Author : Samir Saran

Published on Dec 29, 2025 Updated 0 Hours ago

ভবিষ্যৎ তাদেরই, যারা সবচেয়ে ভাল ভাবে বোঝে যে, এই সময়ে সমৃদ্ধি, প্রভাব এবং সুস্থতা চাবিকাঠি হল যত্ন এবং শিকড়ের টান

যত্নের অর্থনীতি

যে কোন যুগের একটি অন্তর্নিহিত সুর থাকে, যা নির্ধারণ করে যে, ক্ষমতা কী ভাবে বণ্টন করা হয়, অংশীদারিত্ব কী ভাবে তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কী ভাবে পরিচালিত হয়। সুদূর অতীতে এটি ছিল উর্বর ভূমি সংক্রান্ততার পর আসে খনিজ সম্পদের প্রাধান্য। অতি সম্প্রতি জনসংখ্যা, উদ্ভাবন বা সৃজনশীলতা সেই অতুলনীয় প্রসঙ্গ হয়ে উঠেছে, যা জাতীয় উদ্দেশ্য বৈশ্বিক শক্তির ক্ষমতাকে নির্ধারণ করে।

প্রাচীন ব্যবস্থা নিজেদের প্রতিস্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন অর্থনৈতিক রূপের আবির্ভাব ঘটেছেতথ্য যুগের উত্থান তথ্য অর্থনীতি মনোযোগ-কেন্দ্রিক অর্থনীতির জন্ম দিয়েছে। আজকের বিশ্বে – যা কিনা দ্বিধাবিভক্ত, বিভক্ত, পরমাণুবাদী – আর কটি শব্দবন্ধকেও আমাদের বিবেচনা করা উচিত: তা হল অ্যাফেকশন ইকোনমি বা যত্নের অর্থনীতি।

আজকের সাফল্য - বাণিজ্যে, উদ্ভাবনে, মূল্য সৃষ্টিতে - নির্ভর করে কেউ কতটা দক্ষতা সহকারে একটি সম্প্রদায়কে পরিচালনা করেন, কতটা কার্যকর ভাবে নিজের আত্মীয়তা মনোভাবকে জাগিয়ে তোলেন, কতটা যত্ন সহকারে নিজের দলগুলিকে লালন করেন। দল, আত্মীয়তা, সম্প্রদায়: এই সব কিছুই সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তি।

আমরা ইতিমধ্যেই এই বোঝাপড়ার ঝলক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত, বাস্তববাদী ক্ষেত্রগুলিতেও ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। সর্বোপরি, আমরা যখন সম মনোভাবাপন্নদেশের কথা বলি, তখন আমরা ঠিক কী বোঝাতে চাই? একই মনোভাব অভিন্ন সাধারণ প্রসঙ্গের জন্ম দেয়। এটি একটি সাধারণ উদ্দেশ্য তৈরি করে এবং একটি সাধারণ দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করে। এর অর্থ হল আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বর্তমানে যে ধরনের অস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করছেন, তার মধ্যেও আস্থা ঠিক টিকে থাকে।

ভিসা দৃশ্যত বাণিজ্যিক কারণে দেওয়া হয়, কিন্তু আসলে যত্নের একটি সোনালি পরত তৈরি করার জন্য এমনটা করা হয়

যত্ন অর্থনীতির কর্পোরেট জগতেও দৃশ্যমান প্রভাব রয়েছে। সংস্থা এবং দেশ উভয়ই সামান্য যত্নের জন্য প্রতিযোগিতা করে; তারা সহানুভূতিশীল সম্পৃক্ততা এবং যত্নের প্রতি নিবেদনের মাধ্যমে তাদের পদচিহ্ন প্রসারিত করে।

দুবাইয়ের মতো স্মার্টতম স্থানগুলি বিশেষ সম্প্রদায়গুলিকে ঘিরে সম্পূর্ণ জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এবং বৃদ্ধির নীতি তৈরি করেছে। ভিসা দৃশ্যত বাণিজ্যিক কারণে দেওয়া হয়, কিন্তু আসলে যত্নের একটি সোনালি পরত তৈরি করার জন্য এমনটা করা হয়তাদের জাতীয় নীতির উদ্দেশ্য হল মানুষের দুবাইকে আলিঙ্গন করা। দুবাইকে ভালবাসুন, দুবাইয়ে ছুটে আসুন, দুবাইয়ের জিনিস কিনুন, দুবাইয়ের মতো জীবন যাপন করুন।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও নিখুঁত উদাহরণ হতে পারে, তবে এটি একমাত্র উদাহরণ নয়। অন্যান্য দেশ আগ্রহের সম্প্রদায়গুলিকে ঘিরে নরম শক্তি কৌশল তৈরি করছে বা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে। এর মধ্যে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড অন্যতম এবং অবশ্যই সিঙ্গাপুরকে ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া যায় না

সংস্থাগুলি একই পথে হাঁটছে। ভারতে ধীরুভাই আম্বানি যে অংশীদারি পুঁজিবাদকে লালন করেছিলেন - রিলায়েন্স এন্টারপ্রাইজের হাজার হাজার সহ-মালিক দিয়ে স্টেডিয়ামগুলি পূরণ করেছিলেন – এমনই একটি উপমা প্রদান করে। এটি আজও সংস্থার চিন্তাভাবনার সঙ্গেই মিশে যায়, ডেটা ইক্যুইটি সম্প্রদায় ইক্যুইটি সম্প্রদায়কে সফল করে এবং ব্রডব্যান্ডের মতো বিষয় সামাজিক পিরামিডের নিচের তলা অবধি পৌঁছে দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ উদাহরণ। অ্যাপলের মতো সংস্থাগুলি এই ভিত্তির উপর নির্ভর করে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন এবং ভোগ শৃঙ্খল তৈরি করেছে, যা অনুপ্রেরণা নিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার মূলত মার্কিন বেসরকারি খাতকে যত্ন অর্থনীতি পরিচালনা করতে দিয়েছে।

