Author : Vivek Mishra

Published on Mar 12, 2026 Updated 6 Days ago
ইরানের উপর ট্রাম্পের আক্রমণের পেছনে 'বিগ মানি'

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যখন ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ শুরু করে, তখন কৌশলগত যুক্তি ছিল সামনে এবং কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না, এই দাবি তেল আভিভের অস্তিত্বগত দাবি হিসেবে রয়ে গিয়েছে, এবং তা ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আধিপত্যের প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের জেসিপিওএ থেকে প্রত্যাহার, যার ফলে ইরান আইএইএ-কে তার পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে বাধা দেয়, তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের দিকে একটি মোড় ছিল। এই পরিবর্তনের বিন্দুটি ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণ, এবং যাতে এটিকে ইহুদি-ইসলামবাদী যুদ্ধে পরিণত করা যায় সেই লক্ষ্যে ইরানের নির্লজ্জভাবে আঞ্চলিক প্রক্সিদের প্রতি পক্ষপাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া নিখুঁত আঞ্চলিক ঝড়ের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল।

শুধুই 'স্থিতিশীলতা' হতে পারে না

এই সমস্ত কিছুর মধ্যে, ট্রাম্প প্রশাসন তার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করে এই অঞ্চলে নিজস্ব স্বার্থ অনুসন্ধান করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি কোনও অর্থনৈতিক স্বার্থ না থাকলে শুধু কৌশলগত লক্ষ্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য যথেষ্ট প্ররোচনা হতে পারত না, কারণ এই প্রশাসনের দৃষ্টি প্রকাশ্যে অর্থনৈতিক সুবিধার উপর নিবদ্ধ। তা ছাড়া, ইরানে সামরিক অভিযান — যা নিশ্চিতভাবেই দীর্ঘস্থায়ী — ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত প্রস্তাব, যিনি বলতেন তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করেন না, বরং তা থামিয়ে দেন। তবুও, ট্রাম্প প্রশাসন যে ইরানের বিরুদ্ধে সাহসী কিন্তু অপ্রত্যাশিত সম্ভাবনাগুলির দিকে এগিয়ে গিয়েছে, তা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তার বিদ্যমান কৌশলগত যুক্তিকে পরিচালিত করার পিছনে অর্থনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। বিশেষভাবে এর কারণ ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সি এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক যুক্তির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ, এবং সাধারণ কারণ হল এই অঞ্চলে ইরানের প্রক্সিরা, যারা তার স্তরযুক্ত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করেছিল, তারা অক্ষম এবং তাদের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে রয়েছে।


ইরানে সামরিক অভিযান — যা নিশ্চিতভাবেই দীর্ঘস্থায়ী — ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত প্রস্তাব, যিনি বলতেন তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করেন না, বরং তা থামিয়ে দেন।



মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ বছরের পর বছর ধরে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি আমেরিকা এই অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানিকারী দেশ থেকে ক্রমশ বিশ্বের কাছে একটি নেট জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ হয়ে উঠেছে। অতএব, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের অগ্রভাগে রয়েছে ইজরায়েলের সঙ্গে তার জোট। এই অঞ্চলে ইজরায়েল হল এখনও একমাত্র দেশ যার উপর সত্যিকার অর্থে আমেরিকা নির্ভর করতে পারে, যদিও এর সামরিক উপস্থিতি অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবুও, মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান বাজি মূলত অর্থনৈতিক। ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদ থেকে যে মূল বিষয়গুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, তার মধ্যে একটি হল আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইজরায়েল এবং অন্য অংশীদারদের মধ্যে আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণের প্রশ্ন, যার উপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক অর্থনীতির বৃহত্তর নেটওয়ার্ক  তৈরি করা যেতে পারে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বাস্তবায়নকারী হিসেবে এসেছিল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছিল এই অঞ্চলের বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি, এবং ভারত ছিল এমন একটি খেলোয়াড় যারা এই অঞ্চলে সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল, এবং অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অঞ্চল ইন্দো-প্যাসিফিক-‌এর প্রতিনিধিত্ব করেছিল।

ট্রাম্পের কাজে বাধা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার ফলে এই লক্ষ্যগুলি ব্যাহত হয়েছিল, যা এই অঞ্চলকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়। অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পর বাইডেন প্রশাসনের প্রচেষ্টা এই অঞ্চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা বা অবহেলার পরিবর্তে সুযোগ সমন্বিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। এইভাবে, তাঁর প্রশাসনের অধীনেই ভারত, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৪ জুলাই, ২০২২ তারিখে আইটুইউটু গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার জন্য নেতাদের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করে। পরের বছর, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় কমিশনের নেতাদের মধ্যে নয়াদিল্লিতে একটি বৈঠকের পর আরেকটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইইসি) ঘোষণা করা হয়। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে এই অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলি প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের প্রচেষ্টার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, যা দ্রুত পরিবর্তিত মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে চলেছিল, ঠিক যেমন পরিবর্তিত হচ্ছিল মার্কিন স্বার্থ। শুধুমাত্র আইএমইইসি ইউরোপ থেকে এশিয়ায় ট্রান্সশিপমেন্টের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে এবং এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যে বার্ষিক ৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ৩ 'পেগ'

