই সব রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা যায় কি না, যাদের কৌশলগত স্বার্থে তারা অনিবার্য ভাবে যুক্ত হবে। যদি হাসপাতাল ব্যবস্থা শাসনের স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হয়ে ওঠে, তবে ভারতকে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে যে, এর অপারেটিং সিস্টেমটি কে নির্মাণ করছে। এআই সার্বভৌমত্ব এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হয়। কারণ একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে সরকারি হতে পারে না, যদি তার মূল কার্যপ্রণালী জননিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে গঠিত হয়।
ডেটা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থা
এনএইচএস বিতর্কটি শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যাপকতা দিয়ে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের একটি পৃথক সুরক্ষিত ডেটা এনভায়রনমেন্ট প্রজেক্ট অর্থাৎ ফোরসাইট এআই এ বিষয়ে ধারণা প্রদান করে যে, এই বাস্তুতন্ত্রের মধ্যেই বর্তমানে ব্যাপক বিশালতা সংগঠিত হচ্ছে। এতে রয়েছে ৫৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের পরিচয়বিহীন রেকর্ড, ১০ বিলিয়নেরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ঘটনা এবং ভর্তি, রোগ নির্ণয়, পদ্ধতি, ঔষধ ও টিকাদান-সহ ৪০,০০০-এরও বেশি ধরনের ঘটনা। এনএইচএস এফডিপি সেই একই ধরনের প্রকল্প নয়। তবে এটি স্বাস্থ্য রেকর্ডকে অপারেশনাল ইন্টেলিজেন্সে রূপান্তরের একই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ। প্যালান্টিয়ার-নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম ২০২৩ সালে এফডিপি চুক্তিটি জিতেছিল, যার মূল্য সাত বছরে ৩৩০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত এবং ২৪০টি এনএইচএস সংস্থা এর আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
হাসপাতালগুলি যখন কোনও ভেন্ডরের কাঠামোর মাধ্যমে সেবা প্রদানের পরিকল্পনা করে, তখন সেই কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক বিচার-বিবেচনাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। এটিই নির্ধারণ করে দেয়, কোনটি জরুরি এবং কোনটি প্রশাসনিক ভাবে অসুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
এনএইচএস ইংল্যান্ড এই ব্যবস্থার চারপাশে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানার চেষ্টা করেছে। প্যালান্টিয়ারকে একটি ডেটা প্রসেসর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রোগীর তথ্য এনএইচএস-এর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, প্রসেসিং অর্থাৎ তার প্রক্রিয়াকরণের দায় অবশ্যই সংযুক্ত যুক্তরাজ্যের হতে হবে; এবং সংস্থাটির কাছে এনএইচএস- এর তথ্য বাণিজ্যিকীকরণ বা তাদের নিজস্ব মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি নেই। এগুলি নিঃসন্দেহে অর্থবহ সুরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু এদের দুর্বলতাও অবশ্য পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় না। সরকারি ব্যবস্থাগুলি তথ্যের আইনি মালিকানা ধরে রাখতে পারে, কিন্তু একটি প্ল্যাটফর্ম দ্বারা সৃষ্ট রুটিন এবং নির্ভরশীলতার উপর থেকে বাস্তব নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। হাসপাতালগুলি যখন কোনও ভেন্ডরের কাঠামোর মাধ্যমে সেবা প্রদানের পরিকল্পনা করে, তখন সেই কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক বিচার-বিবেচনাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। এটিই নির্ধারণ করে দেয়, কোনটি জরুরি এবং কোনটি প্রশাসনিক ভাবে অসুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
