বিশ্বব্যাপী সংঘাতের বৃদ্ধি সলিড রকেট মোটরের অভূতপূর্ব চাহিদা তৈরি করছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং সামরিক মহাকাশ সক্ষমতাকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলি — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস), ইউরোপ, চিন ও রাশিয়া — যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়ায় এবং বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সংঘাত আসন্ন হয়ে ওঠায়, সলিড-প্রোপেল্যান্ট রকেটের, এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণভাবে এই সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার মৌলিক উপাদান সলিড-রকেট মোটর (এসআরএম)-এর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক বাহিনীর কৌশলগত ও রণনৈতিক উভয় শাখাই বরাবরই এসআরএম-এর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তাদের এই পক্ষপাত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন রণাঙ্গনে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলি বিমান-প্রতিরক্ষা এবং নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বকে পুনরায় প্রমাণ করেছে এবং এদের মধ্যে সলিড-প্রোপেল্যান্ট রকেট প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি পছন্দের।
সামরিক বাহিনীর কৌশলগত ও রণনৈতিক উভয় শাখাই বরাবরই এসআরএম-এর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তাদের এই পক্ষপাত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
তরল-জ্বালানি, সেমি-ক্রায়োজেনিক এবং ক্রায়োজেনিক প্রোপেল্যান্ট রকেটসহ সকল শ্রেণির প্রক্ষেপক-চালিত ব্যবস্থার মধ্যে এসআরএম-কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, টেকসই এবং সংরক্ষণ-বান্ধব ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি এসআরএম-এর এই সহজাত রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলি একে এয়ার-ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর, মাল্টিপল রকেট লঞ্চ সিস্টেম, অ্যান্টি-অ্যাক্সেস এরিয়া ডিনায়াল প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল, দূরপাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল এবং ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার জন্য আদর্শ করে তোলে।
এসআরএম চাহিদার ভূ-রাজনৈতিক কারণ
ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তির শুরু থেকেই এসআরএম-এর অস্তিত্ব রয়েছে। তবে, একাধিক বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ এলাকা ২০২০ সালের আগের কঠিন জ্বালানিযুক্ত মিসাইলের মজুত হ্রাস করছে, এবং এর ফলে বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের আদেশ আসছে। গত পাঁচ বছরে সংঘটিত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য সংঘাত — ইউক্রেন-রাশিয়া, ইরান-ইজরায়েল, ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান এবং তাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া — সবগুলিতেই কঠিন জ্বালানিযুক্ত মিসাইলের দ্রুত ব্যবহার এবং মজুতের এমন হারে হ্রাস প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে যা ২০১০-এর দশকের উৎপাদন দৃষ্টিকোণ থেকে টেকসই নয়। সাধারণত, একটি এসআরএম দুই সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা যায়, যার মধ্যে কিউরিং প্রক্রিয়াটিতেই সবচেয়ে বেশি সময় লাগে, যা ৩ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত হতে পারে। কিউরিং হল পূর্ববর্তী রাসায়নিক পদার্থ থেকে কঠিন জ্বালানিকে জমাট বাঁধানোর প্রক্রিয়া। ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসআরএম নির্মাতারা বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা ও অভ্রান্ততার দিকগুলিকে প্রভাবিত না করে কিউরিং প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য গবেষণা করছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে ইজরায়েলের উপর দিনব্যাপী ইরানি হামলায় ইরান ১৭০টি ড্রোন, ১২০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৩০টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করে। জবাবে, ইসরায়েল তার ডেভিড'স স্লিং এবং অ্যারো এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করে; তবে, এটি অবিলম্বে বোঝা গিয়েছিল যে এই খেলাটি শুধুমাত্র ব্যাপক আক্রমণ এবং প্রতিহত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিঃশেষ করার বিষয়েও। ইজরায়েলি সরকার "জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যকীয় অগ্রিম জরুরি ও অপরিহার্য ক্রয় চুক্তির" জন্য ২০২৫-২৬ সালে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় ঘোষণা করেছে। এই ক্রয়ে এসআরএম (সলিড-ফুয়েলড মিসাইল) একটি প্রধান ভূমিকা পালন করবে। ইরানও প্রতি মাসে প্রায় ১১০০টি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের হার অর্জনের চেষ্টা করেছে। তবে, ইজরায়েল পারচিন, খোজির এবং শাহরুদে অবস্থিত ইরানের সলিড-ফুয়েলড ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালিয়েছে। এসআরএম স্থাপনাগুলিতে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা শুধু এসআরএম-এর গুরুত্বই তুলে ধরে না, বরং প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করারও চেষ্টা করে।
