Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 08, 2026 Updated 0 Hours ago

প্রাকৃতিক, মানব, ভৌত সামাজিক পুঁজির বাইরে, উদ্ভাবনী শক্তিই অত্যাবশ্যকপঞ্চম পুঁজিহিসেবে আবির্ভূত হয়যেটি ধারণা উদ্ভাবনের সেই ভাণ্ডার যা অ্যানথ্রোপোসিন যুগে সমাজকে টিকিয়ে রাখে।

পঞ্চম পুঁজি

ধ্রুপদী রাজনৈতিক অর্থনীতি উৎপাদনের তিনটি প্রধান উপকরণের উপর আলোকপাত করেছিল—যথা ভূমি, শ্রম ও পুঁজি—এবং পরবর্তীতে উদ্যোক্তা বা উদ্যোগকে চতুর্থ উপকরণ হিসেবে যুক্ত করে। ভূমি বলতে প্রাকৃতিক সম্পদের সেই সমস্ত ভাণ্ডারকে বোঝায় যা পণ্য ও পরিষেবা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্রম বলতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকার মানব প্রচেষ্টার পরিমাণকে বোঝায়। পুঁজি, যাকে প্রায়শই ‘উৎপাদনের উৎপাদিত উপকরণ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তার মধ্যে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা তৈরির জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, কারখানা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর মতো উপকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। উদ্যোক্তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এই উপাদানগুলিকে পরিচালনা, একত্রিত ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করেন।

আকর্ষণীয় বিষয় হল, ধ্রুপদী রাজনৈতিক অর্থনীতির আলোচনা এবং পরবর্তীকালের চিন্তাধারাগুলি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হিসেবে অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছিল। তবে এর দুটি সীমাবদ্ধতাও ছিল। প্রথমটি ছিল মার্কসীয় এবং নব্য-মার্কসীয় চিন্তাধারা, যা পুঁজিবাদের এই ধারায় বণ্টন ও সমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিকে তুলে ধরেছিল। দ্বিতীয় সমালোচনাটি ধ্রুপদী অর্থনীতি থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল, যা এই লাগামহীন বৃদ্ধির গল্পের একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে সম্পদের বা উৎপাদনের উপকরণগুলির, বিশেষ করে ভূমির, দুষ্প্রাপ্যতার বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। দুষ্প্রাপ্যতার ধারণাটি অর্থনীতি চর্চার কেন্দ্রে চলে আসে যখন লায়োনেল রবিন্স এই বিষয়ের শাস্ত্রীয় সংজ্ঞাটিকে তুলে ধরেন এভাবে: "...প্রতিযোগিতামূলক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সীমিত সম্পদের বণ্টন।" তবে, সময়ের সাথে সাথে, ক্লাব অফ রোমের তত্ত্বটি একটি অমঙ্গলসূচক ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা নব্য-ম্যালথুসীয় মতবাদের উপর জোর দিয়ে বলে যে প্রাকৃতিক সম্পদের অতি-ব্যবহার শুধু বৃদ্ধিকেই ব্যাহত করবে না, বরং পৃথিবীতে মানুষসহ জীবজগতের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা প্রদানে গ্রহের ক্ষমতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। দুর্ভাগ্যবশত, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গবেষণায় বেশ কিছুদিন ধরে সরলীকৃত দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত ছিল, যেখানে ভূমি (বা প্রাকৃতিক সম্পদ) একটি প্রদত্ত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হত, যার ফলে অর্থনীতিবিদরা শ্রম ও পুঁজির মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিস্থাপনের হার নিয়ে অবিরাম গবেষণা করতে থাকেন।


উদ্ভাবনী ক্ষমতা হল সমাজের অভিযোজন, উদ্ভাবন এবং জটিলতার প্রতি সাড়া দেওয়ার একটি মেটা-সক্ষমতা। এটি মানব পুঁজি (দক্ষতা এবং শিক্ষা) বা সামাজিক পুঁজি (বিশ্বাস এবং প্রতিষ্ঠান) কোনওটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যদিও এটি উভয় ক্ষেত্র থেকেই শক্তি আহরণ করে। বরং, এটি ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত একটি বৈশিষ্ট্য — পরিবর্তনশীল সীমাবদ্ধতার মধ্যে সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য ক্রমাগত নতুন পথ উদ্ভাবনের ক্ষমতা।



