Expert Speak Raisina Debates
Published on Jan 10, 2026 Updated 0 Hours ago

পর্যটনের ভরা মরসুম এবং বর্ষার ঝুঁকি হিমালয়ে বিপজ্জনক ‘সাময়িক সঙ্কোচন’-এর সৃষ্টি করছে — যা পরিবেশগত চাপকে তীব্র করছে, দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল পর্যটন ও অবকাঠামো পরিকল্পনার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে।

হিমালয়ে সাময়িক সঙ্কোচন: পর্যটন ও বর্ষার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

হিমালয়ের বরফাবৃত চূড়া হিমবাহগুলি থেকে বিশাল নদীসমূহের উৎপত্তি হয়েছে। এর উপত্যকাগুলি সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং তিব্বতীয় মালভূমিতে সভ্যতাকে লালন করে আসছে। বর্তমানে হিমালয় অঞ্চলটি অবসর ধর্মীয় পর্যটনের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনা ২০১৮ সালের ১০ কোটি থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৪ কোটিতে পৌঁছেছেযা বেশ কয়েকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু কাশ্মীরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখছে।

এই পর্যটন উল্লম্ফন একটি পরিবেশগত সঙ্কটও তৈরি করেছে। পাহাড়গুলিতে প্রতি বছর ৫০,০০০ মেট্রিক টন বর্জ্য জমা হয়। জনপ্রিয় গন্তব্যগুলিতে বনভূমির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছেযার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যাচ্ছে। পর্যটনের এই বৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিকল্পিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রকে হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যা (জিএলওএফএবং ভূমিধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

মরসুমি ভিড়ের কথা বিবেচনা না করে বরং গড় বার্ষিক হিসাবের উপর ভিত্তি করে হোটেল ও রাস্তাগুলির অবকাঠামো নির্মিত হওয়ায় তা সবচেয়ে বেশি চাপের সম্মুখীন হয়। কারণ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূখণ্ডটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে দুর্যোগের ক্রমবিকাশমান ধরনটি কেবল জলবায়ু উন্নয়ন সঙ্কটের ব্যাপকতাই নয়এর সময়কালকেও প্রকাশ করে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বর্ষা এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটকদের ভিড়ের একত্র সমাবেশ ‘টেম্পোরাল কম্প্রেশন’ বা সাময়িক সঙ্কোচনের কারণ হচ্ছেযা ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র এবং দুর্বল অবকাঠামোর উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে বিপদকে বিপর্যয়কর ঘটনায় পরিণত করছে।

হিমালয়ে সাময়িক সঙ্কোচন 

একই সময়ে উচ্চ তীব্রতার কার্যকলাপের কারণে সাময়িক সঙ্কোচন ঘটেযা আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উপর বিদ্যমান চাপকে বাড়িয়ে তোলে। এই ঘটনাটি হিমালয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে স্পষ্টযেখানে পর্যটনের ভরা মরসুম বর্ষার সঙ্গে সমাপতিত হয় এবং যা সেখানকার ধারণক্ষমতাকে অতিক্রম করে এবং দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। মরসুমি ভিড়ের কথা বিবেচনা না করে বরং গড় বার্ষিক হিসাবের উপর ভিত্তি করে হোটেল  রাস্তাগুলির অবকাঠামো নির্মিত হওয়ায় তা সবচেয়ে বেশি চাপের সম্মুখীন হয় কারণ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূখণ্ডটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সারণি ১: বর্ষার ঝুঁকির সঙ্গে পর্যটকদের ভিড়ের সমাপতন

