Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 23, 2026 Updated 0 Hours ago

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিরোধ, কূটনীতি ও দুর্যোগ ত্রাণকে একত্রিত করে ভারতের ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড দেশটির ইন্দো-প্যাসিফিক ভরকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের ভরকেন্দ্র হিসেবে ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড

কয়েক দশক যাবৎ ভারতের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি মূলত মহাদেশীয়ই ছিল, যা দেশভাগ এবং চিনের সঙ্গে ১৯৬২ সালের সংঘাত দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং যার প্রাথমিক মনোযোগ ছিল চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান স্থল সীমান্তের উপর। ফলস্বরূপ, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সীমিত মনোযোগ পেয়েছিল এবং পাকিস্তানের হুমকির তাৎক্ষণিকতার কারণে ওয়েস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড (ডব্লিউএনসি) প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। তবে একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের কৌশলগত চিন্তাভাবনায় একটি নির্ণায়ক পরিবর্তন এসেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ‘ব্রাউন ওয়াটার’ উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে ‘ব্লু ওয়াটার’ নৌবাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে, যা স্থিতিশীল শক্তি প্রদর্শনে সক্ষম। ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড (ইএনসি) একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যা মানবিক সম্পৃক্ততা ও সামরিক প্রতিরোধের একটি পরিমিত মিশ্রণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ পথ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ‘সাগর’ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি ‘গ্রে জোন’ বা ‘ধূসরাঞ্চল’ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে একটি সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসাবে কাজ করার ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সক্ষমতার সমন্বয় সাধনেও ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পালন করছে।

ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড (ইএনসি) একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যা মানবিক সম্পৃক্ততা ও সামরিক প্রতিরোধের একটি পরিমিত মিশ্রণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ পথ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ‘সাগর’ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। 

বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত ইএনসি একটি গৌণ বাহিনী থেকে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির কার্যনির্বাহী কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তন একটি মৌলিক ভৌগোলিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে: বঙ্গোপসাগর কেবল একটি উপকূলরেখা নয়, বরং মালাক্কা প্রণালীর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধমনীও বটে। বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহ তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জলরাশিকে সুরক্ষিত রাখা জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ‘সাগর’ কর্মসূচিকে কার্যকর করার মাধ্যমে ইএনসি প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনীতিকে একীভূত করে এবং একটি স্থিতিশীল ও সহযোগিতামূলক ইন্দো-প্যাসিফিক ব্যবস্থা গঠনে নিজেকে একটি প্রধান সাধনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

মানবিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

সমসাময়িক ভূ-রাজনীতিতে নিরাপত্তা কেবল সংঘাত প্রতিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই প্রেক্ষাপটে, ইএনসি ভারতের মানবিক কার্যক্রমের একটি প্রধান সাধনী হিসেবে কাজ করে, যা কার্যনির্বাহী প্রস্তুতির সঙ্গে আঞ্চলিক সম্পৃক্ততাকে একত্রিত করে। ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের প্রতি বঙ্গোপসাগরের দুর্বলতার কারণে ইএনসি প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে উচ্চ স্তরের প্রস্তুতি বজায় রাখে। এই দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বৈদেশিক পক্ষগুলির, বিশেষ করে চিনের দুর্যোগ কূটনীতিকে কাজে লাগানোর কৌশলগত পরিসরকেও সীমিত করে।

কোভিড-১৯ অতিমারির সময় অপারেশন সমুদ্র সেতু (২০২০-২১) ইএনসি-র অভিযোজন ক্ষমতাকে তুলে ধরেছিল। আইএনএস ঐরাবত এবং আইএনএস জলাশ্ব-র মতো নৌযানগুলিকে চিকিৎসা সহায়তা ও রসদ সরবরাহ, অক্সিজেনের জোগান পরিবহণ এবং মলদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ইরান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছিল। এই প্রচেষ্টাগুলি সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতাকে সশক্ত করেছিল।

