Author : Harsh V. Pant

Published on May 28, 2026 Updated 0 Hours ago

ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিদ্বন্দ্বীসুলভ হিসাব-নিকাশ এই জোটের সীমাবদ্ধতাগুলিকেই নগ্নভাবে প্রকাশ করে দেয়।

ব্রিকস-এর চ্যালেঞ্জ এবং ভারতের পন্থা

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকটি এক তীব্র ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুহূর্তে সম্প্রসারিত ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলিকে উন্মোচিত করেছে। "স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ" — এই প্রতিপাদ্যের অধীনে আয়োজিত এই বৈঠকটির উদ্দেশ্য ছিল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ব্রিকস নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের আগে গতিকে সুসংহত করা। কিন্তু এর পরিবর্তে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এই সমাবেশটিকে এমন এক কৌশলগত ফাটলের প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে রূপান্তরিত করেছে, যা জোটটিকে ক্রমশই অন্য রূপ দিচ্ছে।

এই বিভাজনগুলির সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের একমত হতে না পারা। এর পরিবর্তে একটি সভাপতির বিবৃতি এবং ফলাফল-সংক্রান্ত নথি প্রকাশিত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে অমীমাংসিত মতবিরোধগুলিকে সতর্কভাবে এড়িয়ে গিয়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারের বিষয়ে ঐকমত্যকে প্রতিফলিত করে। একটি ঐক্যবদ্ধ ঘোষণার অনুপস্থিতি কেবল পদ্ধতিগত ছিল না; এটি ব্রিকস সদস্য দেশগুলি কীভাবে নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক শৃঙ্খলা এবং পশ্চিমীদের সঙ্গে সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করে, সেই বিষয়ে ক্রমবর্ধমান ভিন্নতাকে তুলে ধরে।

ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সংঘাত

সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পথের, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে, সুরক্ষার উপর জোর দেওয়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যেকার অন্তর্নিহিত উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে, যাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সরাসরি বিপদের মুখে পড়েছে। এই মতবিরোধের কেন্দ্রে ছিল ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (‌ইউএই)‌, যাদের প্রতিদ্বন্দ্বীসুলভ আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ ব্রিকস-এর সংহতির সীমাবদ্ধতাকে সুস্পষ্ট করে তুলেছিল। ইরান এই মঞ্চকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় করার জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছিল, এবং এই সংঘাতকে ব্রিকস-এর কোনও সদস্যের সার্বভৌমত্বের উপর এবং ফলস্বরূপ বৃহত্তর অ-পশ্চিমী ব্যবস্থার উপর আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। তেহরান যাকে ‘‌অবৈধ আগ্রাসন’‌ বলে বর্ণনা করেছে তার সুস্পষ্ট নিন্দা জানানোর জন্য চাপ দেয়, এবং ব্রিকসকে পশ্চিমী কৌশলগত চাপের একটি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে।

আলোচনার সময় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংঘাতমূলক সুর গ্রহণ করেন। তিনি ইরানকে ‘‌অবৈধ সম্প্রসারণবাদ ও যুদ্ধবাজির শিকার’‌ হিসেবে বর্ণনা করেন, এবং ব্রিকসকে ‘‌পশ্চিমী আধিপত্য ও দায়মুক্তির সেই অনুভূতি, যা যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রাপ্য বলে মনে করে’‌ তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান। আরও জোরালো সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়ে আরাঘচি ঘোষণা করেন: "তাই ইরান ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকল দায়িত্বশীল সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট নিন্দা করতে আহ্বান জানাচ্ছে।" তাঁর এই মন্তব্য ব্রিকসকে একটি উন্নয়নমূলক জোট থেকে আরও প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও পশ্চিমী-বিরোধী মঞ্চে রূপান্তরিত করার তেহরানের বৃহত্তর প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।

তবে, ইউএই এই সংকটকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। আবুধাবি এই উত্তেজনা বৃদ্ধিকে পশ্চিমী-বিরোধী প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি পরিকাঠামো, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। উত্তেজনা বিশেষভাবে প্রকট হয়ে ওঠে যখন আরাঘচি পরে ইউএই-‌কে ‘‌আমার দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সরাসরি জড়িত’‌ বলে অভিযুক্ত করেন, যা ব্রিকস-এর এই দুই সদস্যের মধ্যেকার অবিশ্বাসের গভীরতাকে আরও উন্মোচিত করে।

ইউএই এবং উপসাগর-কেন্দ্রিক আরও কয়েকটি পক্ষের জন্য, এই তীব্র সংঘাত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা উভয়কেই বিপদের মুখে ফেলেছিল। এই মতপার্থক্য ঐকমত্যকে কার্যত অসম্ভব করে তুলেছিল, এবং দেখিয়ে দিয়েছিল যে কীভাবে ব্রিকস-এর সম্প্রসারণ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সরাসরি সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ গতিপ্রকৃতিতে নিয়ে এসেছে।