এসআরএম স্থাপনাগুলিতে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা শুধু এসআরএম-এর গুরুত্বই তুলে ধরে না, বরং প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করারও চেষ্টা করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসআরএম উৎপাদন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দ্রুতই বুঝতে পেরেছিল। ২০১৭ সালে, মার্কিন গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টিবিলিটি অফিস দেশটির হ্রাসমান এসআরএম মজুত এবং এর ফলে উৎপাদন বিলম্ব ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা সম্পর্কিত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় অভিযানমূলক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, ক্ষেপণাস্ত্র তার অস্ত্রভাণ্ডারের অংশ ছিল না। প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এসআরএম-এর পাঁচটি প্রধান দেশীয় সরবরাহকারী ছিল - প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি, থায়োকল প্রোপালশন, অ্যালিয়েন্ট টেকসিস্টেমস, হারকিউলিস অ্যারোস্পেস এবং অ্যারোজেট। তবে, ২০১৫ সাল নাগাদ এটি অ্যারোজেট রকেটডাইন এবং অরবিটাল এটিকের দ্বৈত আধিপত্যে পরিণত হয়। ২০১৭ সাল থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বাস্তুতন্ত্রে শুধু এসআরএম-এর নতুন নির্মাতা ও সরবরাহকারী যুক্ত করেনি, বরং ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ উৎক্ষেপণ উভয় ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, এবং ইউরোপে তার উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ক্রমবর্ধমান এসআরএম সক্ষমতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, স্পেসএক্স, অ্যান্ডুরিল, এক্স-বো সিস্টেমস-সহ অন্যান্য নতুন প্রতিষ্ঠিত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি লকহিড মার্টিন, রেথিওন এবং নর্থরপ গ্রুম্যানের মতো পুরনো প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করছে। সেই অর্থে ২০২৫ সাল একটি যুগান্তকারী বছর ছিল।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা অ্যান্ডুরিল উন্নত এসএমআর-এর জন্য হাইলি লোডেড গ্রেনকনফিগারেশন উদ্ভাবন করতে রেথিওনের সঙ্গে সহযোগিতা করে। এই উদ্ভাবনী এবং পরীক্ষিত কনফিগারেশনটি রকেট মোটরের একই আয়তনে প্রোপেল্যান্টকে ঘনভাবে আবৃত করে, যা ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে বর্ধিত পাল্লা এবং ফলস্বরূপ কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে, জেনারেল ডায়নামিক্স এবং লকহিড মার্টিন মার্কিন মজুতের জন্য, বিশেষ করে মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমের জন্য, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিত করতে একটি এসআরএম উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য অংশীদারিত্বে প্রবেশ করে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে, এক্স-বো সিস্টেমস নামক আরেকটি নতুন যুগের প্রতিরক্ষা সংস্থা, সলিড-প্রোপেল্যান্ট উৎপাদন ব্যবস্থার অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং-এ অগ্রগতি লাভ করে, যা কৌশলগত, রণনৈতিক এবং হাইপারসনিক এসআরএম-এর উৎপাদন বৃদ্ধি করে। আশা করা হচ্ছে, এই নতুন উদ্ভাবনী প্রক্রিয়াটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের মজুতে বার্ষিক প্রায় ৩০,০০০-৫০,০০০ এসআরএম যোগ করবে।
