ভারতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল নাগরিক রীতিনীতি এই অগ্রগতিকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে রূপান্তরিত করতে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করছে।
জনপরিসরে শব্দদূষণ থেকে শুরু করে নোংরা রাস্তা, নিম্ন মানের বায়ু, রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, পর্যটন কেন্দ্রের অবমাননা এবং ট্রাফিক নিয়মকানুন মেনে না চলা, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশনের প্রতি ব্যাপক অবহেলা… এসবের কারণে ভারত ক্রমাগত সম্মিলিত দায়িত্ববোধের এক গুরুতর সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে। এর বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই সঙ্কটকে - যা এখন সাধারণভাবে ‘নাগরিক বোধের অভাব’ হিসেবে পরিচিত - আনুষ্ঠানিক পরিভাষায় আরও যথাযথ ভাবে ‘দুর্বল জনহিতৈষিতা’ এবং ‘নাগরিক পুঁজির ক্ষয়’ হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে।
ভূমিকা
ভারতের প্রবৃদ্ধির আখ্যানটি বলিষ্ঠ ও সম্ভাবনাময়, যা স্থিতিশীল অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং একটি আত্মবিশ্বাসী সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা চালিত। এই গতি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্নকে বিশ্বাসযোগ্যতা জোগায়। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করতে হলে ভারতের ‘নাগরিক বোধ’-এর দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন। দুর্বল নাগরিক রীতিনীতি সরাসরি জনসেবামূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতাকে ক্ষুণ্ণ করে, নগর প্রশাসনকে বিকৃত করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জীবনযাত্রার মানের বাস্তব উন্নতিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। এই ঘাটতিকে একটি সম্মিলিত কর্মপন্থা ও জনকল্যাণমূলক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা অপরিহার্য, যা বুঝতে সাহায্য করবে, কেন শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধি দিয়ে উন্নয়ন সাধিত হতে পারে না।
দুর্বল নাগরিক রীতিনীতি সরাসরি জনসেবামূলক কার্যক্রমের কার্যকারিতাকে ক্ষুণ্ণ করে, নগর প্রশাসনকে বিকৃত করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জীবনযাত্রার মানের বাস্তব উন্নতিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। এই ঘাটতিকে একটি সম্মিলিত কর্মপন্থা ও জনকল্যাণমূলক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা অপরিহার্য, যা বুঝতে সাহায্য করবে, কেন শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধি দিয়ে উন্নয়ন সাধিত হতে পারে না।
নাগরিক বোধ বলতে বোঝায় সর্বজনীন স্থানের শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার, আইন মেনে চলা এবং অন্যের অধিকার ও অভিজ্ঞতার প্রতি বিবেচনা। এটি যৌথ সম্পদ ও জনহিতকর বিষয়াবলির প্রতি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধকে প্রতিফলিত করে। যখন নাগরিক বোধ দুর্বল থাকে, তখন তার ফলাফল দৈনন্দিন আলাপচারিতায় দৃশ্যমান হয়: যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, ফুটপাত দখল, যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা, অবকাঠামোর অবনতি এবং একটি অস্বস্তিকর বা অনিরাপদ জনপরিবেশ। জাতীয় পর্যায়ে এই আচরণগুলি ভারতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে দুর্বল করে, পর্যটনের সম্ভাবনা হ্রাস করে, বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং অর্থনৈতিক অদক্ষতা সৃষ্টি করে। তাই নাগরিক পুঁজিকে শক্তিশালী করা কোনও গৌণ সামাজিক আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এটি একটি উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকার। শিক্ষা, আচরণগত পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নত অবকাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ… এই সবই এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
নাগরিক পরিকাঠামোর কাঠামোগত দুর্বলতা