ভারতীয় নৌবাহিনী যুদ্ধের জন্য পরিকল্পিত ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্রিগেটের মতো উচ্চ-মূল্যের সম্পদ মোতায়েন করে, যেখানে আইসিজি একটি ‘কনস্ট্যাবুলারি’ যুক্তিতে কাজ করে, যা উপকূলীয় জলে স্বল্প তীব্রতার সামুদ্রিক পুলিশি ব্যবস্থা, মৎস্য সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বা এসএআর) অভিযান পরিচালনা করে।

একই ভাবে, মায়ানমারে ঘূর্ণিঝড় মোকা এবং ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূল বরাবর অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থার সময় ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড (ইএনসি) কার্যকর ভাবে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ডিজাস্টার রিলিফ বা এইচএডিআর) ইউনিট মোতায়েন করেছিল, যা আঞ্চলিক সঙ্কট মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেই তুলে ধরে। ইএনসি গভীর সমুদ্রে তার শক্তি প্রদর্শন করলেও এর কর্মক্ষম কার্যকারিতা কাঠামোগত ভাবে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের (আইসিজি) সঙ্গে যুক্ত। ভারতীয় নৌবাহিনী যুদ্ধের জন্য পরিকল্পিত ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্রিগেটের মতো উচ্চ-মূল্যের সম্পদ মোতায়েন করে, যেখানে আইসিজি একটি ‘কনস্ট্যাবুলারি’ যুক্তিতে কাজ করে, যা উপকূলীয় জলে স্বল্প তীব্রতার সামুদ্রিক পুলিশি ব্যবস্থা, মৎস্য সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বা এসএআর) অভিযান পরিচালনা করে। এই শ্রম বিভাজন ইএনসি-কে নিয়মিত উপকূলীয় আইন প্রয়োগে সম্পৃক্ত না হয়ে গভীর সমুদ্রের অভিযানে তার যুদ্ধ সাধনীগুলিকে কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ দেয়, যা উভয় বাহিনীর তরফে তাদের নিজ নিজ দায়িত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ইএনসি এবং কোস্ট গার্ডের অংশীদারিত্ব

ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে সমন্বয় একটি স্তরযুক্ত সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রতিফলিত করে, যেখানে দায়িত্বগুলি পৃথক হলেও গভীর ভাবে পরিপূরক। ভারতীয় নৌবাহিনী যেখানে প্রতিরোধ ও গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখে, সেখানে কোস্ট গার্ড উপকূলীয় এবং নিকটবর্তী অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি বজায় রাখে, যা নিয়মকানুন প্রয়োগ এবং নিজ এলাকার বিষয়ে সচেতনতা নিশ্চিত করে। এই অংশীদারিত্ব কৌশলগত সম্পদের দক্ষ বণ্টনকে সম্ভব করে তোলে, যা জরুরি অবস্থার জন্য উন্নত নৌ সক্ষমতা সংরক্ষণ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে পুলিশি কার্যক্রম সম্পাদন করে। এর ফলে দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হয় এবং পূর্ব উপকূল থেকে বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ইএনসি তিনটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইসিজি-র উপর নির্ভরশীল:

১. উপকূলীয় নিরাপত্তা: কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন বা ইইজেড) এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য নিরন্তর ও ব্যাপক টহল প্রয়োজন। এই অগভীর জলরাশি সুরক্ষিত করার জন্য ইএনসি আইসিজি-র উপর নির্ভর করে, যা নৌ সম্পদকে গভীর জলে শক্তি প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় শক্তিগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দেয়। 

২. নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহ: সামুদ্রিক পরিমণ্ডল সচেতনতা (মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বা এমডিএ) তৃণমূল স্তর থেকে শুরু হয়। আইসিজি-র টহল নৌকাগুলি প্রতিদিন মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যা মানব গোয়েন্দা তথ্যের (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা হিউমিন্ট) একটি শৃঙ্খল তৈরি করে। ইএনসি এই তথ্যের উপর নির্ভর করে ‘হোয়াইট শিপিং’ বা ‘সাদা জাহাজ’ (বাণিজ্যিক/নিরপেক্ষ) থেকে ‘রেড শিপিং’ বা ‘বিপদবহনকারী লাল জাহাজ’ (শত্রুভাবাপন্ন) আলাদা করতে সক্ষম। আইসিজি একটি ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, যা উচ্চ মূল্যের নৌ যানগুলির জন্য হুমকি হয়ে ওঠার আগেই শত্রুদের দ্বারা ব্যবহৃত একটি সাধারণ অপ্রতিসম কৌশল অবলম্বনকারী ট্রলারের ছদ্মবেশে থাকা দুর্বৃত্ত জাহাজগুলিকে শনাক্ত করে।