প্যালান্টিয়ারের খ্যাতি এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তোলে। গোয়েন্দা খাতে সংস্থাটির ইতিহাস স্বাস্থ্যসেবা খাতে এর প্রবেশকে রাজনৈতিক ভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে, এমনকি যখন চুক্তির শর্তাবলি সীমাবদ্ধ বলে মনে হয়। এর ইস্তেহার-ধাঁচের ভাষা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক - যাকে ওয়েস্টমিনস্টারে ‘এক খলনায়কের প্রলাপ (র্যাম্বলিংস অফ আ সুপারভিলেন)’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল - শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কারণ এটি সেবাকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রতিষ্ঠানে হার্ড-পাওয়ার প্রযুক্তির প্রবৃত্তি আমদানি করার বিষয়ে একটি বৃহত্তর অস্বস্তিকে তুলে ধরেছিল। প্যালান্টিয়ারের সরকারি চুক্তিগুলির উপর নিরীক্ষা বা সীমা আরোপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আহ্বান এটাই প্রমাণ করে যে, এই উদ্বেগ গণতন্ত্রব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।
এনএইচএস যখন প্রথম প্যালান্টিয়ারের চুক্তিটি প্রকাশ করে, তখন এর ৫৮৬টি পৃষ্ঠার মধ্যে ৪১৭টি পৃষ্ঠা সম্পূর্ণ ভাবে মুছে ফেলা হয়েছিল, যার ফলে এই ব্যাপক পরিমাণ তথ্য মুছে ফেলার প্রতিবাদে গুড ল প্রজেক্ট আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে এনএইচএস ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়-সহ কম তথ্য মুছে ফেলে চুক্তিটি পুনরায় প্রকাশ করতে সম্মত হয়। যে প্ল্যাটফর্মটি জনআস্থার উপর নির্ভরশীল, তার জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ক্ষতিকর সূচনা।
প্যালান্টিয়ারকে ঘিরে প্রতিবাদটি বেসরকারি প্রযুক্তির প্রতি একটি সাধারণ আপত্তির চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। প্রচারক ও নাগরিক সমাজ গোষ্ঠীগুলি যুক্তি দিচ্ছে যে, এনএইচএস এমন একটি ডেটা আর্কিটেকচার বা তথ্য কাঠামো তৈরি করছে, যার সামাজিক অনুমোদন যথাযথ ভাবে অর্জন করা হয়নি। ‘আমাদের এনএইচএস-এ প্যালান্টিয়ার নয়’… এ হেন প্রচারাভিযানটি এনএইচএস ট্রাস্ট এবং ইন্টিগ্রেটেড কেয়ার বোর্ডগুলিকে প্যালান্টিয়ারের প্রযুক্তি প্রত্যাখ্যান করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। কারণ সংস্থাটির ব্যাপক সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ রয়েছে। মেড্যাক্ট উল্লেখ করেছে যে, ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক সভায় এফডিপি চালুর বিরোধিতা করেছিল। অন্য দিকে পার্লামেন্টে একটি গণপিটিশনে আরও সম্প্রসারণের আগে পরামর্শ এবং একটি সুস্পষ্ট জাতীয় অপ্ট-আউটের (প্রত্যাখ্যান) আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের জবাবে বলা হয়েছে যে, যেখানে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ‘সরাসরি যত্নের সঙ্গে যুক্ত, আইনত আবশ্যক অথবা পরিচয় গোপন করা হয়’, সেখানে জাতীয় ডেটা অপ্ট-আউট প্রযোজ্য হবে না। একজন রোগী হয়তো মেনে নিতে পারেন যে, ডাক্তাররা যাতে নিরাপদে তার চিকিৎসা করতে পারেন, সে জন্য তার তথ্য এনএইচএস জুড়ে আদান-প্রদান করতে হবে। কিন্তু এর থেকে এটা বোঝা যায় না যে, সেই একই রোগী অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার দ্বারা নির্মিত জাতীয় তথ্য কাঠামোকেও মেনে নিয়েছেন।
একজন রোগী হয়তো মেনে নিতে পারেন যে, ডাক্তাররা যাতে নিরাপদে তার চিকিৎসা করতে পারেন, সে জন্য তার তথ্য এনএইচএস জুড়ে আদান-প্রদান করতে হবে। কিন্তু এর থেকে এটা বোঝা যায় না যে, সেই একই রোগী অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার দ্বারা নির্মিত জাতীয় তথ্য কাঠামোকেও মেনে নিয়েছেন।