সংজ্ঞা অনুসারে, জনসাধারণের ব্যবহার্য সামগ্রী সর্বসাধারণের জন্য। এগুলি সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং একজনের ব্যবহারে এগুলির প্রাপ্যতা কমে যায় না। ফলে বিষয়টি এগুলিকে একটি শহরের দৈনন্দিন কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য করে তোলে, আবার একই সঙ্গে এগুলিকে অপব্যবহারের ঝুঁকিতেও ফেলে। যেহেতু কোনও ব্যক্তিকেই বাদ দেওয়া যায় না, তাই এর অপব্যবহার প্রায়শই অনিয়ন্ত্রিত থেকে যায়। এর ফলস্বরূপ একটি স্পষ্ট ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়: ব্যক্তিরা হয়তো ছোটখাটো অবহেলার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পুরো সমাজকেই চোকাতে হয়।
এই চিত্রটি ভারতীয় শহরগুলিতে সুস্পষ্ট। যাত্রীরা মুম্বইয়ের রেললাইনে আবর্জনা ফেলে, অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্ক করে এবং দিল্লির রাস্তায় অবিরাম হর্ন বাজায়; বেঙ্গালুরু জুড়ে অবিভাজিত আবর্জনার স্তূপ জমে, চেন্নাইয়ের নর্দমা বন্ধ করে দেয় এবং প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে বারাণসীর ঘাটগুলিকে দূষিত করে। দায়ী ব্যক্তিকে খুব কমই জবাবদিহি করতে হয়, কিন্তু এর মূল্য বাকি সবাইকেই বহন করতে হয়: দুর্বল পরিকাঠামো, পরিষ্কার করার উচ্চ খরচ এবং জীবনযাত্রার মানের অবনতি। জনসাধারণের সম্পদ ও গণপরিসরের প্রতি যত্ন অবশ্যই ক) অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধ, খ) অন্যের বা যৌথ সম্পত্তির ক্ষতি করার গুরুতর পরিণতি, অথবা গ) উভয়ের মিশ্রণ থেকে উদ্ভূত হতে হবে। কেবল তখনই গণপরিসর সকলের জন্য সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে পারবে।
নাগরিক আচরণে আয় ও উন্নয়নের ভূমিকা
বৃহত্তর পর্যায়ে মাথাপিছু আয় নাগরিক বোধের বিকাশের একটি কার্যকর পরোক্ষ পরিমাপক। উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে সাধারণত অধিকতর নাগরিক-সচেতন আচরণ দেখা যায় এবং এমনকি ভারতের মধ্যেও উচ্চ মাথাপিছু জিএসডিপি সম্পন্ন রাজ্যগুলিতে বৃহত্তর নাগরিক দায়িত্ববোধ (উন্নত নাগরিক র্যাঙ্কিং) প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যায়। চিত্র ১-এর স্ক্যাটার প্লটটি একটি সামান্য নেতিবাচক সম্পর্ক নির্দেশ করে, যেখানে ধনী রাজ্যগুলি নাগরিক বোধের র্যাঙ্কিংয়ে ভাল ফল করে। উচ্চ এবং একই রকম মাথাপিছু আয়ক্ষম রাজ্যগুলি — যেমন গুজরাত, পাঞ্জাব, কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানা — শক্তিশালী নাগরিক ফলাফল প্রদর্শন করে। আবার নিম্ন-আয়ের রাজ্যগুলি — যেমন বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশ — দুর্বল নাগরিক স্কোর অর্জন করে।
উচ্চ এবং একই রকম মাথাপিছু আয়ক্ষম রাজ্যগুলি — যেমন গুজরাত, পাঞ্জাব, কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানা — শক্তিশালী নাগরিক ফলাফল প্রদর্শন করে। আবার নিম্ন-আয়ের রাজ্যগুলি — যেমন বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশ — দুর্বল নাগরিক স্কোর অর্জন করে।
আয় বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দু’টি সহায়ক মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে: ক) শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, এবং খ) উচ্চতর পারিবারিক আয় এবং সামাজিক ঊর্ধ্বমুখী গতিশীলতা। এই মাধ্যমগুলি ক্রমান্বয়ে নাগরিক পুঁজি গড়ে তোলে। ক্রমবর্ধমান আয়ের সাথে সাধারণত শিক্ষার উন্নততর সুযোগ, শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণ এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক পরিচিতি ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত জীবনযাত্রার মানের উপর অধিক মনোযোগের দিকে পরিচালিত করে। এর পাশাপাশি উন্নত তহবিলযুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চতর কর রাজস্ব নিয়ম-কানুন মেনে চলার ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণে বিনিয়োগকে সমর্থন করে, যা উত্তম নাগরিক আচরণ বাস্তবায়নে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, কেরলের শক্তিশালী স্থানীয় সরকার এবং জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে তাদের ধারাবাহিক ব্যয় উন্নততর নাগরিক ফলাফল তৈরিতে সহায়তা করেছে। তামিলনাড়ু এবং হিমাচল প্রদেশেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়, যেখানে সু-তহবিলযুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী নাগরিক আচরণকে সমর্থন করে।
