Author : Shivam Shekhawat

Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 27, 2026 Updated 0 Hours ago

নেপালের পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়ম, এবং ভূ-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে, যা সুশাসনের প্রতিবন্ধকতাগুলোকে তুলে ধরে।

পোখরার ভাগ্য: যোগসাজশ ও দুর্নীতির অভিযোগ

২০২৫ সালের ডিসেম্বর, নেপালের ক্ষমতার অপব্যবহার তদন্ত কমিশন (সিআইএএ) পোখরায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা চিনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (এসওই) সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোং এবং ৫৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র (চার্জশিটদাখিল করেছে। এই অভিযোগপত্রটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির জটিল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাত হলেও, এটিই প্রথম নয়; এই বিষয়ে আলোচনা ১৯৭০-এর দশকথেকে চলে আসছে। যদিও দুর্নীতি দমন সংস্থাটির এই সর্বশেষ পদক্ষেপ দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রাষ্ট্রীয় বেসরকারি পক্ষগুলির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে নতুন করে আশা জাগিয়েছে, তবে বিমানবন্দরটির উন্নয়ন প্রক্রিয়া নেপালের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে আরও ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ব্যয় বৃদ্ধি

সিআইএএ বিমানবন্দরের ব্যয় ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো এবং অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের অনুমোদন দেওয়ার জন্য সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চেয়ারম্যান রিজিয়নাল জেনারেল ম্যানেজার-‌সহ ৫৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। এছাড়াও, ২৪৪.০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যয়কে ন্যায্য প্রমাণ করার জন্য যোগসাজশের অভিযোগে নেপালি কর্মকর্তা এবং চিনা কোম্পানি উভয়কেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে একটি সংসদীয় উপকমিটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, যেখানে বিমানবন্দরটির নির্মাণে অনিয়ম তুলে ধরা হয় এবং আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ১৪ বিলিয়ন নেপালি রুপি বলে অনুমান করা হয়।

কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করতে চায়, যা এটিকে নেপালের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুর্নীতির মামলায় পরিণত করেছে।



অভিযোগপত্র অনুসারে, প্রাক্তন অর্থ পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রাক্তন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অতিরিক্ত মূল্যেরপ্রযুক্তিগতভাবে ভিত্তিহীন দরপত্রবিবেচনা করেছিলেন এবং প্রতারণামূলক উপদেষ্টা গোষ্ঠী গঠন করেছিলেন, যার সব কিছুর লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত মুনাফা করা। সরকারি ক্রয় আইনে এমন কোনও কমিটির বিধান ছিল না, যাদের সুপারিশ সংশোধিত ব্যয়কে ন্যায্য প্রমাণ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। সিআইএএ-এর মতে, আগস্ট ২০১৮ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যে সিএএমসি প্রায় ২২৪.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে, যার মধ্যে ৭৪.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ব্যক্তি সংস্থাগুলির কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করতে চায়, যা এটিকে নেপালের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুর্নীতির মামলায় পরিণত করেছে।

পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালনগত দুর্বলতা

প্রায় পাঁচ দশক বিলম্বের পর, ২০২৩ সালের জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। পোখরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন ক্ষেত্রের জন্য বিমানবন্দরটির সম্ভাবনাকে একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখে আসছিল। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য, বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে থেমে থেমে ধর্মঘট বিক্ষোভ করে কর্তৃপক্ষকে বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের হতাশ করে, উদ্বোধনের পর থেকে কোনও নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়নি; তবে চিন ভুটান থেকে কয়েকটি চার্টার ফ্লাইট চলাচল করেছে। হিমালয় এয়ারলাইন্স এই বছরের মার্চ মাসে পোখরা লাসার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য একটি ফ্লাইট চালু করেছিল, যদিও সেই পরিষেবাটি পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরটিকে সম্পূর্ণরূপে চালু করতে কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতার কারণ নেপালের সরকারি ক্ষেত্রের ব্যাপক দুর্নীতি এবং এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনা। এছাড়াও নকশায় ত্রুটি এবং জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রানওয়ের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তার উপর, রানওয়ের আকার ন্যারো-বডি জেটগুলির চলাচলকেও সীমিত করে, যার ফলে পেলোড সমস্যাসহ সীমিত ক্ষমতায় উড়তে হয় এবং শুধুমাত্র স্বল্প-পাল্লার ফ্লাইটগুলিই পূর্ণ ক্ষমতায় চলাচল করতে পারে।

নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ফ্লাইটগুলি শুধুমাত্র সিমারা হয়ে দক্ষিণ পথ দিয়ে প্রবেশ করতে পারছে।



