Expert Speak Raisina Debates
Published on May 07, 2026 Updated 0 Hours ago

অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত মতবাদ এবং সাধনী সংগ্রহের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কিন্তু থিয়েটার কম্যান্ড এবং একটি সমন্বিত রকেট বাহিনী এখনও নির্মাণাধীন।

অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতের সামরিক মতবাদ ও অবস্থানের বিবর্তন

এই নিবন্ধটি ফ্রম রেসপন্স টু রিওরিয়েন্টেশনওয়ান ইয়ার অফ অপারেশন সিঁদুরবা ‘প্রতিক্রিয়া থেকে পুনর্গঠন: অপারেশন সিঁদুরের এক বছর শীর্ষক প্রবন্ধ সিরিজের অংশ।

ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির জন্য পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তইবা (এলইটি) কর্তৃক ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসবাসী হামলার পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’ একটি সন্ধিক্ষণকে চিহ্নিত করে। ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানকে চাপে ফেলার মাধ্যমে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানকে কোনও পাল্টা সামরিক সুবিধা অর্জন থেকে বঞ্চিত করে কৌশলগত সাফল্য প্রদর্শন করেছিল। এই ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদ এবং এর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকদের হুমকির মোকাবিলায় ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের ইচ্ছাশক্তি, সংকল্প এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত সরকার এবং সামরিক বাহিনী ভারতের দ্রুত-প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সাংগঠনিক অভিযোজন-সহ একাধিক পদক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে প্রধান ছিল রুদ্র ব্রিগেড এবং ভৈরব কম্যান্ডো ইউনিট প্রতিষ্ঠা। প্রথমটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সমতলভূমিতে জরুরি পরিস্থিতির জন্য এবং দ্বিতীয়টি পাকিস্তান ও গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না বা পিআরসি) উভয়ের বিরুদ্ধে পার্বত্য অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে থিয়েটার কম্যান্ড এবং একটি সমন্বিত রকেট বাহিনী (ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্স বা আইআরএফ) গঠনের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অ্যাজেন্ডা বা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষা সংস্কারগুলি ধীর গতিতে এগোচ্ছিল।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত সরকার এবং সামরিক বাহিনী ভারতের দ্রুত-প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সাংগঠনিক অভিযোজন-সহ একাধিক পদক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে প্রধান ছিল রুদ্র ব্রিগেড এবং ভৈরব কম্যান্ডো ইউনিট প্রতিষ্ঠা।

‘কোল্ড স্টার্ট’-এর পুনর্বিন্যাস

সংহত ও মারাত্মক আক্রমণকারী ইউনিট হিসেবে রুদ্র ও ভৈরব সব ধরনের অস্ত্র ইউনিট তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে কাইনেটিক আক্রমণ (অর্থাৎ ক্ষয়ক্ষতি করে শারীরিক ভাবে জোর খাটিয়ে হিংসাত্মক অভিযান) পরিচালনা করা, যা ভারতের প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে পাকিস্তানকে শাস্তি দেবে। এই পুনর্গঠন — বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে (ইন্ডিয়ান আর্মি বা আইএ) ছোট ছোট ইউনিটে বিভক্ত করা — অনেকাংশে ঘটেছিল পাকিস্তানের সঙ্গে সঙ্কটকালীন সময়ে ভারতের স্ট্রাইক ফর্মেশন বা কোরগুলোর সম্মুখীন হওয়া ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ এবং রসদ সরবরাহের চাহিদার কারণে। ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে লস্কর-ই-তইবার সংসদে হামলা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশাল ও জটিল স্ট্রাইক কোরের অভাবকেই প্রকট করে দিয়েছিল।

