মার্কিন-চিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ফাটকা পুঁজি দ্বারা চালিত এআই খাতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এমন একটি বুদবুদকে বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে যা ফেটে গেলে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ভারসাম্য ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা নতুন আকার পেতে পারে।
২০২৬ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিশ্বব্যাপী ব্যয় ২.৫২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগের সিংহভাগই মূলধন-নিবিড় পরিকাঠামো এবং কম্পিউটিং ক্ষমতার দিকে কেন্দ্রীভূত থাকবে। শুধু মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও মেটা ৬৩৫ থেকে ৬৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ওরাকল ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি কম্পিউটিং চুক্তির কথা জানিয়েছে। সরবরাহকারী পক্ষের কথা বলতে গেলে, এনভিডিয়া ওপেনএআই-কে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে এবং অ্যামাজন অ্যানথ্রোপিক-কে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি মূলধনের এমন এক উল্লম্ফনকে প্রতিফলিত করে, যা প্রমাণিত লাভের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক তাগিদ এবং অনুমানমূলক প্রত্যাশা দ্বারাও ক্রমবর্ধমানভাবে চালিত হচ্ছে। এটি এই উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে যে, এআই বাস্তুতন্ত্র জুড়ে মূল্যায়ন তার অন্তর্নিহিত লাভের সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এআই খাতে বিনিয়োগের গতিপথ একটি অর্থনৈতিক বুদবুদের চিরায়ত গতিপ্রকৃতিকে প্রতিফলিত করে। প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংস্থাগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দ্রুত মূলধন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ এবং সুযোগ হারানোর ভয়ের কারণে আরও শক্তিশালী হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রচার এবং উৎপাদনশীলতায় যুগান্তকারী উন্নতির আশাবাদী পূর্বাভাস এই গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অভূতপূর্ব মাত্রায় পরিকাঠামো সম্প্রসারণ করতে এবং কম্পিউটিং প্রযুক্তি অধিগ্রহণ করতে উৎসাহিত করছে, যার অর্থায়ন প্রায়শই আগ্রাসী ব্যয়ের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে করা হয়। তবে, অতীতের অনুমানভিত্তিক চক্রগুলির মতোই, এই সম্প্রসারণ প্রত্যাশিত বৃদ্ধির হার এবং রাজস্ব প্রবাহের বাস্তবায়নের উপর নির্ভরশীল, যা এখনও অনিশ্চিত।
যদি এই ক্ষেত্রটি প্রত্যাশিত মুনাফা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে বর্তমান উচ্ছ্বাসের পর্যায়টি সংকটে পরিণত হতে পারে। প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতিতে গ্রহণ, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ থেকে প্রান্তিক লাভের হ্রাস বা নগদীকরণে সীমাবদ্ধতা বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান সকলের তরফে পুনর্মূল্যায়নের কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে, যা মূল্যায়নে বড় ধরনের সংশোধন, মূলধনী ব্যয় হ্রাস এবং আন্তঃসংযুক্ত শিল্পজুড়ে ব্যাপক আর্থিক সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।
এআই বুদবুদের চালক এবং স্থায়িত্বের মূল্যায়ন
এই ক্ষেত্রের প্রধান প্রশ্নগুলি হল সমসাময়িক এআই বাজারটি একটি অর্থনৈতিক বুদবুদ কি না, এবং ফলস্বরূপ এটি ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটা। অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত, গোল্ডম্যান স্যাকসের মার্কিন ইক্যুইটি বিশ্লেষকেরা দাবি করেন যে এআই এখনও কোনও বুদবুদ তৈরি করেনি, যার কারণ হিসেবে তারা পূর্ববর্তী পর্বগুলোর তুলনায় পাবলিক মার্কেটের মূল্যায়ন এবং লেনদেনের পরিমাণ কম থাকার কথা উল্লেখ করেন। এই মূল্যায়নটি 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির (অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা, এনভিডিয়া ও টেসলা) শক্তিশালী পারফরম্যান্স দ্বারা আরও জোরদার হয়েছিল, যারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফ্রি ক্যাশ ফ্লো তৈরি করা, শেয়ার বাইব্যাক করা, এবং লভ্যাংশ বিতরণ করা অব্যাহত রেখেছিল। তা সত্ত্বেও, তাঁরা সতর্ক করে দেন যে এআই উদ্যোগগুলিতে অর্থায়নের জন্য এই সংস্থাগুলির ঋণের উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা ম্যাক্রো-ইকনমিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। চ্যাটজিপিটি-র মূল সংস্থা ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও একইভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, বিনিয়োগকারীরা এআই অগ্রগতির বর্তমান পর্যায়ের জন্য অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছেন।