ক্রমিক নং

স্থান উদ্দেশ্য

মরসুম

গড় বার্ষিক আগমনের সংখ্যা

দুর্যোগ / প্রভাব

চার ধাম যাত্রাউত্তরাখণ্ড | তীর্থযাত্রা

এপ্রিল থেকে নভেম্বরসর্বাধিক ভিড়: মেজুন

. মিলিয়ন

কেদারনাথ ক্লাউডবার্স্ট ২০১৩। মৃত্যুসংখ্যা: ,০০০।

অনন্তনাগকুলগাম, অবন্তীপুরা পুলওয়ামা | জম্মু কাশ্মীর

মার্চ থেকে অগস্ট

১৫. মিলিয়ন

২০১৪ সালের ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা বাঁধভাঙা বৃষ্টি। মৃত্যুসংখ্যা: ২৭৭।

অমরনাথ যাত্রাজম্মু কাশ্মীর | তীর্থযাত্রা

জুন থেকে অগস্ট

৩৪০,০০০

২০২২ সালের আকস্মিক বন্যা। মৃত্যুসংখ্যা: ১৬।

নাথু লা পাসসিকিম | পর্যটন

এপ্রিল থেকে মধ্য নভেম্বর

২০২২ সালের আকস্মিক বন্যা। এপ্রিল ২০২৩-এর তুষারধস। মৃত্যুসংখ্যা: ৭।

শিমলাকুলুমান্ডিকাংড়াচাম্বা | হিমাচল প্রদেশ

মার্চ থেকে জুলাই এবং অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি

~. মিলিয়ন

২০২৩-এর জুলাই মাসে একাধিক ভূমিধস। মৃত্যুসংখ্যা: ১৮৭।

সিকিম

মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে জানুয়ারি

মিলিয়ন

আকস্মিক বন্যার পর ভূমিধস। মৃত্যুসংখ্যা: ৫৫।

হেমকুণ্ড সাহিবউত্তরাখণ্ড | তীর্থযাত্রা

মে থেকে অক্টোবর

,০০,০০০-এর বেশি

২০২৫-এর জুন মাসে ভারী বৃষ্টি ভূমিধস। মৃত্যুসংখ্যা: ৩।

ধারালি-হরসিলউত্তরাখণ্ড | পর্যটন

অগস্ট থেকে অক্টোবর

তথ্য উপলব্ধ নয়

২০২৫-এর অগস্ট মাসে ক্লাউডবার্স্ট  মাডস্লাইড বা কাদার 
ধস। মৃত্যুসংখ্যা: ২০০।

দার্জিলিংপশ্চিমবঙ্গ | 
পর্যটন

মার্চ থেকে জুন এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর (পুজোর উদ্‌যাপনের সঙ্গে মিলিয়ে)

প্রায় ,০০,০০০

২০২৫-এর অক্টোবর মাসে ভারী বৃষ্টি ভূমিধস। মৃত্যুসংখ্যা: ২৩।

উৎস: বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে লেখকদের দ্বারা সঙ্কলিত

২০১৩ সালের কেদারনাথ মেঘভাঙা বৃষ্টির পর থেকে - যা চার ধাম যাত্রার সময় ,০০০-এরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল - এই দুর্যোগগুলি পর্যটনের ভরা মরসুমে একটি অনুমানযোগ্য ধারাবাহিকতা মেনেই যেন আঘাত হানে।

পূর্বে দর্শনার্থীদের আগমন ধাপে ধাপে হত। তবে পাহাড় কেটে নির্মিত সম্প্রসারিত সড়ক শৃঙ্খলহেলিকপ্টার পরিষেবা এবং অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে সহজগম্যতা এখন লক্ষ লক্ষ মানুষকে কয়েক মাসের মধ্যে একত্রিত করেযা ঝুঁকির একটি ঘনীভূত কেন্দ্র তৈরি করে।

পর্যটন থেকে কর্মসংস্থান  রাজস্ব সৃষ্টি এই রাজ্যগুলির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। হোটেলহোমস্টে এবং রিসর্টগুলি হস্তশিল্প পরিবহণ-সহ স্থানীয় অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখে। ফলস্বরূপঅর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলি পরিবেশগত বিবেচনার ঊর্ধ্বে স্থান পায়। ২০২৩ সালে চার ধাম যাত্রার জন্য দৈনিক ৪৭,৫০০ তীর্থযাত্রীর সীমাটি প্রতিবাদের মুখে পড়ে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পর্যটন পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছেঅথচ স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির নীতিগুলি মূলত আকাঙ্ক্ষামূলকই থেকে গেছেযার বাস্তবের মাটিতে নেমে কার্যকর করার ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এর মধ্যে বন অধিকার আইনের দুর্বল প্রয়োগও অন্তর্ভুক্তযা আদিবাসী উপজাতিদের বনভূমির উপর জীবিকা পেশার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

