প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে খরচ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়—জটিল ব্যবস্থা, গোপনীয়তা এবং রাজনীতির কারণে মূল্যের সঠিকতা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
ভূমিকা
ওয়েপন সিস্টেম ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত চুক্তিগুলির সঠিক ব্যয় গণনা সব সময়ই বিতর্ক ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ বা সাঁজোয়া যান যাই হোক না কেন, এই সিস্টেমগুলির জটিলতা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সংগ্রহ প্রক্রিয়া সঠিক ব্যয় অনুমান করাকে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। এই অসুবিধা আরও বেড়ে যায় এই কারণে যে, অস্ত্রের চুক্তিগুলো নিছক হার্ডওয়্যার কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এতে দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রহের সময়সীমা এবং অপারেশনাল, রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সংক্রান্ত বিষয়ও জড়িত থাকে, যা প্রাথমিক ব্যয় অনুমান এবং মূল্য আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও এই উদ্বেগগুলি সব ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্যই প্রযোজ্য, তবে সরঞ্জাম যখন বিদেশি উৎস থেকে আমদানি করা হয়, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যয় কেন এত অস্বচ্ছ, তা বোঝার জন্য এমন একটি প্রেক্ষাপটে পদ্ধতিগত, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কারণগুলির পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা প্রয়োজন, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আর্থিক বিচক্ষণতা উভয়ই জড়িত থাকে।
মানসম্মত কার্যপ্রণালী এবং জীবনচক্র ব্যয়ের অভাব
প্রতিরক্ষা সংগ্রহ প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান সমস্যা হল ব্যয় অনুমানের জন্য একটি মানসম্মত কার্যপ্রণালীর অভাব। ভারতসহ অনেক দেশে প্রতিরক্ষা সংগ্রহে একটি সুসঙ্গত ও বিস্তারিত ব্যয় নির্ধারণ পদ্ধতির অভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯২ সালে প্রকাশিত ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা সংগ্রহ পদ্ধতি (ডিপিপি) প্রাথমিক ব্যয় অনুমানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করেনি, যার ফলে বিভিন্ন সংগ্রহকারী সংস্থার মধ্যে ব্যয় নির্ধারণের পদ্ধতিতে ভিন্নতা দেখা দেয়। এই অসামঞ্জস্যের কারণে সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরুর সময় প্রাথমিক ব্যয়ের অনুমানগুলি প্রায়শই সেকেলে বা অবাস্তব হয়ে পড়ে। ২০২০ সালে প্রকাশিত প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পদ্ধতি (ডিএপি)-ও এই বিষয়টি স্পষ্ট করে না; এই ক্ষেত্রে একটি সংশোধনী নতুন ডিএপি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ত্রের চুক্তিগুলো নিছক হার্ডওয়্যার কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এতে দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রহের সময়সীমা এবং অপারেশনাল, রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সংক্রান্ত বিষয়ও জড়িত থাকে, যা প্রাথমিক ব্যয় অনুমান এবং মূল্য আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রাথমিক ব্যয়ের প্রাককলনে প্রায়শই রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালন সহায়তার মতো দীর্ঘমেয়াদি খরচগুলি উপেক্ষা করা হয়, যা মূল ক্রয়মূল্যকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকারগুলি সাধারণত এল১ অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতা সংস্থাকেই বরাত দিয়ে থাকে। এল১ পদ্ধতিতে সর্বনিম্ন দরদাতাকেই সাধারণত বরাত দেওয়ার কারণ হল এটি সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য প্রস্তাব করে। তবে, এল১ পদ্ধতির সমালোচনা করা হয় এই কারণে যে, এটি সরঞ্জাম কেনার পরের কার্যকলাপগুলিতে ব্যয় হওয়া অর্থকে হিসেবের মধ্যে রাখে না। ব্যয়ের এল১ পদ্ধতির বিপরীতে, লাইফ সাইকেল কস্ট (এলসিসি) পদ্ধতিকে প্রায়শই আরও বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এলসিসি বলতে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের গবেষণা, উন্নয়ন, উৎপাদন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিষ্পত্তির ফলে উদ্ভূত সমস্ত ব্যয়কে বোঝায়। মূল্যস্ফীতির ভিন্ন হারও এলসিসি গণনার উপর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে যখন এগুলি প্রাথমিক ব্যয়ের প্রাককলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। যেহেতু বহরের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মোট এলসিসি-র প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, তাই এলসিসি এবং পারফরম্যান্স-বেসড-লজিস্টিকস চুক্তির সমন্বয় এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে যে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদার নিছক অধিগ্রহণের বাইরে গিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবে। তবে সমালোচকেরা উল্লেখ করেন যে, এমনকি এলসিসি পদ্ধতিও ত্রুটিমুক্ত নয়, কারণ এটি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার সময় বিলম্বকে হিসেবের মধ্যে ধরে না।
