ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত একটি ড্রোন-স্যাটকম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে বহিরাগত বিদ্রোহী হুমকির বিরুদ্ধে উন্নত ড্রোন-বিরোধী ও জঙ্গলে যুদ্ধের প্রস্তুতি প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) সাতজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে, যাঁদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক এবং ছ’জন ইউক্রেনীয় নাগরিক রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করেছেন। বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ১৮ ধারার অধীনে (আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট, সেকশন ১৮) তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এনআইএ উল্লেখ করেছে যে, তাঁরা মায়ানমার এবং ভারতের মিজোরামে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ইউরোপ থেকে অবৈধ ভাবে ড্রোন আমদানির পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহ, রসদ সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই গ্রেফতার একটি যুগান্তকারী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীও উত্তর-পূর্ব ও সীমান্ত অঞ্চলে তাদের সঙ্কেতমূলক গোয়েন্দা এবং ড্রোন-বিরোধী সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
জঙ্গল যুদ্ধ এবং প্রসারিত ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্র
জঙ্গল যুদ্ধ অভিযান — তা নাতিশীতোষ্ণ, পর্ণমোচী, ক্রান্তীয় বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য বা উপকূলীয় জলাভূমি যেখানেই হোক না কেন — ভারতের সম্মুখসারির ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেহেতু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কম্যান্ডে একটি সম্ভাব্য পুনর্গঠনের কথা ভাবছে, তাই প্রস্তাবিত উভয় ধরনের ল্যান্ড কম্যান্ডকেই জঙ্গলময় ভূখণ্ডে অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা কিছু স্বতন্ত্র চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। প্রথমত, প্রচলিত বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন, অবস্থান গ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা; দ্বিতীয়ত, প্রক্সি, সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত সহায়ক হিসেবে ছদ্মবেশে থাকা অপরিচিত শক্তি এবং এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাওয়া বহিরাগত ভূ-রাজনৈতিক শক্তিগুলির কাছ থেকে পাওয়া সাহায্যের দ্বারা সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলা করা। ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ডিফেন্স ফোর্সেস ভিশন ৪৭’ নথিতে সম্প্রতি ঘোষিত ভারতীয় ড্রোন বাহিনীর জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠবে।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এখন ড্রোন-বিরোধী সঙ্কেত-প্রতিরোধ এবং নিষ্ক্রিয়করণ প্রযুক্তির একটি বৈচিত্র্যময় সম্ভার ব্যবহার করে।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এখন ড্রোন-বিরোধী সঙ্কেত-প্রতিরোধ এবং নিষ্ক্রিয়করণ প্রযুক্তির একটি বৈচিত্র্যময় সম্ভার ব্যবহার করে। সফট-কিল পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে স্যাটেলাইট নেভিগেশন এবং রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি সঙ্কেতকে স্পুফিং ও জ্যামিং করা। হার্ড-কিল পদ্ধতি - যেমন ৩০-৩০০ কিলোওয়াট স্বল্প ও দীর্ঘ-পাল্লার ডিরেক্টেড-এনার্জি অস্ত্র – তিন ও কুড়ি কিলোমিটারের মধ্যবর্তী যে কোনও পরিসর থেকে ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। সোয়ার্ম বা ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ড্রোন এবং লয়টারিং মিউনিশন মোকাবিলায় কাইনেটিক ইন্টারসেপশনও ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলির সাধারণত রাডার ক্রস-সেকশন খুব কম থাকে। সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস ফর কাইনেটিক সফট অ্যান্ড হার্ড কিল অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট (সক্ষম) এবং আকাশতীর কাউন্টার-ড্রোন বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আসলে ড্রোন ডিটেক্ট ডিটার অ্যান্ড ডেস্ট্রয় (ডি৪) সিস্টেমের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়; এগুলি ভূ-স্থানিক ফোলিয়েজ-পেনিট্রেটিং (বা অরণ্যভেদী) ও থার্মাল ইমেজিং এবং ন্যাভিক স্যাটেলাইট নেভিগেশনের স্থানাঙ্ক ব্যবহার করে; রাডার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং প্রয়োগ করে; এবং হার্ড-কিল ও সফট-কিল… উভয় ধরনের ব্যবস্থাই মোতায়েন করে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সীমান্ত টহল দল এখন ড্রোন-বিরোধী যানবাহনে সজ্জিত, যার মধ্যে জ্যামার, মাল্টি-গান ভেহিকল-মাউন্টেড সিস্টেম এবং জাল-ভিত্তিক ইন্টারসেপশন (বা আটকে ফেলার) সক্ষমতা রয়েছে।
জঙ্গল যুদ্ধের জন্য ইউক্রেন থেকে প্রাপ্ত অভিযানগত শিক্ষা
২০২২ সাল থেকে ভারত-দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে আগ্রহী বহিরাগত অঞ্চল-বহির্ভূত পক্ষগুলি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অর্জিত শিক্ষা, যুদ্ধ-অভিজ্ঞ কর্মী এবং অস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। তাদের উদ্দেশ্য এই অঞ্চলকে তাদের প্যানোপটিকন — অর্থাৎ তারা যে পক্ষগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এবং যে ভূখণ্ডকে পর্যবেক্ষণ করবে, তার উপর নজর রাখার জন্য একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র — হিসেবে গড়ে তোলা। সিগন্যাল জ্যামিং, স্পুফিং এবং টেলিকম নেটওয়ার্কের অনুপলব্ধতার কারণে সৃষ্ট অভিযানগত বাধা দূর করতে ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ঘন জঙ্গলের গাছপালাও আবার সংযোগ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য রকমের বাধা সৃষ্টি করে। তবে তারযুক্ত ড্রোনের আকারে এর সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হয়েছে এবং ড্রোন-মহাকাশ প্রযুক্তির সংযোগস্থলে স্টারলিঙ্ক এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
২০২২ সাল থেকে ভারত-দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে আগ্রহী বহিরাগত অঞ্চল-বহির্ভূত পক্ষগুলি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অর্জিত শিক্ষা, যুদ্ধ-অভিজ্ঞ কর্মী এবং অস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে।
উদাহরণস্বরূপ, ইউক্রেনের কুপিয়ানস্ক-ক্রেমিনা অঞ্চলের ঘন সেরেব্রিয়ানস্কি জঙ্গলে তারযুক্ত বা অপটিক-ফাইবার ড্রোনের সফল ব্যবহার দেখা গিয়েছে, যা সহজেই জ্যাম-প্রতিরোধী তারবিহীন ড্রোনের চেয়ে ভাল কাজ করেছে। অপটিক ফাইবারগুলি আরএফ হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ তারযুক্ত অপটিক-ফাইবার কেবলটি সরাসরি একটি স্টারলিঙ্ক টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে; যদি না জিপিএস-কে অকার্যকর করে বা কু- এবং কা-ব্যান্ডের স্যাচুরেশনের মাধ্যমে স্টারলিঙ্ক কিল-চেইন প্রয়োগ করা হয়। তবে অপটিক্যাল ইন্টারস্যাটেলাইট লিঙ্ক (বা স্পেস-লেজার কমিউনিকেশন) এবং ফ্রিকোয়েন্সি-হপিং-এর মতো অন্যান্য বিকল্প চালু হওয়ার ফলে, জিপিএস-কে স্টারলিঙ্ক কনস্টেলেশন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যা একটি নেভিগেশন সিস্টেম হিসেবেও কাজ করে। এর ফলে তারযুক্ত ড্রোনগুলি জিপিএস এবং আরএফ-বঞ্চিত পরিবেশেও সুবিধা অর্জন করছে।
তারযুক্ত ড্রোন দক্ষিণ আমেরিকার অপরাধ-প্রবণ জঙ্গলে, সোমালিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এবং মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছে। মায়ানমারে তাপীয় সঙ্কেতের উপর ভিত্তি করে সৈন্য চলাচল শনাক্ত করার জন্য জঙ্গলের চাঁদোয়ার চূড়ায় তারযুক্ত ড্রোন স্থাপন করা হয়। এগুলি গাড়ির ব্যাটারি দ্বারা চালিত হয় এবং এমন সঙ্কেত ব্যবহার করে, যা চাঁদোয়ার নিচের অংশের চেয়ে উপরের অংশে সহজে গ্রহণ করা যায়। ফলে অবিচ্ছিন্ন ভাবে গোয়েন্দা ও নজরদারি (আইএসআর) পরিষেবা প্রদান করে।
