ব্যাপক অবকাঠামোগত ব্যয় সত্ত্বেও ভারতের নগর পরিবহণ সঙ্কট অব্যাহত রয়েছে, যা সুশাসন, সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জোরদার করার জন্য একটি বিশেষায়িত নগর পরিবহণ পরিষেবা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
ভারতের শহরগুলি এক গুরুতর চলাচল সঙ্কটের সম্মুখীন। টমটম ট্র্যাফিক ইনডেক্স ২০২৪-২৫ অনুসারে, ভারতের প্রধান মহানগরগুলি বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরগুলির অন্যতম, যেখানে যাত্রীরা যানজটের কারণে বছরে গড়ে ৯৪ ঘণ্টা সময় হারান। শহুরে পরিবহণ ব্যবস্থা সূক্ষ্ম পিএম২.৫ কণা দূষণেরও একটি প্রধান উৎস, যা বেঙ্গালুরু ও পুনেতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এবং দিল্লিতে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত দূষণের জন্য দায়ী।
তবুও মেট্রো রেল, সড়ক পরিকাঠামো ও বাস ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ সত্ত্বেও, চলাচল ব্যবস্থা অনিরাপদ, অনির্ভরযোগ্য এবং চরম ভাবে অসম রয়ে গিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষাকাল যেখানে পরিকাঠামোগত দুর্বলতাগুলিকে প্রকাশ করে, সেখানে বারবার ফিরে আসা তাপপ্রবাহ এবং চরম আবহাওয়া পুরনো পরিবহণ ব্যবস্থার উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা বাড়ছে, যা বছরে প্রায় ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যার ফলে গণপরিবহণের যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আরও উদ্বেগজনক ভাবে, বেশির ভাগ প্রধান শহরে বাসযাত্রীর সংখ্যা কমে গিয়েছে। ফলে যানজট আরও বেড়েছে এবং শেষ-পর্যায়ের পরিষেবা সঙ্কুচিত করেছে, যা দরিদ্র, নারী এবং বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহুরে চলাচলের এই চ্যালেঞ্জগুলি একটি অন্তর্নিহিত শাসনতান্ত্রিক সমস্যার লক্ষণ। শহুরে পরিবহণ ব্যবস্থা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভক্ত, যার মধ্যে রয়েছে পৌরসভা, রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা, ট্রাফিক পুলিশ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং মেট্রো কর্পোরেশন। এদের প্রত্যেকের নিজস্ব নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও এক্তিয়ার রয়েছে এবং প্রতিটিই ক্ষেত্রভিত্তিক শাসন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে তীব্র সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এই বহুমাত্রিকতার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া খণ্ডিত হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব দেখা গিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি, প্রকল্প-ভিত্তিক হস্তক্ষেপের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা একটি সমন্বিত শহুরে চলাচল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করছে।
এই নিবন্ধে ভারতে দক্ষ, স্থিতিশীল এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব নগর পরিবহণ পরিষেবা সক্ষম করার জন্য একটি প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে দক্ষতা, প্রশাসন এবং ব্যবস্থাপনার বর্তমান ঘাটতিগুলি মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত, শহর-স্তরের নগর পরিবহণ পরিষেবা কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নগর পরিবহণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলির জরুরি পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে। এই নিবন্ধে ভারতে দক্ষ, স্থিতিশীল এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব নগর পরিবহণ পরিষেবা সক্ষম করার জন্য একটি প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে দক্ষতা, প্রশাসন এবং ব্যবস্থাপনার বর্তমান ঘাটতিগুলি মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত, শহর-স্তরের নগর পরিবহণ পরিষেবা কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে।
নগর পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ ভাবে তৈরি প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান-সহ বিশেষায়িত প্রশাসনিক সক্ষমতা গড়ে তোলা ভারতকে নগর পরিবহণের অদক্ষতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম করবে, যা আরও স্থিতিশীল, ন্যায়সঙ্গত এবং বাসযোগ্য শহর তৈরিতে অবদান রাখবে।