৩. দূষণ নিয়ন্ত্রণ: ইএনসি-র কাছে নির্দিষ্ট প্রতিকারমূলক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে এবং তেল ছড়িয়ে পড়ার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব প্রশমিত করার জন্য এটি আইসিজি-র দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী জাহাজের (পলিউশন কন্ট্রোল ভেসেল বা পিসিভি) উপর নির্ভর করে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

পুলিশি ভূমিকার ঊর্ধ্বে উঠে ইএনসি-র মূল দায়িত্ব হল প্রথাগত নিরাপত্তা প্রদান করা। এডেন উপসাগরে জলদস্যুতা-বিরোধী অভিযান মূলত ওয়েস্টার্ন নেভাল কম্যান্ডের অধীনে থাকলেও ইএনসি মূলত সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া ডিনায়াল (এটু/এডি) হুমকির মতো আরও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দিকে মনোনিবেশ করে। এর প্রধান লক্ষ্য হল কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি-র (পিএলএএন) সাবমেরিনের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ করা।

এই হার্ড পাওয়ার বা সামরিক শক্তি যৌথ মহড়ার মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়, যা নিছক অনুশীলন না হয়ে ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কেত প্রদানের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। তাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সমন্বিত টহল (কোঅর্ডিনেটেড প্যাট্রোলস উইথ তাইল্যান্ড অ্যান্ড ইন্দোনেশিয়া বা করপ্যাট) কেবল চোরাচালান ও অস্ত্র পাচারের মতো সামুদ্রিক অপরাধই দমন করে না, বরং নজরদারিও জোরদার করে, যা ভারত মহাসাগরে প্রবেশকারী শত্রু সাবমেরিনের কার্যকলাপ দ্রুত শনাক্ত করতে  সক্ষম করে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা এই অবস্থানকে আরও জোরদার করে: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ‘সিমবেক্স’ মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিকে সুরক্ষিত করে এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ‘স্লিনেক্স’ প্রতিবেশ অঞ্চলের নিরাপত্তা সুসংহত করার পাশাপাশি প্রতিকূল নৌ উপস্থিতির সুযোগ সীমিত করে।

বহুপাক্ষিক পর্যায়ে মিলানের মতো মহড়া ইএনসি-কে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। অপর দিকে মালাবার কোয়াড-এর আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা এই অবস্থানকে আরও জোরদার করে: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ‘সিমবেক্স’ মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিকে সুরক্ষিত করে এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ‘স্লিনেক্স’ প্রতিবেশ অঞ্চলের নিরাপত্তা সুসংহত করার পাশাপাশি প্রতিকূল নৌ উপস্থিতির সুযোগ সীমিত করে।

সম্মিলিত ভাবে, এই সম্পৃক্ততাগুলি প্রতিরোধ, নজরদারি ও কৌশলগত সঙ্কেত প্রদানকে একীভূত করে, যা ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা কাঠামোতে ইএনসি-র কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে তুলে ধরে।

চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

এই অগ্রগতি সত্ত্বেও ইএনসি উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত এবং কৌশলগত প্রতিকূলতার সম্মুখীন।

