Author : Sunaina Kumar

Published on Aug 16, 2025 Updated 0 Hours ago

যেহেতু কেয়ার ইকোনমি বা যত্নমূলক অর্থনীতি ডিজিটালকরণ গিগ ওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিত হচ্ছে, তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি, শালীন কাজ এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ।

যত্নমূলক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ: ডিজিটালকরণ এবং গিগ ওয়ার্ক

ডিজিটালকরণের মাধ্যমে সেবা সংক্রান্ত পরিষেবার লব্ধতা দক্ষতা উন্নত করে সেবা অর্থনীতিকে সক্ষম রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেবামূলক অর্থনীতির সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতির সমন্বয় এমন একটি পরিসর, যা সীমিত মনোযোগ পেয়েছেযদিও বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন মডেলের আবির্ভাবের দরুন এটি ব্যাপক আকার ধারণ করছে এবং সেবা সংক্রান্ত পরিষেবার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু যত্ন, বয়স্কদের যত্ন গৃহস্থালির কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বেতনভুক্ত অবৈতনিক পরিষেবাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা অপরিহার্যকারণ মহিলারা বেশিরভাগ অবৈতনিক বেতনভুক্ত যত্নের কাজ করেন। মহিলারা গড়ে পুরুষদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি অবৈতনিক যত্ন প্রদানের কাজ করেন। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে তাঁরা প্রায় আটগুণ বেশি করেন। এটি এমন একটি বৈষম্য, যা মহিলাদের শ্রমশক্তিতে প্রবেশ এবং অগ্রগতিতে বাধা দেয়।

নীতিগত সমস্যা হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যত্নমূলক অর্থনীতি কোভিড-১৯ অতিমারির সময় বিশ্বব্যাপী কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, যা মহিলাদের উপর যত্নের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বোঝাকে তুলে ধরেছিল। জলবায়ু সঙ্কট, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো চলমান ধাক্কাগুলির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী যত্ন প্রদানকারী কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো পরিষেবাগুলিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা যেতে পারে এবং অনুমান করা হচ্ছে যে, এই কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ নারীদের উপকারে আসবে। এই কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য শতাংশ ডিজিটাল-ক্ষম যত্নমূলক অর্থনীতি থেকেই তৈরি হবে।

জলবায়ু সঙ্কট, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো চলমান ধাক্কাগুলির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী যত্ন প্রদানকারী কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিজিটালকরণ-সক্ষম যত্নমূলক অর্থনীতি ডিজিটালকরণকে কাজে লাগিয়ে যত্ন প্রদানের জন্য ডিজিটাল সাধনী ও মঞ্চগুলিকে সমন্বিত করে যত্ন সংক্রান্ত পরিষেবার চাহিদা সরবরাহের সামঞ্জস্য সাধন করে। যত্ন প্রদানের পরিসরটির ডিজিটালকরণের ফলে পর্যাপ্ত ও প্রবেশাধিকারযোগ্য বেতনভুক্ত যত্নের অভাব থেকে উদ্ভূত গুরুত্বপূর্ণ যত্ন সংক্রান্ত ব্যবধান পূরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে, মহিলাদের জন্য অবৈতনিক যত্নের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ক্ষমতা সুযোগ হ্রাস পায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ডিজিটাল যত্ন সংক্রান্ত উদ্যোগের উপর ইউএন উইমেন-এর গবেষণা ডিজিটাল যত্ন সংক্রান্ত মডেলগুলির বেশ কয়েকটি সুবিধা নির্দেশ করেকারণ এগুলি নমনীয়তা স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি করে, উচ্চতর আরও স্থিতিশীল আয় প্রদান করতে সক্ষম, প্রধানত মহিলা কর্মীদের জন্য সুবিধা শেখার সুযোগ প্রদান করে।

ডিজিটাল যত্ন অর্থনীতির দুটি দিক আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি রাখে: ক) গিগ ওয়ার্ক-সহ ডিজিটাল যত্ন পরিষেবার জন্য উদীয়মান মডেল এবং খ) এর উন্নয়নে ডিজিটাল লিঙ্গ ব্যবধানের ভূমিকা।