একটি কাঠামোগত চ্যুতিরেখা

ইরান-ইউএই বিভেদ ব্রিকস-এর সম্প্রসারণের মধ্যেকার একটি গভীরতর কাঠামোগত দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছিল। এই জোটটি নিজেকে গ্লোবাল সাউথের প্রাতিষ্ঠানিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে, অথচ এর অনেক সদস্যই আঞ্চলিক প্রতিযোগী, যাদের মধ্যে হুমকির বিষয়ে ধারণা পরস্পরবিরোধী এবং ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারগুলি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একই ফোরামে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বীদের অন্তর্ভুক্তি এই দ্বন্দ্বগুলিকে প্রশমিত করার পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরান ব্রিকসকে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে দেখত, যা পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে বৈধতা দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, ইউএই নিজেকে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি বিশ্বব্যাপী সমন্বিত বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা পশ্চিমী এবং আঞ্চলিক উভয় পক্ষের সঙ্গেই স্থিতিশীল সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। এই প্রতিদ্বন্দ্বী দৃষ্টিভঙ্গিগুলি ব্রিকসের অভ্যন্তরেই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে মৌলিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন ধারণাকে প্রতিফলিত করে।

এই বৈঠক থেকে এটাও প্রকাশ পেয়েছে যে, ব্রিকস ধীরে ধীরে একটি অর্থনৈতিক সমন্বয়ের মঞ্চ থেকে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে রূপান্তরিত হচ্ছে। জোটটির পূর্ববর্তী সংস্করণগুলি বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির কণ্ঠস্বর তুলে ধরার মতো বিষয়গুলিতে তুলনামূলকভাবে ব্যাপক ঐকমত্য থেকে লাভবান হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রসারিত ব্রিকসে এখন এমন সব রাষ্ট্র রয়েছে যাদের মধ্যে সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অভিন্ন প্রভাব ক্ষেত্র এবং সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন বিদেশনীতিগত উদ্দেশ্য আছে।

এই সমাবেশকে সম্মিলিত প্রতিরোধের একটি মঞ্চে রূপান্তরিত করার জন্য ইরানের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত আংশিক সাফল্যই পেয়েছে। যদিও সদস্য দেশগুলি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংলাপের ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বানকে সমর্থন করেছে, বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র এমন ভাষা ব্যবহারে আপত্তি করেছে যা ইরানের সংঘাতমূলক মনোভাবের প্রতি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এই অনিচ্ছা শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের সংবেদনশীলতাই নয়, বরং সংগঠনটিকে একটি সুস্পষ্টভাবে পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত করার বিষয়ে ব্রিকসের অনেক সদস্যের মধ্যেকার ব্যাপক দ্বিধাকেও প্রতিফলিত করে।

এই ঘটনাটি ব্রিকস সম্প্রসারণের স্ববিরোধিতাকে আরও স্পষ্ট করেছে: সম্প্রসারণ জোটটির বৈশ্বিক পরিচিতি ও জনসংখ্যার গুরুত্ব বাড়িয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংহতিকেও দুর্বল করে দিয়েছে। ভিন্ন আঞ্চলিক অ্যাজেন্ডা আছে এমন রাষ্ট্রগুলির অন্তর্ভুক্তি প্রতিনিধিত্বমূলক বৈধতা বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি বড় আন্তর্জাতিক সংকটগুলিতে ঐকমত্য গঠনকেও জটিল করে তোলে। ব্রিকস তার ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রসারিত করার সাথে সাথে এই সব দ্বন্দ্ব আরও ঘন ঘন দেখা দেওয়ার এবং সেগুলির মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত তবুও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিল

তবে, অনেক দিক থেকেই ভারত দেখিয়েছে যে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কার্যকর নেতৃত্ব বিভাজন বাড়ানোর মধ্যে নয়, বরং সেগুলিকে দায়িত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করার মধ্যেই নিহিত। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সংলাপ বজায় রেখে, প্রাতিষ্ঠানিক গতি ধরে রেখে, এবং অভিন্ন উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে ভারত একটি স্থিতিশীল শক্তি এবং গ্লোবাল সাউথের একটি দায়িত্বশীল কণ্ঠস্বর হিসেবে তার ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করেছে। নয়াদিল্লি জোটের মনোযোগ প্রতিক্রিয়ানির্ভর ভূ-রাজনীতি থেকে সরিয়ে উন্নয়ন, স্থিতিস্থাপকতা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে কেন্দ্র করে গঠনমূলক অ্যাজেন্ডা নির্ধারণের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বৈশ্বিক শাসন কাঠামোতে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের জন্য তার প্রচেষ্টা ভারতের দীর্ঘদিনের এই যুক্তিকেই শক্তিশালী করেছে যে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি আর সমসাময়িক ক্ষমতার বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।

ব্রিকস যখন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শীর্ষ সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন নয়াদিল্লিতে যে ধরনের উত্তেজনা দেখা গেল তা দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ভারতের সভাপতিত্ব অন্তত এটা নিশ্চিত করেছে যে, জোটটি পুরোপুরি ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনে নিমজ্জিত না হয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার উপর ভিত্তি করে টিকে থাকবে। সম্ভবত এটাই এই সংকটময় মুহূর্তে ব্রিকসের প্রতি নয়াদিল্লির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে প্রমাণিত হতে পারে।



এই ভাষ্যটি প্রথম এনডিটিভি-তে প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...

Read More +