-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
কপ৩০ লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল জলবায়ু শাসনকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত প্রদান করে। এর পাশাপাশি কাঠামোগত, আর্থিক ও নীতিগত ব্যবধান পূরণ করে বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতিগুলি যাতে ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর ফলাফলে রূপান্তরিত হয়, তা নিশ্চিত করে।
এই নিবন্ধটি এক্সপেক্টেশনস ফ্রম কপ৩০-র অংশ।
প্যারিস চুক্তির এক দশক পর বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ব্যবস্থা একটি বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু প্রভাব ত্বরান্বিত হচ্ছে, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী দক্ষিণে বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভাজনকে আরও বিস্তৃত করছে। এই বিভাজনের মধ্যে লিঙ্গ একটি সংজ্ঞায়িত অথচ প্রায়শই উপেক্ষিত মাত্রা হিসাবে রয়ে গিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনশীলতার দ্বারা যাঁরা প্রভাবিত, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক স্থানে রয়েছেন নারীরা। কারণ খাদ্য উৎপাদন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং যত্নের কাজে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।
প্যারিস চুক্তি কার্যকর জলবায়ু কর্মকাণ্ডের মূল হিসেবে লিঙ্গ সমতাকে স্বীকৃতি দেয়। অভিযোজন সম্পর্কিত ধারা ৭ লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির সবচেয়ে জোরালো উল্লেখ করে এবং অন্য দিকে প্রস্তাবনা ও ক্ষমতা-নির্মাণ এবং শিক্ষা সম্পর্কিত ধারা ১১ ও ১২ লিঙ্গকে অগ্রাধিকার হিসাবে স্থান দেয়। লিমা ওয়ার্ক প্রোগ্রাম অন জেন্ডার (এলডব্লিউপিজি) এবং জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যানের (জিএপি) মাধ্যমে এই পদ্ধতিটি আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) প্রক্রিয়ার মধ্যে লিঙ্গ সমন্বিতকরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
তবে লিঙ্গ বৈচিত্র্য, আন্তঃসংযোগ ও অর্থায়নের ভাষা নিয়ে পার্থক্যের কারণে এই কাঠামো পুনর্নবীকরণের বিষয়ে কপ২৯-এ আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়, যার ফলে লিঙ্গ-সংবেদনশীল জলবায়ু নীতির ভবিষ্যৎ অমীমাংসিত থাকে। বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০-এ, এই কাঠামোগুলি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসে, যা অগ্রগতি মূল্যায়ন ও জলবায়ু শাসনে লিঙ্গ সমন্বিতকরণের পরবর্তী পর্যায়ে সংজ্ঞায়িত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করে।
জলবায়ু কর্মকাণ্ডে লিঙ্গকে মূলধারায় আনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিবর্তন এবং উদীয়মান সীমাবদ্ধতা
২০১৪ সালে লিমায় অনুষ্ঠিত কপ২০-এ গৃহীত হওয়ার পর থেকে এলডব্লিউপিজি ইউএনএফসিসিসি কাঠামোর মধ্যে লিঙ্গ সমতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং স্বীকৃতি দিয়েছে যে, জলবায়ু প্রভাব লিঙ্গ অনুসারে পৃথক হয় এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার দাবি করে। ২০১৭ সালে কপ২৩-এ গৃহীত প্রথম জিএপি এই প্রতিশ্রুতিকে পাঁচটি অগ্রাধিকারে রূপান্তরিত করে: সক্ষমতা-নির্মাণ, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, বাস্তবায়নের উপায় এবং পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন। স্থায়ী ব্যবধানগুলি পূরণ করার জন্য কপ২৫-এ বণ্টন ও জবাবদিহিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে একটি বর্ধিত এলডব্লিউপিজি এবং সংস্কারকৃত জিএপি গৃহীত হয়েছিল। কপ২৯ আরও এক দশকের জন্য কাঠামোটি প্রসারিত করলেও এর বাস্তবায়নের মূল সিদ্ধান্তগুলি এখন বেলেমের হাতে।