নগর পরিবহণ প্রশাসনে প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি
ভারতে নগর গতিশীলতা প্রশাসনে একাধিক পরস্পর-ব্যাপ্ত এক্তিয়ার রয়েছে, যার ফলে জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ে। পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ এবং রাজ্য গণপূর্ত বা পরিবহণ বিভাগের মতো বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে কর্তৃত্ব বিভক্ত। এর সঙ্গে রয়েছে গজিয়ে ওঠা মেট্রো রেল কর্পোরেশনগুলি। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলির নেতৃত্বে থাকা সাধারণ প্রশাসক বা আবর্তনশীল প্রকৌশলী কর্মীদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে এই পদ্ধতিগত বিভাজন আরও তীব্র হয়। এই ধরনের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের অভাব প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি সঞ্চয়ে বাধা দেয় এবং জটিল মহানগরীয় পরিবহণ ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গভীর বিষয়ভিত্তিক দক্ষতাকে সীমিত করে।
এই প্রশাসনিক অসংগতির সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। বর্তমান কাঠামোটি নীতিগত দূরদৃষ্টির অভাবকে স্থায়ী করে, যার বৈশিষ্ট্য হল দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনাকে উপেক্ষা করে অসংগঠিত, পুঁজি-নিবিড় অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ করা, যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকে আকর্ষণ করলেও পদ্ধতিগত ভাবে খুব কমই কার্যকর। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বিচ্ছিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা ও পরিবহণ শৃঙ্খলের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ, সমন্বিত সংযোগকে ভেঙে দেয়, যার ফলে এমন নগর বিস্তৃতি ঘটে, যা গণপরিবহণের জন্য প্রতিকূল। স্থিতিশীল নগরায়ণের মূল উপাদানগুলি – যেমন অ-মোটরচালিত পরিবহণ এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার - ভারী প্রকৌশলগত সমাধানের ক্ষেত্রে গৌণ হয়ে পড়ে।
আন্তঃশাস্ত্রীয় দক্ষতাসম্পন্ন একটি পেশাদার কর্মীবাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এবং পরিবহণ অর্থনীতি ও আচরণগত বিজ্ঞানের সাথে ট্র্যাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে, ভারত তার নগর পরিবহণের খাপছাড়া ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে একটি সামগ্রিক, তথ্য-নির্ভর গতিশীল শাসনের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এই কাঠামোগত ঘাটতিগুলি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নগর পরিবহণের জন্য একটি নিবেদিত কর্মিদলকে অপরিহার্য করে তুলেছে। আন্তঃশাস্ত্রীয় দক্ষতাসম্পন্ন একটি পেশাদার কর্মীবাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এবং পরিবহণ অর্থনীতি ও আচরণগত বিজ্ঞানের সাথে ট্র্যাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে, ভারত তার নগর পরিবহণের খাপছাড়া ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে একটি সামগ্রিক, তথ্য-নির্ভর গতিশীল শাসনের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
সাধারণবাদী শাসনের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক নগর পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
ভারতের সাধারণবাদী আমলাতন্ত্র জাতি গঠনে সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে নগর গতিশীলতা যানবাহন চলাচল থেকে মানুষ চলাচলে রূপান্তরিত হয়েছে, যা একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত ও প্রযুক্তিগত ভাবে জটিল ক্ষেত্র। এই গতিশীলতার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখন তথ্য বিশ্লেষণ, মডেলিং, মাল্টিমোডাল স্কিম, উদ্ভাবনী গতিশীলতা সমাধান এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ জড়িত। কোনও নির্দিষ্ট খাতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা আগ্রহের অভাবে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে খণ্ডিত প্রকল্পগুলিতে সাময়িক সমাধান প্রয়োগ করা হয়েছে।