এইসব দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও, প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ারের সুস্পষ্ট অতিমূল্যায়ন এবং এর ফলে সৃষ্ট বাজারের অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা অবশ্যই একটি এআই-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক বুদবুদের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। যদিও এআই শেয়ারগুলির বাজার মূলধন ক্রমাগত বাড়তে দেখা যায়, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি এর দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতার ধারণার উপর নির্ভরশীল। এই গতিপথ সম্ভবত একটি স্ব-শক্তিবর্ধক ফিডব্যাক লুপকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ক্রমবর্ধমান দাম আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করে, যা আবার দামকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
একটি অর্থনৈতিক বুদবুদের গঠন মানেই অর্থনীতির স্থায়ী ও অপূরণীয় ক্ষতি নয়। এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বোত্তম কৌশল হল ভারসাম্য ফিরে না আসা পর্যন্ত বুদবুদটিকে টিকিয়ে রাখা। যদিও এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন এবং এর জন্য যথেষ্ট অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হয়, তবু এটি বুদবুদ ফেটে যাওয়ার পর সাধারণত যে তীব্র অর্থনৈতিক পতন এবং ঝুঁকি গ্রহণে অনাগ্রহ দেখা যায় তা প্রতিরোধ করে। চিন এই পদ্ধতির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ; ২০০০-এর দশকে অর্থনৈতিক বুদবুদের প্রায় সমস্ত লক্ষণ দেখা গেলেও স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ দীর্ঘায়িত করে তারা আর্থিক বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।
পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সুরক্ষিত রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় ধরনের সাফল্যগুলির সতর্ক পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত প্রচার প্রয়োজন।
এই ধরনের বুদবুদ টিকিয়ে রাখার জন্য গুরুতর প্রতিবন্ধকতাগুলি এড়িয়ে চলা অপরিহার্য। সর্বাগ্রে, শিল্পক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা হ্রাস করা অপরিহার্য, কারণ এটি ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। এর জন্য প্রভাবশালী সংস্থাগুলির বর্তমান একচেটিয়া আধিপত্যের বাইরে গিয়ে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, অপ্রতুল নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ সরকারি নীতি অবশ্যই পরিহার করতে হবে। এই ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভাল করছে, কারণ সে দেশের সরকার গবেষণা ও উন্নয়নে সক্রিয় সমর্থন প্রদর্শন করেছে। পরিশেষে, একটি আপাতবিরোধী পদক্ষেপ হল বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উদ্ভাবনগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযত করা, যা হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের আগেই বর্তমান পরিকাঠামোকে অকালে বাতিলের পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে। পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সুরক্ষিত রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় ধরনের সাফল্যগুলির সতর্ক পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত প্রচার প্রয়োজন।
এআই প্রতিযোগিতায় মার্কিন-চিন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এআই হার্ডওয়্যার এবং কৌশল নিয়ে মার্কিন-চিন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্যই একটি উদীয়মান এআই অর্থনৈতিক বুদবুদের উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খল, বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিশ্চিত পথে তীব্র দুর্বলতাগুলিকে উন্মোচিত করছে। বৈশ্বিক এআই ক্ষেত্রটি একটি গুরুতর অচলাবস্থার সম্মুখীন। একদিকে, গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) এবং এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অন্যান্য হার্ডওয়্যার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ উত্তোলনে চিন আধিপত্য বিস্তার করছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনার ও উৎপাদক, বিশেষ করে এনভিডিয়া। এই বিভাজন মহাশক্তিগুলির মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে।
