২০২৫ সালে আমেরিকায় মার্কিন হামের প্রাদুর্ভাব দেখায় যে কীভাবে রাজনীতিকৃত ভুল তথ্য এবং টিকাবিরোধী বক্তব্য বিজ্ঞানকে দুর্বল করে, আস্থা নষ্ট করে এবং জাতীয় জনস্বাস্থ্য বিপন্ন করে
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামের পুনরুত্থান দেখে, যা একটি প্যারামাইক্সোভাইরাস। ২০০০ সালে পূর্ববর্তী প্রজাতিটিকে নির্মূল করার ২৫ বছর পর এই পুনরুত্থান দেখা যায়। এই পুনরুত্থানের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকাদান এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো নিয়ে জাতীয় আলোচনা শুরু হওয়া উচিত ছিল। পরিবর্তে, এটি ভুল তথ্যের বিরক্তিকর ঢেউয়ের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলি এখন পরামর্শ দিচ্ছে যে হামের এই ঘটনাটিকে একটি জৈবিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই দাবিগুলির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও সেগুলি তথ্যের রাজনীতিকরণের একটি বিপজ্জনক প্রবণতা প্রকাশ করে, এবং ফলস্বরূপ, বিজ্ঞান ও প্রতিষ্ঠানের উপর জনসাধারণের আস্থার ইচ্ছাকৃত ক্ষয় প্রকাশ করে।
ভুল তথ্যের বাস্তুতন্ত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নির্বিচার পুনরাবৃত্তি থেকে উৎসাহিত অনেকের জন্য টিকাবিরোধী বক্তব্য একটি বিশেষ আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই পরিবেশে, সবচেয়ে সংক্রামক কিন্তু টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলির মধ্যে একটি, হাম একটি বোড়েতে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক মাধ্যম হিসেবে ভুল তথ্য
এই ভুল তথ্যের তরঙ্গের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র (আরএফকে জুনিয়র), যিনি নতুন মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প ও টিকা নীতি, সম্পর্কে বিতর্কিত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রচারণা বিজ্ঞান-বিরোধী আখ্যানগুলিকে আরও বৈধতা দিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলিকে কর্তৃত্ববাদী অতিরঞ্জন হিসাবে চিত্রিত করেছে, এবং টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি কারসাজির ভয়কে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরএফকে জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ টিকাবিরোধী সমর্থকরা বিপজ্জনক মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন যে, টেক্সাসে বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব একটি 'জৈবিক অস্ত্র' যার স্পষ্টতই লক্ষ্য ছিল মেনোনাইটস, একটি খ্রিস্টান অ্যানাব্যাপ্টিস্ট গোষ্ঠী।
আরএফকে জুনিয়র প্রায়শই সিন্থেটিক বায়োলজি বা সিআরআইএসপিআর (ক্লাস্টারড রেগুলারলি ইন্টারস্পেসড শর্ট প্যালিনড্রোমিক রিপিটস)-এর মতো সম্পর্কহীন বৈজ্ঞানিক উন্নয়নগুলিকে সরকারি নজরদারি বা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ভয়-প্ররোচনামূলক আখ্যানের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বারবার জনস্বাস্থ্য নীতিগুলিকে একটি বৃহত্তর 'জৈব চিকিৎসা স্বৈরশাসনের' অংশ হিসাবে তুলে ধরেছেন। পরবর্তিকালে, আরএফকে জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ টিকাবিরোধী সমর্থকরা বিপজ্জনক মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন যে, টেক্সাসে বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব একটি 'জৈবিক অস্ত্র' যার স্পষ্টতই লক্ষ্য ছিল মেনোনাইটস, একটি খ্রিস্টান অ্যানাব্যাপ্টিস্ট গোষ্ঠী।