এর বিপরীতে, বিশ্বজুড়ে এক ঝলক নজর ফেরালে দেখা যায়, বিশেষায়িত পরিবহণ প্রতিষ্ঠানযুক্ত শহরগুলিতে উন্নত দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে, যা প্রতিটি পরিবহণ মাধ্যমের পরিকল্পনা, সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থায়নের জন্য দায়ী। এটি পরিবহণ পরিকল্পনাবিদ, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী এবং তথ্য বিশ্লেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পেশাদার কর্মিদল ব্যবহার করে, যেখানে কর্মজীবনে উন্নতির সুস্পষ্ট সুযোগ রয়েছে, যা মেধা ধরে রাখতে এবং নীতি নির্ধারণে সহায়তা করে।
বাস্তবে বেশির ভাগ ইউএমটিএ-ই দুর্বল উপদেষ্টা সংস্থা হিসেবেই রয়ে গিয়েছে, যেখানে পেশাদার কর্মী, বিধিবদ্ধ ক্ষমতা এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের অভাব রয়েছে। অনেক শহরে, পরিকল্পনা, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বা পরিষেবা সমন্বিতকরণের উপর সীমিত প্রভাব-সহ এগুলি কেবল কাগজে-কলমেই বিদ্যমান।
সিঙ্গাপুর এমন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে, যাঁরা ব্যবস্থার পরিকল্পনা, চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মীদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের উপর মনোযোগ দেন, যার ফলে মসৃণ বহুমুখী গণ পরিবহণ, বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী এবং চাহিদা-ভিত্তিক সর্বোত্তম মূল্য নির্ধারণ সম্ভব হয়। জার্মানির ভেরকেরস্বেরবুন্দে পরিবহণ পেশাদারদের একত্রিত করে পরিষেবা, শুল্ক এবং পরিবহণ পরিকল্পনা পরিচালনা করে, যা এমনকি একাধিক শহর অধ্যুষিত এলাকাতেও আন্তঃআঞ্চলিক শৃঙ্খলের একত্রীকরণকে সম্ভব করে তোলে।
এই উদাহরণগুলি ভারতের জন্য ভৌত অবকাঠামোর বাইরে গিয়ে কার্যকর নগর পরিবহণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং পেশাদার মানব পুঁজি বিকাশের মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করে।
নীতিগত উদ্দেশ্য থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা
বেশ কিছু নীতিগত উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও, ভারত নগর পরিবহণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরির সুযোগটি অনেকাংশেই হাতছাড়া করেছে। উদাহরণস্বরূপ, সমন্বিত মহানগর পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (ইউনিফায়েড মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা ইউএমটিএ) এবং জাতীয় নগর পরিবহণ নীতির (ন্যাশনাল আরবান ট্রান্সপোর্ট পলিসি বা এনইউটিপি) লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভাজন দূর করা এবং সমন্বয় বৃদ্ধি করা। কিন্তু বাস্তবে বেশির ভাগ ইউএমটিএ-ই দুর্বল উপদেষ্টা সংস্থা হিসেবেই রয়ে গিয়েছে, যেখানে পেশাদার কর্মী, বিধিবদ্ধ ক্ষমতা এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের অভাব রয়েছে। অনেক শহরে, পরিকল্পনা, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বা পরিষেবা সমন্বিতকরণের উপর সীমিত প্রভাব-সহ এগুলি কেবল কাগজে-কলমেই বিদ্যমান।
একটি নিবেদিত নগর পরিবহণ পরিষেবা কাঠামোর অনুপস্থিতি এই ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুর্বল বিশ্লেষণ, বহিরাগত পরামর্শদাতাদের উপর অযাচিত নির্ভরতা, জবাবদিহিতার অভাব ও ঘন ঘন প্রশাসনিক বদলির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির ক্রমাগত হ্রাস। ইউএমটিএ, মহানগর পরিকল্পনা কমিটি এবং রাজ্য পরিবহণ বিভাগগুলির মধ্যে একটি পেশাদার ও বিশেষজ্ঞ কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে তা ভারতীয় শহরগুলিতে নীতির সামঞ্জস্য, ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নের মান বৃদ্ধিতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