চিত্র ১: রাজ্যভিত্তিক নাগরিক-বোধের র্যাঙ্কিং বনাম রাজ্যের মাথাপিছু আয়

উৎস: লেখকের নিজস্ব, ম্যাটপ্লটলিব ব্যবহার করে প্রস্তুত। তথ্যসূত্র: গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (জিডিবি), ইন্ডিয়াটুডে এবং স্ট্যাটিস্টিকসটাইমস। দ্রষ্টব্য: নাগরিক আচরণ র্যাঙ্কিং-এ নিম্নগামী অবস্থান রাজ্যের র্যাঙ্কিং ও কর্মক্ষমতার উন্নতি নির্দেশ করে। সর্বোপরি, নাগরিক আচরণের স্কোরগুলি রাজ্যজুড়ে গুণগত (সমীক্ষাভিত্তিক) তথ্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
এই বৃহত্তর ব্যাখ্যামূলক ভিত্তি ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিষয় ভারতে নাগরিক কর্মকাণ্ডকে ক্রমাগত প্রভাবিত করে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে শোষণমূলক ঔপনিবেশিক অতীতের উত্তরাধিকার, দীর্ঘ সময় ধরে চলা স্বল্প প্রবৃদ্ধি ও সীমিত উন্নয়নের কারণে সৃষ্ট জন-আচরণের দুর্বল সাংস্কৃতিক পরিবেশ, দুর্বল প্রয়োগ ব্যবস্থা এবং অবিরাম আঞ্চলিক ও আয় বৈষম্য। শক্তিশালী নাগরিক আচরণ একটি জটিল এবং ক্রমবিকাশমান ফলাফল: এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং এর উন্নতি তখনই ঘটে যখন শিক্ষা, আয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মতো পরিপূরক উন্নয়নমূলক লক্ষ্যগুলো একসাথে অগ্রসর হয়। নীতি ও সামাজিক পর্যায়ে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ, আচরণগত পরিবর্তন এবং স্থিতিশীল জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে নাগরিক পুঁজিকে শক্তিশালী করা যেতে পারে।
আরও বেশ কিছু বিষয় ভারতে নাগরিক কর্মকাণ্ডকে ক্রমাগত প্রভাবিত করে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে শোষণমূলক ঔপনিবেশিক অতীতের উত্তরাধিকার, দীর্ঘ সময় ধরে চলা স্বল্প প্রবৃদ্ধি ও সীমিত উন্নয়নের কারণে সৃষ্ট জন-আচরণের দুর্বল সাংস্কৃতিক পরিবেশ, দুর্বল প্রয়োগ ব্যবস্থা এবং অবিরাম আঞ্চলিক ও আয় বৈষম্য।
নাগরিক পুঁজি শক্তিশালী করার কৌশল
ভারতের নাগরিক ঘাটতি মোকাবিলার জন্য সচেতনতা থেকে আচরণগত নকশার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আচরণগত পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায় যে, স্থিতিশীল নাগরিক পরিবর্তন নির্ভর করে প্রাথমিক প্রস্তুতি, বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ, দৃশ্যমান সামাজিক রীতিনীতি এবং সম্প্রদায়ের মালিকানার উপর। তাই নীতি সংস্কারে প্রয়োগ এবং শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত, যাতে নাগরিক অনুবর্তিতা কেবল নিয়ম-কানুনের বাধ্যবাধকতা না হয়ে একটি সহজাত অভ্যাসে পরিণত হয়।
প্রথমত, নাগরিক অভ্যাস শৈশবেই গড়ে তুলতে হবে। জাপানের তথ্য প্রমাণ করে যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা সুসংগঠিত ভাবে হাত ধোয়ার পাঠ গ্রহণ করেছিল, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় উল্লেখযোগ্য রকমের শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক আচরণ বজায় রেখেছিল। ভারতও নিয়মিত পাঠদানের মধ্যে স্কুল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি অডিট এবং সহপাঠীদের দ্বারা পরিচালিত প্রচারণাকে অন্তর্ভুক্ত করে একই ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক নাগরিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ‘নাগরিক ব্যাজ’ বা স্বীকৃতি ব্যবস্থার মতো সাধারণ প্রণোদনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক গর্বকে আরও উৎসাহিত করতে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণকে শক্তিশালী করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নগর প্রশাসনে আচরণগত ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত। বেঙ্গালুরুতে প্রস্রাব ত্যাগের স্থানগুলিতে আয়না স্থাপন আত্ম-প্রতিফলনকেই উৎসাহিত করে। অন্য দিকে, ‘এই এলাকাটি ১০ দিন ধরে পরিষ্কার রয়েছে’… এর মতো ফিডব্যাক প্রদর্শন কাঙ্ক্ষিত আচরণকে দৃশ্যমান ও অনুপ্রেরণাদায়ক করে তোলে। মানুষ তখনই দায়িত্বশীল আচরণ করতে বেশি আগ্রহী হয়, যখন তারা বিশ্বাস করে যে তাদের সহকর্মীরা ইতিমধ্যেই তা করছে।