এই দুটি এসআরএম-ই রোবোটিক লাইনার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নির্মিত, যা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে দ্রুততর। এর গুরুত্বপূর্ণ টুলস ও নজলগুলি থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তৈরি, যেটিতে স্বল্পমূল্যের প্রোপেলেন্ট ব্যবহৃত হয়, এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের ডিজিটাল টুইনিং করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নরথ্রপ গ্রুম্যান স্ম্যাশ২২ (সলিড মোটর অভিযোজনযোগ্য, সম্প্রসারণযোগ্য, ২২ ইঞ্চি ব্যাসের মোটরে অর্ধেক সময়/খরচ) নামে একটি নতুন এসআরএম-এর স্ট্যাটিক-টেস্ট ফায়ার করে, এবং ব্যাম২৯ (বোমাবর্ষণ আক্রমণকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মোটর ২৯ ইঞ্চি ব্যাসের মোটর) নামে আরও একটি বড় এসআরএম-এর স্ট্যাটিক-টেস্ট করার পরিকল্পনা করছে। এই দুটি এসআরএম-ই রোবোটিক লাইনার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নির্মিত, যা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে দ্রুততর। এর গুরুত্বপূর্ণ টুলস ও নজলগুলি থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তৈরি, যেটিতে স্বল্পমূল্যের প্রোপেলেন্ট ব্যবহৃত হয়, এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের ডিজিটাল টুইনিং করা হয়েছে।
এসআরএম নিয়ে মার্কিন প্রচেষ্টাগুলি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকেও চালিত হচ্ছে। ইতালীয় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার অ্যাভিও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন এসআরএম সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা করে, কারণ তারা ভার্জিনিয়ায় একটি এসআরএম প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নকে প্ল্যান্টটিতে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেবে। যৌথভাবে উৎপাদিত অস্ত্র ব্যবস্থা দেশে ফিরিয়ে আনা ইউরোপের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে অ্যান্ডুরিলের নতুন উৎপাদন পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা উদ্দেশ্যে পরবর্তী প্রজন্মের এসআরএম তৈরির জন্য জার্মান প্রতিরক্ষা জায়ান্ট রাইনমেটাল অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করছে। একইভাবে জার্মানির বায়ার্ন-কেমি, যা এসআরএম উদ্ভাবন ও উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন এমবিডিএ-র একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, এবং রেথিয়ন তাদের যৌথ উদ্যোগ কমলগ-এর মাধ্যমে যৌথভাবে ২০২৬ সাল থেকে জার্মানিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করবে।
এসআরএম-এর আসন্ন সামরিক মহাকাশ প্রয়োগ
এসআরএম-এর সামরিক চাহিদা শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন মহাকাশ বাহিনী, তাদের কমার্শিয়াল অগমেন্টেশন স্পেস রিজার্ভ এবং ট্যাকটিক্যালি রেসপন্সিভ স্পেস মিশনের অধীনে, চাহিদা অনুযায়ী রিয়েল-টাইম এবং কৌশলগত কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ সক্ষমতা তৈরি করছে। ২০২৬ সালে এই রিজার্ভের অধীনে প্রায় ২০টি চুক্তি বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণকারী সংস্থাগুলিকে প্রদান করা হবে। মহাকাশ উৎক্ষেপকগুলির একটি নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতাগুলি হ্রাস করতে চাইছে। এখানেই ক্ষেপণাস্ত্র এবং দ্রুত-প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন উৎক্ষেপণ যানের রূপান্তর এবং সেইসঙ্গে তাদের সরবরাহের সমন্বয় একটি কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে, কারণ উভয়ই সম্ভবত কঠিন জ্বালানি (সলিড ফুয়েল)-চালিত হবে।
মহাকাশে সক্ষম সামরিক বাহিনীগুলি দ্রুত-প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন উৎক্ষেপণ যান চায়, যেখানে একটি কৌশলগত মহাকাশযানের সঙ্গে সমন্বিত উৎক্ষেপণ যান উৎক্ষেপণ সাইলো, সড়ক, রেল ও জাহাজ-ভিত্তিক ক্যানিস্টার বা এমনকি বিমান থেকেও সংরক্ষণ করা হয় এবং যা কোনও বিস্তৃত উৎক্ষেপণ প্রস্তুতির প্রয়োজন ছাড়াই একগুচ্ছ সরল কমান্ডের মাধ্যমে যে কোনও স্থান থেকে এবং যেকোনও সময়ে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। দ্রুত-প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন উৎক্ষেপণ যানের স্টোরেজের প্রয়োজনীয়তার কারণে সেগুলিকে কঠিন জ্বালানি-চালিত হতে হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান চিনের মহাকাশ সংস্থা এক্সপেজ তাদের কুয়াইঝউ সিরিজের দ্রুত-প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপকগুলি সরাসরি ডংফেং-২১ থেকে তৈরি করেছে। ডংফেং-২১ হল চিনের একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা একই সঙ্গে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে কাজ করে। কুয়াইঝৌ-এর নিয়মিত উৎক্ষেপণ, যার সর্বশেষটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে, দ্রুত-প্রতিক্রিয়াসম্পন্ন উৎক্ষেপণ ক্ষমতার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অভিযান এবং কক্ষপথীয় পর্যবেক্ষণের জন্য।
উপসংহার: নতুন প্রজন্মের এসআরএম থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে?