জলবায়ু শাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্বব্যাপী লক্ষ্য। গত কপ ছিল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে লিঙ্গ-সমতাপূর্ণ, যেখানে প্রতিনিধিদের মধ্যে ৪০ শতাংশ নারী ছিলেন। তবে সামগ্রিক প্রতিনিধিত্বের উন্নতি হলেও আঞ্চলিক বৈষম্য রয়ে গিয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারীদের অংশগ্রহণ সর্বনিম্ন, যথাক্রমে প্রায় ৩১ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ। কপ২০-এ উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা দেওয়া ৭৮ জন বিশ্বনেতার মধ্যে মাত্র ৮ জন মহিলা ছিলেন। একই সময়ে শিক্ষা এবং ক্ষমতায়নের বিপরীতে অর্থ ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত আলোচনায় নারীদের কথা বলার সম্ভাবনাও কম, যা ইঙ্গিত দেয় যে, প্রকৃত প্রভাব এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে।
চিত্র ১. গত দশকে কপ-এ দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে নারীর প্রতিনিধিত্ব (কপ১৪–কপ২৯)

সূত্র: লেখকের নিজস্ব, কার্বন ব্রিফ, ২০২৪ থেকে তথ্য ব্যবহার করে
কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউএনএফসিসিসি-র ৮৫ শতাংশ দল নিজেদের সংযোগ ও প্রতিবেদনে লিঙ্গের কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার (এনএপি) ১০০ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে ২০২৫ সালের ইউএনএফসিসিসি সংশ্লেষণ প্রতিবেদন - যা তাদের এনডিসি-র মাধ্যমে দেশগুলির জলবায়ু প্রতিশ্রুতির একটি সংক্ষিপ্ত আকার প্রদান করে – দর্শায় যে, ৮৯ শতাংশ পক্ষ লিঙ্গের উল্লেখ করে এবং ৮০ শতাংশ বাস্তবায়নে এটি প্রয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। যাই হোক, এই প্রতিশ্রুতিগুলির গভীরতা অসম রয়ে গিয়েছে। কারণ ৬১ শতাংশ লিঙ্গ-সংবেদনশীল পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে। তবে মাত্র ৩০ শতাংশ এটিকে কৃষি, জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করে।
চিত্র ২. এনডিসি-তে লিঙ্গের উল্লেখ

সূত্র: ইউএনএফসিসিসি সংশ্লেষণ প্রতিবেদন ২০২৫
গত দশকে লিঙ্গ-লক্ষ্যযুক্ত জলবায়ু অর্থায়ন ২০১০-১১ সালে ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২২-২৩ সালে ৩৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই তহবিলের বেশির ভাগই তাৎপর্যপূর্ণ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যার অর্থ লিঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য কিন্তু প্রাথমিক লক্ষ্য নয়। অন্য দিকে মূল-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি, যেখানে লিঙ্গ কেন্দ্রীয়, অনেক ছোট রয়ে গিয়েছে, মাত্র ০.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২.০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পার্থক্যটি দর্শায় যে, লিঙ্গকে ক্রমবর্ধমান ভাবে বিবেচনা করা হলেও, অনেক কম প্রকল্পই এটিকে মূল স্থানে রাখে। কৃষি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে এটি সমস্যাযুক্ত হতে পারে, যেখানে মূল-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ কাঠামোগত বাধা মোকাবিলায় ও অর্থপূর্ণ ফলাফল অর্জনে রূপান্তরকারী হতে পারে।
চিত্র ৩. রিও মার্কারের লিঙ্গ সমতা উদ্দেশ্যের সঙ্গে ওডিএ-র পরিমাণ ও ভাগ (বিলিয়ন মার্কিন ডলারে)

সূত্র: লেখকের নিজস্ব, ওইসিডি, ২০২৫ থেকে তথ্য ব্যবহার করে
বর্তমান জিএপি-তে বাধ্যতামূলক, পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রার অভাব রয়েছে। কারণ ইউএনএফসিসিসি নির্দেশিকা শুধুমাত্র পক্ষগুলিকে লিঙ্গ-বিচ্ছিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। যদিও এনডিসি-তে লিঙ্গের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, তবুও এটি বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত হয় কি না, তা স্পষ্ট নয়। বাধ্যতামূলক পর্যবেক্ষণের এই অনুপস্থিতি ও অসঙ্গত অর্থায়ন এই প্রচেষ্টাগুলিকে রূপান্তরকারীর চেয়ে প্রতীকী করে তোলে।
জলবায়ু শাসনে লিঙ্গ অপরিহার্য