প্রতিরক্ষা কর্মসূচিগুলি প্রায়শই অতিরিক্ত আশাবাদী ব্যয় ও সময়সূচি অনুমান দিয়ে শুরু হয়। প্রকল্প যত এগোতে থাকে, অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের কারণে খরচ বৃদ্ধি পায় এবং সময়সীমা দীর্ঘায়িত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর লিটোরাল কমব্যাট শিপ কর্মসূচিটি প্রতিটি জাহাজের জন্য ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরু হয়েছিল, কিন্তু অপ্রত্যাশিত জটিলতার কারণে খরচ শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণ হয়ে যায়। ভারতের ক্ষেত্রে, রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মূল্য সংশোধন এবং প্রাথমিকভাবে অনুমান করা চুক্তির মোট খরচের সঙ্গে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) জন্য সামগ্রিক জীবনচক্র ব্যয়ের (এলসিসি) অসামঞ্জস্যের কারণে উল্লেখযোগ্য বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা (এল১) বনাম জীবনচক্র ব্যয় (এলসিসি) বিতর্কটি সংগ্রহকারী কর্তৃপক্ষগুলির সামনে এই দ্বিধা তুলে ধরে যে, তারা সর্বনিম্ন উদ্ধৃত মূল্যকে অগ্রাধিকার দেবে নাকি রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডের জন্য কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত মালিকানার ব্যয়কে মূল্যায়ন করবে।
অস্বচ্ছতা, রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
কোন ব্যয় নির্ধারণ পদ্ধতিটি অধিক নির্ভুল, সেই সংক্রান্ত বিষয়গুলির বাইরেও আরও কিছু কারণ প্রতিরক্ষা সংগ্রহকে প্রভাবিত করে। বৈধ নিরাপত্তা কারণে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র সীমিত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়। তবে, এটি বিশ্লেষক ও গবেষকদের জন্য অস্ত্রের খরচ মূল্যায়ন করাও কঠিন করে তোলে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ স্বীকার করেছে যে তাদের ব্যয়ের অনুমান প্রায়শই অসম্পূর্ণ বা ভুল হয়, যা সামরিক ব্যয় সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ভারতেও সরকার পার্লামেন্টের কাছে প্রকৃত চুক্তির খরচ প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে, যদিও এটি গোপনীয়তার ধারার অধীনে পড়ে না। গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিতর্কিত ধারণাগুলিকে বিকৃতভাবে এবং ব্যাপক আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অস্বচ্ছ করে তোলে। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বাইরের কারও কাছে সংগ্রহের তথ্য শেয়ার করা নিষিদ্ধ, তবুও মাঝে মাঝে তথ্য ফাঁস এবং ভেতরের খবর জানা কয়েকজনের মাধ্যমে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ বিশ্বজুড়ে একটি নিয়মিত ঘটনা। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে, যেখানে বিক্রেতা কোনও এজেন্ট/পরামর্শদাতার পরিষেবা ব্যবহার করে, সেখানে তাদের পারিশ্রমিক উদ্ধৃত মূল্যের একটি অংশ হয়, যা ক্রেতার জন্য সামগ্রিক ক্রয় খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভারত সরকার এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং সরকারি চুক্তিতে জড়িত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির জন্য কোনও পরামর্শদাতা/এজেন্টের পরিষেবা গ্রহণ করা হলে তা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করেছে। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল এবং অন্য অংশীদারেরা প্রায়শই প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলির উপর কড়া নজর রাখে। ভুল বা অসম্পূর্ণ অনুমানের ক্ষেত্রে, চুক্তির খরচ একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য এটিকে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে শেষ পর্যন্ত বিদেশে সম্পাদিত অনুরূপ চুক্তিগুলির সঙ্গে তুলনা করা হয়, এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর এই ধরনের চুক্তির প্রভাব সম্পর্কেও মন্তব্য করা হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য অভ্যন্তরীণ জনসাধারণকে বোঝানো এবং বিভিন্ন চাপ সামলানোও প্রয়োজন হয়। অস্ত্র বিক্রেতারা উচ্চ মূল্যের চুক্তিগুলি সম্পন্ন করার জন্য আইনি ফাঁকফোকর এবং আমলাতান্ত্রিক দক্ষতার অভাবের সুযোগ নিতে চায়। এই ধরনের ক্ষেত্রে আমলা, রাজনীতিবিদ এবং ঠিকাদারদের নিজস্ব স্বার্থ এবং প্রলোভন থাকতে পারে, যার ফলে তারা খরচ কমিয়ে দেখায় বা সরঞ্জামের সক্ষমতা বাড়িয়ে বলে। এই 'বৌদ্ধিক অসততা' অবাস্তব প্রত্যাশা এবং খরচ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে, কারণ অংশীদারেরা সঠিক পূর্বাভাসের চেয়ে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেয়। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরেও, পরবর্তী নিরীক্ষা ও আপত্তির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ, অর্জিত সক্ষমতা এবং সংগ্রহ ও আর্থিক নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন উঠতে পারে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিতর্কিত ধারণাগুলিকে বিকৃতভাবে এবং ব্যাপক আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অস্বচ্ছ করে তোলে।
প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো প্রায়শই বহু বছর ধরে চলে, এই সময়ে মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করে। চূড়ান্ত মূল্যে মূল্যস্ফীতির হার অন্তর্ভুক্ত করলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে ক্রেতার জন্য অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব সৃষ্টি হয়। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রেতা দেশের পক্ষ থেকে চুক্তির খরচ সংশোধন (এবং বৃদ্ধি) করার পদক্ষেপগুলি ভারতে অনুকূলভাবে দেখা হয়নি। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যদি ক্রেতা ডলার বা তাদের নিজস্ব মুদ্রায় অর্থ প্রদানের জন্য জোর দেয়, যা ক্রেতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই বিষয়গুলি একটি প্রকল্পের শুরুতে অনুমান করা কঠিন, এবং একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে এগুলির সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।