ক্লাব অফ রোমের তত্ত্বটি সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও, ‘ভূমি’ নামের অধীনে অন্তর্ভুক্ত প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৯৯২ সালের ধরিত্রী সম্মেলনে এটি বিশেষ গুরুত্ব পায়, যেখানে ব্রুন্ডল্যান্ড কমিশন রিপোর্টের ‘স্থিতিশীল উন্নয়ন’-এর সংজ্ঞাটি   গ্রহণ করা হয়েছিল (যা হল “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজেদের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতাকে বিপন্ন না করে বর্তমানের চাহিদা পূরণ করা”)। সম্প্রতি, ২০১৫ সালে স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) গৃহীত হওয়ার সাথে সাথে, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পূর্বকল্পিত আপসগুলিকে এড়িয়ে চলতে হয়েছে এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন শাসনে সেগুলিকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

আকর্ষণীয় বিষয় হল, এসডিজি সম্পর্কিত আলোচনায় উৎপাদনশীল দক্ষতা এবং আন্তঃপ্রজন্ম কল্যাণের ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পুঁজিকে স্বীকার করা হয়েছে। ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাঙ্ক এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-র অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ প্রতিবেদনগুলি  উৎপাদিত, মানব এবং প্রাকৃতিক পুঁজিকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি টিকিয়ে রাখার জন্য সম্পদের মৌলিক ত্রয়ী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। সময়ের সাথে সাথে পণ্ডিতরা একটি দেশের মোট বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদের এই ম্যাট্রিক্সে সামাজিক পুঁজিকে যুক্ত করেছেন, যা অন্য পুঁজিগুলির কার্যকর ব্যবহার সহজতর করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান, বিশ্বাস এবং নেটওয়ার্কের ভূমিকার ওপর জোর দেয়।

এখানে ধ্রুপদী রাজনৈতিক অর্থনীতিতে চিহ্নিত উৎপাদনের উপাদানগুলির একটি প্রতিধ্বনি খুঁজে পাওয়া যায় – ভূমি হল প্রাকৃতিক পুঁজি; শ্রম হল মানব পুঁজি (যদিও একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, কারণ শ্রমকে একটি প্রবাহ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, অন্যদিকে মানব পুঁজি হল একটি মজুত); পুঁজি হল উৎপাদিত বা ভৌত পুঁজি; এবং উদ্যোক্তা বা উদ্যোগের অধীনে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলি দৃশ্যত সামাজিক পুঁজি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যা একটি আরও সামগ্রিক ঘটনার প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষমতার এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও, একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যা একবিংশ শতাব্দীতে টিকে থাকা এবং সাফল্যের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ধারক হয়ে উঠছে, তা বাদ পড়ে গিয়েছে বলে মনে হয়: উদ্ভাবনের ক্ষমতা।

হোমার-ডিক্সন কর্তৃক সংজ্ঞায়িত উদ্ভাবনের ক্ষমতা

টমাস হোমার-ডিক্সন তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘দ্য ইনজেনুইটি গ্যাপ ’-এ ‘উদ্ভাবনী ক্ষমতা’কে জটিল ও উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ধারণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী ক্ষমতা, যা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলের অগ্রগতিকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং সামাজিক উদ্ভাবনী ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যা শাসনব্যবস্থা, সামাজিক চুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। হোমার-ডিক্সনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল যে আধুনিক সমাজগুলি একটি ‘‌উদ্ভাবনী ক্ষমতার ফাঁদ’‌-‌এ আটকা পড়েছে — পরিবেশগত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলির জন্য নতুন সমাধানের চাহিদা সেগুলির উৎপাদনের ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।


উদ্ভাবনী ক্ষমতা হল অনুঘটক পঞ্চম পুঁজি  — একটি সক্ষমকারী শক্তি যা অন্যদের উৎপাদনশীল দক্ষতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। উদ্ভাবনী ক্ষমতা ছাড়া উৎপাদিত, মানবিক এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতিদান স্থবির হয়ে পড়ে; আর উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকলে তা অ-রৈখিকভাবে বৃদ্ধি পায়।



