অমীমাংসিত ভূখণ্ডগত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও, জর্জিয়া রাশিয়ার প্রতি হিসেব-নিকেশ করে বাস্তববাদ গ্রহণ করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক লাভ ও শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রাশিয়ার প্রতি জর্জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি একটি ‘ভূ-রাজনৈতিক অসঙ্গতি’র অনুরূপ: একটি অমীমাংসিত ভূখণ্ডগত বিরোধ, স্থবির কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দীর্ঘস্থায়ী আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও, তিবলিসি মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতায় লিপ্ত। এই নীতির চালিকাশক্তি হল ক্ষমতাসীন দল ‘জর্জিয়ান ড্রিম’-এর এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি তৈরির প্রচেষ্টা, যা পশ্চিমি প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বিতকরণের সঙ্গে মস্কোর সঙ্গে এক প্রকার আধা-অংশীদারিত্বকে একত্রিত করে। এই দিক পরিবর্তনটি জর্জিয়ার জনগণ - যারা ইউরোপীয় মূল্যবোধের সমর্থনে প্রতিবাদ করে আসছে - এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে একটি বৈপরীত্য তুলে ধরে, যার বাস্তববাদী মোড় তিবলিসিকে মস্কোর আরও কাছে নিয়ে এসেছে।
রাশিয়ার প্রতি জর্জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি একটি ‘ভূ-রাজনৈতিক অসঙ্গতি’র অনুরূপ: একটি অমীমাংসিত ভূখণ্ডগত বিরোধ, স্থবির কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দীর্ঘস্থায়ী আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও, তিবলিসি মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতায় লিপ্ত।
ইউরোপীয় স্বপ্ন থেকে হিসেবি বাস্তববাদ
প্রকাশ্যে ইউরোপপন্থী হওয়া থেকে শুরু করে আঞ্চলিক পরাশক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন পর্যন্ত জর্জিয়ার কৌশলগত অবস্থান বেশ কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করেছে। শেভার্দনাদজে যুগটি ছিল প্রাক্তন সোভিয়েত রাষ্ট্রটির পশ্চিমি অভিমুখী হওয়ার এক সতর্ক প্রচেষ্টা, যা সমন্বিতকরণের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। মিখাইল সাকাশভিলির মেয়াদ পূর্ববর্তী বছরগুলির সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার নীতি থেকে এক চূড়ান্ত পরিবর্তনের সূচনা করে। ২০০৩ সালের ‘রোজ রেভোলিউশন’ একটি আদর্শগত পরিবর্তনের সূচনা করে, যা জর্জিয়াকে একটি পশ্চিমপন্থী রাষ্ট্র হিসেবে দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত বুখারেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ আসে, যখন ঘোষণা করা হয় যে, জর্জিয়া অবশেষে ন্যাটোতে যোগ দেবে। এটি মস্কোর জন্য একটি চূড়ান্ত রেড লাইন বা বিপদসীমা হিসেবে প্রমাণিত হয়, যা ২০০৮ সালের আগস্টে পাঁচ দিনের যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে এবং ককেশাসের নিরাপত্তা কাঠামোকে মৌলিক ভাবে পরিবর্তন করে দেয়। এই যুদ্ধ পশ্চিমি নিশ্চয়তার সীমাবদ্ধতাকে উন্মোচন করে: রাজনৈতিক সমর্থন মানেই সামরিক সমর্থন নয়। এর ফলে, রাশিয়া-জর্জিয়া সম্পর্কে একটি নতুন স্থিতাবস্থা তৈরি হয়। আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওসেটিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জর্জিয়ার জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করে। ২০০৮ সালের পর সাকাশভিলির সরকার পশ্চিমি বিশ্বের সঙ্গে একীভূত হওয়ার উপর আরও বেশি জোর দেয় এবং ইইউ-এর ইস্টার্ন পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যোগদান করে। মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক উত্তেজনাকরই থেকে যায়, বৈরিতা অব্যাহত থাকে এবং বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হয়।
২০১২ সালে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে যখন বিদজিনা ইভানিশভিলি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জর্জিয়ান ড্রিম জোট ক্ষমতায় আসে। দলটি ইউরো-আটলান্টিক জোটের প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে একটি ধীর ও জটিল পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন শুরু করে। তবে গত পাঁচ বছরে জর্জিয়ান ড্রিম (জিডি) তার ক্ষমতা সুসংহত করার সঙ্গে সঙ্গে এবং অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা বিকশিত হওয়ায়, এই দ্বৈত-পথের পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়েছে। মস্কোর প্রতি এই সতর্ক বাস্তববাদের নেপথ্যের সরকারি ভাষ্য ছিল ২০০৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই কৌশলগত ঝুঁকি এড়ানোর আখ্যানটি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ২০০৮ সালের সেই ভয়াবহতাকে জর্জিয়ার জনগণের কাছে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে একটি প্রয়োজনীয় কৌশলগত সমন্বয়ের অজুহাত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