এআই-এর কৌশলগত অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন এআই অ্যাকশন প্ল্যান বিপুল বিনিয়োগের প্রতি একটি দৃঢ় অঙ্গীকারের উপর জোর দেয় এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়লেও এই ক্ষেত্রে আধিপত্যকে অগ্রাধিকার দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পথে এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তারা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইনট্যালিজেন্স (এজিআই) বিকাশে প্রথম দেশ হতে চায়, যা বিশ্ব মঞ্চে তাদের এক অপ্রতিরোধ্য কৌশলগত সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, চিন আরও ভারসাম্যপূর্ণ একটি পন্থা অবলম্বন করে, যেখানে অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির পাশাপাশি এআই-তেও সম্পদ বরাদ্দ করা হয়। যদি এআই-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক বুদবুদটি ফুলে ওঠে এবং পরবর্তীতে ফেটে যায়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের কাছে উল্লেখযোগ্য জমি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
এআই হার্ডওয়্যার এবং কৌশল নিয়ে মার্কিন-চিন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্যই একটি উদীয়মান এআই অর্থনৈতিক বুদবুদের উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খল, বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অনিশ্চিত পথে তীব্র দুর্বলতাগুলিকে উন্মোচিত করছে।
বর্তমান মার্কিন কৌশলের মূল স্তম্ভ হল বিশাল ডেটা সেন্টারগুলিতে ব্যাপক বিনিয়োগ, যেগুলিতে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটেশনাল ক্ষমতা রয়েছে। এটি এজিআই-এর প্রধান অনুভূত বাধা—অপ্রতুল কম্পিউট স্কেল—এর সমাধান করে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং মেটা তাদের এআই মডেলগুলিকে শক্তি জোগাতে এই ধরনের পরিকাঠামোতে প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে, এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে ডেটা ও কম্পিউটে মোট ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। তবে, এই বিনিয়োগগুলি বহুবিধ ঝুঁকি বহন করে। এগুলির সম্পদ-নিবিড় নির্মাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রাথমিক মূলধন প্রয়োজন হয়, যা এনভিডিয়ার মতো সংস্থাগুলির বিশেষায়িত চিপের উপর নির্ভর করে, যা ক্রমাগত উদ্ভাবনের কারণে দ্রুত অপ্রচলিত হয়ে পড়ে। মডেল অপ্টিমাইজ করার ক্ষেত্রে বা বিকল্প কম্পিউট প্যারাডাইমে যুগান্তকারী সাফল্য এলে পুরো ডেটা সেন্টারগুলি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যেতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রচলিত মার্কিন এআই মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সংশয়, যা এজিআই অর্জনের জন্য লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম)-এর পরিবর্ধন ও উদ্ভাবনের উপর কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে বর্তমান মডেলগুলি প্রকৃত যৌক্তিক বিচার-বিবেচনা এবং বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন উপলব্ধিতে ব্যর্থ হয় ; এগুলি শুধুই প্রশিক্ষণ ডেটা থেকে প্রাপ্ত প্যাটার্ন-ভিত্তিক পূর্বাভাসের মাধ্যমে সেগুলির অনুকরণ করে। ফলস্বরূপ, এই গতিপথের মাধ্যমে এজিআই অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না, যা বর্তমান বিনিয়োগের যৌক্তিকতা এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ারের স্ফীত মূল্যায়নের উপর আরও সন্দেহ সৃষ্টি করছে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুর্বলতাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নড়বড়ে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এআই বুদবুদের পতন অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, যা চিনকে প্রধান প্রযুক্তিগত শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিস্থাপন করার সুযোগ করে দেবে। তবে, ভারসাম্য না আসা পর্যন্ত এই ধরনের বুদবুদ টিকিয়ে রাখা গেলে তা কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী আধিপত্য নিশ্চিত করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুদবুদ ফেটে যাওয়ার পরিণতি
যদি এআই-কেন্দ্রিক কোনও অর্থনৈতিক বুদবুদ ফুলে ওঠে এবং পরবর্তীতে ফেটে যায়, তবে এর পরিণতির প্রধান শিকার হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা চিনকে প্রধান প্রযুক্তিগত মহাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ করে দেবে। এই পুনর্বিন্যাসের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূ-রাজনৈতিক-কৌশলগত ক্ষেত্র জুড়ে সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে, যার মূল ভিত্তি হল এই স্বতঃসিদ্ধ ধারণা যে, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সফট পাওয়ারকে শক্তিশালী করে, যা চিনকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে সক্ষম করে।