মূলত, উদ্ভাবনী ক্ষমতা হল সমাজের অভিযোজন, উদ্ভাবন এবং জটিলতার প্রতি সাড়া দেওয়ার একটি মেটা-সক্ষমতা। এটি মানব পুঁজি (দক্ষতা এবং শিক্ষা) বা সামাজিক পুঁজি (বিশ্বাস এবং প্রতিষ্ঠান) কোনওটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যদিও এটি উভয় ক্ষেত্র থেকেই শক্তি আহরণ করে। বরং, এটি ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত একটি বৈশিষ্ট্য — পরিবর্তনশীল সীমাবদ্ধতার মধ্যে সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য ক্রমাগত নতুন পথ উদ্ভাবনের ক্ষমতা।

কেন উদ্ভাবনী ক্ষমতা পুঁজি হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য

এখানে যে প্রশ্নটি ওঠে তা হল: উদ্ভাবনী ক্ষমতা কেন পুঁজি হিসেবে গণ্য হবে? অর্থনৈতিক অর্থে কোনও সম্পদকে পুঁজি হিসেবে গণ্য হতে হলে, এটিকে এমন একটি মজুতের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে যা সময়ের সাথে সাথে সুবিধা বা উপযোগের একটি প্রবাহ তৈরি করে। উদ্ভাবনী ক্ষমতার উৎপাদন হল একটি প্রবাহ – এমন একটি প্রক্রিয়া যা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বা সমস্ত অনুমান বাদ দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিতে পরিচালিত পরীক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং সামাজিক উদ্ভাবনকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ধারণাগুলি বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা, যা একটি মজুত  আকারে তৈরি হয়, তা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ব্যবস্থা, জ্ঞান নেটওয়ার্ক, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, সৃজনশীল শিল্প এবং সাংস্কৃতিক উন্মুক্ততার মধ্যে সঞ্চিত হয়। এই মজুতগুলি, বা উদ্ভাবনী পুঁজি, নিম্নলিখিত উপায়ে অন্যান্য পুঁজির উৎপাদনশীলতার সীমাকে প্রসারিত করে:

❅ উৎপাদিত পুঁজির উৎপাদনশীলতা প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নততর হয়। ১৯৭০-এর দশকে টয়োটা কর্তৃক প্রবর্তিত জাস্ট-ইন-টাইম (‌জেআইটি) উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ, এবং পরবর্তীতে রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত অটোমেশনের সমন্বিত প্রয়োগ, বড় আকারের মজুত ও গুদামঘরের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস করেছে, খরচ কমিয়েছে, কার্যকরী পুঁজিকে মুক্ত করেছে, অভ্রান্ততা বাড়িয়েছে, ত্রুটি কমিয়েছে, এবং ব্যাপক কাস্টমাইজেশন সম্ভব করেছে।

❅ মানব পুঁজির উৎপাদনশীলতা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং সামাজিক চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সিস্টেমের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়। উদাহরণস্বরূপ, টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল স্বাস্থ্য অ্যাপ এবং দূরবর্তী রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামগুলি চিকিৎসাকর্মীদের শারীরিক সংখ্যা না বাড়িয়েই তাদের কার্যকর উৎপাদনশীলতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

❅ পরিবেশগত পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি, জলবায়ু-সহনশীল অনুশীলন এবং নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষিত ও উন্নত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষি পদ্ধতি জল ও মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে, যার ফলে জলের ব্যবহার কমে এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

❅ উন্নত শাসনব্যবস্থার উদ্ভাবন, সম্মিলিত পদক্ষেপের নতুন রূপ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক পুঁজিকে আরও গভীর করা হয়। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো—যেমন আধার, ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) এবং কোউইন—প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে, লেনদেনের খরচ কমিয়ে এবং বৃহৎ পরিসরে শাসনের অভিযোজনযোগ্যতা প্রদর্শন করে সামাজিক পুঁজিকে উন্নত করেছে।

এই অর্থে, উদ্ভাবনী ক্ষমতা হল অনুঘটক পঞ্চম পুঁজি  — একটি সক্ষমকারী শক্তি যা অন্যদের উৎপাদনশীল দক্ষতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। উদ্ভাবনী ক্ষমতা ছাড়া উৎপাদিত, মানবিক এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতিদান স্থবির হয়ে পড়ে; আর উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকলে তা অ-রৈখিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং বিদ্যমান কাঠামোর সীমাবদ্ধতা