বহু বছর ধরে কাগজে-কলমে ভারতের একটি কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন (সিএসডি) ছিল, কিন্তু দেশটি তার সামরিক অবস্থান পরিবর্তন করতে এবং এই মতবাদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে দ্বিধা বোধ করেছিল। এই চাহিদাগুলো হল: একটি সন্ত্রাসবাদী হামলা বা এমনকি একটি প্রচলিত আক্রমণের পরেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্রুত আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা অর্জন করা। সিএসডি মূলত প্রতিক্রিয়াশীল ছিল, যা কোনও আক্রমণ ঘটে যাওয়ার পর তার জবাব দেওয়ার উপর মনোনিবেশ করেছিল।

বিগত এক বছরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘কোল্ড স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন মতাদর্শগত অবস্থান গ্রহণ করেছে। কোল্ড স্টার্টের বিপরীতে কোল্ড স্ট্রাইক নিয়ন্ত্রিত পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আক্রমণ অনুসরণ করে অথবা অন্ততপক্ষে নিজস্ব উদ্যোগ ও যুদ্ধশক্তির সক্রিয় প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের চালকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এতে তিনটি বাহিনীই জড়িত ছিল, যা ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ত্রি-বাহিনী সমন্বিত ত্রিশূল মহড়ায় প্রদর্শিত হয়েছে।

কোল্ড স্টার্টের বিপরীতে কোল্ড স্ট্রাইক নিয়ন্ত্রিত পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আক্রমণ অনুসরণ করে অথবা অন্ততপক্ষে নিজস্ব উদ্যোগ ও যুদ্ধশক্তির সক্রিয় প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের চালকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

এই মহড়াটি বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে বহু-ক্ষেত্রীয় অভিযানগত সক্ষমতার সমন্বয় প্রদর্শন করেছে। তিনটি বাহিনীই স্বল্প সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সমন্বিত সেন্সর, শুটার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ পরিচালনা করার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে — যা একটি ‘কিল-ওয়েব’ সংক্রান্ত অভিযানগত কাঠামোর উপাদান — এবং যা কোল্ড স্ট্রাইক প্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য।

পিপলস লিবারেশন আর্মিও (পিএলএ) ভারতীয় সেনাবাহিনীর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে - বিশেষ করে ভৈরব কম্যান্ডো ইউনিট গঠনের মাধ্যমে - যা ভারত-চিন সীমান্তের পার্বত্য যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য বিশেষ ভাবে উপযুক্ত। ভৈরব ইউনিটগুলি নিয়মিত পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা করে এবং বিশেষ বাহিনীকে আরও গুরুত্বপূর্ণ মিশন ও অভিযান পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। একই ভাবে, ভারতীয় নৌবাহিনী ও ভারতীয় বিমান বাহিনী অভিযানগত ঘাটতি পূরণ করতে এবং ভবিষ্যতের সঙ্কটময় পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সক্ষমতা সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, যা নিচে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হল।

সারণি ১: অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়

ডিএসি সিদ্ধান্ত

বিশদ বর্ণনা

২০ মার্চ, ২০২৫: ডিএসি ৫৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের আটটি ক্যাপিটাল অ্যাকুইজিশন বা মূলধন সংগ্রহ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর টি-৯০ ট্যাঙ্কের বর্তমান ১,০০০ এইচপি ইঞ্জিনকে উন্নত করার জন্য একটি ১,৩৫০ এইচপি ইঞ্জিন; ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য বরুণাস্ত্র টর্পেডো (যুদ্ধোপযোগী); এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) বিমান ব্যবস্থা।

৩ জুলাই, ২০২৫: ডিএসি ১.০৫ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের দশটি ক্যাপিটাল অ্যাকুইজিশন বা মূলধন সংগ্রহ প্রস্তাবের জন্য প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি (অ্যাক্সেপটেন্স অফ নেসেসিটি বা এওএন) প্রদান করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে সাঁজোয়া উদ্ধারকারী যান, একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, তিন বাহিনীর জন্য একটি সমন্বিত সাধারণ মজুত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

