গালফ রেলওয়ে প্রজেক্ট (জিসিসি রেলওয়ে) উচ্চাভিলাষী ভাবে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অবকাঠামো প্রকল্প তৈরির চেষ্টা করেছে যা গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ছয়টি সদস্য রাষ্ট্রকে ২,১৭৭ কিলোমিটার রেল শৃঙ্খলের মাধ্যমে সংযুক্ত করবে। ২০০৯ সালে পরিকল্পিত হয়েছিল, এই রেলপথটি কুয়েত শহর সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) মধ্য দিয়ে মাস্কাট পর্যন্ত যাবে। এই প্রকল্পটি যাত্রী ও পণ্য উভয় পরিবহণের পাশাপাশি উপসাগর জুড়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংহতিকরণ, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা ও দূষণহীন গতিশীলতাকে সহজতর করতে পারে।
এই প্রকল্পটি কৌশলগত ভাবে একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। গালফ রেলওয়ে ভবিষ্যতের জিসিসি কাস্টমস ইউনিয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে বিকশিত হতে পারে, যার ফলে আন্তঃ-জিসিসি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং এই পরিমাণ মোট রফতানির প্রায় ১০ শতাংশ। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো অর্থনৈতিক ব্লকের তুলনায় যথেষ্ট কম, যেখানে পণ্য ও পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রেই অর্ধেকেরও বেশি বাণিজ্য ব্লকের মধ্যেই ঘটে। সুতরাং, জিসিসি রেলওয়ে প্রকল্প সংযোগের বাধা অতিক্রম করে এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বন্দরগুলিকে পরিপূরক করে আন্তঃ-আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে সক্ষম করতে পারে। অঞ্চলের বাইরে প্রকল্পটি ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের মতো (আইএমইসি) মতো আন্তর্জাতিক করিডোরের সঙ্গে নির্বিঘ্নে সংযোগ স্থাপন করে জিসিসির ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করতে পারে। এই সংযোগগুলি ইউরেশীয় সংযোগে জিসিসিকে একটি কেন্দ্রীয় প্রেক্ষিত হিসাবে উন্নীত করতে পারে এবং হরমুজ প্রণালী ও বাব এল-মান্দেবের মতো চিরাচরিত সামুদ্রিক বাধাবিন্দুগুলির উপর পূর্ব-পশ্চিম বাণিজ্য নির্ভরতা হ্রাস করতে পারে, যা প্রায়শই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দ্বারা হুমকির সম্মুখীন হয়। এর ফলে বাণিজ্য ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা উন্নত হবে। এই উদ্যোগটি উপসাগরীয় অর্থনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপরও ভিত্তি করে তেল থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য একটি কম-নির্গমনক্ষম লজিস্টিক কাঠামো উপস্থাপন করে, যা তাদের শূন্য-নির্গমন উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইতিহাদ রেল জানিয়েছে যে, তাদের রেল পরিবহণ ২০৫০ সালের মধ্যে সড়ক নির্গমন বার্ষিক ২১ শতাংশ কমাতে পারবে, প্রত্যেক ট্রেন যাত্রার ফলে ৩০০টি ট্রাকের পরিবহণ কম হবে এবং প্রতি বছর ৮.২ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড অপসারণ করবে।
জিসিসি রেলওয়ে প্রকল্পের সুবিধা বহুমুখী এবং সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এর গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থাকলেও এর বাস্তবায়ন ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থবির থেকেছে। এই নিবন্ধের প্রধান লক্ষ্য হল প্রকল্পের অগ্রগতি কেন থমকে আছে, তার মূল কারণগুলি চিহ্নিত করা এবং এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য সমাধান প্রদান করা।
জিসিসি রেলওয়ে প্রকল্প কেন বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে?