প্রতি ইউনিট মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কে ভুল ধারণা
জনসাধারণের (এবং গণমাধ্যম-প্রভাবিত) আলোচনায় একটি সমস্যা হল, অস্ত্র চুক্তিতে ঘোষিত মোট লেনদেনের মূল্যের উপর ভিত্তি করে সরাসরি গাণিতিক হিসাব করার প্রবণতা। এটি প্রায়শই বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি ১০টি বিমান কেনার জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়, তবে এটি হিসাব করা সঠিক নয় যে প্রতিটি বিমানের দাম ঠিক ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে। বিশ্লেষণের এই পদ্ধতিটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও, এটি ত্রুটিপূর্ণ।
চুক্তির ব্যয়ের মোট পরিমাণ ব্যবহার করে প্রতি একক মূল্য বার করার চেষ্টা প্রতিরক্ষা সংগ্রহের জটিলতাকে অতিসরলীকরণ করে।
একটি চুক্তির মোট ব্যয়ের মধ্যে শুধু প্ল্যাটফর্মটির দামের চেয়ে আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকে। এতে সাধারণত একটি ব্যাপক অস্ত্র প্যাকেজ (যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা এবং রকেট), খুচরা যন্ত্রাংশ, গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, সিমুলেটর, অপারেটিং কর্মী এবং রক্ষণাবেক্ষণ দলের জন্য প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ বা কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর বা অফসেট বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাই, চুক্তির ব্যয়ের মোট পরিমাণ ব্যবহার করে প্রতি একক মূল্য বার করার চেষ্টা প্রতিরক্ষা সংগ্রহের জটিলতাকে অতিসরলীকরণ করে। এটি শুধু জনসাধারণের বোধগম্যতাকেই বিকৃত করে না, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে এবং ভুল বিবৃতির পথও খুলে দেয়, বিশেষ করে যখন খরচটি কোনও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নেওয়া হয় না। সুতরাং, চুক্তির অঙ্কগুলি ব্যাখ্যা করার সময় একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
উপসংহার
একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির সঠিক ব্যয় অনুমান করা সাধারণত যতটা মনে করা হয় তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। প্রমিত পদ্ধতির অভাব থেকে শুরু করে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা, রাজনৈতিক চাপ এবং অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ভেরিয়েবল পর্যন্ত একাধিক আন্তঃসম্পর্কিত কারণ সঠিক অঙ্কে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে। যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে জনমত প্রভাবিত করে, তখন এই চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ শুধু একটি সরঞ্জাম কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে আনুষঙ্গিক খরচের একটি জটিল জাল, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি, কৌশলগত আপস এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির পরিকল্পনা। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক দৃঢ়তা এবং পেশাদার সততা অপরিহার্য, যাতে ব্যয়ের অনুমানগুলি বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে। একই সঙ্গে, এটিও স্বীকার করতে হবে যে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের অন্তর্নিহিত জটিলতার কারণে, যে কোনও ব্যয় নির্ধারণ পদ্ধতি নিছক আনুমানিক হিসেবই দিতে পারে, সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নয়। প্রতিরক্ষা আমলাতন্ত্র, সশস্ত্র বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যয় বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণরূপে দূর করতে পারে না। তবে, যদি ব্যয়ের কোনও সংশোধন ঘটে, তবে তাদের দায়িত্ব হল এই বৃদ্ধিকে সামান্য এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য সীমার মধ্যে রাখা।
আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ শুধু একটি সরঞ্জাম কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে আনুষঙ্গিক খরচের একটি জটিল জাল, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি, কৌশলগত আপস এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির পরিকল্পনা।
দেশগুলি যখন তাদের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ করছে এবং বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে নিযুক্ত হচ্ছে, তখন আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ব্যয় নির্ধারণ পদ্ধতি বিকশিত করার একটি জোরালো প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। জনসাধারণের উন্নত বোঝাপড়া, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট যোগাযোগ, এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এই ধারণাগত ব্যবধান দূর করতে এবং প্রতিরক্ষা অর্থনীতি নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক বিতর্ক নিশ্চিত করাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
রাহুল ওয়াংখেড়ে নয়াদিল্লির মনোহর পরিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিস (এমপি-আইডিএসএ)-এর গবেষণা বিশ্লেষক।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Rahul Wankhede is a Research Analyst at the Manohar Parrikar Institute for Defence Studies and Analyses (MP-IDSA), New Delhi. His research areas are defence cooperation, ...
Read More +