যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতির মোকাবিলায় একটি অভিযোজনক্ষম সামরিক বাহিনী প্রয়োজন
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের ফলে ভারত তার প্রতিপক্ষদের কাছ থেকে সব ক্ষেত্রে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ড্রোন এবং সাশ্রয়ী নির্ভুল অস্ত্রশস্ত্র সামরিক শক্তির ব্যয় কমিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অভিযানের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। দ্বিমুখী বিপদের এই প্রেক্ষাপটে ভারত তার কাঠামো, মতবাদ, প্রযুক্তি, বাহিনীর বিন্যাস, পেশাদার সামরিক শিক্ষা এবং সামরিক প্রস্তুতিকে নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। তবে, যৌথ সক্ষমতা তৈরির পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলি থেকে সীমিত সাফল্যই পাওয়া গিয়েছে। এখন সংস্কারগুলিকে এমন গতি ও পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে যা সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানগত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
‘সমন্বয়’ থেকে ‘কমান্ড’-এর দিকে
সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘সংস্কারের বছর – ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর’ শীর্ষক সম্মিলিত কমান্ডার সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন বাহিনীর পৃথক কাঠামো থেকে সমন্বিত থিয়েটার কমান্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার উপর জোর দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আন্তঃবাহিনী সংস্থা (কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০২৫-এর মতো কাঠামোগত, প্রশাসনিক এবং অপারেশনাল বিষয়গুলি পর্যালোচনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যেখানে সংস্থাগুলির কমান্ডারদের সমন্বিত অভিযানে যৌথতা নিশ্চিত করার জন্য শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে, এই পদক্ষেপগুলিকে অবশ্যই বাস্তব মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। মোদী যৌথতাকে একটি অগ্রাধিকার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার এক দশক পর ভারতীয় সামরিক বাহিনী এখন যৌথ পেশাগত সামরিক প্রশিক্ষণে (পিএমই) উপনীত হয়েছে, যা এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে অগ্রগতি আজকের প্রয়োজনের তুলনায় আনুপাতিক নয়।
সম্প্রতি ভারতের উভচর অভিযানের জন্য যৌথ মতবাদের প্রকাশনাতেও সামুদ্রিক, বিমান এবং স্থল বাহিনীকে একত্রিত করে উভচর অভিযানের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই হেডকোয়ার্টার্স ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (এইচকিউ আইডিএস)-এর অধীনে সাইবার, মহাকাশ এবং বিশেষ অভিযানের জন্য ত্রি-বাহিনী সংস্থা গঠন করেছে। ‘রুদ্র’ ও ‘ভৈরব’-এর মতো নতুন যুদ্ধ ইউনিটগুলি পদাতিক, গোলন্দাজ, সাঁজোয়া, বিমান প্রতিরক্ষা, প্রকৌশলী এবং নজরদারি উপাদানগুলিকে একত্রিত করে মডিউলার, মিশন-নির্দিষ্ট যুদ্ধগোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এগুলি বিশেষ করে অস্থির সীমান্ত (চিন ও পাকিস্তান) বরাবর দ্রুততর প্রতিক্রিয়া এবং আরও নমনীয় অভিযানগত মোতায়েন সম্ভব করে তোলে।
সম্প্রতি ভারতের উভচর অভিযানের জন্য যৌথ মতবাদের প্রকাশনাতেও সামুদ্রিক, বিমান এবং স্থল বাহিনীকে একত্রিত করে উভচর অভিযানের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে, বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক বাহিনী দ্বারা অনুধাবন করা থিয়েটারাইজেশন এখনও ভারতীয় প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক করা হয়নি। চিন বহু বছর ধরে সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড-এর বাস্তবায়ন করেছে। ভারতীয় থিয়েটারাইজেশন অবশ্যই দেশীয় নকশার হতে হবে। এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখনও পর্যন্ত সমস্ত বাহিনীর যৌথতা পরীক্ষা করা হয়নি। যদিও অপারেশন সিন্দুর ছিল শক্তির একটি প্রদর্শন, তবে সেই সংঘাত মূলত আকাশপথে হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ সংহতকরণের জন্য যৌথতার প্রয়োজন হয়নি।
যুদ্ধের জন্য মতবাদ এবং প্রযুক্তির বিবর্তন
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ মতবাদ (২০১৭) এবং সেনাবাহিনীর স্থল যুদ্ধ মতবাদ (২০১৮) সমন্বয় ও যৌথতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক রণ সংবাদ (যুদ্ধ, যুদ্ধকৌশল এবং যুদ্ধ পরিচালনার উপর প্রথম ত্রি-পরিষেবা সেমিনার) ভবিষ্যৎ হাইব্রিড যোদ্ধাদের (পণ্ডিত, প্রযুক্তি এবং তথ্য যোদ্ধা) প্রস্তুত করার বিষয়ে আলোচনা করেছে, যারা প্রতিপক্ষকে বুঝতে পারবে, সমাধানের জন্য কোড তৈরি করতে পারবে এবং আখ্যানকে রূপ দিতে পারবে। পরিবর্তনশীল সময়ে, মতবাদের বিবর্তনে অবশ্যই এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলি শুরু থেকেই বহুক্ষেত্রীয় হবে, যেখানে প্রচলিত অস্ত্রের শক্তির মতোই গতি এবং তথ্য নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল ।