পশ্চিম পথ দিয়ে নেপালে ফ্লাইট প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ভারতীয় সিদ্ধান্তকেও বিমানবন্দরটির অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ার একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ফ্লাইটগুলি শুধুমাত্র সিমারা হয়ে দক্ষিণ পথ দিয়ে প্রবেশ করতে পারছে। যদিও ভারত পশ্চিম নেপাল দিয়ে ফ্লাইট বার হওয়ার অনুমতি দেয়, তবে প্রবেশ শুধুমাত্র দক্ষিণ পথেই সীমাবদ্ধ। এই সিদ্ধান্তটি ভৈরহওয়া এবং পোখরা উভয় আঞ্চলিক বিমানবন্দরকেই প্রভাবিত করেছে।

বিমানবন্দরটি নির্মাণের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালে, যখন একটি জার্মান পরামর্শ সংস্থা স্থান নির্বাচনের কাজ হাতে নেয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সহায়তায় একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে। পরবর্তীতে, ১৯৮৯ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এতে যুক্ত হয়, এবং এর ব্যয় ধরা হয় ৩৯. মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বছরের পর বছর বিলম্বের পর পুষ্প কুমার দাহালের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন করে। সেই সময়ে এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬৯.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরকার প্রাথমিকভাবে সহজ শর্তে ১৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ২০১১ সালে, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বর্ষা মান, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোম্পানিটিকে সরকারের ‘‘দৃঢ় উল্লেখযোগ্য’’ সমর্থনের প্রস্তাব দিয়ে সিএএমসি- সঙ্গে একটি গোপন সমঝোতা পত্র (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন।  পরবর্তীতে টেন্ডার জমা দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের সময়সীমা সরকারের আপাত পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও পরে সময়সীমা ৩০ দিন বাড়ানো হয়েছিল, নয়টি দরদাতার তিনটি প্রস্তাবই চিনা এক্সিম ব্যাঙ্ক কর্তৃক প্রাক-অনুমোদিত হয়েছিল এবং ব্যাঙ্কটি শর্ত দিয়েছিল যে শুধুমাত্র তাদের অনুমোদিত দরদাতাদেরই ঋণ দেওয়া হবে। বিরোধী দল সংসদে এমওইউটি ফাঁস করে দেওয়ার পর তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হলেও নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএন) দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যায়।

সিএএমসি ৩০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দরপত্র জমা দেয়, যা সরকারের প্রাককলনের প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৩ সালে এটি সরকার-প্রস্তাবিত প্রাককলন অনুযায়ী বিমানবন্দরটি নির্মাণ করতে সম্মত হয়। এটি চায়না এয়ারপোর্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামে একটি পরামর্শ সংস্থা নিয়োগ করে, যারা ২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেয়। ১৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি এবং ১৩ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর অন্তর্ভুক্ত করার পর, এই অঙ্কটি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছয়, যা সিএএমসি- মূল দরপত্রের সমান ছিল। ২০১৪ সালের এপ্রিলে, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী সিএএএন ২১৫.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি সংশোধিত ব্যয়ে পৌঁছয়। মে মাসে, সিএএএন প্রধান এবং সিএএমসি চেয়ারম্যান চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন; তবে, সিএএএন-এর মহাপরিচালক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চুক্তির প্রকৃতি পরিবর্তন করে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) মডেলে রূপান্তরের একটি মন্ত্রী-পর্যায়ের সিদ্ধান্ত তাঁকে সম্মতি দিতে বাধ্য করে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ব্যয়ের যে কোনও বৃদ্ধি নির্বিশেষে ঠিকাদার একটি পূর্বনির্ধারিত মূল্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য দায়ী থাকবে।


১৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি এবং ১৩ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর অন্তর্ভুক্ত করার পর এই পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, যা সিএএমসি-র মূল দরপত্রের সমান ছিল।



পরবর্তীতে, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির বেজিং সফরকালে একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় সিএএমসি ২০১৭ সালের নভেম্বর নির্মাণ কাজ শুরু করে, এবং ২০১৮ সালের এপ্রিল প্রথম ঋণের অর্থ বিতরণ করা হয়। ঋণের শর্তানুযায়ী, ২৫ শতাংশ ছিল সুদ-মুক্ত এবং বাকি অংশের উপর বার্ষিক শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হয়। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ছিল বিশ বছর এবং এর সঙ্গে সাত বছরের গ্রেস পিরিয়ড ছিল।

চিনা অর্থায়নে নির্মিত পরিকাঠামোতে দুর্নীতির ঝুঁকি

২০২৩ সালের জানুয়ারি বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের সময় তৎকালীন চিনা রাষ্ট্রদূত এটিকে নেপালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অধীনে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। নেপালি পক্ষ এই শ্রেণিবিন্যাস থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়, কারণ বিআরআই-এর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তখনও স্বাক্ষরিত হয়নি। চিন বিআরআই কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে শুরু হওয়া তাদের কিছু প্রকল্পকে এর অন্তর্ভুক্ত করে দেশটিতে নিজেদের সাফল্য প্রদর্শনের মধ্যে কিছু সুবিধা দেখেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই শ্রেণিবিন্যাসটি বেজিংয়ের জন্য সমস্যাজনক হয়ে উঠেছে।