• ধূসর অঞ্চলের দ্বিধা: সবচেয়ে বিরক্তিকর চ্যালেঞ্জ হল চিনের ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য গবেষণা জাহাজ’ (ডুয়েল ইউজ রিসার্চ ভেসেল), যেমন ইউয়ান ওয়াং শ্রেণির জাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। এই জাহাজগুলি শ্রীলঙ্কার মতো বন্দরে নোঙর করে বা আপাতদৃষ্টিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বঙ্গোপসাগরে পাড়ি দেয়। তবে এগুলি ডুবোজাহাজের যুদ্ধের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সমুদ্রবিজ্ঞান সংক্রান্ত তথ্য (লবণাক্ততা, তাপীয় স্তর) সংগ্রহ করে এবং ওড়িশায় অবস্থিত ভারতের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ট্র্যাক করতে পারে। ইএনসি (ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ড) এগুলিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারলেও শান্তিকালীন সময়ে বাধা প্রদান নৌচলাচলের স্বাধীনতা (ফ্রিডম অফ নেভিগেশন বা এফওএন) লঙ্ঘন করে, যা ইএনসি-কে একটি প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে আটকে রাখে।

• পরিকাঠামোগত ঘাটতি: বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত ইএনসি-র মূল ঘাঁটি শক্তিশালী হলেও এর সমর্থিত অগ্রবর্তী ঘাঁটি আন্দামান ও নিকোবর কম্যান্ড (এএনসি) পরিকাঠামোগত ঘাটতিতে ভুগছে। এই ঘাটতিগুলি পূরণ করা গেলে পূর্ব ভারত মহাসাগরে ভারতের অগ্রবর্তী উপস্থিতি এবং অভিযানগত প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

• প্ল্যাটফর্মের ঘাটতি: সামুদ্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বস্তুগত বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। প্রজেক্ট-৭৫আই সাবমেরিন অধিগ্রহণ কর্মসূচিতে বিলম্ব ইএনসি-র উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ শক্তি প্রদর্শনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এবং এই অঞ্চলে একটি বিশ্বাসযোগ্য ডুবোজাহাজ সংক্রান্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি অর্থবহ ভরকেন্দ্র হিসেবে এর ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ইএনসি একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং বহুমুখী প্রশমন কৌশল গ্রহণের কথা বিবেচনা করতে পারে।

প্রথমত, পরিচালনগত সমন্বয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। কোস্ট গার্ডের উপর নির্ভরতাকে খাপছাড়া সহযোগিতা থেকে সরিয়ে একটি সমন্বিত ন্যাশনাল মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস (এনএমডিএ) গ্রিডের মাধ্যমে নির্বিঘ্ন একীকরণের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এটি তথ্যের বিচ্ছিন্নতা দূর করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, আইসিজি কনস্টেবলের রিপোর্ট করা একটি মাছ ধরার নৌকা তাৎক্ষণিক ভাবে একটি নেভাল ডেস্ট্রয়ারের ট্যাকটিক্যাল ডিসপ্লেতে দৃশ্যমান হবে।

কোস্ট গার্ডের উপর নির্ভরতাকে খাপছাড়া সহযোগিতা থেকে সরিয়ে একটি সমন্বিত ন্যাশনাল মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস (এনএমডিএ) গ্রিডের মাধ্যমে নির্বিঘ্ন একীকরণের দিকে নিয়ে যেতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সম্পদ বরাদ্দের পুনর্বিন্যাস বাজেটের লক্ষ্যকে আরও ভাল ভাবে সমন্বয় করতে সাহায্য করতে পারে। ইন্দো-প্যাসিফিকের সঙ্কীর্ণ পথগুলিকে কার্যকর ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীকে ব্যয়বহুল সারফেস প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে অ্যাটাক সাবমেরিন (এসএসএন) এবং মনুষ্যবিহীন ডুবোযান (আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেসেল বা ইউইউভি) অধিগ্রহণে অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তন আরও নিরবচ্ছিন্ন, স্টিলথ-চালিত নজরদারি সক্ষম করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর জুড়ে সমুদ্রের তলদেশের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

এবং পরিশেষে, ইএনসি তার এইচএডিআর সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিশাখাপত্তনমকে একটি বিশ্বস্ত সঙ্কট সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং সহযোগিতামূলক ও অ-জবরদস্তিমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে কূটনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে তার ভূমিকা আরও জোরদার করতে পারে।

 


অনসূয়া বসু রায় চৌধুরী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নেবারহুড স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো।

শ্রীরূপা বসু স্বাধীন গবেষক।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.