মস্কোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা কেবল যুদ্ধ এড়ানো এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই নয়, বরং জর্জিয়ান ড্রিমের কৌশলগত উদ্দেশ্য — অর্থাৎ ক্ষমতা ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা — এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও কাজ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জিডি বারবার ইইউ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জর্জিয়াকে টেনে এনে মস্কোর বিরুদ্ধে একটি ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ খোলার চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং পশ্চিমি প্রতিষ্ঠানগুলিকে হেয় করার জন্য ‘ডিপ স্টেট’ ও ‘গ্লোবাল ওয়ার পার্টি’-র মতো পরিভাষাগুলির ব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। জর্জিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ‘সংঘাত চাপিয়ে দেওয়া’র জন্য ‘গ্লোবাল ওয়ার পার্টি’-কে দায়ী করে জিডি নিজেকে শান্তির প্রধান রক্ষাকর্তা হিসেবে চিত্রিত করে। সরকারের দমনপীড়ন ইউরোপপন্থী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এনজিওগুলির তহবিল বন্ধ করার জন্য ‘ফরেন এজেন্ট ল’-এর মতো বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, মস্কোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা কেবল যুদ্ধ এড়ানো এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই নয়, বরং জর্জিয়ান ড্রিমের কৌশলগত উদ্দেশ্য — অর্থাৎ ক্ষমতা ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা — এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও কাজ করে। এর বিপরীতে, ইইউ-এর সঙ্গে সম্পর্ক একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। যদিও জর্জিয়া ব্রাসেলসের জন্য কৌশলগত ভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ইস্টার্ন পার্টনারশিপ কাঠামোর অংশ হিসেবে রয়েছে, তবে দেশটির ‘গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ’ নিয়ে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি রয়েছে।
ভূখণ্ডগত বাস্তবতার মাঝে অর্থনৈতিক পরিবর্তন
জর্জিয়ার সরকার সমৃদ্ধির জন্য মস্কোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ককে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরে। রাশিয়া জর্জিয়ার শীর্ষ তিনটি বাণিজ্য অংশীদারের অন্যতম। ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। জর্জিয়ার রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে গ্যাস ও তেল আমদানির ফলেই এই অর্থনৈতিক উল্লম্ফন ঘটেছে; একই সঙ্গে, রাশিয়ার বাজারে এর ওয়াইন এবং কৃষি পণ্যের রফতানিও প্রসারিত হয়েছে, যদিও জর্জিয়ার ১.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার ছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে, যে নিষেধাজ্ঞায় তিবলিসি জর্জিয়ার অর্থনীতি এবং এর নাগরিকদের স্বার্থের সম্ভাব্য ক্ষতির কথা উল্লেখ করে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে।
২০২২ সাল থেকে জর্জিয়া রাশিয়ায় সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। জর্জিয়ায় হাজার হাজার নতুন রাশিয়ান সংস্থা নিবন্ধিত হয়েছে, যারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য, যন্ত্রপাতি এবং যানবাহন আমদানি করছে। রাশিয়ান পুঁজির প্রবাহ, পর্যটন এবং ট্রানজিট রাজস্ব জর্জিয়ার অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করেছে। তা ছাড়া, ২০২৩ সালে ভিসা ব্যবস্থা বিলোপ এবং সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর পর দুই দেশের মধ্যে জনগণের সম্পর্ক ও পর্যটন আরও প্রসারিত হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে জর্জিয়ার ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্রাসেলসে উদ্বেগের কারণ হলেও জর্জিয়ার কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে যে, তারা প্রযোজ্য সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মেনে চলছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে কুলেভি তেল টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করার পর, তিবলিসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, কালো তালিকাভুক্ত রাশিয়ান জাহাজগুলিকে বন্দরে প্রবেশ করতে বা সেখানে পরিষেবা পেতে দেওয়া হবে না। এই আশ্বাস ব্রাসেলসকে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করতে এবং জর্জিয়ার বন্দরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকতে প্ররোচিত করেছে।
ভৌগোলিক ভাবে, জর্জিয়া বেশ কয়েকটি প্রধান পরিবহণ করিডোরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন রেখা সরবরাহ শৃঙ্খলকে রাশিয়া থেকে দূরে সরিয়ে ‘মিডল করিডোর’-এর (ট্রান্স-কাস্পিয়ান আন্তর্জাতিক পরিবহণ পথ) দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডকে পাশ কাটিয়ে চিনা এবং মধ্য এশীয় পণ্যকে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। ফলস্বরূপ, তিবলিসি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে একটি মুখ্য অবস্থানে রয়েছে এবং ইউরোপের জন্য একটি অপরিহার্য লজিস্টিক হাব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