❅আর্থিক পরিণতি
একটি বুদবুদের পতন গভীর অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার অনুঘটক হতে পারে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতির তীব্রতা এবং চিনের সুযোগসন্ধানী লাভের উপর নির্ভরশীল। একটি দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ডলার-বর্জনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক দুর্বলতার আশঙ্কায় দেশগুলি তাদের রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনবে। ব্রিকস-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বিকল্প অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, যার ফলে দৃশ্যমান প্রভাব দেখা গিয়েছে; যেমন ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে চিনে আদান-প্রদানে মোট অর্থমূল্যে আরএমবি-র ব্যবহার বৃদ্ধি — ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় আন্তঃসীমান্ত আরএমবি লেনদেন ২১.১ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠিত হতে পারে, যেখানে চিন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলে আধিপত্যের মাধ্যমে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করবে, অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে মার্কিন প্রভাব হ্রাস পাবে, যা চিন-কেন্দ্রিক বাণিজ্য দৃষ্টান্তকে উৎসাহিত করবে।
❅প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পরিণতি
মার্কিন প্রযুক্তি ক্ষেত্র, যা এআই পরিকাঠামো বিনিয়োগের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, সম্পদের অবমূল্যায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের ফলে ধারাবাহিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে। এনভিডিয়া, গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলি ডেটা সেন্টার এবং বিশেষায়িত চিপে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পর সরবরাহ শৃঙ্খলের সংঘাত এবং মৌলিক পরিবর্তনের কারণে সেকেলে হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই দুর্বলতা কিন্তু উদ্ভাবনের ধারাকে ভেঙে দিতে পারে, যার ফলে এজিআই ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্ভাবনগুলি চিনের হাতে চলে যাবে এবং সিলিকন ভ্যালির একচেটিয়া আধিপত্যে ব্যাপক সংকোচন ঘটবে।
❅ভূ-রাজনৈতিক পরিণতি
এই পরিবর্তনের সামরিক পরিণতির মধ্যে থাকবে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি, কারণ মার্কিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে চিনের ভূখণ্ডগত আগ্রাসন আরও বাড়বে, যা দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে ধারাবাহিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত চতুর্পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপ (কোয়াড)-এর মতো বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জোটগুলি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে, কারণ ইউরোপীয় ও ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের চিনের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততার দিকে ঝুঁকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পাওয়ায় অওকাস চুক্তিটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা পশ্চিমী-নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও ভেঙে দেবে।
উপসংহার
সংক্ষেপে, এআই প্রযুক্তি স্টককে ঘিরে একটি অর্থনৈতিক বুদবুদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে, যদি না তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়ে থাকে। একটি গভীর ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠন এড়াতে, ভারসাম্য পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই বুদবুদটি টিকিয়ে রাখতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হলে, চিনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান প্রযুক্তিগত মহাশক্তি হিসেবে প্রতিস্থাপন করার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈশ্বিক আদর্শে পরিবর্তন আনবে, বিদ্যমান জোটগুলির ক্ষয় ঘটাবে, এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।
প্রণয় জৈনেন্দ্রন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা সহকারী।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Pranoy Jainendran is a Research Assistant with ORF’s Centre for Security, Strategy & Technology. His work examines how technology shapes State institutions, national and international affairs, ...
Read More +