বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই যুগে দেশীয় উদ্ভাবন, লক্ষ্যযুক্ত প্রণোদনা এবং উচ্চ-প্রযুক্তির সহযোগিতা অবশ্যই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে রূপ দেবে।
আজকের দিনে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না, কারণ এর সঙ্গে মহাকাশ ও যোগাযোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় এটি স্পষ্ট ছিল, যা প্রায় ২৬ বছর আগে শেষ বড় সংঘর্ষের পর থেকে যে পরিবর্তনগুলি ঘটেছে তা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছিল।
ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা তখন থেকেই বিকশিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সময়, ভারত সফলভাবে তার স্থিতিস্থাপক প্রযুক্তিকে তার সুবিধার্থে কাজে লাগিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডাবলুএমডি) শীঘ্রই একটি পুরনো বহুল-উচ্চারিত ধারণায় পরিণত হতে পারে, কারণ সংঘাতগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে নানা ধরনের সামরিক প্রযুক্তি এবং তাদের সহযোগী পণ্যের প্রয়োগ প্রত্যক্ষ করছে। এই সত্যটিও রয়ে গিয়েছে যে বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে সঠিক কারণ ছাড়াই আঘাত করার পরিবর্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৃদ্ধি পেয়েছে অনিশ্চয়তা
সিপরি-র সর্বশেষ তথ্য বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার তীব্রতা প্রতিফলিত করে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক সামরিক ব্যয় ২,৭১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঠান্ডা যুদ্ধের শেষের পর থেকে বছরের পর বছর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শীর্ষ পাঁচটি সামরিক ব্যয়কারী দেশ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, রাশিয়া, জার্মানি এবং ভারত, যা বিশ্বব্যাপী মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ। এর সম্মিলিত ব্যয় ১,৬৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক সামরিক ব্যয় ২,৭১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঠান্ডা যুদ্ধের শেষের পর থেকে বছরের পর বছর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
১০০ টিরও বেশি দেশ ২০২৪ সালে তাদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অরগানাইজেশনের (ন্যাটো) সকল সদস্যই তা করেছে। মার্কিন সামরিক ব্যয় ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা মোট ন্যাটো ব্যয়ের ৬৬ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের ৩৭ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, জাপানের সামরিক ব্যয় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৫২ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি।
পূর্ণাঙ্গ শক্তি বৃদ্ধি
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ হিসেবে ভারত, ২০২৪ সালে যার ব্যয় ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, ক্রমবর্ধমানভাবে সমমনস্ক উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের মোকাবিলায় ভারত প্রযুক্তি-সক্ষম প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত আধুনিক, প্রযুক্তি-চালিত যুদ্ধের জন্য দেশটির প্রস্তুতি তুলে ধরেছে। তবে, উদ্ভাবনের জন্য যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে যখন অ-প্রত্যক্ষ যুদ্ধ (নন-কাইন্যাটিক ওয়ারফেয়ার) নতুন আদর্শ হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি, ন্যাটো সম্মত হয়েছে নতুন ন্যাটো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এসঅ্যান্ডটি) কৌশলে, যা "জোটকে কৌশলগত প্রতিযোগী এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম করার জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ন্যাটোর সমস্ত মূল কাজে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সন্নিবেশিত করা যায় এবং উদীয়মান প্রযুক্তি গ্রহণ করা যায়।" ভারত তার কৌশলগত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে উপযুক্ত একটি তুলনীয় কাঠামো তৈরি করে উপকৃত হবে।
প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতির জন্য প্রযুক্তি একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই অভিসৃতি ভারতকে কিছু কাঠামোগত অগ্রগতি অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ প্রদান করে।
প্রথমত, উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্পটি দ্বৈত-ব্যবহার প্রযুক্তির বিস্তৃত পরিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রসারিত করা উচিত। বর্তমানে মূলত ড্রোনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ড্রোন স্পেকট্রামকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রসারিত করা যেতে পারে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ক্রমবর্ধমান উপযোগিতা প্রতিফলিত করে।
সরকারের উচিত পিএলআই ছাতার অধীনে অন্য বিভাগগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা, যেমন বায়ুবাহিত প্রাথমিক সতর্কতা (এইডাবলু) সিস্টেম, নজরদারি সরঞ্জাম, জ্যামিং ডিভাইস, রাডার সিস্টেম, সেন্সর ও রোবোটিক্স। এটি করলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা বাস্তুতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
এই প্রক্রিয়ায় একটি উপযুক্তভাবে পরিকল্পিত শিল্প-শিক্ষাগত সংযোগ এই ধরনের উদ্যোগে আরও শক্তি যোগ করবে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র হিসেবে রয়ে গিয়েছে, তাই বিকশিত পরিস্থিতিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কেন্দ্রীভূত শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন, যা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম নির্মাণে প্রয়োজনীয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি উপযুক্তভাবে পরিকল্পিত শিল্প-শিক্ষাগত সংযোগ এই ধরনের উদ্যোগে আরও শক্তি যোগ করবে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (স্টেম) ক্ষেত্রগুলিকে উৎসাহিত করলে এই ক্ষেত্রগুলিতে গবেষণার অগ্রগতি হবে। সরকারের উচিত উন্নত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিভিন্ন ইনকিউবেশন সেন্টারে গবেষণা ও উন্নয়নকে সমর্থন করা।