ইউরোপে যুদ্ধের পর দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসে, এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়। কিন্তু তাঁর প্রেসিডেন্সি একটি বর্ধিত অর্থনৈতিক যুক্তি গ্রহণ করে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে তিনটি খুঁটির উপর স্থাপন করে: প্রথমত, অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে যদি এমন কোনও সময় এসে থাকে যখন আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাহ্যিকভাবে প্ররোচিত করা যেতে পারে, সেই সময়টি এখনই ছিল; দ্বিতীয়ত, আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থের বেশিরভাগই — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ট্রাম্প মার্কিন দেশে তেল ও গ্যাস খনন পুনরায় শুরু করার পর ইন্দো-প্যাসিফিক দেশগুলিতে শক্তি সরবরাহের ইচ্ছা — মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর নির্ভরশীল। এই ক্ষেত্রে, ট্রাম্পের শান্তি প্রকল্পে, আমেরিকা ইরানকে বাইরের শক্তি হিসেবে দেখেছিল। বর্তমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও, এবং আবুধাবিতে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব কম মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও, ইরান যে এই দুই দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলিকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে তা কোনও আশ্চর্যের বিষয় নয়। এই অঞ্চলে আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভাবমূর্তির উপর একটি ভয়াবহ আঘাত কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বাজির ক্ষেত্রে একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে।

 বোর্ড অফ পিস প্রকল্প

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় শুরুতেই অনেক শর্ত ছিল। গাজা পুনর্গঠন এবং যুদ্ধোত্তর শাসনব্যবস্থার জন্য বোর্ড অফ পিস প্রকল্পটি মূলত অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ খেলোয়াড়দের একটু দূরে অপেক্ষা করতে দেখেছে। এটি ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ বৃত্তের জন্য  — জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ — প্রকল্পটিতে হাত দেওয়ার দরজা খুলে দিয়েছে, যদিও আর্থিক, সময়সীমা এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ম্যান্ডেট সম্পর্কে কোনও স্পষ্টতা নেই। বর্তমানে, নয়টি সদস্যের কাছ থেকে প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি। এটি গাজা পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের অনুমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে, এর অর্থনৈতিক নকশায় আমেরিকার বৃহৎ ব্যবসা এবং গাজার জন্য একটি মুক্ত-বাজার পরিকল্পনা কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে।


গাজা পুনর্গঠন এবং যুদ্ধোত্তর শাসনব্যবস্থার জন্য বোর্ড অফ পিস প্রকল্পটি মূলত অর্থনৈতিকভাবে ফলপ্রসূ খেলোয়াড়দের একটু দূরে অপেক্ষা করতে দেখেছে।



দ্বিতীয়ত, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প আব্রাহাম চুক্তি যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন তা থেকে উঠে আসা আসা আইটুইউটু এবং আইএমইইসি-কে বেছে নেওয়ার বিষয়টি সব সময়ই ট্রাম্পের মাথায় ছিল, কিন্তু আঞ্চলিক পরিবর্তন সব সময়ই বেশি প্রভাব ফেলে। শেষ পর্যন্ত, মধ্যপ্রাচ্যে "স্থিতিশীলতা" আনার জন্য ট্রাম্পের জরুরি প্রচেষ্টা দুটি শক্তিশালী কারণের দ্বারা চালিত হতে পারে: এই অঞ্চলটিকে — বিশেষ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে — সেমিকন্ডাক্টর এবং এআই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রযুক্তি কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য তাঁর বাজি, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করা। এই অঞ্চলে আমেরিকার জ্বালানি সরবরাহ বাড়ছে, এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার জুয়া তাঁর জ্বালানির খেলাকে উন্নত করার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হচ্ছে।

যাই হোক, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, এবং যদি এটি দামকে ১০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি করে তোলে, তবে এটি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিতে কমপক্ষে অর্ধ শতাংশ পয়েন্ট যোগ করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য, যারা দেশে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে, সময়ই হল মূল বিষয়। এই প্রকল্পগুলি, যদি মধ্যপ্রাচ্যে সফল হয়, তাহলে এই অঞ্চলে এবং বিশেষ করে ইজরায়েলে মার্কিন সাহায্যের প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। কিছু অনুমান অনুসারে ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সাল থেকে ইজরায়েলে আমেরিকার সাহায্য ১৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা অভ্যন্তরীণভাবে যে কোনও প্রশাসনের জন্য এর পক্ষে যুক্তি সাজানো কঠিন করে তোলে। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক জুয়া এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সাহায্যের প্রবাহ পরিবর্তন করে অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য লাভ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

এই সব কিছুই শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভর করে;‌ কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি কখনওই বৃহৎ শক্তির প্রয়াসের মাধ্যমে আসেনি।



এই ভাষ্যটি প্রথম এনডিটিভি-‌তে প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.