এই অভিযোগ তুলেছিলেন মিকি উইলিস, একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি কথিত ‘পরিকল্পিত মহামারি’ নিয়ে তাঁর সাক্ষাৎকারের জন্য বিখ্যাত। এপ্রিল মাসে, একটি অনলাইন কথোপকথনে, তিনি আরএফকে জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, যেখানে এই জুটি হামের প্রাদুর্ভাবের উৎপত্তি ও প্রভাব নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁরা উইলিসের সম্পূরক সংস্থা কর্তৃক বিক্রিত একটি বিকল্প ওষুধ বাজারজাত করার উদ্দেশ্যেও বিষয়টি ব্যবহার করেছিলেন। ওয়েবিনার চলাকালীন, আরএফকে জুনিয়র এবং উইলিস, বিতর্কিত চিকিৎসা বিষয়ক মতামতের জন্য পরিচিত চিকিৎসক ডঃ রিচার্ড বার্টলেটের সঙ্গে, হাম নিরাময়কারী ওষুধ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই ধরনের দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না, ছিল ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক প্রতিকারের কথা। ওষুধ শিল্প নিয়ে তাঁদের বক্তব্য, এবং হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সহায়ক হিসাবে ভিটামিন এ গ্রহণের বিষয়ে ভুল তথ্য জনসাধারণের আস্থাকে দ্রুত প্রভাবিত করেছে এবং দ্বিদলীয়, বিজ্ঞান-ভিত্তিক নীতি প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
মার্কিন জনস্বাস্থ্য পেশাদারেরা টিকা-বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসাবে এই পদক্ষেপগুলির নিন্দা করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, মুনাফা অর্জন বা ব্যক্তিগত বৈধতা অর্জনের জন্য ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়। যদিও কেনেডি প্রকাশ্যে বলেছেন যে এমএমআর (হাম, মাম্পস এবং রুবেলা) টিকা হামের বিরুদ্ধে সর্বোত্তম সুরক্ষা, তিনি ব্যাপক টিকাকরণের আহ্বান জানানো থেকে বিরত ছিলেন, এবং এটি নেওয়া না-নেওয়াকে 'ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি প্রমাণ ছাড়াই এই বার্তাটিকে তুচ্ছ করে বলেন যে, প্রতি বছর টিকার কার্যকারিতা প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, যাকে প্রায়শই 'স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্টি-ভ্যাকসিন এক্সট্রিমিস্ট' আচরণ হিসাবে বর্ণনা করা হয়।
আরএফকে জুনিয়র প্রতিরোধমূলক, বিকল্প এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য পদ্ধতির জন্য তহবিল বৃদ্ধির পক্ষেও কথা বলেছেন, এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা বাজেটের অর্ধেক এই বিকল্পগুলিতে বরাদ্দ করার প্রস্তাব করেছেন।
এপ্রিলের শেষ অবধি টেক্সাসে ৬০০ টিরও বেশি হামের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত ছিল। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে এই মৃত্যুগুলি রোগের সরাসরি পরিণতি, টিকা বা টিকা-বিরোধী চরমপন্থীদের দ্বারা প্রচারিত অন্যান্য কারণ থেকে নয়। আরএফকে জুনিয়র প্রতিরোধমূলক, বিকল্প এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য পদ্ধতির জন্য তহবিল বৃদ্ধির পক্ষেও কথা বলেছেন, এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা বাজেটের অর্ধেক এই বিকল্পগুলিতে বরাদ্দ করার প্রস্তাব করেছেন। প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে ভুল তথ্য শুধু ভুল নয় বরং ক্ষতিকারকও, কারণ এগুলি টিকাদানকে নিরুৎসাহিত করে এবং এই ধরনের বিকল্প, অ-পরীক্ষিত, ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর চিকিৎসার দিকে মানুষকে ঠেলে দিয়ে আরও বেশি জীবন বিপন্ন করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরএফকে জুনিয়রের পদ্ধতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এটি টিকার প্রতি জনসাধারণের আস্থা হ্রাস করে এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। সমালোচকরা তাঁর অসঙ্গত বার্তা এবং নীতিগুলির সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
নৈতিক যোগাযোগের ভূমিকা