গালফ রেলওয়ের অগ্রগতি অসম। কারণ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবে এই প্রকল্পের কাজ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। অন্য দিকে কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ইতিহাদ রেল সাতটি আমিরাতের মধ্য দিয়ে সৌদি সীমান্তকে ফুজাইরার সঙ্গে সফল ভাবে সংযুক্ত করেছে, যা অন্য একটি জিসিসি রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম কার্যকর সংযোগ স্থাপন। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০২৩ সালে ওমান-ইতিহাদ রেল কোম্পানি নামে একটি যৌথ উদ্যোগ চালু করার জন্য একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য ছিল ১০০ মিনিটের মধ্যে সোহার ও আবুধাবিকে সংযুক্ত করা। সৌদি আরব সর্বাঙ্গীন অভ্যন্তরীণ রেল অবকাঠামো তৈরি করেছে। তবে এর কিছু অংশ জিসিসি সমন্বিতকরণে সরাসরি অবদান রাখে। যেমন দাম্মাম থেকে আল-জুবাইল এবং আল-খাফজি থেকে কুয়েত পর্যন্ত সংযোগ এখনও উন্নয়নাধীন। কাতার ইতিমধ্যেই জিসিসি মান পূরণ করে একটি আধুনিক রেল শৃঙ্খল নির্মাণ করলেও তা বৃহত্তর ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত নয়। বাহরাইন এ ক্ষেত্রে খুব কম বাস্তব অগ্রগতি করেছে। দেশটির কোনও জাতীয় রেলওয়ে নেই এবং শুধুমাত্র একটি হালকা রেল ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছে। বাহরাইন ও কাতারের মধ্যে পরিকল্পিত মৈত্রী সেতুটি নির্মাণের পূর্ববর্তী পর্যায়ে রয়েছে। ওমান এখনও তার ২,১৩৫ কিলোমিটার জাতীয় রেলওয়ে শৃঙ্খলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেনি। সৌদি-কাতার, সৌদি-কুয়েত, কাতার-বাহরাইন ও বাহরাইন-সৌদি-সহ বেশির ভাগ আন্তঃসীমান্ত অংশ প্রাথমিক পরিকল্পনায় রয়েছে অথবা স্থগিত রয়েছে, যা জিসিসি রেলওয়ের নির্বিঘ্ন আঞ্চলিক সমন্বিতকরণের লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে।
গালফ রেলওয়ের কৌশলগত যুক্তি শক্তিশালী হলেও ধারণাগত, রাজনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মিশ্রণের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছে। ধারণাগত ভাবে, গালফ রেলওয়ের অতি-রাষ্ট্রীয় প্রকৃতির জন্য কঠোর নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে শুল্ক, প্রবিধান, প্রযুক্তিগত মান ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। কিন্তু এর কোনওটিই নির্মাণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় সীমান্ত জুড়ে ট্রেনগুলি কে পরিচালনা করবে, সীমান্তে কী ভাবে পণ্য পরিবহণ করা হবে এবং বিমানবন্দর ও বন্দরের মতো রেল নিয়ন্ত্রকের ক্ষেত্রেও দ্রুত-ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।
এই ধারণাগত বাধাগুলি ২০১৭ সালের কাতার সঙ্কটের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলির দরুন আরও জটিল হয়। কারণ কিছু জিসিসি রাষ্ট্র সেই সময় কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল, যা আঞ্চলিক পরিকল্পনাকে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত করেছিল। ২০২১ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই বিভেদের দরুন কাতারের অংশের কাজ স্থগিত থেকেছে এবং আন্তঃসীমান্ত সংযোগের অনুপস্থিতির কারণে একাধিক দেশে তহবিল ও পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
এ ছাড়াও, আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলিও প্রকল্পের অগ্রগতিকে স্থবির করে দিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় প্রায় ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এটির জন্য কোনও সমন্বিত জিসিসি তহবিল গঠন করা হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের মতো ধনী রাষ্ট্রগুলি স্বাধীন ভাবে এগিয়ে গেলেও বিশেষ করে ২০১৪ সালের পরে তেলের দামের পতন ও কোভিড-১৯-এর সময় কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছে। সর্বোপরি, কাতার বিশ্বকাপ ও এনইওএমের মতো জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে রেলওয়ে প্রকল্পটিকে যুঝতে হয়, যা তহবিলকে অন্যত্র চালিত করতে পারে। বাহরাইনের মতো ছোট দেশগুলিও বিমানবন্দর, মেট্রো বা তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণকারী সড়কপথের তুলনায় রেলকে কম অগ্রাধিকার দেয়।
জিসিসি রেলওয়ের সমাপ্তির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কী করা যেতে পারে?
জিসিসি রেলওয়ের সমাপ্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য অঞ্চলটিকে একটি বহুমুখী পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে যার মূলে রয়েছে অতি-জাতীয় শাসনব্যবস্থা, উদ্ভাবনী অর্থায়ন, পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো কৌশল, আইনি কাঠামো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব।
প্রথমত, ২০২১ সালে জিসিসি রেলওয়ে অথরিটির (জিসিসিআরএ) সূচনা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এর ভূমিকাকে এ বার শুধু মাত্র সমন্বয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রয়োগের দিকেও চালিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষকে ঐক্যবদ্ধ প্রযুক্তিগত মান, নির্মাণ সংক্রান্ত মাইলফলক এবং আন্তঃসীমান্ত প্রোটোকল মেনে চলার জন্য ক্ষমতা দেওয়া উচিত। এর জন্য তারা অনেকটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপীয় রেলওয়ে এজেন্সির (ইআরএ) মতো পথে হাঁটতে পারে, যা ট্রান্স-ইউরোপিয়ান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক-এর (টিইএন-টি) ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সময়সীমা প্রদান করেছিল। এই প্রয়োগের ক্ষমতা না দেওয়া হলে অগ্রগতি তেমন ভাবে হবে না এবং জাতীয় অগ্রাধিকার পরিবর্তনের দরুন রেলওয়ের কাজ আরও বিলম্বিত হবে।
