Author : Swati Prabhu

Published on Dec 22, 2025 Updated 0 Hours ago

যুদ্ধ, ব্যয় সংকোচন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যখন সাহায্য কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তার উন্নয়ন নীতিকে টিকে থাকার স্তর থেকে একটি প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন নীতি: টিকে থাকা থেকে সমৃদ্ধির পথে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এক উভয় সংকটে পড়েছে। এর ভূখণ্ডে চলতিযুদ্ধ স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দিক থেকে এর উন্নয়ন নীতিকে টালমাটাল করে তুলেছে। অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন প্রদানকারী হিসেবে ইইউ, তার সদস্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে মিলে জলবায়ু, শক্তি, অভিবাসন, শাসনব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছে। তবে, বৃহত্তর কৌশলগত অপরিহার্যতার সঙ্গে তার সহায়তা নীতির ভারসাম্য রক্ষা করা অধরাই রয়ে গিয়েছে। যৌথ সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উত্তেজনা, নীতির অসামঞ্জস্য, স্বার্থের সংঘাত এবং সীমিত আর্থিক সংস্থানএগুলো ইইউ-এর উন্নয়ন নীতিতে সম্মুখীন প্রতিবন্ধকতাগুলির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তার উপর, ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ক্ষেত্র থেকে সরে আসার পর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের কারণে ব্রাসেলস এখন একটি নড়বড়ে পরিস্থিতিতে পড়েছে।

যৌথ সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উত্তেজনা, নীতির অসামঞ্জস্য, স্বার্থের সংঘাত এবং সীমিত আর্থিক সংস্থানএগুলো ইইউ-এর উন্নয়ন নীতি সম্মুখীন প্রতিবন্ধকতাগুলির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।



উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য ওডিএ এখনও একটি অবিচ্ছেদ্য অর্থায়ন মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ২০২৫ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জ বাণিজ্য উন্নয়ন (আঙ্কটাড) প্রতিবেদন অনুসারে স্বাস্থ্য, জরুরি ত্রাণ, শিক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির মতো অপরিহার্য ক্ষেত্রগুলোতে অর্থায়নের জন্য দ্বিপাক্ষিক ওডিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে, ২০২৩ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিতরণ করা মোট ওডিএ- প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (চিত্র ) উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক প্রদত্ত ওডিএ-তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানসমূহ, উন্নয়ন সহায়তা কমিটি (ডিএসি)- সদস্য এবং ডিএসি-বহির্ভূত দ্বিপাক্ষিক দাতাদের অবদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চিত্র : ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক প্রদত্ত ওডিএ, ২০২২ সালের স্থির মূল্যে মার্কিন ডলার বিলিয়নে হিসাব অনুযায়ী
The Eu S Development Policy From Surviving To Thriving
সূত্র: আঙ্কটাড, ২০২৫

২০২৩ সালে, ইইউ সদস্য দেশগুলির পক্ষ থেকে প্রদত্ত ওডিএ- পরিমাণ ছিল ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার সঙ্গে ইইউ প্রতিষ্ঠানগুলির দেওয়া ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত হয়ে ব্রাসেলস কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ মোট ওডিএ- ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। এরপরেই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ শতাংশ (২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং জাপানের ১০ শতাংশ (১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) তা সত্ত্বেও, অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)-এর মতে, ২০২৫ সালে ওডিএ- পরিমাণ থেকে ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৮৬১৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে দাঁড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হল, যদি ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ থেকে ১৯ শতাংশের মতো প্রত্যাশিত ওডিএ হ্রাস বাস্তবায়িত হয়, তবে এই অঙ্কগুলো ২০২০ সালে দেখা অতিমারির সময়ের স্তরে নেমে যেতে পারে। এই চ্যালেঞ্জগুলোর জটিল পরিস্থিতি ইইউ-এর সামনে দুটি পথ খুলে দিয়েছে: টিকে থাকা অথবা উন্নতি করা।

২০২১ সালেআন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বহিসেবে নতুন নামকরণ এবং কমিশনের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তর (ডিজি ডেভকো)-এর নাম পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তর (ডিজি ইন্টপা) করাটা ইইউ-‌এর ভূ-রাজনৈতিক জাগরণকে নির্দেশ করে। এই কৌশলগত পুনর্গঠনটি ইইউ কমিশনার প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনের নেতৃত্বে এর টিকে থাকার নীতির সূচনা করে। ২০২১ সালের এপ্রিলে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল প্রবর্তন এবং পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগ চালু করাটা এর উন্নয়ন নীতিতে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। ব্রাসেলস এখন এই নীতিকে দারিদ্র্য দূর করার হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার কৌশলগত স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সাহায্য প্রদানের প্রচলিত প্রথা, যা ঔপনিবেশিক সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত ছিল, তা এখন এমন অংশীদারিত্ব এবং জোট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে যা ভূ-রাজনৈতিক ভূ-অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সাহায্য প্রদানের প্রচলিত প্রথা, যা ঔপনিবেশিক সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত ছিল, তা এখন এমন অংশীদারিত্ব এবং জোট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে যা ভূ-রাজনৈতিক ভূ-অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।