স্বাস্থ্যখাতে এআই-এর অন্য ব্যর্থতাগুলি দর্শিয়েছে যে, এই ক্ষেত্রটি কতটা ভঙ্গুর। ডিপমাইন্ডের রয়্যাল ফ্রি পর্বটিতে ১৬ লক্ষ রোগীর রেকর্ডে প্রবেশাধিকার জড়িত ছিল এবং পরবর্তীতে তার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনারের সমালোচনার মুখে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) হাসপাতালগুলিতে ব্যবহৃত এপিক সেপসিস মডেলটি স্বাধীন ভাবে পরীক্ষা করার সময় দুর্বল ফল প্রদর্শন করে অর্থাৎ ৩৮,৪৫৫টি হাসপাতালে ভর্তির উপর করা একটি যাচাইকরণ সমীক্ষায় এর এইউসি (এরিয়া আন্ডার দ্য কার্ভ) ছিল ০.৬৩। সিগনার পিএক্সডিএক্স সিস্টেমটি আর একটি ঝুঁকি উন্মোচন করে, যেখানে রিপোর্ট অনুযায়ী দু’মাসে তিন লক্ষেরও বেশি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এবং প্রতি ক্ষেত্রে গড়ে ১.২ সেকেন্ড সময় নেওয়া হয়েছিল। ভারতের জন্য শিক্ষা হল, স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে এআই-কে অবশ্যই সরকারি ব্যবস্থায় এর কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্ট নির্ভরশীলতা এবং নাগরিকদের নামে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি বুঝতে হবে ও সেগুলিকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতার নিরিখে মূল্যায়ন করতে হবে।
নির্ভরশীলতাকে উদ্ভাবন বলে ভুল করা অবশ্যই ভারতের উচিত নয়
স্বাস্থ্যখাতে এআই-কে ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার বিলাসিতা ভারতের নেই। বাজার ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রের চেয়ে রোগীর প্রথম অনিশ্চয়তার মুহূর্তের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ-এর (বিসিজি) ১৫টি দেশ জুড়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট-সংযুক্ত গ্রাহক স্বাস্থ্যের জন্য এআই টুল ব্যবহার করছেন, যেখানে একই সমীক্ষার একটি প্রতিবেদনে ভারতে এই হার অনেক বেশি অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ। রোগীরা ইতিমধ্যেই চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার আগে সফটওয়্যারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন।
বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও সেই সংযোগের দিকে এগিয়ে আসছে। ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি হেলথ চালু করেছে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে ২৩ কোটিরও বেশি স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জিজ্ঞাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের তাদের মেডিকেল রেকর্ড ও ওয়েলনেস অ্যাপ সংযুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গুগলের মেডজেম্মা ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এর (এইমস) সঙ্গে বহির্বিভাগের রোগীদের প্রাথমিক বাছাই (আউটপেশেন্ট ট্রায়াজ) এবং চর্মরোগ স্ক্রিনিংয়ের জন্য কাজ করছে। অন্য দিকে, গুগল ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি-র (এনএইচএ) সঙ্গে মেডিকেল রেকর্ডগুলিকে ফাস্ট হেলথকেয়ার ইন্টারঅপারেবিলিটি রিসোর্সেস-এ (এফএইচআইআর) রূপান্তর করতে কাজ করছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাগুলিকে আরও সহজে তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম করে। মাইক্রোসফটের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডায়াগনস্টিক অর্কেস্ট্রেটর (এমএআই-ডিএক্সও) ওপেনএআই-এর ও৩ মডেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন-এর (এনইজেএম) জটিল বেঞ্চমার্ক কেসগুলিতে ৮৫.৫ শতাংশ নির্ভুলতার হার দেখিয়েছে, যেখানে একই পরীক্ষার পরিবেশে চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানগুলি দর্শায় যে, রোগীর উদ্বেগ এবং চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি নতুন স্তর তৈরি হচ্ছে। যে এই স্তরটি নিয়ন্ত্রণ করবে, সে-ই প্রভাবিত করবে যে, মানুষ কী ভাবে ঝুঁকি এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বোঝে।