জৈবপ্রযুক্তি, জৈবনিরাপত্তা ও ওষুধ উন্নয়নে প্রকৃত ঝুঁকি থাকলেও, হামের মতো দৈনন্দিন রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে এই ঝুঁকিগুলিকে এক গোত্রে ফেলা বিভ্রান্তিকর ও বিপজ্জনক। আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির আবির্ভাব এবং কোভিড-১৯ অতিমারিকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে দায়িত্বশীল বৈজ্ঞানিক যোগাযোগের গুরুত্ব বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক জিন সংশ্লেষণ কনসর্টিয়াম (আইজিএসসি)-এর সদস্যসহ বেশ কয়েকটি সরবরাহকারীর কাছ থেকে ছোট ডিএনএ টুকরো কিনেছিলেন। তাঁরা ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে একটি জিন পুনরায় একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। গবেষকরা দাবি করেছেন যে এটি শিল্পের স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে সম্ভাব্য দুর্বলতাগুলি দেখিয়েছে, এবং ক্ষতিকারক ক্রমসংশ্লেষণ করা কতটা সহজ হয়ে উঠছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইজিএসসি যুক্তি দিয়েছে যে রেড-টিমিং গবেষণাটি শিল্পের জৈবনিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, এবং বৈজ্ঞানিক সংলাপে সঠিক যোগাযোগের প্রচারের গুরুত্ব আরও বেশি করে তুলে ধরেছে। আইজিএসসি-র খণ্ডন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে বর্ণন বিজ্ঞানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
আইজিএসসি যুক্তি দিয়েছে যে রেড-টিমিং গবেষণাটি শিল্পের জৈবনিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, এবং বৈজ্ঞানিক সংলাপে সঠিক প্রচারের ভূমিকার গুরুত্ব আরও বেশি করে তুলে ধরেছে।
আমেরিকায় হামের প্রত্যাবর্তন কোনও রহস্য বা কোনও কৃত্রিম হুমকি নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের ব্যর্থতা, যা টিকাদানের হার হ্রাস এবং ধ্বংসাত্মক ভুল তথ্য প্রচারণার ফলে সৃষ্ট। হামের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে ভুল তথ্যের ক্রমবর্ধমান হার এবং কোভিড-১৯ অতিমারির উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনার পুনরুত্থান জনস্বাস্থ্য বিতরণ ও চিকিৎসা তথ্যের নৈতিক ও বাস্তবসম্মত বিতরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী এই ধরনের প্রবণতা ইতিমধ্যেই বিদ্যমান। জার্মানি স্কুলের শিশুদের জন্য টিকাকরণ বাধ্যতামূলক আইন এনেছে, এবং অস্ট্রেলিয়া পরিবার কল্যাণ অর্থ প্রদানকে ভ্যাকসিনেশন কভারেজের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালার মতো মান জনস্বাস্থ্য বিপদ এবং ভুল তথ্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর জোর দেয়। তবে, জাতীয় বাস্তবায়ন ছাড়া, বিশ্বব্যাপী নির্দেশিকাগুলির কোনও প্রভাব নেই। ভারতের স্যাশে (সচেতনতা, পরামর্শ, সামগ্রিক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা)-এর মতো উদ্যোগগুলি দেখিয়েছে যে কীভাবে বাস্তব সময়ে ডিজিটাল হস্তক্ষেপ জনসম্প্রদায়ের জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন স্থানীয়করণ এবং রাষ্ট্র ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাসযোগ্যতা দ্বারা সমর্থিত হয়। মিথ্যা তথ্যকে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কুপ্রথা হিসাবে বিবেচনা করে, এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব মাথায় রেখে, দ্বিদলীয় ঐকমত্য এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভারতের মতো উদ্যোগগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রতিলিপি ও প্রসারিত করা উচিত।
জার্মানি স্কুলের শিশুদের জন্য টিকাকরণ বাধ্যতামূলক আইন এনেছে, এবং অস্ট্রেলিয়া পরিবার কল্যাণ অর্থ প্রদানকে ভ্যাকসিনেশন কভারেজের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
টিকাকরণ কোনও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পছন্দ নয়, বরং একটি নাগরিক চুক্তিও। এটি শুধু ব্যক্তিকেই নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত, তরুণ এবং যারা চিকিৎসাগতভাবে টিকা গ্রহণে অক্ষম তাদেরও সুরক্ষা দেয়। অজ্ঞতার কারণে টিকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অনুশীলন নয়। এটি সম্প্রদায়ের দায়িত্ব পরিত্যাগ। জনস্বাস্থ্য হার্ড ইমিউনিটির উপর নির্ভর করে, যা এমন একটি ক্ষীণ সীমা যা অনেক ব্যক্তি তাদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে অবদান রাখতে অস্বীকৃতি জানালে ভেঙে যায়।
শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...
Read More +