 
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে চিনের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তার নিজস্ব পরিকাঠামোগত সংযোগ প্রকল্প চালু করতে বাধ্য করেছে, যার লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক প্রভাবসহ উন্নয়ন কূটনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তবে, সীমিত অর্থায়ন, উদ্যোগটির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় অনিয়ম, বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, ইউক্রেনের দিকে সম্পদের স্থানান্তর এবং স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে জরুরি চ্যালেঞ্জগুলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্নয়ন নীতি কীভাবে সাফল্য লাভ করতে পারে?

২০২৫ সালের জুলাই মাসে কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটের জন্য তারউচ্চাভিলাষীপ্রস্তাব ঘোষণা করে, যার মোট পরিমাণ ছিল . ট্রিলিয়ন ইউরো। এর মধ্যে ২১৫. বিলিয়ন ইউরোগ্লোবাল ইউরোপ ’-এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিলএটি একটি নতুন তহবিল ব্যবস্থা, যা উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে বাহ্যিক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত বেশ কয়েকটি মাধ্যমকে একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে। এটিকে চিনের বিআরআই-এর প্রেক্ষাপটে অনুধাবন করা যেতে পারে, যা ২০১৩ সাল থেকে . ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে নির্মাণ খাতে ৭৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিনিয়োগে ৫৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে (চিত্র )

চিত্র : ২০১৩-২০২৫ সালে চিনের বিআরআই কার্যক্রম
The Eu S Development Policy From Surviving To Thriving
সূত্র: গ্রিন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ২০২৫

যদিও এর দৃষ্টিভঙ্গিউচ্চাভিলাষী’, সমালোচকরা মনে করেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবটি তার মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) মাত্র .২৬ শতাংশ, যা এর পূর্ববর্তী বাজেটের . শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। বাহ্যিক কার্যক্রমের জন্য অর্থায়ন, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের জন্য, জলবায়ু, জ্বালানি রূপান্তর, স্বাস্থ্য, ঋণ স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রগুলিতে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই তহবিলের শর্তাবলি এবং পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যপত্রের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবুও, এই সংশয় ব্যাপকভাবে প্রচলিত যেগ্লোবাল ইউরোপ’-এর মাধ্যমে অর্থায়ন দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বৈষম্য দূর করা এবং স্থিতিস্থাপকতা তৈরির উপর মনোযোগ না দিয়ে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।


ইইউ-এর জন্য গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে তার সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এমন বিষয়ভিত্তিক অংশীদারিত্ব তৈরি করা যায় যা উভয় পক্ষের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিয়ে আসতে পারে।



এই অর্থে, ইইউ-এর জন্য গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে তার সম্পর্ক জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এমন বিষয়ভিত্তিক অংশীদারিত্ব তৈরি করা যায় যা উভয় পক্ষের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলি তাদের আদর্শিক ক্ষমতার কারণে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা এবং ধারাবাহিকতা উপভোগ করে অভ্যন্তরীণ বিভেদ মোকাবিলা করা, বিভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, এবং সম্মিলিত প্রভাবকে কাজে লাগানো ইইউ-এর জন্য অপরিহার্য। টিম ইউরোপের পদ্ধতিটি একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ, যেখানে ইউনিয়ন একটি সাধারণ হুমকির বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করেছে। এই পদ্ধতিটিকে বৈচিত্র্যময় করতে হবে এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি, বিশেষ করে ভারতকে এর বাহ্যিক সম্পর্ক   প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যার সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব রয়েছে। ইইউ-এর উচিত ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা বিবেচনা করা এবং গ্লোবাল সাউথের কোনও তৃতীয় দেশে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করা, যাতে তাদের উদ্বেগগুলি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। এই অভূতপূর্ব বিশ্বে ব্রাসেলস যদি মালিকানা, জবাবদিহিতা এবং ক্ষিপ্রতার সঙ্গে অংশীদারি গড়ে তোলে, তবেই টিকে থাকাকে সমৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে।



স্বাতী প্রভু অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি (সিএনইডি)-এর ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.