পূর্বে দর্শনার্থীদের আগমন ধাপে ধাপে হত। তবে পাহাড় কেটে নির্মিত সম্প্রসারিত সড়ক শৃঙ্খল, হেলিকপ্টার পরিষেবা এবং অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে সহজগম্যতা এখন লক্ষ লক্ষ মানুষকে কয়েক মাসের মধ্যে একত্রিত করে, যা ঝুঁকির একটি ঘনীভূত কেন্দ্র তৈরি করে।

ভাবে তীর্থযাত্রার পথমন্দির-কেন্দ্রিক শহর এবং উচ্চ উচ্চতাসম্পন্ন গন্তব্যগুলিতে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা আরাম বাড়ানোর জন্য নির্মিত পরিকাঠামোই তাদের ঝুঁকির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান ভিড় ছাড়াও সিমলাগ্যাংটক এবং দার্জিলিং-এর মতো বেশ কয়েকটি শহর দ্রুত নগরায়ণের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত হোটেল এবং অন্যান্য পর্যটন পরিকাঠামোআরও বেশি মানুষ যানবাহনের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করতে পাহাড়ের ঢাল কাটাসুড়ঙ্গ খনন এবং জলবিদ্যুৎ জলাধার নির্মাণ দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তবে পরিচিত বিপদ থাকা সত্ত্বেও পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকল্পগুলির সংখ্যা বাড়তেই থাকছে। উদাহরণস্বরূপপরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য সংস্থাগুলি প্রায়শই প্রকল্পের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নকে (ইআইএএকটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করে এবং বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণকে উপেক্ষা করে।

ইআইএ এখনও একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল জলবায়ু যুগের পুরনো সামাজিক পরিবেশগত প্রাথমিক তথ্যের উপর নির্ভর করেযখন হিমবাহগুলি আরও স্থিতিশীল ছিলবৃষ্টিপাত কম অনিয়মিত ছিল এবং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলি পর্যটনের চাপের সম্মুখীন কম হত ফলে এই সব কিছুই ইআইএ- সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতাকে হ্রাস করে। বেশির ভাগ ইআইএ প্রকল্পগুলিকে বিচ্ছিন্ন ভাবে বিবেচনা করে, সঙ্কীর্ণ ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে একাধিক প্রকল্পের সম্মিলিত প্রভাব মূল্যায়ন করে নাযেমনটা সিকিমের তিস্তা নদী অববাহিকা এবং উত্তরাখণ্ডের চার ধাম সড়ক প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

এই প্রক্রিয়াটি প্রায়শই বর্জনমূলক হয়যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তাদের চিরাচরিত জ্ঞানকে উপেক্ষা করে। পরিবেশবন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে তার ২০২০ সালের খসড়া ইআইএ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করতে হয়েছিল কারণ এটি শিল্প-বান্ধব বলে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল।

ভবিষ্যতের করণীয়

তীর্থযাত্রা, রোমাঞ্চকর  অবসরকালীন কার্যকলাপের জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক কোটা-সহ স্বচ্ছ অনুমতিপত্র চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যগুলিকে অবশ্যই শক্তিশালী পৌর আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ডেটা শেয়ারিং বা তথ্য ভাগ করে নেওয়াদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হবে।