তৃতীয়ত, ভারত এবং বিদেশ উভয় স্থানের ব্যবসাকে আকর্ষণ করে এমন একটি বাস্তুতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প করিডোরের আকর্ষণ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। এই করিডোরগুলিতে কোম্পানিগুলিকে, বিশেষ করে প্রযুক্তির অগ্রভাগে থাকা স্টার্ট-আপগুলিকে, আমন্ত্রণ জানানো এবং এর ফলে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন এবং বৃদ্ধি তৈরি করার বিশাল সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে, ভারতে দুটি করিডোর রয়েছে, একটি উত্তর প্রদেশে এবং অন্যটি তামিলনাড়ুতে। তবে, প্রথমটি পরবর্তীটির মতো এত বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি। এই বৈষম্যের কারণগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ এবং সমাধান করা প্রয়োজন, যার মধ্যে দেশ এবং বিদেশ থেকে মানসম্পন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিভা আকর্ষণ করার জন্য একটি বিশ্বজনীন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
চতুর্থত, ২০২৯ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন রুপি প্রতিরক্ষা রপ্তানি অর্জনের জন্য ভারতকে উৎপাদন ক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে। ২০২৪-২৫ সালে প্রতিরক্ষা রপ্তানি রেকর্ড ২৩,৬২২ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে, যা ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ১২.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি প্রতিফলিত করে, যেখানে বেসরকারি ক্ষেত্রের অবদান ৫৭.১৫ শতাংশ। ভারতের সুপ্ত সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে, এটিকে ঐতিহ্যবাহী প্রতিরক্ষা পণ্যের বাইরে তাকাতে হবে এবং দ্বৈত-ব্যবহার প্রযুক্তি ব্যবহার করে রপ্তানি ব্যবস্থার সন্ধান করতে হবে। এর জন্য জাতীয় নিরাপত্তা চাহিদা এবং বেসামরিক প্রয়োগ উভয়ই পূরণ করতে পারে এমন সাশ্রয়ী, শক্তিশালী ও অভিযোজিত সমাধান প্রদান করতে হবে। বর্ধিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এটি আরও সহজতর করা যেতে পারে, যা প্রযুক্তি স্থানান্তর, উদ্ভাবন ও শিল্প বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তি সহায়তায় সরকারের প্রয়োজন
প্রতিরক্ষা খাতকে আধুনিকীকরণের চলতি প্রচেষ্টার মধ্যে, ভারত দেশীয় উন্নত প্রযুক্তি এবং জটিল ব্যবস্থা বিকাশের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে কাজ করছে।
২০২৫ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.২৭ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে ১.৪৬ ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে। ২০১৫ অর্থবছর থেকে, এই বৃদ্ধি চিত্তাকর্ষক ১৭৪ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৬৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এখন দেশীয়ভাবে তৈরি করা হয়, কারণ দেশটি আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে চলেছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করে, সরকার ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স (আইডেক্স) উদ্যোগ চালু করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইডেক্স ৫৪৯টি সমস্যা বিবৃতি তৈরি করেছে এবং ৬১৯টি স্টার্টআপ এবং এমএসএমই-কে জড়িত করেছে, যার ফলে ৪৩০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধান অর্থনীতির দেশগুলি থেকে প্রতিরক্ষা রপ্তানি সাধারণত তাদের নিজ নিজ রপ্তানি ঋণ সংস্থা (ইসিএ) দ্বারা সমর্থিত হয়, যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা-সহ।
অতিরিক্তভাবে, জয়েন্ট অ্যাকশনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল উদ্যোগ (সৃজন) প্ল্যাটফর্ম ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলিকে আমদানি করা উপাদান এবং সিস্টেম সনাক্ত করতে সক্ষম করে, যা আবার তাদের দেশীয় উৎপাদনের সুযোগ অন্বেষণ করতে সহায়তা করে।
ভারত এখন শুধু অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণই নয়, বরং একটি উল্লেখযোগ্য রপ্তানিকারক হয়ে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য টেকসই ও পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী, প্রধান অর্থনীতির দেশগুলি থেকে প্রতিরক্ষা রপ্তানি সাধারণত তাদের নিজ নিজ রপ্তানি ঋণ সংস্থা (ইসিএ) দ্বারা সমর্থিত, যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা সহ। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক (ইউএস একজিম), যুক্তরাজ্য রপ্তানি অর্থায়ন (ইউকেইএফ), রপ্তানি অর্থায়ন অস্ট্রেলিয়া (ইএফএ), এবং কোরিয়া রপ্তানি-আমদানি ব্যাঙ্ক (কোরিয়া একজিম) সকলেই তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে সমর্থন করার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ভারত তার রপ্তানি উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার জন্য অনুরূপ একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করতে পারে।
ভবিষ্যতে, ভারতের জন্য এমন একটি বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা এবং টিকিয়ে রাখা অপরিহার্য যা জাতীয় স্বনির্ভরতা এবং নিরাপত্তার বৃহত্তর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে শিল্পের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিকাশকে উৎসাহিত করে।
রাহুল মজুমদার ভারতের রপ্তানি-আমদানি ব্যাঙ্কের অর্থনীতিবিদ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Rahul has been associated with India EXIM Bank since 2007. He has been working on issues related to international economics public policy and sustainability: and ...
Read More +