অনুমান করা হয় যে, ২০৫০ সালের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়নেরও বেশি নারী ও মেয়ে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে, যেখানে ২৩৬ মিলিয়ন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন হুমকির গুণক হিসাবে কাজ করে এবং এর প্রভাব লিঙ্গ দ্বারা ভিন্নভাবে অনুভব করা হয়, যা বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্বারা আকার পায়। উদাহরণস্বরূপ, নারীরা শ্রম কৃষি ও মৎস্য চাষের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিতে কেন্দ্রীভূত। তাঁরা বিশ্বব্যাপী কৃষি কর্মীবাহিনীর প্রায় ৪০ শতাংশ তৈরি করেন। তবে মাত্র ১৫ শতাংশেরই নিজস্ব জমি আছে। এটি তাঁদের ঋণ বা বিমা পাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করে এবং জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলা করার ক্ষমতা হ্রাস করে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, তাপ নারী-প্রধান পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ শতাংশ হ্রাস করে, যেখানে বন্যা আরও ৩ শতাংশ হ্রাস করে, যার ফলে প্রতি বছর মহিলাদের প্রায় ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়।
নারীরা শ্রম কৃষি ও মৎস্য চাষের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিতে কেন্দ্রীভূত। তাঁরা বিশ্বব্যাপী কৃষি কর্মীবাহিনীর প্রায় ৪০ শতাংশ তৈরি করেন। তবে মাত্র ১৫ শতাংশেরই নিজস্ব জমি আছে। এটি তাঁদের ঋণ বা বিমা পাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করে এবং জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলা করার ক্ষমতা হ্রাস করে।
বেতনভুক্ত কাজের বাইরেও নারীরা লিঙ্গগত নিয়ম অনুসারে অপ্রয়োজনীয় শ্রমের বোঝা বহন করেন, যার মধ্যে রয়েছে জল ও জ্বালানি সংগ্রহ ও যত্ন নেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তন প্রাকৃতিক সম্পদের উপর হুমকি সৃষ্টি করে এই চাপগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে মহিলারা প্রতিদিন ২০ মিনিটেরও বেশি সময় জল আনতে ব্যয় করেন, সেখানে ২০৫০ সালের মধ্যে ব্যয় করা সময় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন জৈবিক ও প্রজনন দুর্বলতার সঙ্গে এমন ভাবে সংযুক্ত, যা নীতি নকশায় প্রায়শই অদৃশ্য। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে প্রচণ্ড তাপের সংস্পর্শে আসা গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভাবস্থার প্রতিকূল ফলাফলের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে জাতীয় তাপ কর্ম পরিকল্পনায় প্রজনন স্বাস্থ্যের বিবেচনা অনুপস্থিত।
এই দুর্বলতা সত্ত্বেও নারীরাও পরিবর্তনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রাকৃতিক সম্পদ, গৃহস্থালির ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ের কল্যাণের সঙ্গে তাঁদের দৈনন্দিন সম্পৃক্ততা প্রায়শই তাঁদের জলবায়ুর পরিবর্তনগুলি শনাক্ত করতে এবং জীবিকা ও বাস্তুতন্ত্র উভয়কেই টিকিয়ে রাখার জন্য অভিযোজিত অনুশীলনগুলিকে অবহিত করার সুযোগ করে দেয়। এই বাস্তবতাগুলি ন্যায্য জলবায়ু শাসনের প্রয়োজনীয়তাকে জোরদার করে, যেখানে নীতি ও অর্থকে স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে মহিলাদের অপরিহার্য ভূমিকার স্বীকৃতি এবং বিনিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্গগত দুর্বলতাগুলিকে মোকাবিলা করতে হবে।
এই বাস্তবতাগুলি ন্যায্য জলবায়ু শাসনের প্রয়োজনীয়তাকে জোরদার করে, যেখানে নীতি ও অর্থকে স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে মহিলাদের অপরিহার্য ভূমিকার স্বীকৃতি এবং বিনিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্গগত দুর্বলতাগুলিকে মোকাবিলা করতে হবে।
কপ৩০-এর জন্য সুপারিশ
কপ৩০ লিঙ্গকে একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গ দিবস পালনের পরিবর্তে একটি আন্তঃ-সংযুক্ত ভাবনা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। বাস্তবায়নের বর্তমান ব্যবধানের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত সুপারিশগুলি জলবায়ু নীতি এবং কর্মকাণ্ডে লিঙ্গ সমন্বিতকরণকে শক্তিশালী করতে পারে।