প্রযুক্তি  উদ্ভাবনে বিনিয়োগ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমাতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল জুড়ে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থাবৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের জন্য ডপলার রাডারআকস্মিক বন্যার সতর্কতার জন্য নদী সংক্রান্ত সেন্সর এবং রিয়েল-টাইম ডেটা নজরদারি-সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এই প্রযুক্তিগুলিকে অনলাইন বুকিং সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বিত করলে পর্যটকদের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মডেলগুলিও মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করে। পেরু মাচু পিচুতে পিক-সিজন অর্থাৎ ভরা মরসুমে দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা ,৬০০-তে সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং কঠোর সময়সীমা আরোপ করেছে। আইসল্যান্ডের সেফ ট্র্যাভেল অ্যাপটি রং-কোডেড জোনিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের রাস্তার অবস্থাআবহাওয়া এবং জরুরি অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে। ভারতের হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলিকে অবশ্যই অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবেযার মধ্যে দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত করার ব্যবস্থা-সহ ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্মরিয়েল-টাইম ঘনত্বের মানচিত্র এবং নিরাপত্তা সতর্কতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এর পাশাপাশি অফ-সিজন (অর্থাৎ যে মরসুমে পর্যটক কম আসেনপর্যটনকেও উৎসাহিত করতে হবে।

পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান ভিড় ছাড়াও সিমলা, গ্যাংটক এবং দার্জিলিং-এর মতো বেশ কয়েকটি শহর দ্রুত নগরায়ণের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ের ঢালে নির্মিত হোটেল এবং অন্যান্য পর্যটন পরিকাঠামো, আরও বেশি মানুষ ও যানবাহনের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করতে পাহাড়ের ঢাল কাটা, সুড়ঙ্গ খনন এবং জলবিদ্যুৎ জলাধার নির্মাণ দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

নতুন প্রভাব মূল্যায়ন প্রোটোকলগুলিতে অবশ্যই স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণজলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং হালনাগাদ করা মৌলিক আর্থ-সামাজিক তথ্যের সমন্বয়কে বাধ্যতামূলক করতে হবে। ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য রেট্রোস্পেক্টিভ পরিবেশগত ছাড়পত্র  প্রদান নিষিদ্ধ করেছেতবে এই রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বাধীন সংস্থার কঠোর আইনি তদারকি প্রয়োজন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সভাপতিত্বে একটি মাউন্টেন সিটিজ রেগুলেটরি অথরিটি (এমসিআরএ) প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারেযেখানে রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালনগর উন্নয়ন পর্যটন বিভাগবন পরিবেশ মন্ত্রণালয়জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং নারী আদিবাসী গোষ্ঠীসহ সুশীল সমাজের সংগঠনগুলির বহু ক্ষেত্রভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে। একমাত্র এটিই শূন্যতাকে পূরণ করতে পারে। এমসিআরএ-কে অবশ্যই ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত ঝুঁকির ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদনস্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা দিতে হবেদুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো মান প্রতিষ্ঠা করতে হবেডিজিটাল মঞ্চের মাধ্যমে পর্যটক  যানবাহনের সংখ্যা সীমিত করার নিয়ম কার্যকর করতে হবেএবং জরুরি পরিস্থিতিতে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সাধন করতে হবে। এটিকে স্থানীয় সংস্থাগুলিকে পর্যটন কর  গ্রিন বন্ড থেকে সংগৃহীত তহবিল দিয়ে একটি নিবেদিত মাউন্টেন রেজিলিয়েন্স ফান্ড তৈরি করতে সহায়তা করতে হবে।

ভুটান তার স্বল্প-প্রভাবের পর্যটন অনুশীলনের মাধ্যমে পর্যটন এবং সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি মডেল প্রদান করে। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত একটি সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি (এসডিএফ) স্বচ্ছ ভাবে সংরক্ষণ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগে ব্যবহার করা হয়। এটি সাংস্কৃতিক পরিবেশগত অখণ্ডতা রক্ষার জন্য পর্যটকদের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করে। ভারতের হিমালয় রাজ্যগুলিকে অবশ্যই এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে এবং পর্যটকদের ঐতিহ্যকে সম্মান করতেবর্জ্য কমাতে  স্থানীয় জীবিকাকে সমর্থন করতে উৎসাহিত করতে হবে।