শীর্ষস্থানীয় এসআরএম নির্মাতারা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ব্যস্ত, এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, বাজারের মিশ্রণে সান্দ্র তরলসহ উন্নত ধরনের কঠিন জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত করছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, উন্নত শক্তি ঘনত্ব, থ্রাস্ট-টু-ওয়েট অনুপাত এবং জ্বালানিতে আরও পরিচ্ছন্ন উপাদান ব্যবহারে সহায়তা করে।
এসআরএম উৎপাদনে এই বিপুল বৃদ্ধি আসন্ন দীর্ঘ সংঘাতের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, যার জন্য বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এসআরএম-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখন যে সব বিষয়ের উপর মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে হয় সেগুলি হল: স্বল্প খরচে বিপুল পরিমাণে দ্রুত উৎপাদন, ডিজিটাল উৎপাদন ও অটোমেশন-সহ কার্যকর নকশা, হালকা ও শক্তিশালী আবরণ, স্টেলথ সক্ষমতা, ইন্ট্যালিজেন্ট ইগনিশন এবং থ্রাস্ট ভেক্টরিং-এর । এই সব কিছুরই লক্ষ্য হল এসআরএম-কে কৌশলগত, দূরপাল্লার, জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং গোপনীয় ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত করে তোলা।
এই উদ্ভাবনগুলির অনেকগুলিই কঠিন জ্বালানিচালিত রকেটগুলিকে, যাদের মধ্যে উৎক্ষেপণ যান এবং সড়ক ও রেল যান অন্তর্ভুক্ত, দীর্ঘ সময় ধরে তত্ত্বাবধানহীন অবস্থায়ও সচল ও কার্যকর রাখতে সক্ষম করবে। উন্নত এসআরএম-এর বিশাল মজুতকে একটি প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং সংঘাতের সম্মুখীন দেশগুলি তাদের এসআরএম উদ্ভাবন, উৎপাদন কেন্দ্র, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মজুতকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে চাইবে, যা এসআরএম-কে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তিতে পরিণত করে।
এসআরএম উৎপাদনের ব্যাপক বৃদ্ধি আসন্ন দীর্ঘ সংঘাতের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, যার জন্য বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীগুলি প্রস্তুতি নিচ্ছে। মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম-এর সরঞ্জাম, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি পরিশিষ্টের তালিকায় এসআরএম-এর বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এসআরএম-এর বিপুল চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে, এটা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক যে এমটিসিআর যেন উপেক্ষিত না হয়, বিশেষ করে সেই শক্তিগুলির দ্বারা যারা নিজেদের এবং তাদের সামরিক মিত্রদের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
চৈতন্য গিরি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি, অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Chaitanya Giri is a Fellow at ORF’s Centre for Security, Strategy and Technology. His work focuses on India’s space ecosystem and its interlinkages with ...
Read More +