• জলবায়ু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ প্রতিনিধিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে প্রভাব বিস্তারের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। সংস্কারকৃত এলডব্লিউপিজি দলগুলিকে পরিকল্পনা, বাজেট ও মূল্যায়নে লিঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বিত করার জন্য লিঙ্গ ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে।
• এলডব্লিউপিজি-র এই সংস্করণে বাধ্যতামূলক পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল-ভিত্তিক সমীকরণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যার মধ্যে লিঙ্গ-বিচ্ছিন্ন তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং জবাবদিহিতাকে উদ্দেশ্য থেকে পরিমাপযোগ্য প্রভাবে রূপান্তরিত করতে এমনটা করতে হবে।
• লিঙ্গ-প্রতিক্রিয়াশীল অর্থায়নের উচিত এমন প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যেখানে লিঙ্গ একটি প্রধান উদ্দেশ্য, বিশেষ করে কৃষি, জ্বালানি ও জলের মতো ক্ষেত্রে। এই ধরনের বিনিয়োগ জমি, ঋণ ও প্রযুক্তিতে মহিলাদের প্রবেশাধিকার-সহ পদ্ধতিগত বাধাগুলি মোকাবিলা করতে পারে এবং শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল প্রদান করতে পারে।
• কপ৩০ আদিবাসী নারীদের নেতৃত্ব ও চিরাচরিত জ্ঞানকে অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে, বিশেষ করে ‘জনগণের বৃত্ত’ এবং এনডিসি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির মতো মঞ্চের মাধ্যমে। এটিকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারগুলিকে জাতীয় অভিযোজন কৌশলগুলিতে নিবেদিতপ্রাণ তহবিল, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আদিবাসী নারীদের জ্ঞানের আনুষ্ঠানিক সমন্বিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা ও ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন ফলাফল উভয়কেই এগিয়ে নিয়ে যেতে তাদের অবদান সক্ষম হয়।
• এলডব্লিউপিজি অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে নারীর স্বাস্থ্যকে জলবায়ু অভিযোজনের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে। ব্যবস্থাগুলির মধ্যে জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, মোবাইল ক্লিনিক ও প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, লিঙ্গ বিবেচনা অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
• কপ৩০ লিঙ্গ ও ন্যায্য পরিবর্তন আলোচনায় অবৈতনিক যত্নের কাজ ক্রমবর্ধমান ভাবে স্বীকৃত হলেও সময়ের দারিদ্র্যের বাস্তব হ্রাস এবং নারীর অংশগ্রহণের জন্য সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য নীতি ও অর্থায়ন কাঠামোতে এর সমন্বিতকরণ জোরদার করতে হবে।
জলবায়ু শাসনকে উদ্দেশ্য থেকে প্রভাবে রূপান্তর করার জন্য কাঠামোগত, আর্থিক ও নীতিগত ব্যবধান পূরণ করা অপরিহার্য। এনডিসি ও বৈশ্বিক কাঠামোতে লিঙ্গ দৃশ্যমান হলেও অগ্রগতি অসম রয়ে গিয়েছে এবং অনেক দেশে এখনও কার্যকর ব্যবস্থা, সম্পদ ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কপ হিসেবে নিজেকে অবস্থান করার মাধ্যমে কপ৩০ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করা, জাতীয় জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং নীতিগুলি ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর উভয়ই নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করে।
শ্যারন সারা থাওয়ানে ওআরএফ কলকাতা এবং সিএনইডি-র ডিরেক্টর নীলাঞ্জন ঘোষের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sharon Sarah Thawaney is the Executive Assistant to the Director - ORF Kolkata and CNED, Dr. Nilanjan Ghosh. She holds a Master of Social Work ...
Read More +