স্থানীয় সম্প্রদায়কে পরিবেশের রক্ষক হিসেবে ক্ষমতায়ন করতে হবেযার জন্য নিষ্কাশনের পরিবর্তে পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত বিকল্প জীবিকা ব্যবস্থা প্রদান করতে হবে। সরকারগুলিকে অবশ্যই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য বাস্তুতান্ত্রিক পরিষেবার ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের (পিইএস) মাধ্যমে সম্প্রদায়গুলিকে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের অবশ্যই সবুজ উদ্যোগের জন্য জলবায়ু-সম্পর্কিত ক্ষুদ্রঋণ বিবেচনা করতে হবে এবং বর্জ্য পৃথগীকরণজৈব চাষনবায়নযোগ্য শক্তি এবং জলবায়ু-দায়িত্বশীল হোমস্টেগুলিকে উৎসাহিত করতে হবে। সম্প্রদায়-পরিচালিত ট্রেকিং রুটপার্কিং জোন এবং বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা বৃহত্তর পরিবেশগত সম্মতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও তৈরি করতে পারে।

সরকারকে অবশ্যই পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পর্যায়ক্রমিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবেযাতে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের চাপ ছাড়াই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে পারে। আলপাইন বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করা সম্ভব হলেতা স্থিতিশীল পর্যটনকেও উৎসাহিত করবে। 

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কমাতেপর্যটনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতাকে জলবায়ু-সহনশীল কৌশলের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ করতে হবে। বাস্তুতান্ত্রিক এবং ঐতিহ্যমূলক পর্যটন প্রচারনিয়ন্ত্রিত হোমস্টেস্থানীয় শিল্প কারুশিল্পকে সমর্থন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি গ্রহণই স্থিতিশীল জীবিকা গড়ে তুলতে পারে। সরকারদুর্যোগ কর্তৃপক্ষমন্দির ট্রাস্টহোটেল মালিকপর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক আলোচনার মাধ্যমে লাগামহীন পর্যটন কী ভাবে দুর্যোগে অবদান রাখেসে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে এর পাশাপাশি স্থিতিশীল জীবিকার লক্ষ্যে পরিবর্তনেও সহায়তা করা যেতে পারে এবং দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিতকরণ পর্যায়ক্রমিক বন্ধের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সাহায্য করা যেতে পারে।

উপসংহার

পাহাড়গুলি বছরে কতজন পর্যটক বা তীর্থযাত্রীকে ধারণ করতে পারেসেই প্রশ্ন করার পরিবর্তে আরও জরুরি প্রশ্নটি হল: পরিবেশগত প্রভাব কমানোর জন্য এই জনস্রোতকে কী ভাবে বণ্টন করা যেতে পারে?

স্থিতিস্থাপক পার্বত্য অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির বিপরীতে পর্যটনের স্বল্পমেয়াদি সুবিধাগুলি বিবেচনা করতে হবে। যদি উন্নয়ন এবং তীর্থযাত্রার সময়সূচি পরিবর্তিত জলবায়ুগত ছন্দের সঙ্গে খাপ খাইয়ে না নেওয়া হয়তবে পাহাড়গুলি পরিহারযোগ্য সাময়িক সঙ্কোচনের ফলে উদ্ভূত বিপর্যয়ের সাক্ষী হতেই থাকবে।

 


ধবল দেশাই অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট

সাহিল কাপুর অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আর্বান স্টাডিজ প্রোগ্রামের ইন্টার্ন

 

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Dhaval Desai

Dhaval Desai

Dhaval is a Vice President - Platforms and Communities at Observer Research Foundation, Mumbai. His spectrum of work covers diverse topics ranging from urban renewal ...

Read More +
Sahil Kapoor

Sahil Kapoor

Sahil Kapoor is an Intern with the Urban Studies Programme at the Observer Research Foundation. ...

Read More +