এই ধরনের একটি নিবেদিত কাঠামোকে অবশ্যই একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হতে হবে এবং তা কোনও অস্থায়ী প্রশাসনিক সমন্বয় নয়। একে অবশ্যই পরিবহণ পরিকল্পনা, প্রকৌশল, অর্থনীতি এবং নগর ব্যবস্থার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বিশেষ ভাবে পরিকল্পিত জাতীয় বা রাজ্য-স্তরের পরীক্ষার মাধ্যমে পেশাদারদের নিয়োগ করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য একে একটি সুগঠিত কর্মজীবনের অগ্রগতি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি আবার নগর চলাচলের জটিল, বহু ক্ষেত্রভিত্তিক চাহিদা মেটাতে ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা, সরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু নীতি, সড়ক নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি-সহ আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্রগুলিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
ইউএমটিএ, মহানগর পরিকল্পনা কমিটি এবং রাজ্য পরিবহণ বিভাগগুলির মধ্যে একটি পেশাদার ও বিশেষজ্ঞ কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে তা ভারতীয় শহরগুলিতে নীতির সামঞ্জস্য, ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নের মান বৃদ্ধিতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, এই কাঠামোটি শহর-কেন্দ্রিক হবে এবং তীব্র গতিশীলতার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মহানগর ও দশ লক্ষাধিক জনসংখ্যার শহরগুলিতে এদের মোতায়েন করা হবে। পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক জবাবদিহিতার ব্যবস্থা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেমন— পরিবহণ মাধ্যমের ব্যবহারে পরিবর্তন, নিরাপত্তার উন্নতি, নির্গমন হ্রাস এবং প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি। এই সুস্পষ্ট পদক্ষেপগুলি নিশ্চিত করবে যে, পেশাদার দক্ষতার ফলে বাস্তব জনকল্যাণই সাধিত হয়।
শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি বিশেষায়িত নগর পরিবহণ কাঠামো তৈরির বিষয়টি স্থায়িত্ব ও সামাজিক সমতার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। স্থায়িত্ব-ভিত্তিক পরিকল্পনায় প্রশিক্ষিত পরিবহণ পেশাদাররা গাড়ি-কেন্দ্রিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের চেয়ে গণ পরিবহণ , হাঁটা ও সাইকেল চালানো এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনার কৌশলের উপর বেশি জোর দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এই ধরনের পরিবর্তনই পরিবহণ-সম্পর্কিত নির্গমন হ্রাস, শহরের বায়ুর গুণমান উন্নত করা এবং ভারতকে তার জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়তা করার প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এর পাশাপাশি আবার পেশাদার পরিবহণ প্রশাসন পরিকল্পনা এবং পরিষেবা প্রদানে সমতার বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠীর জন্য বৃহত্তর প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে পারে। উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রমাণ-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ, ধারাবাহিক প্রয়োগ কৌশল এবং নিরাপদ সড়ক নকশাকে সম্ভব করে তোলার মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তার উন্নততর ফলাফলে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, যে ক্ষেত্রে বারবার নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ভারত এখনও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি।
উপসংহার
সামগ্রিক ভাবে, ভারতের নগর পরিবহণ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি আর্থিক বা নীতিগত সীমাবদ্ধতার চেয়ে বরং অপ্রতুল প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা এবং পেশাগত সক্ষমতা থেকেই বেশি উদ্ভূত। সুতরাং, একটি বিশেষায়িত নগর পরিবহণ ক্যাডার প্রতিষ্ঠা করা হলে তা প্রকল্প-নির্ভর পদ্ধতি থেকে ব্যবস্থা-ভিত্তিক শাসনের দিকে পরিবর্তনে সহায়তা করবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জ্ঞানের ধারাবাহিকতা এবং উদীয়মান গতিশীলতার চ্যালেঞ্জগুলির কার্যকর মোকাবিলাকে সক্ষম করে তুলবে।
নন্দন এইচ দাওড়া অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আরবান স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Nandan H Dawda is a Fellow with the Urban Studies programme at the Observer Research Foundation. He has a bachelor's degree in Civil Engineering and ...
Read More +