নেপালের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে চিন একটি প্রভাবশালী শক্তি, এবং বেশিরভাগ চুক্তিই তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে প্রায় লক্ষ ৮০ হাজার যাত্রী এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করবে, এমন পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আশা করা হয়েছিল যে বিমানবন্দর থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ঋণ নেপাল পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। ফ্লাইট চলাচল চালু না হওয়ায় নেপালের নেতৃত্বের উপর বেজিংকে ঋণটিকে অনুদানে রূপান্তর করার জন্য চাপ দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ রয়েছে, যে অনুরোধটি বেজিং এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। অর্থায়নের পদ্ধতি নিয়ে নেপালের কিছু উদ্বেগ নিরসনের জন্য উভয় পক্ষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি কাঠামো সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, কিন্তু পোখরার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সিএএমসি সর্বশেষ অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পিএসি প্রতিবেদনের পর সংস্থাটি অবশ্য কোনও অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নেপালে নিযুক্ত বিদায়ী চিনা রাষ্ট্রদূত চেন সং ১৭ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে এই অভিযোগগুলির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি নেপালকে চিন তার সংস্থাগুলিকে এর সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন যে চিনা আইন অনুযায়ী ঠিকাদার একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হতে পারে না।


ফ্লাইট চলাচল চালু না হওয়ায় নেপালের নেতৃত্বের উপর বেজিংকে ঋণটিকে অনুদানে রূপান্তর করার জন্য চাপ দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ রয়েছে, যে অনুরোধটি বেজিং এখনও পর্যন্ত গ্রহণ করেনি।



এই ধরনের দাবি সত্ত্বেও, চিন বিশ্বব্যাপী বিআরআই প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতি নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। অর্থায়ন এবং অন্যান্য বিবরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়। চিন ২০২৪ সাল থেকে বিআরআই প্রকল্পগুলির মধ্যে অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, কারণ আরও অভিযোগ চিনা সহায়তাকে একটি পরোক্ষ ঋণের ফাঁদ হিসেবে তুলে ধরার ধারণাকে আরও শক্তিশালী করার ঝুঁকি তৈরি করে। এডডেটার ২০২১ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, বিআরআই-এর অধীনে থাকা প্রকল্পগুলিকে এর বাইরের প্রকল্পগুলির তুলনায় দুর্নীতির জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয় (পার্থক্য ৩৫ থেকে ২১ শতাংশ) নেপালের সেন্টার ফর সোশ্যাল ইনক্লুশন অ্যান্ড ফেডারেলিজম-‌এর একটি প্রতিবেদনে চিনা-অর্থায়িত প্রকল্পগুলিতে ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।

রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দুর্নীতিবিরোধী আদেশ

সিআইএএ যখন পোখরার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে তখন নেপাল একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী দ্বারা শাসিত ছিল, যিনি - সেপ্টেম্বর দেশের জেনারেশন জেড-এর বিক্ষোভের পর ক্ষমতায় আসেন। এই বিক্ষোভের ফলে তৎকালীন কেপি শর্মা ওলি-নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এই বিক্ষোভের একটি প্রধান কারণ ছিল দেশে পরিকল্পিত দুর্নীতি। জেনজি গোষ্ঠীর উত্থাপিত দাবিগুলি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে যখন তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দুর্নীতি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই পরিবর্তনগুলির প্রেক্ষাপটেই সিআইএএ-এর তদন্ত শুরু হয়। তারপর ৫ই মার্চের নির্বাচনের ফলাফল অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে, এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতির মামলাগুলির সমাধানের চেষ্টা জোরদার হবে বলেই মনে হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে নেপালের অবস্থান ১০৭তম, এবং সিআইএএ বর্তমানে দেশটিতে একাধিক মামলার তদন্ত করছে। শিথিল ক্রয় ব্যবস্থা এবং নিরীক্ষা প্রক্রিয়া এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্ভব করে তুলেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই নিজেদের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই দুর্নীতির ব্যাপকতা অভিযোগপত্রে উল্লিখিত নামগুলিতেও প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম রয়েছে, যা দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে যোগসাজশের দিকে ইঙ্গিত করে। এই অভিযোগপত্রের ফলে নির্বাচিত নতুন সরকারের অধীনে বিচার দ্রুত হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।



শিবম শেখাওয়াত অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Shivam Shekhawat

Shivam Shekhawat

Shivam Shekhawat is a Junior Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. Her research focuses primarily on India’s neighbourhood- particularly tracking the security, political and economic ...

Read More +