৫ অগস্ট, ২০২৫: ডিএসি প্রায় ৬৭,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বিএমপি-র থার্মাল ইমেজার-ভিত্তিক ড্রাইভার নাইট সাইট; ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য কমপ্যাক্ট অটোনোমাস সারফেস ক্রাফট, ব্রহ্মস ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম ও লঞ্চার এবং বারাক-১ পয়েন্ট ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের আধুনিকীকরণ; ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য মাউন্টেন রাডার এবং সক্ষম/স্পাইডার অস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ; তিন বাহিনীর জন্যই মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ সহনশীল রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট; এবং সি-১৭ ও সি-১৩০জে ফ্লিটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং এস-৪০০ লং রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের জন্য একটি ব্যাপক বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি।

২৩ অক্টোবর, ২০২৫: ডিএসি প্রায় ৭৯,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য নাগ মিসাইল সিস্টেম (ট্র্যাকড) এমকে-২, গ্রাউন্ড বেসড মোবাইল ইএলআইএনটি সিস্টেম এবং মেটেরিয়াল হ্যান্ডলিং ক্রেন সহ হাই মোবিলিটি ভেহিকেল; ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক, ৩০ মিমি নেভাল সারফেস গান, অ্যাডভান্সড লাইটওয়েট টর্পেডো, ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল ইনফ্রা-রেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক সিস্টেম, এবং ৭৬ মিমি সুপার র‍্যাপিড গান মাউন্টের জন্য স্মার্ট অ্যামিউনিশন; এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি কোলাবোরেটিভ লং রেঞ্জ টার্গেট স্যাচুরেশন/ডেসট্রাকশন সিস্টেম ও অন্যান্য প্রস্তাবনা।

২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫: ডিএসি ৭৯,০০০ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য আর্টিলারি রেজিমেন্টের লয়টার মিউনিশন সিস্টেম, নিম্ন-স্তরের হালকা রাডার, পিনাক মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমের জন্য দূরপাল্লার গাইডেড রকেট অ্যামিউনিশন এবং ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম এমকে-২; ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য বলার্ড পুল টাগ, হাই ফ্রিকোয়েন্সি সফটওয়্যার ডিফাইন্ড রেডিও (ম্যানপ্যাক) এবং উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘ-পাল্লার রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট সিস্টেমের লিজ; এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য অটোমেটিক টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং রেকর্ডিং সিস্টেম, অ্যাস্ট্রা এমকে-২ মিসাইল, ফুল মিশন সিমুলেটর এবং স্পাইস-১০০০ লং রেঞ্জ গাইডেন্স কিট।

সূত্র: প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো

এই পরিবর্তনগুলিকে আরও জোরদার করতে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া রেজিমেন্টগুলিকে ‘শৌর্য স্কোয়াড্রন’ নামক ড্রোন দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে। এই ড্রোন ইউনিটগুলি - যা এখনও উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে - নজরদারি, সুনির্দিষ্ট হামলা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ) এবং রসদ সরবরাহের মতো মিশনের জন্য তৈরি।

এই পরিবর্তনগুলিকে যুদ্ধক্ষেত্রে সমন্বিত করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ২০২৫ সালে  তিনটি প্রধান নথি প্রকাশ করেছে: মাল্টি-ডোমেন অপারেশনের জন্য যৌথ মতবাদসাইবারস্পেস অপারেশন ও উভচর অপারেশনের জন্য যৌথ মতবাদ এবং আকাশ ও হেলিকপ্টারবাহিত অপারেশনের জন্য যৌথ মতবাদ। এই নথিগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনী জুড়ে মিশন-কেন্দ্রিক প্রস্তুতির সঙ্গে সক্ষমতা সমন্বিত করার জন্য একটি নীলনকশা হিসেবে কাজ করে।

কাঠামোগত ধারাবাহিকতা?