জর্জিয়ায় রাশিয়ান পুঁজির প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সত্ত্বেও, আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ ওসেটিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মস্কোর স্বীকৃতি — যা একত্রে জর্জিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডের প্রায় ২০ শতাংশ — আলোচনার টেবিলে একটি অলঙ্ঘনীয় সীমা হয়েই থেকেছে।
রাশিয়ার জন্য জর্জিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ভূমিকাও পালন করে, যা আর্মেনিয়া এবং তুরস্কে ট্রাক ও রেলপথে মাল পরিবহণের জন্য একটি স্থল করিডোর সরবরাহ করে। ভেরখনি লার্স-দারিয়ালি সীমান্ত ক্রসিংটি দুই দেশের মধ্যে সড়ক সংযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এটি তাদের স্থল সীমান্তে একমাত্র কার্যকর চেকপয়েন্ট। ঘন ঘন আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন এবং দীর্ঘ সারি সত্ত্বেও, ২০২৪ সালে এই চেকপয়েন্ট দিয়ে রেকর্ড ৪.৮ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করা হয়েছিল, যা রাশিয়ার সমস্ত যানবাহন সীমান্ত চলাচলের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করার প্রচেষ্টায়, মস্কো ভেরখনি লার্স চেকপয়েন্টের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথটিকে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডোরে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে। এর বাইরে, রাশিয়া অতিরিক্ত বিকল্পও খতিয়ে দেখছে, যেমন আবখাজিয়ান রেলপথ পুনরুজ্জীবিত করা, যা এটিকে সরাসরি দক্ষিণ ককেশাসের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং সম্ভাব্য ভাবে আঞ্চলিক পরিবহণ পথগুলোকে বাধামুক্ত করবে।
কিন্তু ঠিক এখানেই ভূখণ্ডগত সমস্যাটি সামনে চলে আসে: তিবলিসির জন্য, আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ ওসেটিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া যে কোনও ট্রানজিট করিডোর কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এই অঞ্চলগুলির সঙ্গে শুল্ক পদ্ধতি স্বীকার করার অর্থ হবে পরোক্ষ ভাবে তাদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া। জর্জিয়ায় রাশিয়ান পুঁজির প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সত্ত্বেও, আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ ওসেটিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মস্কোর স্বীকৃতি — যা একত্রে জর্জিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডের প্রায় ২০ শতাংশ — আলোচনার টেবিলে একটি অলঙ্ঘনীয় সীমা হয়েই থেকেছে। তিবলিসি নিয়মিত ভাবে এই অঞ্চলগুলিতে ‘রাশিয়ান দখলদারিত্ব থেকে উদ্ভূত’ ‘গুরুতর নিরাপত্তা, মানবিক এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং রাশিয়া ও এই অঞ্চলগুলির মধ্যে আকাশ, রেল এবং সামুদ্রিক যাত্রী পরিবহণের সঙ্গে জড়িত ‘অবৈধ কার্যকলাপ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর বিপরীতে, মস্কো আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ ওসেটিয়ার স্বাধীনতাকে একটি অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতা হিসেবে দেখে এবং জর্জিয়াকে উভয় অঞ্চলের সঙ্গে শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়ে ‘একটি আইনগত ভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তিতে’ পৌঁছনোর জন্য আহ্বান জানায়।
এই প্রেক্ষাপটে, রাশিয়ার সঙ্গে জর্জিয়ার সম্পৃক্ততা এক আপাতবিরোধী ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বাভাবিকতায় ফেরা অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। কারণ বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলির মর্যাদা রাজনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি কঠোর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। তবে এই অচলাবস্থা তিবলিসিকে মস্কোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি — যেখানে একটি অমীমাংসিত ভূখণ্ডগত বিরোধ এবং ইউরোপীয় একীকরণের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনার চেয়ে বাস্তববাদ ও আর্থিক বিবেচনা বেশি প্রাধান্য পায় — অদূর ভবিষ্যতে বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আলেক্সেই জাখারভ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের রাশিয়া ও ইউরেশিয়া বিষয়ক গবেষক।
নীতীশ কুমার অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aleksei Zakharov is a Fellow with ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the geopolitics and geo-economics of Eurasia and the Indo-Pacific, with particular ...
Read More +
Nitish Kumar is a Research Intern with the Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation. ...
Read More +