সঙ্কেত হারানোর ক্ষেত্রে তারবিহীন ড্রোনের তুলনায় তারযুক্ত ড্রোন সাধারণত উন্নততর কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। এগুলির কার্যক্ষমতা ২৪ ঘণ্টারও বেশি। এগুলি অনেক বেশি ভার বহন করতে পারে এবং ইচ্ছে মতো পরিচালনা করা যায়। এ ছাড়াও, জঙ্গলের চাঁদোয়ায় অবস্থান করলে এগুলি নিঃশব্দে কাজ করে। গাছের ডালে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি ছাড়া তারযুক্ত ড্রোনের অন্য কোনও ঝুঁকি তেমন নেই। তার সংযোগ ব্যবস্থায় তার বিচ্ছিন্ন করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা যুক্ত করার মাধ্যমে এই আটকে যাওয়ার সমস্যাটি সমাধান করা হচ্ছে।
সঙ্কেত হারানোর ক্ষেত্রে তারবিহীন ড্রোনের তুলনায় তারযুক্ত ড্রোন সাধারণত উন্নততর কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।
সম্প্রতি স্টারলিঙ্ক টার্মিনালের আরও একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ - যার নাম দেওয়া হয়েছে স্টারলিঙ্ক মিনি - তৈরি করা হয়েছে এবং এটি ড্রোনে পেলোড করা যেতে পারে। প্রচলিত টার্মিনালগুলির যেখানে ৭৫ থেকে ১০০ ওয়াট শক্তি প্রয়োজন হয়, সেখানে মিনি সংস্করণটি উল্লেখযোগ্য রকমের কম শক্তি খরচ করে, যা ২০ থেকে ৪০ ওয়াটের মধ্যে থাকে। এটি সাধারণ ১০০-ওয়াটের ইউএসবি-সি পাওয়ার ব্যাঙ্ক বা ১২ভি/২৪ভি ডিসি আউটপুট দ্বারা চালিত হতে পারে, ফলে ভারী রিচার্জিং সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা আর থাকে না। স্টারলিঙ্ক মিনি উল্লেখযোগ্য রকমের উচ্চ ডেটা গতিতে কাজ করতে পারে, এজ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করতে পারে এবং ড্রোন সেট-আপের সময় যথেষ্ট কমিয়ে কৌশলগত আইএসআর অপারেশন সহজতর করতে পারে।
স্টারলিঙ্ক, অভ্যুত্থান এবং উদীয়মান প্যানোপটিকন
স্টারলিঙ্ক মায়ানমারে কার্যক্রম পরিচালনা করে তার নিজস্ব পরিষেবার শর্তাবলি লঙ্ঘন করছে, যেখানে এর কোনও আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স বা শংসাপত্র নেই। এটি কোনও কঠোর জিও-ফেন্স প্রয়োগ করে না, বিশেষ করে এই ভেবে যে বহিরাগত শক্তি দ্বারা সমর্থিত জাতিগত সশস্ত্র এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি এর দেওয়া স্যাটেলাইট সংযোগের উপর নির্ভর করা চালিয়ে যাবে। সাম্প্রতিক অতীতে, আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠন এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি প্রতিবেশী তাইল্যান্ড বা বাংলাদেশের মাধ্যমে মায়ানমারে স্টারলিঙ্ক টার্মিনাল পাচার করেছে। আরাকান আর্মি - যারা এখন রাখাইন স্টেটের বিশাল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে - এই আমদানিকে করযোগ্য হিসেবে দেখে, যা বিদ্রোহীদের শাসন কাঠামোর দ্বারা প্রদত্ত একটি পরিষেবা এবং সামরিক হুন্তা সরকারের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা থেকে স্বাধীন। এর পাশাপাশি এটি স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রক্রিয়াটি সেই সময়ে ঘটছে, যখন বিশাল ভূখণ্ড সামরিক হুন্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে বাহ্যিক সমর্থন। এই প্যানোপটিকন তৈরির জন্য ভারতকে সক্রিয় সন্ত্রাস-বিরোধী, বিদ্রোহ-বিরোধী এবং জঙ্গল-যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। ভারতের সম্ভাব্য ইস্টার্ন থিয়েটার কম্যান্ড এবং ড্রোন বাহিনীকে তার পূর্ব ও উত্তরের জঙ্গল সীমান্ত বরাবর এমন বিদ্রোহী ও সন্ত্রাস-প্রবণ ভূখণ্ডের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে যুদ্ধ-পরীক্ষিত অত্যাধুনিক মহাকাশ ও ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়।
চৈতন্য গিরি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Chaitanya Giri is a Fellow at ORF’s Centre for Security, Strategy and Technology. His work focuses on India’s space ecosystem and its interlinkages with ...
Read More +