তৃতীয়ত, প্রয়োগকারী ব্যবস্থাগুলিতে ইতিবাচক প্রতিবন্ধকতা প্রয়োগ করা উচিত, যাতে নিয়ম মানা সহজ হয় এবং লঙ্ঘনগুলি দ্রুত শনাক্ত করে ন্যায্য ভাবে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা যায়। অভিযোজিত জরিমানা, কমিউনিটি পরিচ্ছন্নতা ড্যাশবোর্ড এবং ‘পরিচ্ছন্নতম ওয়ার্ড পুরস্কার’-এর মতো স্বীকৃতি প্রকল্পগুলি প্রতিরোধের সঙ্গে গর্বের সমন্বয় ঘটায়। যখন মানুষ অবহেলার পরিণাম এবং নিয়ম মানার পুরস্কার উভয়ই প্রত্যক্ষ করে, তখন নাগরিক শৃঙ্খলা স্ব-শক্তিবর্ধক হয়ে ওঠে।
যখন মানুষ অবহেলার পরিণাম এবং নিয়ম মানার পুরস্কার উভয়ই প্রত্যক্ষ করে, তখন নাগরিক শৃঙ্খলা স্ব-শক্তিবর্ধক হয়ে ওঠে।
অবশেষে, আচরণগত পরিবর্তনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া উচিত। শহরগুলি প্রধান আচরণগত কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারে অথবা পৌর সংস্থাগুলির মধ্যে বিশেষ ‘মাইন্ডস্পেস ইউনিট’ তৈরি করতে পারে। এগুলির ভূমিকা হবে আচরণগত অন্তর্দৃষ্টি প্রয়োগ করা এবং নাগরিক প্রতিক্রিয়ার ধরন বিশ্লেষণ করা। এর পর ওয়ার্ড-স্তরের কাউন্সিলগুলি ইস্ট কাঠামোর (ইজি, অ্যাট্রাকটিভ, সোশ্যাল অ্যান্ড টাইমলি অর্থাৎ ইএএসটি বা ইস্ট অর্থাৎ সহজ, আকর্ষণীয়, সামাজিক এবং সময়োপযোগী) অধীনে স্থানীয় উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে পারে, যা নাগরিক কর্মকাণ্ডকে সহজ, ফলপ্রসূ এবং সম্প্রদায়-চালিত করে তুলবে।
সম্মিলিত ভাবে, এই সংস্কারগুলি নাগরিক আচরণকে বাধ্যবাধকতা থেকে সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত করতে পারে এবং নাগরিক বোধকে একটি আচরণগত জনহিতকর বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
উপসংহার: উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে নাগরিক বোধ
ভারতের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সুস্পষ্ট এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও দেশটি এখনও নিম্ন মানের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংগ্রাম করে চলেছে। এক দিকে রয়েছে সচ্ছল শহুরে পরিবার, যারা উন্নত জীবনযাত্রা বেছে নিতে পারে এবং অন্য দিকে রয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা নিম্নতম ৪০ শতাংশ মানুষ। এর পাশাপাশি রয়েছে উন্নতির প্রত্যাশী এক বিশাল উচ্চাকাঙ্ক্ষী শ্রেণি। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিক বোধকে কম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং প্রতিষ্ঠানগুলি পরিপক্ব হওয়ার ফলে নাগরিক আচরণের স্বয়ংক্রিয় ভাবে উন্নতি ঘটবে, এমনটা আশা করা যায় না। কারণ এটি একটি ধীর এবং অসম প্রক্রিয়া। অতএব, ভারত যখন তার ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন নাগরিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার জন্য সচেতন আলাপ-আলোচনাকে উৎসাহিত করা, নাগরিক রীতিনীতির উপর সুস্থ জনমত বজায় রাখা এবং একটি সুস্পষ্ট নীতি কর্মসূচি প্রণয়ন করা অপরিহার্য। উন্নত নাগরিক রীতিনীতি কেবল দেশের অভ্যন্তরে জীবনযাত্রার মানই বৃদ্ধি করবে না, বরং ভারতের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা, কূটনৈতিক শক্তি এবং স্বাগত জানায় এমন দেশগুলিতে এর প্রবাসী জনগোষ্ঠী কী ভাবে বিবেচিত হয়, তাকেও আকার দেবে।
মণীশ বৈদ্য অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট।
কুমকুম মোহতা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Manish Vaidya is a Research Assistant with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. His work centres on research and active engagement in applied economics, with a ...
Read More +Kumkum Mohata is a Research Assistant with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. Her research interests lie in development economics, international trade, and macroeconomics, with ...
Read More +