এমকিউ-৯বি ড্রোনগুলি স্থল ও সমুদ্রজুড়ে অবিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার (আইএসআর) এবং নির্ভুল আক্রমণের সক্ষমতাকে আরও গভীর করে।
সাম্প্রতিক সংগ্রহগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরবচ্ছিন্ন যৌথতা তৈরির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমকিউ-৯বি ড্রোনগুলি স্থল ও সমুদ্রজুড়ে অবিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার (আইএসআর) এবং নির্ভুল আক্রমণের সক্ষমতাকে আরও গভীর করে। এই চুক্তিটি তিন বাহিনীর সমন্বিত ব্যবহারকে শক্তিশালী করে। নৌবাহিনীর রাফাল-এম অর্ডারটি বিমানবাহী রণতরীভিত্তিক বিমান চালনাকে স্থিতিশীল করে এবং সামুদ্রিক আক্রমণ ও নৌবহরের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য নতুন বিকল্প উন্মুক্ত করে। সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সক্ষম, স্বয়ংক্রিয় কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক 'আকাশতীর'-কে বিমানবাহিনীর ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (আইএসিসিএস) সঙ্গে একীভূত করা হচ্ছে। এটি যৌথতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
একটি আধুনিক বাহিনী তৈরি করা
সেনাবাহিনীর ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপগুলি সর্বাঙ্গীণ যুদ্ধ সক্ষমতাসম্পন্ন ব্রিগেড ('রুদ্র') হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যা নির্দিষ্ট সংঘাতপূর্ণ এলাকার জন্য উপযোগী সাঁজোয়া যান, পদাতিক বাহিনী, কামান, প্রকৌশলী, লয়টারিং মিউনিশন এবং ড্রোনসহ ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মোতায়েনের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন যৌথ প্রশিক্ষণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ফায়ার পাওয়ার-সহ এই ব্রিগেডগুলিকে কার্যকর রূপে পরিণত করার জন্য গতি সঞ্চার করা প্রয়োজন। প্রলয় কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি জুলাই ২০২৫ সালে পরপর ব্যবহারকারী পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যা স্থলভিত্তিক থিয়েটার ফায়ারকে শক্তিশালী করেছে। সমুদ্রে একটি বিমানবাহী রণতরী-কেন্দ্রিক সামুদ্রিক কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। রাফাল-এম স্বল্পমেয়াদি বিমান বহরকে সহায়তা করছে; অন্যদিকে নৌবাহিনী বিমান, ডুবোজাহাজ এবং চালকবিহীন ব্যবস্থার বিকাশের জন্য একটি ১৫-বছরের সক্ষমতা রোডম্যাপ তৈরি করছে।
ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ হল সামরিক শক্তির কেন্দ্রে একীকরণ এবং শিক্ষাকে স্থাপন করা। এর অর্থ হল একটি স্থিতিশীল এবং কার্যকর যৌথ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যা সাধারণ ডেটা এবং ইন্টারফেস মান নির্ধারণ করবে। আন্তঃবাহিনী মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, থিয়েটার কমান্ডগুলো সক্রিয় করা উচিত, সম্ভবত প্রাথমিক ম্যান্ডেটসহ এবং সময়ের সাথে সাথে তাদের ক্ষমতা মূল্যায়ন করে তা প্রসারিত করা উচিত। পেশাদার সামরিক শিক্ষাকে অবশ্যই প্রযুক্তিবিদ-কমান্ডারদের একটি ক্যাডার তৈরি করতে হবে, যাঁরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন প্রতিটি ফিল্ড অনুশীলনে যেখানে ব্যর্থতাকে পাঠ সংশোধনীর মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে। একে কার্যকর করার জন্য প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলি, বেসরকারি শিল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে বেসামরিক-সামরিক সংমিশ্রণ অপরিহার্য, যেখানে কোড, ডেটা, পরীক্ষার পরিসীমা এবং দ্রুত প্রোটোটাইপিং পেশাদার সামরিক শিক্ষা ও অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। একটি শক্তিশালী শিল্প কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা ভিত্তি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত দ্রুত এবং বারবার পরীক্ষার মাধ্যমে, যা কার্যকর পদ্ধতিগুলোকে ধরে রাখবে এবং পুরনো পদ্ধতিগুলোকে বাদ দেবে। যেখানে পরিবর্তন যুদ্ধক্ষেত্রের গতিপ্রকৃতি বদলে দেয়, সেখানে শুধু একটি অভিযোজনক্ষম সামরিক বাহিনীই এগিয়ে যেতে পারে।
এই ভাষ্যটি প্রথম 'দ্য হিন্দু ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...
Read More +
Ankit K is New Delhi-based analyst who specialises in the intersection of Warfare and Strategy. He has formerly worked with a Ministry of Home Affairs ...
Read More +