ডিজিটাল যত্ন পরিষেবার জন্য উদীয়মান মডেল

ডিজিটাল কেয়ার ইকোনমি অ্যাপ, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এবং রিমোট মনিটরিংয়ের সঙ্গে সমন্বিত রার কথা ভাবা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, মালয়েশিয়ার কিডোকেয়ার - যা চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত বেবিসিটারদের মাধ্যমে শিশুদের যত্ন প্রদান করে - এবং ইন্দোনেশিয়ার লাভকেয়ার - যা একটি মঞ্চের মাধ্যমে বয়স্কদের জন্য যত্ন পরিষেবা প্রদান করে - তাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জনসংখ্যার পরিবর্তন দ্রুত ডিজিটালকরণের মধ্য দিয়ে ভারতে শিশু যত্ন, বয়স্ক যত্ন এবং গৃহস্থালির কাজে দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পমেয়াদি পরিষেবা প্রদানকারী ডিজিটাল কেয়ার এন্টারপ্রাইজগুলি শহরাঞ্চলে প্রসারিত হয়েছে। ক্লে এবং ব্রুমিসের মতো শিশুদের যত্ন প্রদানেমঞ্চগুলি চাহিদা অনুযায়ী বেবিসিটিং পরিষেবা প্রদান করেঅন্য দিকে খেয়াল এবং গুডফেলোর মতো মঞ্চগুলি বয়স্কদের যত্নের জন্য চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করেদৈনন্দিন কাজের জন্য সাহচর্যের মতো উদ্ভাবনী টপ-আপ পরিষেবাগুলির পাশাপাশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলায় অনলাইন গেম কর্মশালা প্রদান করে।

এই পরিষেবাগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে যত্ন প্রদানের কাজকে গিগ ওয়ার্ক দ্রুত বাণিজ্য মঞ্চের সঙ্গে সমন্বিত করা হচ্ছে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ মহিলা গিগ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আরবান কোম্পানি ইন্সটা হেল্প প্রদান করে, যা বাড়িতে এসে রান্নাবান্না ঘর পরিষ্কারের মতো তাৎক্ষণিক ঘরোয়া পরিষেবা প্রদান করে। স্ন্যাবিটের মতো মঞ্চগুলি ১০ মিনিটের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ঘরোয়া পরিষেবা প্রদান করে।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ মহিলা গিগ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আরবান কোম্পানি ইন্সটা হেল্প প্রদান করে, যা বাড়িতে এসে রান্নাবান্না ঘর পরিষ্কারের মতো তাৎক্ষণিক ঘরোয়া পরিষেবা প্রদান করে।

ভারতে যত্নের কাজ মূলত অনানুষ্ঠানিক এবং ন্যায্য আয়, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সামাজিক সুরক্ষা-সহ উপযুক্ত কাজের গুণমান পূরণে ব্যর্থ হয়। যত্নের কাজের ডিজিটালকরণ মঞ্চায়নের মাধ্যমে মহিলা কর্মীদের আয় স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি পেতে পারেতবে ভারতে মহিলা গিগ কর্মীদের অভিজ্ঞতা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, চাকরির নিরাপত্তা, দর কষাকষির ক্ষমতা অ্যালগরিদমিক বৈষম্য-সহ বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জও অব্যাহত। যত্নমূলক অর্থনীতির ডিজিটালকরণ ও আনুষ্ঠানিকীকরণ - যার মধ্যে উপযুক্ত কাজের গুণমান বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত - একই সঙ্গে সমাপতিত হওয়া অপরিহার্য।

ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য

এই বছরের বিশ্ব টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্য সমাজ দিবসের ভাবনা ‘ডিজিটাল রূপান্তরে লিঙ্গ সমতাঅত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যা তুলে ধরে যে, কী ভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধান মহিলাদের অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজে সামগ্রিক অংশগ্রহণ সীমিত করে দেবে। এই ভাবনায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ডিজিটাল প্রযুক্তি সকলের জন্য সুযোগ উন্মোচন করতে পারলেও বিশ্বের ২.৬ বিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ বেশির ভাগ নারী ও মেয়েদের নাগালের বাইরে থেকে যায়, যাঁরা এখনও সংযোগ বিচ্ছিন্ন। ২০২৪ সালে গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশন-এর (জিএসএমএ) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতে বিশ্বের সর্বোচ্চ ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে দেশে ৭৫ শতাংশ নারীর কাছে মোবাইল ফোন থাকলেও ৮৫ শতাংশ পুরুষ মাত্র ৩৫ শতাংশ নারীর স্মার্টফোন রয়েছে।

এই ভাবনায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ডিজিটাল প্রযুক্তি সকলের জন্য সুযোগ উন্মোচন করতে পারলেও বিশ্বের ২.৬ বিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ বেশির ভাগ নারী ও মেয়েদের নাগালের বাইরে থেকে যায়, যাঁরা এখনও সংযোগ বিচ্ছিন্ন।

যেহেতু ভবিষ্যতের যত্নমূলক অর্থনীতি ক্রমশ ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বিত হবে, তাই লব্ধতা ও সাক্ষরতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য যত্নমূলক অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করবে। নারীদের বেতন-ভাতাহীন কাজ - যা পরিবার, সম্প্রদায় এবং অর্থনীতির কল্যাণের জন্য অপরিহার্য - তা মূলত অস্বীকৃত অবমূল্যায়িতই থেকেছে। বেতন-ভাতাহীন কাজের অসম বণ্টন মোকাবিলার জন্য যত্নমূলক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাই হল এগিয়ে যাওয়ার পথ।

লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য দূর করাই আসলে যত্নমূলক অর্থনীতিতে নারীর সম্ভাবনা উন্মোচনের পূর্বশর্ত।

 


সুনয়না কুমার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.