এই সঞ্চিত যত্ন মূলধনের দরুনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এত দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছেন। আজ দেশ এবং সংস্থাগুলিকে যা অনন্য করে তোলে তা হল, তারা কী ভাবে শৃঙ্খলগুলি পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে নেওয়া হয়েছে যে, চিনের নরম শক্তির অভাব ছিল, এটিকে সম্মান করা হত কিন্তু তাকে ভালবাস না। একবিংশ শতাব্দীতে চিন তার উত্থানের ক্ষেত্রে একটি কঠিন সীমা স্থাপন করেছিল।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনও কঠিন সীমা ছিল না, যতক্ষণ না তারা নিজের জন্য তেমনটা তৈরি করেছিল

যত্ন অর্থনীতি কী ভাবে প্রাধান্য পেয়েছে? ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সমতলকরণের সঙ্গে এর সংযোগ স্পষ্ট। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাড়া, প্রতিবেশ, কর্মক্ষেত্রে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক সংযোগগুলি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে এবং সেই জায়গা অধিকার করছে অনলাইনে তৈরি করা বিচ্ছুরিত, বিচ্ছিন্ন এবং সূক্ষ্ম বন্ধন

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট পুটনাম ১৯৯০-এর দশকে সামাজিক পুঁজির একটি তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন, যা ব্যাখ্যা করেছিল যে ব্যক্তি সঙ্গে ব্যক্তি সংযোগ আধুনিক আমেরিকার ভিত্তি কী ভাবে তৈরি করেছিল।

কিন্তু এই পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিত্বায়ন দশকের পর দশক ধরে চলমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট পুটনাম ১৯৯০-এর দশকে সামাজিক পুঁজির একটি তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন, যা ব্যাখ্যা করেছিল যে ব্যক্তি সঙ্গে ব্যক্তি সংযোগ আধুনিক আমেরিকার ভিত্তি কী ভাবে তৈরি করেছিল। তাঁ বোলিং অ্যালোন বইয়ে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এই সামাজিক পুঁজি হ্রাস পাচ্ছে এবং সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে নাগরিক চেতনাকে এটি সমস্যার সৃষ্টি করবে কারণ সম্প্রদায়ই সাফল্যের প্রকৃত নির্ধারক এবং পার্থক্য সৃষ্টিকারী। ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা তাঁ ট্রাস্ট (১৯৯৫) বইয়ে দেখিয়েছিলেন যে, কী ভাবে সামাজিক পুঁজি জাতির মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং বিশ্বাস কী ভাবে স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করে।

পুটনাম বিষয়ে অবাক হননি যে, সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ফলে চরম আন্দোলনের উত্থান ঘটেছে। রাজনৈতিক কর্মী স্টিভ ব্যানন প্রকাশ্যে বলেছেন যে, বোলিং অ্যালোন তাঁকে এবং অন্যদের নিজেদের রাজনৈতিক আন্দোলনকে অনেক আমেরিকানের দ্বারা অনুভূত সামাজিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিকার হিসাবে চিহ্নিত করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে অনুসৃত হচ্ছে: ব্যক্তিবাদী সমাজগুলি তাদের একাকী সদস্যদের এই ধরনের চরম সম্প্রদায়ের কাছে ত্যাগ করছে। তবে এই গোষ্ঠী আন্দোলনগুলি সত্যিকারের সংহতি এবং ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্ধ অনুকরণ হতে পারে, যা হয়তো বিশ্বাস তৈরি করবে। কিন্তু তারা এখনও এমন সম্প্রদায় হয়েই থাকছে, যাদের পাশে আর অন্য কোন সম্প্রদায় নেই।

বিশ্বব্যাপী সমাজকে রূপান্তরিত করার শেষ ধাক্কাটিকে অবশ্যই একটি বিশ্বব্যাপী ঘটনা হতে হবে। কোভিড সেই প্রেরণা জুগিয়েছিল। এটি এমন একটি সময় ছিল, যখন বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়েছিল, কর্মক্ষেত্র অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছিল এবং একক শক্তির আবেদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাই আজ ডিজিটাল দুনিয়ায় একা একা ঘুরে বেড়ানো মানুষটা এবং সন্ত্রাসবাদের পথে চালিত একা নেকড়ের মতো জঙ্গি আসলে একই মুদ্রার দু পিঠ।

ভবিষ্যৎ তাঁদেরই হবে, যাঁরা সবচেয়ে ভাল ভাবে বোঝে যে, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের অগ্রগতি মানব সমষ্টিকে সামাজিক ভাবে একটি পূর্ণ বৃত্তে ফিরিয়ে এনেছে। আমরা প্রকৃতপক্ষে একটি আদিম অবস্থায় ফিরে এসেছি, যেখানে সম্প্রদায়গুলি অন্য যে কোন কিছুর চাইতেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সমৃদ্ধি, প্রভাব কল্যাণের দাবিই হল যত্ন এবং শিকড়ের টানপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন বসুধৈব কুটুম্বকম: এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্য সম্পর্কে কথা বলেছিলেন, তখন তিনি সঠিক দিশাই দেখিয়েছিলেন। সময়টা তাই আসলে একটু ফিরে তাকানোর, আর একটু বেশি যত্নশীল হওয়ার সময়।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.