একবিংশ শতাব্দীর সমস্যাগুলি এতটাই জটিল হয়ে উঠছে যে প্রচলিত রৈখিক চিন্তাভাবনা দিয়ে সেগুলির সমাধান করা সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিমারি, আর্থিক অস্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত ব্যাঘাত শুধু পুঁজির ঘাটতির সমস্যা নয়; এগুলি হল অভিযোজনগত অপ্রতুলতার সমস্যা। একটি দেশের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দক্ষ শ্রম থাকতে পারে, কিন্তু যদি দেশটি জলসংকট মোকাবিলার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন করতে বা দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন তৈরি করতে না পারে, তবে তার কল্যাণ ব্যাহত হয়। গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকটি অংশে বিদ্যমান ‘‌সম্পদের অভিশাপ’-‌এর‌ ঘটনাটি প্রচুর প্রাকৃতিক পুঁজিকে উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করার জন্য উদ্ভাবনী ক্ষমতার অভাবের সমস্যারই একটি লক্ষণ। এখানে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে নতুন সমাধান তৈরি করার ক্ষমতা। এখানেই মূলধন হিসেবে উদ্ভাবনী ক্ষমতার যৌক্তিক ভিত্তি নিহিত: এটি কেবল একটি ক্ষমতাই নয়, বরং এটি এমন একটি ভাণ্ডার যা সমাজ লালন করতে, সঞ্চয় করতে এবং ব্যবহার করতে পারে।


গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকটি অংশে বিদ্যমান ‘‌সম্পদের অভিশাপ’-‌এর‌ ঘটনাটি প্রচুর প্রাকৃতিক মূলধনকে উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করার জন্য উদ্ভাবনী ক্ষমতার অভাবের সমস্যারই একটি লক্ষণ।



তবে, আসল চ্যালেঞ্জটি হল উদ্ভাবনী ক্ষমতা পরিমাপ করা। যদিও প্রায়শই পরামর্শ দেওয়া হয় যে গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয়, পেটেন্ট প্রাপ্তির হার এবং প্রযুক্তি ব্যবহার, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন সূচকের মতো পরোক্ষ বিষয়গুলি বিবেচনা করা সহায়ক হতে পারে, তবুও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ভূমিকা অনুমান করার একটি উন্নত উপায় হল দুটি অর্থনীতির মধ্যে মোট উপকরণ উৎপাদনশীলতার পার্থক্য অনুমান করা। এটি একটি পদ্ধতিগত যুগান্তকারী অগ্রগতির জন্য সূচনা বিন্দু হতে পারে।

উপসংহার

উদ্ভূত জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থায়িত্বের জন্য উদ্ভাবনী পুঁজি অপরিহার্য। তাই স্থায়িত্ব শুধু সমাজ কর্তৃক পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পর্যাপ্ত উৎপাদিত, মানবিক এবং প্রাকৃতিক সম্পদ হস্তান্তরের উপরেই নির্ভরশীল নয়, বরং ভবিষ্যতের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রদানের উপরেও নির্ভরশীল। প্রযুক্তিগত অচলাবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা—এই সবই এই পুঁজিকে ক্ষয় করতে পারে। পক্ষান্তরে, যে সমাজগুলি সৃজনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং উদ্ভাবন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করে, তারা তাদের অভিযোজন ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কেবল সম্পদের ক্ষয় নয়, বরং উদ্ভাবনী ক্ষমতার ক্ষয়—ঠিক সেই মুহূর্তে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার অবক্ষয়, যখন জটিলতা আরও গভীর হয়। পঞ্চম পুঁজি হিসেবে উদ্ভাবনী ক্ষমতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ কাঠামোকে অভিযোজনযোগ্যতা এবং সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে প্রসারিত করে – যা অ্যানথ্রোপোসিনের জটিল সমস্যাগুলির মোকাবিলা করার জন্য অপরিহার্য।


নীলাঞ্জন ঘোষ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-‌এর ভাইস প্রেসিডেন্ট।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.