দ্বিতীয়ত, সমান গুরুত্বপূর্ণ হল একটি নিবেদিতপ্রাণ জিসিসি রেলওয়ে তহবিল তৈরি করা। বর্তমানে, প্রতিটি দেশ রেলওয়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থায়ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের মতো ধনী সদস্য দেশগুলির আর্থিক সম্পদ একত্রিত করে এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ছাড়যুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয়তাকে পরিপূরক করে তুলে তহবিলটি বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের মতো আর্থিক ভাবে সীমাবদ্ধ সদস্য দেশগুলিকে সহায়তা করতে পারে। ধনী অবদানকারী দেশগুলিকে এ কথা মনে করিয়ে দেওয়াও জরুরি যে, রেলপথের সমাপ্তি সমগ্র অঞ্চলের বাণিজ্য প্রতিযোগিতা ও ভূ-অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করে এবং ফলে তা পুনর্বণ্টনমূলক অর্থায়ন ব্যবস্থাকে ন্যায্যতা প্রদান করে।
তৃতীয়ত, নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক একটি পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। ইস্ট আফ্রিকান রেলওয়ে মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে জিসিসি উচ্চ-প্রভাবশালী অংশগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, যেমন আবুধাবি থেকে সোহার পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-ওমান সংযোগ, সালওয়া হয়ে সৌদি-ইউএই-কাতার রুট এবং নুওয়াইসিব থেকে আল-খাফজি পর্যন্ত কুয়েত-সৌদি আরব অংশ। এটি নোঙ্গর করিডোর হিসাবে কাজ করবে যা প্রাথমিক সাফল্য প্রদর্শন করে, ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করে এবং আরও সমন্বিতকরণের জন্য গতি তৈরি করবে। এই অংশগুলি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কেন্দ্র এবং বন্দরকে পরিবেশন করে এবং জিসিসির পণ্য-চালিত লজিস্টিক ভাবমূর্তির সঙ্গে নিবিড় ভাবে সাযুজ্যপূর্ণ। কম কার্যকর দীর্ঘ-দূরত্বের যাত্রাপথের পরিবর্তে প্রথমে পণ্য পরিষেবার উপর মনোযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
চতুর্থত, আইনি ও নিয়ন্ত্রক সমন্বয় ত্বরান্বিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসিয়ান-এর সিঙ্গাপুর-কুনমিং রেল লিঙ্ক একটি আদর্শ মডেল প্রদান করে যে, কী ভাবে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, অপারেটর লাইসেন্সিং এবং কার্গো পরিদর্শনের মতো আইনি বিষয়গুলিকে বিভিন্ন দেশের মধ্যেও গুণমানসম্মত করে তোলা যেতে পারে। জিসিসিকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়মকানুন দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে, যার মধ্যে একটি ডিজিটাল কাস্টমস প্ল্যাটফর্ম এবং ভাগ করা নিরাপত্তা মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটিকে বিশেষ করে জিসিসিআরএ-এর নেতৃত্বে করতে হবে এবং গুণমানগুলির পারস্পরিক স্বীকৃতি দেওয়াও জরুরি। এই কূটনৈতিক অবকাঠামোটি আসলে পরিচালন দক্ষতাকে বৃদ্ধি করার জন্য ভৌত রেল লাইনের মতোই একই রকমের গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে বলা জরুরি, বিশেষ করে পণ্য পরিবহণ করিডোরের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সক্রিয় ভাবে অনুসরণ করা উচিত। এর জন্য চিন ও উত্তর আমেরিকার মডেলগুলি থেকে স্বচ্ছ বিডিং প্রক্রিয়া ও কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক চুক্তি গ্রহণ করা প্রয়োজন, যেখানে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ কার্যক্রম জনসাধারণের তত্ত্বাবধানে ভাল ভাবে পরিচালিত হয়।
আস্থা পুনর্নির্মাণ ও সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য জিসিসির রেল কূটনীতিকে কাজে লাগানো উচিত। ২০১৭ সালের কাতার সঙ্কট প্রকাশ্যে এনে দিয়েছিল যে, রাজনৈতিক বিভাজন কী ভাবে আঞ্চলিক অবকাঠামোর উন্নতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০২৪ সালের দোহা জিসিসি রেলওয়ে মিটিংয়ের আদলে নিয়মিত পরিবহণ বিষয়ক মন্ত্রী-পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যা অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি ও অভিন্ন সাধারণ প্রতিশ্রুতিকে জোরদার করবে। আঞ্চলিক ঐক্য, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং তেলের ঊর্ধ্বে উঠে বৈচিত্র্যের জন্য একটি কৌশলগত সাধনী হিসেবে রেলওয়ে সমন্বিতকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
বিশ্বব্যাপী মডেলগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে জিসিসি গালফ রেলওয়েকে বিলম্বিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সংযোগের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারে। দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যেই বিদ্যমান। তবে এখন যা আশু প্রয়োজন, তা হল বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা।
সমৃদ্ধি ভিজ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-মিডল ইস্টের ভূ-রাজনীতির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Samriddhi is an Associate Fellow, Geopolitics at ORF Middle East, where she focuses on producing research and furthering the dialogue on regionally relevant foreign policy ...
Read More +