অপারেশন সিঁদুর নয়াদিল্লির জন্য একটি মহাদেশীয় হুমকির আসন্ন বিভীষিকাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার এই কাঠামোগত পক্ষপাতিত্ব সামুদ্রিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ নৌ সক্ষমতার বিকাশকে ক্রমাগত বাধাগ্রস্ত করছে — এই টানাপড়েনটি মতাদর্শগত গুরুতর পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে, বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পক্ষের বিরুদ্ধে সংঘাত বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিচালনার বিকল্পগুলির বিষয়ে।

উভয় প্রতিদ্বন্দ্বীর দূরপাল্লার হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার জন্য ভারত এখনও একটি ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্স (আইআরএফ) গঠন করতে পারেনি। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও একই কাঠামোগত জড়তা দৃশ্যমান: ২০২৫ সালকে সংস্কারের বছর হিসেবে ঘোষণা করা সত্ত্বেও, ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কম্যান্ডের অগ্রগতি থমকে গিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত যৌথতা ও সমন্বয় অর্থপূর্ণ ভাবে অগ্রসর না হবে, ভারতের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রস্তুতি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী একটি রকেট ফোর্স কম্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছে, অন্য দিকে চিনের ইতিমধ্যেই একটি সমন্বিত রকেট বাহিনী কাঠামো রয়েছে। এর বিপরীতে, উভয় প্রতিদ্বন্দ্বীর দূরপাল্লার হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার জন্য ভারত এখনও একটি ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্স (আইআরএফ) গঠন করতে পারেনি। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও একই কাঠামোগত জড়তা দৃশ্যমান: ২০২৫ সালকে সংস্কারের বছর হিসেবে ঘোষণা করা সত্ত্বেও, ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কম্যান্ডের অগ্রগতি থমকে গিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত যৌথতা ও সমন্বয় অর্থপূর্ণ ভাবে অগ্রসর না হবে, ভারতের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রস্তুতি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

উপসংহার

অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তবুও এই চার দিনের সঙ্কট এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি এই বিষয়েও ভাবনার উদ্রেক করেছে যে, মতাদর্শগত পরিবর্তন রূপান্তরমূলক হওয়ার চেয়ে বাহ্যিক রূপদানেই বেশি সীমাবদ্ধ থেকেছে — বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে। ‘কোল্ড স্টার্ট’ মতবাদটি প্রথম পরিকল্পিত হওয়ার প্রায় দু’দশক পর এর উত্তরসূরি — ‘কোল্ড স্ট্রাইক’ মতবাদ — উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে: এটি প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিরোধ থেকে সরে এসে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তানের উপর সক্রিয় ভাবে টিকে থাকার ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল — অস্ত্রসরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দিকনির্দেশনা উভয় ক্ষেত্রেই — পুনরায় সেনাবাহিনী-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অপারেশন সিঁদুর মহাদেশীয় রণাঙ্গনের প্রাধান্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং সামুদ্রিক রণাঙ্গনকে গৌণ অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

এর ফলস্বরূপ, ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল — অস্ত্রসরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দিকনির্দেশনা উভয় ক্ষেত্রেই — পুনরায় সেনাবাহিনী-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অপারেশন সিঁদুর মহাদেশীয় রণাঙ্গনের প্রাধান্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং সামুদ্রিক রণাঙ্গনকে গৌণ অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর জন্য প্রধান সরঞ্জাম সংগ্রহের চুক্তিগুলি থেকে বাস্তব কার্যক্ষম ফলাফল পেতে কয়েক বছর, এমনকি প্রায় এক দশকও লেগে যেতে পারে। এ দিকে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার — ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কম্যান্ড গঠন — এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। যুদ্ধ করার সক্ষমতাকে সত্যিকার অর্থে রূপান্তরিত করতে হলে, ভারতকে অবশ্যই কৌশলগত সক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠে সাংগঠনিক সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

 


কার্তিক বোম্মাকান্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো।

রাহুল রাওয়াত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.