কোনও সংস্থার প্রদর্শন, কোনও বিদেশি বেঞ্চমার্ক বা এমন কোনও ছোট পাইলট প্রকল্পের উপর ভিত্তি করে কোনও মডেলকেই বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার করা উচিত নয়, যার ভারতীয় পরিস্থিতিতে স্বাধীন ভাবে প্রতিলিপিকরণ করা হয়নি।
ভারত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুরু করেছে ঠিকই। কিন্তু এখন সেগুলিকে অবশ্যই প্রয়োগযোগ্য করে তুলতে হবে। ‘ভারতের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কৌশল’ (দ্য স্ট্র্যাটেজি ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন হেলথ কেয়ার ফর ইন্ডিয়া বা সহি) একটি নীতিগত কাঠামো প্রদান করে। অন্য দিকে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কানপুর এবং ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি-র (এনএইচএ) সঙ্গে যৌথ ভাবে চালু হওয়া ‘বেঞ্চমার্কিং ওপেন ডেটা প্ল্যাটফর্ম ফর হেলথ এআই’ (বোধ) বিভিন্ন বেনামী বাস্তব-জগতের স্বাস্থ্য ডেটাসেটের উপর মডেল পরীক্ষা করার একটি পথ তৈরি করে। জনস্বাস্থ্যসেবায় জনসংখ্যার স্তরে কোনও এআই সিস্টেম ব্যবহার করার আগে সেই পথটি বাধ্যতামূলক করা উচিত। কোনও সংস্থার প্রদর্শন, কোনও বিদেশি বেঞ্চমার্ক বা এমন কোনও ছোট পাইলট প্রকল্পের উপর ভিত্তি করে কোনও মডেলকেই বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার করা উচিত নয়, যার ভারতীয় পরিস্থিতিতে স্বাধীন ভাবে প্রতিলিপিকরণ করা হয়নি।
ক্রয় প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতাকে প্রয়োগযোগ্য করে তুলতে হবে। কোনও বিদেশি বিক্রেতাকে একটি সংবেদনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়, যতক্ষণ না রাষ্ট্র সংস্থাটি, তার উদ্দেশ্য এবং যে পথে তথ্য স্থানান্তরিত হবে, তা ভাল ভাবে বুঝতে পারে। চুক্তিতে রাষ্ট্রকে প্রকৃত নিরীক্ষার ক্ষমতা দিতে হবে এবং তথ্যের যে কোনও অননুমোদিত পুনঃব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য করতে হবে। এটি প্রস্থানের পথকেও বাস্তবসম্মত করে তুলবে, যার জন্য স্থাপনের আগেই অর্থ এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে হাসপাতালগুলি সেবার মান ব্যাহত না করে অন্য সিস্টেমের আওতাভুক্ত হতে পারে। রোগী-কেন্দ্রিক এআই-এর জন্য একটি উচ্চতর মানদণ্ড প্রয়োজন। কারণ একজন চিকিৎসক এটি সংশোধন করার আগেই এটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই ধরনের সিস্টেমগুলিকে অবশ্যই সেই সব ভাষায় পরীক্ষা করতে হবে, যা ভারতীয়রা বাস্তবে ব্যবহার করে এবং রোগীদের ক্ষতির অভিযোগ জানানোর জন্য একটি সহজ পথ থাকতে হবে।
স্বাস্থ্যখাতে এআই-এর সার্বভৌমত্বের অর্থ বিদেশি প্রযুক্তির জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া নয়। ভারতের বাইরের বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে, কিন্তু একটি সরকারি ব্যবস্থা এমন কোনও সাধনীর উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়, যার কার্যপ্রণালী সে পরীক্ষা করতে পারে না অথবা যার সরবরাহকারীকে ছেড়ে দিলে পরে সেবার মান ব্যাহত হবে। নিয়ন্ত্রকদের অবশ্যই বুঝতে সক্ষম হতে হবে যে, একটি স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম কী ভাবে কাজ করে এবং যখন স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলি রোগীদের প্রভাবিত করে, তখন তাদের ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর একটি কার্যকর উপায় থাকতে হবে। এই শৃঙ্খলা ছাড়া নির্ভরশীলতাকেই উদ্ভাবন বলে মনে হবে, যতক্ষণ না এর ক্ষতি উপেক্ষা করার মতো বড় হয়ে ওঠে।
কে এস উপলব্ধ গোপাল অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. K. S. Uplabdh Gopal is an Associate Fellow with the Health Initiative at the Observer Research Foundation. He writes and researches on how India’s ...
Read More +